ব্রায়োফাইটার শ্রেণীবিভাগ আলোচনা । Bryophyta । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ব্রায়োফাইটা বিভাগের উদ্ভিদকে তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে।
১। লিভারওয়ার্ট বা হেপাটিকপসিডা বা Hepaticaeঃ যে সব মসের লিঙ্গধর উদ্ভিদ বা গ্যামিটোফাইটের দৈহিক গঠন যকৃত আকৃতির পাতার মতো তাদেরকে লিভারওয়ার্ট বা লিভার প্লান্ট বলে।
(i) এরা গ্যামিটোফাইটিক উদ্ভিদ। দেহ থ্যালাস প্রকৃতির।
(ii) এদের জননাঙ্গ থ্যালাসের পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত। পুংধানী নাসপাতি আকৃতির এবং স্ত্রীধানী ফ্লাস্ক আকৃতির।
(iii) এরা ছোট আকৃতির স্বতন্ত্র উদ্ভিদ। দৈর্ঘ্য ১০ সেন্টিমিটারের কম এবং প্রস্থ ২-২০ মিলিমিটার।
(iv) এরা পৃথিবীর সর্বত্র বিস্তৃত। মেরু, মরু ও আর্দ্র অঞ্চলে এর ৬,০০০ প্রজাতি রয়েছে।
(v) এরা মাটি, বালু, পাথর, বৃক্ষ কিংবা কোন বস্তুর উপর জন্মে।
কয়েকটি লিভারওয়ার্ট- Riccia huebeneriana , Marchantia polymoroha, Asterella californica, Ricciocarpus natans cÖf…wZ|
২। হর্নওয়ার্ট বা অ্যান্থোসেরোটপসিডা বা Anthocerotaeঃ যে সব মসের লিঙ্গধর উদ্ভিদ বা গ্যামিটোফাইটের দৈহিক গঠন শিং আকৃতির তাদেরকে হর্নওয়ার্ট বা শিং আকৃতির উদ্ভিদ বলে।
(i) এদের প্রধান উদ্ভিদ গ্যামিটোফাইট। ইহা সবুজ এবং চ্যাপ্টা গঠনবিশিষ্ট।
(ii) এদের স্পোরোফাইট আংশিক স্বাবলম্বী।
(iii) এরা উন্নত প্রকৃতির এবং এদের ক্যাপসিউলে কলুমেলা থাকে।
(iv) এদের থ্যালাস বিষমপৃষ্ঠীয় এবং শায়িত। জননাঙ্গ থ্যালাসের পৃষ্ঠদেশে প্রোথিত থাকে।
(v) পৃথিবীর সর্বত্র এদের পাওয়া যায়। এদের প্রজাতি সংখ্যা ৩০০।
কয়েকটি হর্নওয়ার্ট- Anthoceros agrestis, Phaeoceros carolinianus, Ceratophyllum pollination, Folioceros amboinensis, Dendroceros crispus, Notothylas anaporata.
৩। মাসাই (Musci)
(i) এরা মস নামে পরিচিত।
(ii) এদের গ্যামিটোফাইট সূত্রাকার বা থ্যালাস আকৃতির এবং প্রোটোনেমায় পরিনত হয়।
(iii) এদের দেহ অনেকটা কান্ডের মতো এবং কান্ডের অগ্রভাগে যৌননাঙ্গ গঠিত হয়।
(iv) এদের স্পোরোফাইট পদ, সিটা ও ক্যাপসিউলে বিভক্ত।
উদাহরণঃ Funaria, Sphagnum, Pogonatum.

মাসাই কী । Musci । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(i) এরা মস নামে পরিচিত।

(ii) এদের গ্যামিটোফাইট সূত্রাকার বা থ্যালাস আকৃতির এবং প্রোটোনেমায় পরিনত হয়।

(iii) এদের দেহ অনেকটা কান্ডের মতো এবং কান্ডের অগ্রভাগে যৌননাঙ্গ গঠিত হয়।

(iv) এদের স্পোরোফাইট পদ, সিটা ক্যাপসিউলে বিভক্ত।

উদাহরণঃ Funaria, Sphagnum, Pogonatum.

হর্নওয়ার্ট কী । অ্যান্থোসেরোটপসিডা কী । Anthocerotae কী

যে সব মসের লিঙ্গধর উদ্ভিদ বা গ্যামিটোফাইটের দৈহিক গঠন শিং আকৃতির তাদেরকে হর্নওয়ার্ট বা শিং আকৃতির উদ্ভিদ বলে।

(i) এদের প্রধান উদ্ভিদ গ্যামিটোফাইট। ইহা সবুজ এবং চ্যাপ্টা গঠনবিশিষ্ট।

(ii) এদের স্পোরোফাইট আংশিক স্বাবলম্বী।

(iii) এরা উন্নত প্রকৃতির এবং এদের ক্যাপসিউলে কলুমেলা থাকে।

(iv) এদের থ্যালাস বিষমপৃষ্ঠীয় এবং শায়িত। জননাঙ্গ থ্যালাসের পৃষ্ঠদেশে প্রোথিত থাকে।

(v) পৃথিবীর সর্বত্র এদের পাওয়া যায়। এদের প্রজাতি সংখ্যা ৩০০।

কয়েকটি হর্নওয়ার্টAnthoceros agrestis, Phaeoceros carolinianus, Ceratophyllum pollination, Folioceros amboinensis, Dendroceros crispus, Notothylas anaporata.

লিভারওয়ার্ট কী । হেপাটিকপসিডা কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে সব মসের লিঙ্গধর উদ্ভিদ বা গ্যামিটোফাইটের দৈহিক গঠন যকৃত আকৃতির পাতার মতো তাদেরকে লিভারওয়ার্ট বা লিভার প্লান্ট বলে।
(i) এরা গ্যামিটোফাইটিক উদ্ভিদ। দেহ থ্যালাস প্রকৃতির।
(ii) এদের জননাঙ্গ থ্যালাসের পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত। পুংধানী নাসপাতি আকৃতির এবং স্ত্রীধানী ফ্লাস্ক আকৃতির।
(iii) এরা ছোট আকৃতির স্বতন্ত্র উদ্ভিদ। দৈর্ঘ্য ১০ সেন্টিমিটারের কম এবং প্রস্থ ২-২০ মিলিমিটার।
(iv) এরা পৃথিবীর সর্বত্র বিস্তৃত। মেরু, মরু ও আর্দ্র অঞ্চলে এর ৬,০০০ প্রজাতি রয়েছে।
(v) এরা মাটি, বালু, পাথর, বৃক্ষ কিংবা কোন বস্তুর উপর জন্মে।
কয়েকটি লিভারওয়ার্ট- Riccia huebeneriana , Marchantia polymoroha, Asterella californica, Ricciocarpus natans

প্রকৃত মস কী

Bryopsida শ্রেণীর উদ্ভিদদেরকে প্রকৃত মস বলে। এদের ক্যাপসুলের মুখে আংটির মতো পেরিস্টোম থাকে। মস উদ্ভিদের ৯৫% হলো প্রকৃত মস। এরা পৃথিবীর সর্বত্র জন্মে এবং এদের প্রজাতি সংখ্যা ১২,০০০। এদের মধ্যে Semibarbula কে কার্পেট মস বলা হয়।

উদাহরণঃ Semibarbula, Sphagnum, Polytrichum, Funaria প্রভৃতি।

ব্রায়োফাইটার আদি বৈশিষ্ট্য কী কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। উদ্ভিদ হ্যাপ্লয়েড প্রকৃতির।
২। অধিকাংশ উদ্ভিদ থ্যালয়েড প্রকৃতির।
৩। এদের সত্যিকার মূল থাকে না।
৪। এরা অভাস্কুলার উদ্ভিদ। অর্থাৎ পরিবহন টিস্যু থাকে না।
৫। এরা হোমোস্পোরাস। অর্থাৎ একই ধরনের স্পোর উৎপন্ন করে।

ব্রায়োফাইটার বৈশিষ্ট্য কী কী । Characters of Bryophyta । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। ব্রায়োফাইটা হলো সবুজ, স্বভোজী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ উদ্ভিদ।
২। এরা বহুকোষী, অপুষ্পক এবং অবীজী উদ্ভিদ।
৩। এরা প্রধানত গ্যামিটোফাইট (হ্যাপ্লয়েড)। গ্যামিটোফাইট বৃহদাকৃতির এবং দীর্ঘস্থায়ী।
৪। এদের দেহ থ্যালয়েড অর্থাৎ দেহকে মূল, কান্ড ও পাতায় ভাগ করা যায় না। তবে মস জাতীয় উদ্ভিদ কান্ড ও পাতায় বিভক্ত। উচ্চতর ব্রায়োফাইটার দেহ কলয়েড (কান্ডের ন্যায়) ও ফাইলয়েডে (পাতার ন্যায়) বিভক্ত।
৫। এদের মূল থাকে না। মূলের পরিবর্তে এককোষী রাইজয়েড থাকে। কোন কোন প্রজাতিতে বহুকোষী রাইজয়েড থাকে।
৬। এদের পরিবহন কলা বা ভাস্কুলার বান্ডল থাকে না। অর্থাৎ এরা অভাস্কুলার উদ্ভিদ।
৭। এদের দেহ শুধু মাত্র প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত।
৮। এদের পুংজননাঙ্গকে অ্যান্থেরিডিয়াম এবং স্ত্রীজননাঙ্গকে আর্কিগোনিয়াম বলে।
৯। এদের অ্যান্থেরিডিয়াম নাসপাতি আকৃতির এবং আর্কিগোনিয়াম ফ্লাস্ক আকৃতির।
১০। এদের জননাঙ্গ বহুকোষী এবং বন্ধ্যা আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে।
১১। এদের যৌন জনন ঊগ্যামাস প্রকৃতির। অর্থাৎ পুংগ্যামিট ছোট ও সচল এবং স্ত্রীগ্যামিট বড় ও নিশ্চল।
১২। এদের নিষেক ঘটে জলীয় মাধ্যমে। অর্থাৎ নিষেক প্রক্রিয়া পানির উপর নির্ভরশীল।
১৩। এদের শুক্রাণু দ্বি-ফ্ল্যাজেলা বিশিষ্ট।
১৪। এদের জীবনচক্রে বহুকোষী ভ্রুণ সৃষ্টি হয়। ভ্রুণের পরিস্ফুটন স্ত্রীধানীর ভেন্টারে ঘটে।
১৫। এরা সমরেণুপ্রসু বা হোমোস্পোরাস। অর্থাৎ এরা একই রকম স্পোর উৎপন্ন করে।
১৬। অনেক গুলো থ্যালাস একত্রে রোজেট গঠন করে।
১৭। স্পোরোফাইট গ্যামিটোফাইটের উপর আংশিক অথবা সম্পুর্ণরুপে নির্ভরশীল।
১৮। উন্নত ব্রায়োফাইটার স্পোরোফাইট পদ, সিটা ও ক্যাপসিউলে বিভক্ত।
১৯। এদের স্পোর অঙ্কুরিত হয়ে সরাসরি থ্যালাস বা প্রোটোনেমা গঠন করে।
২০। ব্রায়োফাইটার জীবনচক্রে সুস্পষ্ট অসম আকৃতির বা হেটারোমরফিক জনুঃক্রম বিদ্যমান।

ব্রায়োফাইটার স্বভাব ও বাসস্থান

ব্রায়োফাইটার বিস্তার বিস্তৃতি বিশ্বব্যাপী। সমুদ্র ছাড়া সব জায়গায় এদের পাওয়া যায়। সাধারণত স্যাঁতসেঁতে ছায়াযুক্ত পরিবেশে এরা জন্মে। মেরু মরু অঞ্চলেও জন্মে। বাংলাদেশে ৩৪টি গোত্রের ৭৪টি গণের ২৪৮টি প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ব্রায়োফাইটার ৯৬০টি গণের ১৫,৬০০ (অনেকের মতে ২৪০০০) প্রজাতি পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত।

ব্রায়োফাইটা  কী । Bryophyta কী । মসবর্গীয় উদ্ভিদ কী

গ্রীক শব্দ Bryon অর্থ মস এবং phyton অর্থ উ দ্ভিদ নিয়ে Bryophyta শব্দটি গঠিত। Bryophyta এর অর্থ হলো মসবর্গীয় উদ্ভিদ। প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত সবুজ বর্ণের অভাস্কুলার উদ্ভিদ, যা থ্যালয়েড অথবা কান্ড পাতায় বিভক্ত তাকে ব্রায়োফাইটস্ (Bryophytes) বলে। ব্রায়োফাইট্স এর বিভাগকে ব্রায়োফাইটা বলে। ১৮৬৪ সালে বিজ্ঞানী ব্রাউন (Braun) সর্বপ্রথম Bryophyta শব্দটি ব্যবহার করেন। Bryophyta বর্গের উদ্ভিদের নিষেক এবং জীবনচক্র সম্পাদনের জন্য পানি অপরিহার্য বলে এদেরকে উভচর (amphibious) উদ্ভিদ বলা হয়। ক্ষুদ্রতম ব্রায়োফাইট হলো জুপসিস (Zoopsis argentea) জুপসিসএর দৈর্ঘ্য মিমি। এবং বৃহত্তম ব্রায়োফাইট হলো ডাউসোনিয়া। ডাউসোনিয়া এর দৈর্ঘ্য ৫০৭০ সেমি (Dawsonia superba, Dawsonia longifolia Dawsonia longiseta)

 

রেইনডিয়ার মস কী । রেনডিয়ার লাইকেন কী

রেইনডিয়ার মস হলো রেনডিয়ার লাইকেন । এর বৈজ্ঞানিক নাম Cladonia rangiferina। ইহা একটি ফ্রুটিকোজ লাইকেন। ইহা শাখাযুক্ত গুল্ম। ইহা আর্কটিক বা তুন্দ্রা অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। ইহা বলগা হরিণের প্রিয় খাদ্য। স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় এটি অ্যালকোহল তৈরিতে ব্যবহার হয়।