Bryophyta-র অর্থনৈতিক গুরুত্ব ।। Riccia-র অর্থনৈতিক গুরুত্ব । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিঃ Ricciaএর মৃতদেহ মাটির সাথে মিশে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। গ্রীষ্মমন্ডলীয় বনের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে এবং মেরু অঞ্চলের মাটির উপর পারমাফ্রস্ট স্তর গঠন করে।

২। ভূমিক্ষয় রোধঃ ইহা জলাশয়ের পাড়ে জন্মে এবং ভূমিক্ষয় রোধ করে।

৩। অর্থনৈতিক গুরুত্বঃ অর্থনীতিতে মসের তেমন কোন গুরুত্ব নাই। তবে পিট মস অর্থনৈতিক ভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

৪। পরিবেশ দূষণের সূচকঃ ইহা পরিবেশ দূষণের সূচক হিসেবে কাজ করে।

৫। পরিবেশ বিশোধনঃ ইহা সালোকসংশ্লে¬ষণ প্রক্রিয়ায় CO2 গ্রহণ এবং O2 নির্গত করে পরিবেশকে নির্মল রাখতে সাহায্য করে।

৬। গবেষণাঃ রিক্সিয়া হলো প্রথম স্থলজ উদ্ভিদ। কারণে ইহা গবেষণার উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৭। দালান প্রাচীরের ক্ষয়ঃ ইহা পুরাতন দালান প্রাচীরের গায়ে জন্মে ক্ষয় সাধন করে।

৮। বিবর্তন সম্পর্কে ধারণাঃ রিক্সিয়ায় প্রথম স্থলজ উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য থাকায় ইহা বিবর্তন সম্পর্কে ধারণা দিতে সাহায্য করে।

Riccia-এর জনন পদ্ধতি আলোচনা

১। অঙ্গজ জননঃ Riccia  থ্যালাসের নিচের অংশ মারা গেলে উপরের দিকের প্রতিটি শাখা নতুন উদ্ভিদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। থ্যালাসের গিমাকাপ, প্রোটোনেমা, বুলবিল এবং টিউবার হতে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়।

২। অযৌনজননঃ স্পোরোফাইট উদ্ভিদের ক্যাপসুলে স্পোর মাতৃকোষ থাকে। স্পোর মাতৃকোষ হতে হোমোস্পোর উৎপন্ন হয়। হোমোস্পোর গুলো অনুকূল পরিবেশে অংকুরিত হয়ে নতুন Riccia গঠন করে।

৩। যৌনজননঃ Ricciaএর যৌনজনন পদ্ধতির ধাপগুলো হলো

(i) গ্যামিট সৃষ্টিঃ Riccia এর পুংজননাঙ্গকে অ্যান্থেরিডিয়া এবং স্ত্রীজননাঙ্গকে আর্কিগোনিয়া বলে। অ্যান্থেরিডিয়ামের প্রতিটি জনন মাতৃকোষ দ্বিফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট শুক্রাণুতে পরিনত হয়। আর্কিগোনিয়ামের জনন মাতৃকোষ ডিম্বাণু গঠন করে।  

(ii) নিষেকঃ যৌনজননের সময় এদের শুক্রাণু পানিতে সাঁতার কেটে ডিম্বাণুর নিকটে আসে। এরপর পানির উপস্থিতিতে ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়। শুক্রাণু ডিম্বাণুর মিলনকে নিষেক বলে। নিষেকের ফলে জাইগোট সৃষ্টি হয়।

(iii) অংকুরোদগমঃ নিষেকের ফলে সৃষ্ট জাইগোটটি অংকুরিত হয়ে সরল গোলাকার স্পোরোফাইট গঠন করে।

Riccia-র যৌনজনন বর্ণনা । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

Riccia-এর যৌনজনন পদ্ধতির ধাপগুলো হলো-
(i) গ্যামিট সৃষ্টিঃ Riccia এর পুংজননাঙ্গকে অ্যান্থেরিডিয়া এবং স্ত্রীজননাঙ্গকে আর্কিগোনিয়া বলে। অ্যান্থেরিডিয়ামের প্রতিটি জনন মাতৃকোষ দ্বি-ফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট শুক্রাণুতে পরিনত হয়। আর্কিগোনিয়ামের জনন মাতৃকোষ ডিম্বাণু গঠন করে।
(ii) নিষেকঃ যৌনজননের সময় এদের শুক্রাণু পানিতে সাঁতার কেটে ডিম্বাণুর নিকটে আসে। এরপর পানির উপস্থিতিতে ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনকে নিষেক বলে। নিষেকের ফলে জাইগোট সৃষ্টি হয়।
(iii) অংকুরোদগমঃ নিষেকের ফলে সৃষ্ট জাইগোটটি অংকুরিত হয়ে সরল ও গোলাকার স্পোরোফাইট গঠন করে।

 Riccia -র কোষীয় বা অভ্যন্তরীণ গঠন । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(i) ফটোসিন্থেটিক অঞ্চলঃ থ্যালাসের যে অঞ্চল সালোকসংশ্লে¬ষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরী করে তাকে ফটোসিন্থেটিক অঞ্চল বলে। অঞ্চল অনেক গুলো ফিলামেন্ট দ্বারা গঠিত। ফিলামেন্ট গুলো সরু, সুত্রাকার, লম্বা, অশাখ, বহুকোষী এবং সবুজ বর্ণের। এদেরকে আত্তীকরণ সূত্র বলে। প্রতিটি সূত্রের অগ্রভাগে একটি করে বড় এবং বর্ণহীন কোষ থাকে। পাশাপাশি অবস্থিত দুটি কোষের মাঝখানে যে ফাঁকা স্থান থাকে তাকে বায়ু কুঠুরী বলে। ইহাতে বায়ু জমা থাকে। প্রতিটি বায়ু কুঠুরীর শীর্ষে একটি বায়ু ছিদ্র থাকে। এই ছিদ্রের মধ্য দিয়ে বায়ু চলাচল করে। এই অঞ্চল সবুজ হওয়ায় সালোকসংশ্লে¬ষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরী করে।

(ii) সঞ্চয়ী অঞ্চলঃ থ্যালাসের যে অঞ্চল খাদ্য জমা বা সঞ্চয় করে রাখে তাকে সঞ্চয়ী অঞ্চল বলে। এটি বর্ণহীন, বহুকোষী, আন্তঃকোষীয় ফাঁক বিবর্জিত এবং প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। অঞ্চল খাদ্য তৈরী করে না, কিন্তু শর্করা (শ্বেতসার) জাতীয় খাদ্য জমা রাখে। এই অঞ্চল থেকে এককোষী রাইজয়েড বহুকোষী স্কেল উৎপন্ন হয়।

(iii) জননাঙ্গঃ Ricciaহলো সহবাসী উদ্ভিদ। এর পুংজননাঙ্গ স্ত্রীজননাঙ্গ একই থ্যালাসে অবস্থান করে। পুংজননাঙ্গকে অ্যান্থেরিডিয়াম এবং স্ত্রীজননাঙ্গকে আর্কিগোনিয়াম বলে।

* অ্যান্থেরিডিয়ামঃ থ্যালাসের পৃষ্ঠদেশে কতকগুলো পুংজননাঙ্গ অ্যান্থেরিডিয়া জন্মে। ইহা সবৃন্তক এবং নাসপাতি আকৃতির। অ্যান্থেরিডিয়ামের ভিতরে শুক্রাণু মাতৃকোষ থাকে। প্রতিটি শুক্রাণু মাতৃকোষ থেকে দুইটি করে দ্বিফ্ল্যাজেলা বিশিষ্ট শুক্রাণু উৎপন্ন হয়।

* আর্কিগোনিয়ামঃ থ্যালাসের ভিতরে কলসী বা ফ্ল্যাক্স আকৃতির কতকগুলো স্ত্রীজননাঙ্গ আর্কিগোনিয়া জন্মে। ইহা দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত। গ্রীবা এবং উদর। গ্রীবা সামান্য বাঁকানো এবং কয়েকটি গ্রীবা নালিকা কোষ নিয়ে গঠিত। উদরে একটি ডিম্বাণু এবং একটি উদরীয় নালিকা কোষ থাকে।

(iv) নিম্নত্বকঃ থ্যালাসের সঞ্চয়ী অঞ্চলের নিচে একসারী কোষ দিয়ে নিম্নত্বক গঠিত হয়। নিম্নত্বক থেকে এককোষী মসৃণ বা অমসৃণ রাইজয়েড এবং বহুকোষী শল্ক বা স্কেল সৃষ্টি হয়।

Riccia-র বাহ্যিক গঠন । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(i) থ্যালাসঃ Riccia হলো গ্যামিটোফাইট উদ্ভিদ। এর দেহকে মূল, কান্ড পাতায় ভাগ করা যায় না। অর্থাৎ এরা থ্যালাস আকৃতির। থ্যালাস সবুজ, স্থুল, রসালো, শায়িত, বিষমপৃষ্ঠ এবং চ্যাপ্টা। ইহা দ্ব্যাগ্র শাখাবিশিষ্ট। প্রতিটি শাখার অগ্রভাগে একটি করে বড় খাঁজ থাকে। একে অগ্রস্থ খাঁজ বা Apical notch    বলে। থ্যালাসের পৃষ্ঠদেশে লম্বালম্বি ভাবে একটি খাঁজ থাকে। একে পৃষ্ঠীয় খাঁজ বলে। পৃষ্ঠীয় খাঁজ বরাবর লম্বালম্বি ভাবে একটি মধ্যশিরা থাকে। অনেক গুলো থ্যালাস একত্রে গোলাপের পাপড়ির মতো অবস্থান করে। অবস্থাকে রোজেট বলে। থ্যালাসে গিমা কাপ জন্মে যা অঙ্গজ জননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। ইহা সবুজ হওয়ায় সালোকসংশে¬ষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরী করতে পারে।

(ii) রাইজয়েডঃ জরপপরধথ্যালাসের নিম্নাংশ হতে সরু, সুত্রাকার, শাখাপ্রশাখাবিহীন, বর্ণহীন এককোষী রাইজয়েড উৎপন্ন্ হয়। ইহা দুই ধরনের। মসৃণ এবং অমসৃণ রাইজয়েড। অমসৃণ রাইজয়েডগুলোতে পেরেকএর মতো গোঁজ থাকে। রাইজয়েড থ্যালাসকে মাটি বা অন্য কোন বস্তুর সাথে আটকে রাখে এবং পানি খনিজ লবণ পরিশোষণ করে। Ricciaএর জলজ প্রজাতিতে রাইজয়েড থাকে না।

(iii) স্কেলঃ Riccia থ্যালাসের নিম্নাংশ হতে সরু, সুত্রাকার, শাখাপ্রশাখাবিহীন, বর্ণহীন বহুকোষী স্কেল উৎপন্ন্ হয়। ইহা থ্যালাসকে মাটি বা অন্য কোন বস্তুর সাথে আটকে রাখে এবং পানি খনিজ লবণ পরিশোষণ করে। স্কেল থ্যালাসকে প্রতিকূল পরিবেশে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে। Ricciaএর জলজ প্রজাতিতে স্কেল থাকে না।

Riccia -কে লিভারওয়ার্ট (Liverwort) বা লিভার প্ল্যান্ট বলা হয় কেন

Riccia হলো হেপাটিকি শ্রেণীর উদ্ভিদ। হেপাটিকি শ্রেণীর সদস্যরা লিভারওয়ার্ট নামে পরিচিত। Liver অর্থ মানুষের যকৃত। Riccia থ্যালাসের আকৃতি মানুষের লিভার বা যকৃতের সাথে কিছুটা মিল রয়েছে। অর্থাৎ Riccia দেখতে অনেকটা লিভার বা পাতা বা মরিচের মতো। একারণে Ricciaকে লিভারওয়ার্ট বা যকৃত সদৃশ্য উদ্ভিদ বলা হয়। যেমনRiccia dhakensis.

Riccia-র শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য কীকী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। ইহা গ্যামিটোফাইটিক (হ্যাপ্লয়েড) উদ্ভিদ।

২। এর দেহ থ্যালয়েড অর্থাৎ দেহকে মূল, কান্ড পাতায় ভাগ করা যায় না।

৩। এর থ্যালাস সবুজ, শায়িত, বিষমপৃষ্ঠ এবং চ্যাপ্টা। ড.সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

৪। থ্যালাস দ্ব্যাগ্র শাখাবিশিষ্ট এবং প্রতিটি শাখার মাথায় খাঁজ আছে।

৫। থ্যালাসের নি¤œপৃষ্ঠে এককোষী মসৃণ অমসৃণ রাইজয়েড এবং বহুকোষী স্কেল (শল্ক) থাকে। ড.সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

৬। থ্যালাসের উপরের দিক সবুজ সালোকসংশ্লেষণে সক্ষম এবং নিচের দিক বর্ণহীন সঞ্চয়ী অঞ্চল।

৭। সঞ্চয়ী অঞ্চল বর্ণহীন, প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত এবং বায়ু প্রকোষ্ঠবিহীন। ড.সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

৮। ফটোসিনথেটিক অঞ্চল বায়ুপ্রকোষ্ঠ যুক্ত এবং প্রকোষ্ঠগুলো সরাসরি বায়ুতে উন্মুক্ত। ড.সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

৯।  এরা হোমোস্পোরাস। অর্থাৎ একই রকম স্পোর উৎপন্ন করে।

১০। থ্যালাসের পচনের ফলে স্পোর নির্গত হয়।

১১। স্ত্রীজননাঙ্গ হলো আর্কিগোনিয়াম এবং ইহা দেখতে ফ্লাক্স বা কলসি আকৃতির। ড.সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১২। পুংজননাঙ্গ হলো অ্যান্থেরিডিয়াম এবং ইহা দেখতে নাসপাতি আকার, গোলাকার, ডিম্বাকার বা বেলনাকার।ড.সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১৩। স্পোরোফাইট গ্যামিটোফাইটের উপর নির্ভরশীল। ড.সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১৪। এরা অঙ্গজ যৌন জনন প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধি করে। ড.সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

Riccia-র  স্বভাব ও বাসস্থান

পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই Riccia পাওয়া যায়। এরা বর্ষাকালে গোলাকার ভাবে দলবদ্ধ হয়ে গুচ্ছে গুচ্ছে জন্মে। আর্দ্র বা স্যাঁতসেঁতে মাটি এবং আর্দ্র প্রাচীরের গায়ে এরা জন্মে। একমাত্র প্রজাতি Riccia fluitans পানিতে ভাসমান অবস্থায় জন্মে। বাংলাদেশের সিলেটসহ পাহাড়ী অঞ্চলে Ricciaএর বিভিন্ন প্রজাতি জন্মে।

রিকশিয়া কী । Riccia কী

হেপাটিকি শ্রেণীর একটি গণ হলো Riccia পৃথিবীব্যাপী ইহা মস নামে পরিচিত। এদের সাধারণ নাম লিভারওয়ার্ট। Riccia গণের প্রায় ২০০টি প্রজাতি আছে। বাংলাদেশে এই গণের ৪৫টি প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশে প্রাপ্ত কয়েকটি প্রজাতি হলোRiccia chittagogensis, Riccia dhakensis, Riccia gangeticus, Riccia discolor, Riccia amelli,  Riccia crystallina,  Riccia personii প্রভৃতি।

ব্রায়োফাইটা উভচর উদ্ভিদ বলা হয় । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ব্রায়োফাইটা স্থলজ অথবা আর্দ্র স্থলজ পরিবেশে জন্মে। এরা জলজ উদ্ভিদের মতো পানি শোষণ করে। এদের জনন, বৃদ্ধি বিকাশের জন্য পানি প্রয়োজন। জলজ উদ্ভিদের মতো এদের বায়ুছিদ্র থাকে। যৌনজননের সময় এদের শুক্রাণু পানিতে সাঁতার কেটে ডিম্বাণুর নিকট যায় এবং পানির উপস্থিতিতে নিষেক ঘটায়। অর্থাৎ এদের জীবনচক্র সম্পাদনের জন্য পানি একান্ত প্রয়োজন। তাই ব্রায়োফাইটাকে উভচর (amphibious) উদ্ভিদ বলা হয়।