পাইলিয়াস কী । Pileus । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

স্টাইপের অগ্রভাগে বিদ্যমান ছাতার ন্যায় স্ফীত অংশকে পাইলিয়াস বলে। তরুণ অবস্থায় পাইলিয়াস ভেলাম নামক ঝিল্লিময় আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। এর ব্যাস ৫.০-১২.৫ সেমি। এর পৃষ্ঠদেশ মসৃণ কিন্তু অংকীয়দেশ অমসৃণ। অংকীয়তলে পাতের ন্যায় কতক গুলো অংশ থাকে। একে গিল বলে। প্রতিটি পাইলিয়াসে ৩০০-৫০০টি গিল থাকে। অপরিনত গিল গোলাপী বর্ণের এবং পরিনত গিল লাল-হলুদ বা লোহিত-পিঙ্গল বর্ণের হয়। প্রতিটি গিলে তিনটি অংশ রয়েছে। এ গুলো হলো-
(i) ট্র্যামা (Trama)ঃ গিলের মাঝখানের বন্ধ্যা অঞ্চলকে ট্র্যামা বলে। এই অঞ্চলের কোষ গুলো লম্বা, ঘন ও একাধিক নিউক্লিয়াস (ডাইক্যারিওটিক) বিশিষ্ট।
(ii) সাব-হাইমেনিয়াম (Sub-hymenium)ঃ ট্র্যামার উভয় পাশের অঞ্চলকে সাব হাইমেনিয়াম বলে। এ অঞ্চলের কোষ গুলো ছোট, গোলাকার ও ২-৩ নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট। কোষ গুলোর এরুপ বিন্যাসকে প্রোজেনকাইমা বলে। এ অঞ্চল থেকে গদাকৃতির ব্যাসিডিয়া সৃষ্টি হয়।
(iii) হাইমেনিয়াম (Hymenium)ঃ গিলের সবচেয়ে বাইরের অঞ্চলকে হাইমেনিয়াম বলে। এ অঞ্চলে প্যারাফাইসিস এবং ব্যাসিডিয়া কোষ থাকে। প্যারাফাইসিস হলো সরু ও বন্ধ্যা কোষ বা অণুসূত্র। ব্যাসিডিয়া হলো মোটা ও উর্বর কোষ। প্রতিটি ব্যাসিডিয়ামে ৪টি করে সরু স্টেরিগমাটা থাকে। প্রতিটি স্টেরিগমায় ১টি করে গোলাকার বা ডিম্বাকার ব্যাসিডিওস্পোর থাকে। ব্যাসিডিওস্পোর অঙ্কুরিত হয়ে নতুন মাইসেলিয়াম গঠন করে।

ফ্রুটবডি কী । Footbody কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

মাইসেলিয়াম হতে ছাতার ন্যায় যে বায়বীয় হাইফি সৃষ্টি হয় তাকে ফ্রটবডি বলে। ফ্রুটবডি সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে ফ্রুকটিফিকেশন বলে। Agaricus -এর ফ্রুটবডিকে ব্যাসিডিওকার্পও বলা হয়। ইহা দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত।
(ক) স্টাইপ (Stipe)ঃ মাইসেলিয়াম হতে খাড়া উপরের দিকে উথিত শাখা-প্রশাখাবিহীন কান্ডের ন্যায় অংশকে স্টাইপ বলে। এটি ৫-৮ সেমি দীর্ঘ। ইহা পাইলিয়াস বহন করে। স্টাইপের মাথায় যে চক্রাকার অংশ থাকে তাকে অ্যানুলাস বলে। ইহা স্টাইপ ও পাইলিয়াসের মধ্যে সংযোগ সাধন করে।
(খ) পাইলিয়াস (Pileus)ঃ স্টাইপের অগ্রভাগে বিদ্যমান ছাতার ন্যায় স্ফীত অংশকে পাইলিয়াস বলে। তরুণ অবস্থায় পাইলিয়াস ভেলাম নামক ঝিল্লিময় আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। এর ব্যাস ৫.০-১২.৫ সেমি। এর পৃষ্ঠদেশ মসৃণ কিন্তু অংকীয়দেশ অমসৃণ। অংকীয়তলে পাতের ন্যায় কতক গুলো অংশ থাকে। একে গিল বলে। প্রতিটি পাইলিয়াসে ৩০০-৫০০টি গিল থাকে। অপরিনত গিল গোলাপী বর্ণের এবং পরিনত গিল লাল-হলুদ বা লোহিত-পিঙ্গল বর্ণের হয়।

মাইসেলিয়াম কী । Mycelium কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

Agaricus-এর দেহ সরু, সূত্রাকার, শাখান্বিত ও বহুকোষী বর্ণহীন হাইফি দ্বারা গঠিত। হাইফি গুলো পরস্পর মিলিত হয়ে মাইসেলিয়াম গঠন করে। ইহা বহুবর্ষজীবী ছত্রাক। Agaricus-এর মাইসেলিয়াম অ্যাসিনোসাইটিক। অর্থাৎ ইহা প্রস্থ প্রাচীর দ্বারা বহু কোষে বিভক্ত। প্রতিটি কোষে দানাদার সাইটোপ্লাজম, একাধিক নিউক্লিয়াস, লাইসোসোম, রাইবোসোম, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা, ছোট ছোট কোষ গহŸর ও সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে তেল বিন্দু থাকে। কোষ প্রাচীর কাইটিন নির্মিত। এতে সালোকসংশ্লেষণকারী বর্ণকণিকা থাকে না। মাইসেলিয়াম গুলো পরস্পর জড়াজড়ি করে দড়ির মতো গঠন সৃষ্টি করে। একে রাইজোমরফ্ বলে। একটি মাশরুম একদিনে এক কিলোমিটার লম্বা হাইফি তৈরী করতে পারে। মাইসেলিয়াম থেকে উৎপন্ন ব্যাসিডিওকার্প মাটির উপরে বলয়াকারে অবস্থান করে। এ ধরনের বলয়কে পরী বলয় বা ফেয়ারি রিং (Fairy ring) বলে।

পরীচক্র কী ।। ফেয়ারি রিং কী ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

Agaricus মাঠে-ময়দানে প্রচুর পরিমাণে জন্মে। এরা ভিজা মাটি, গোবর বা খড়ের উপর জন্মে। ইহা মৃতজীবী ছত্রাক তাই পচনশীল জৈব পদার্থের উপর জন্মে। বর্ষাকালে বাড়ির আশেপাশে জন্মাতে দেখা যায়। অনেক সময় বাগানের লোনে বৃত্তাকারে বা চক্রাকারে জন্মে। এরুপ অবস্থাকে পরীচক্র বা ফেয়ারি রিং বলে। পরিনত অবস্থায় দেখতে অনেকটা ব্যাঙের ছাতার মতো। তাই এদেরকে ব্যাঙের ছাতা বলা হয়।

ব্যাঙের ছাতা কী । অ্যাগারিকাস কী । Agaricus কী

Agaricus হলো মৃতজীবী ছত্রাক। একে ব্যাঙের ছাতা বলা হয়। এরা মাশরুম বা মাংসল বা গিল ছত্রাক নামে পরিচিত। এরা পচনশীল মাটি, খড়ের গাদা, গোবর, বাঁশঝাড়, পচা কাঠ প্রভৃতিতে জন্মে। বাংলাদেশ থেকে নথিভুক্ত করা প্রজাতি হলো Agaricus bisporus। এটি হোয়াইট বাটন মাশরুম নামে পরিচিত। Agaricus campestris অত্যন্ত পরিচিত একটি ছত্রাক।

স্পিরুলিনা কী । স্পিরুলিনা শৈবালের বৈশিষ্ট্য, উপকারীতা ও সতর্কতা । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

স্পিরোলিনা হলো সবুজ শ্যাওলা বা শৈবাল যা খাল-বিল বা পানিতে জন্মে। সাগরের তলদেশে সামুদ্রিক শৈবাল নামে পরিচিত। বিশ্রি জাতীয় এই সবুজ শ্যাওলাটি আমাদের স্বাস্থের জন্য অনেক অনেক উপকারী। একে প্রোটিনের বিরাট উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয় ।

স্পিরুলিনার বৈশিষ্টঃ স্পিরুলিনার ব্যাপক মাত্রায় শরীরের রেডিয়েশন ইনভোলভমেন্ট বাধা দেয়। জাপানিদের বেশিদিন বেঁচে থাকার একমাত্র জাদুকাঠি হলো সবুজ শ্যাওলা বা স্পিরুলিনা। জাপানে এটি নড়ি নামে পরিচিত। জাপানিরা খাবারের সময় প্রচুর পরিমাণে স্পিরুলিনা খায়।

রোগ প্রতিরোধে স্পিরুলিনারভূমিকাঃ বাজারে স্পিরুলিনা ট্যাবলেট, ক্যাপসুলও পাউডাররূপে পাওয়া যায়। এছাড়া চা পাতি বা রুটি, আলুভর্তা, নুডলস্, শরবত, হালুয়া ইত্যাদিতে স্পিরুলিনা মিশিয়ে নানা খাবার তৈরি করা সম্ভব।

উপকারিতা ও গুণাবলি

১। ৬০-৬৩% উদ্ভিজ্জ আামিষ স্পিরুলিনায় আছে যা মাংসের চাইতে ৩-৪ গুণ বেশি।
২। স্পিরুলিনায় অধিক পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন, লৌহ ও খণিজ পদার্থ থাকে।
৩। প্রতিদিন সাধারনণ খাবার হিসেবে ইহা খাওয়া যায়।
৪। মুল্যবান ভেষজ হিসেবে স্পিরুলিনার চাহিদা রয়েছে।
৫। ইহা দেহে প্রচুর পরিমাণে শক্তি যোগায় ।
৬। সাইক্লিস্ট ও অ্যাথলেটিকসদের জন্য স্পিরুলিনা উপকারী খাবার।
৭। ইহা একটি শক্তিবর্ধক সম্পূরক খাদ্য।
৮। ইহা নিয়মিত খেলে দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়। পুষ্টিহীনতা, রক্তশূন্যতা, রাতকানা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, আলসার, বাত, হেপাটাইটিস ও ক্লান্তি দূর করে।
৯। স্পিরুলিনার প্রায় ৫০% আমিষ।
১০। দিনে মাত্র ১০ গ্রাম স্পিরুলিনা খেয়ে দৈনিক আমিষ চাহিদার ৭০% মেটানো সম্ভব।
১১। পেশিকলা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে স্পিরুলিনা ।
১২। এটি পরিশ্রম করার ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের ওজনও রাখে নিয়ন্ত্রণে।
১৩। সবুজ শ্যাওলাতে ৬০% এর মত সব ভেজিটেবলের প্রোটিন আছে।
১৪। ইহা প্রোটিন যুক্ত খাবারের (মাছ, মাংস, দুধ,ডিম) চাহিদা পূরণ করতে পারে।

 

সতর্কতা
শুকনা ও পরিষ্কার পাত্রে স্পিরুলিনা রাখতে হবে। বাতাস বা পানির সংস্পর্শে শুকনা স্পিরুলিনা খাওয়া যাবে না। বেশি মাত্রায় লৌহ ও ভিটামিনের কারণে ব্যবহারকারীর স্পিরুলিনা সহ্য না হলে স্পিরুলিনা খাওয়ার মাত্রা বা পরিমাণ কমিয়ে দিতে হবে।

ছত্রাক ও প্রাণীজগতের সাদৃশ্য

১। ছত্রাক এবং প্রাণী উভয়ে ক্লোরোফিলবিহীন।
২। এরা মৃতজীবী বা পরজীবী। অর্থাৎ পরনির্ভরশীল জীব।
৩। এদের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন।
৪। এদের কোষঝিল্লি আর্গোস্টেরল সমৃদ্ধ।
৫। ছত্রাকের কোষপ্রাচীর এবং প্রাণীদের (পতঙ্গ) বহিঃকঙ্কাল কাইটিন নির্মিত।

ছত্রাকের অপকারী ভূমিকা । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। মানুষের রোগ (Human diseases)ঃ ছত্রাকঘটিত রোগগুলোকে একত্রে মাইকোসিস এবং অ্যাস্পারজিলোসিস বলা হয়।
(i) Trichoderma Candida ছত্রাক মানুষের পুরুষাঙ্গে রোগ সৃষ্টি করে।
(ii) Aspergillus flavus ও Blastomyces dermatitidis ছত্রাক ফুসফুসের কক্সিডিওমাইকোসিস রোগ সৃষ্টি করে। এই রোগটি ক্যালিফোর্নিয়া জ¦র নামে পরিচিত।
(iii) Candida albicans ছত্রাক নাক, মুখ ও গলায় ক্যানডিডিয়াসিস সৃষ্টি করে।
(iv) Microsporium ছত্রাকের আক্রমণে মাথার চুল পড়ে টাক হয়।
(v) ছত্রাকজনিত চর্মরোগকে ডার্মাটোমাইকোসিস বলে। Trichophyton rubrum নামক ছত্রাক মানুষের দাদরোগ সৃষ্টি করে।
(vi) Absidia corymbifera ছত্রাকের আক্রমণে মানুষের ব্রঙ্কোমাইকোসিস রোগ হয়।
(vii) Mucor ও Rhizopus ছত্রাক মানুষের মস্তিষ্ক, ফুসফুস ও খাদ্য নালিতে জাইগোমাইকোসিস রোগ সৃষ্ট করে।
(viii) Alternaria, Aspergillus, Fusarium ও Hormodendrum ছত্রাক মানুষের এলার্জি সৃষ্টি করে।
২। উদ্ভিদের রোগ (Plant diseases)ঃ ফসলী উদ্ভিদের ব্লাইট, ব্লাস্ট, রট, মিলডিউ প্রভৃতি রোগ ছত্রাক সৃষ্টি করে।
(i) Helminthosporium oryzae ছত্রাক ধানের ব্লাইট বা বাদামী দাগ রোগ সৃষ্টি করে। এই রোগটির কারণে ১৯৪২ সালে তৎকালিন বাংলায় দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। Pyricularia oryzae ছত্রাক ধানের ব্লাস্ট রোগ সৃষ্টি করে।
(ii) Phytophthora infestans ছত্রাক আলুর লেট ব্লাইট বা বিলম্বিত ধ্বসা রোগ সৃষ্টি করে। এই রোগটির কারণে ১৮৪৩-৪৭ সালে আয়ারল্যান্ডে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় এবং দশ লক্ষ লোক মারা যায়। Alternaria solani ছত্রাক আলুর আরলি ব্লাইট রোগ সৃষ্টি করে।
(iii) Puccinia graminis tritici ছত্রাক দ্বারা গমের মরিচা রোগ সৃষ্টি হয়। Erysiphe graminis tritici ছত্রাক গমের পাউডারী মিলডিউ রোগ সৃষ্টি করে।
(iv) ১৭২২ সালে পিটার দ্যা গ্রেট তুরস্ক দখল করতে যায়। সেখানে আরগোট আক্রান্ত রাই খেয়ে তার শতাধিক ঘোড়া পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং বহু লোক মারা যায়।
(v) Colletotrichum falcatum ছত্রাক দ্বারা আখের লাল পচা রোগ সৃষ্টি হয়।
(vi) ) Exobasidium vexans ছত্রাক চা এর বিস্টার ব্লাইট রোগ সৃষ্টি করে।
৩। গৃহপালিত পশুপাখির রোগ (Animal diseases)ঃ Mucor, Rhizopus, Cercospora প্রভৃতি ছত্রাকের আক্রমণে গৃহপালিত পশুপাখির বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। Aspergillus funigatus হাঁস-মুরগী ও পাখির গর্ভপাত ঘটায়। Microsporium canis কুকুর ও ঘোড়ার দাদ বা চর্মরোগ সৃষ্টি করে। ১৭২২ সালে পিটার দ্যা গ্রেট এর শতাধিক ঘোড়া আরগোট রোগ আক্রান্ত রাই উদ্ভিদ খেয়ে মারা যায়।
৪। মাছের রোগ (Fish diseases)ঃ Saprolegnia parasitica ছত্রাক কার্পজাতীয় মাছের স্যামন রোগ সৃষ্টি করে উৎপাদন হ্রাস করে।
৫। খাদ্যদ্রব্যে বিষক্রিয়া (Taxin of food)ঃ Aspergillus, Rhizopus, Mucor ও Penicillium ছত্রাক আচার, চাটনী, জ্যাম, জেলি প্রভৃতি নষ্ট করে। Aspergillus flavus খাদ্যে মাইকোটক্সিন সৃষ্টি করে। বিষক্রিয় খাদ্য যকৃত, ফুসফুস ও বৃক্কের ক্ষতি করে।
৬। বিষাক্ততা (Taxicity)ঃ Amanita ও Agaricus এর কয়েকটি প্রজাতি খুব বিষাক্ত। এসব ছত্রাক খেলে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
৭। নিত্য ব্যবহার্য জিনিস বিনষ্টকরণ
(i) Penicillium, Fusarium, Alternaria প্রভৃতি ছত্রাক বই-কাগজ বিনষ্ট করে।
(ii) ক্যামেরা, মাইক্রোস্কোপ, চশমার লেন্স, রেডিও, টেলিভিশন প্রভৃতি ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত হয়।
(iii) কাঠ এবং কাঠের তৈরী আসবাবপত্র ছত্রাক দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৮। চামড়ার ক্ষতি (Ledar demase)ঃ Aspergillus ছত্রাক চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্যের ক্ষতি করে।
৯। কাঠের ক্ষতি (Wood demase)ঃ Polyporus, Poria, Serpula প্রভৃতি ছত্রাক কাঠের ক্ষতি করে।
১০। আবাদ মাধ্যম নষ্টকরণ (Culture media distructed)ঃ গবেষণাগারে ব্যাকটেরিয়ার কালচার মাধ্যমে Penicillium জন্মে নষ্ট করে দেয়।

পশু, পাখি ও মাছের রোগ সৃষ্টিতে ছত্রাকের ভূমিকা

গৃহপালিত পশুপাখির রোগ (Animal diseases)ঃ Mucor, Rhizopus, Cercospora প্রভৃতি ছত্রাকের আক্রমণে গৃহপালিত পশুপাখির বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। Aspergillus funigatus হাঁস-মুরগী ও পাখির গর্ভপাত ঘটায়। Microsporium canis কুকুর ও ঘোড়ার দাদ বা চর্মরোগ সৃষ্টি করে। ১৭২২ সালে পিটার দ্যা গ্রেট এর শতাধিক ঘোড়া আরগোট রোগ আক্রান্ত রাই উদ্ভিদ খেয়ে মারা যায়।
মাছের রোগ (Fish diseases)ঃ Saprolegnia parasitica ছত্রাক কার্পজাতীয় মাছের স্যামন রোগ সৃষ্টি করে উৎপাদন হ্রাস করে।

উদ্ভিদের রোগ সৃষ্টিতে ছত্রাকের ভূমিকা । Plant diseases । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ফসলী উদ্ভিদের ব্লাইট, ব্লাস্ট, রট, মিলডিউ প্রভৃতি রোগ ছত্রাক সৃষ্টি করে।
(i) Helminthosporium oryzae ছত্রাক ধানের ব্লাইট বা বাদামী দাগ রোগ সৃষ্টি করে। এই রোগটির কারণে ১৯৪২ সালে তৎকালিন বাংলায় দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। Pyricularia oryzae ছত্রাক ধানের ব্লাস্ট রোগ সৃষ্টি করে।
(ii) Phytophthora infestans ছত্রাক আলুর লেট ব্লাইট বা বিলম্বিত ধ্বসা রোগ সৃষ্টি করে। এই রোগটির কারণে ১৮৪৩-৪৭ সালে আয়ারল্যান্ডে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় এবং দশ লক্ষ লোক মারা যায়। Alternaria solani ছত্রাক আলুর আরলি ব্লাইট রোগ সৃষ্টি করে।
(iii) Puccinia graminis tritici ছত্রাক দ্বারা গমের মরিচা রোগ সৃষ্টি হয়। Erysiphe graminis tritici ছত্রাক গমের পাউডারী মিলডিউ রোগ সৃষ্টি করে।
(iv) ১৭২২ সালে পিটার দ্যা গ্রেট তুরস্ক দখল করতে যায়। সেখানে আরগোট আক্রান্ত রাই খেয়ে তার শতাধিক ঘোড়া পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং বহু লোক মারা যায়।
(v) Colletotrichum falcatum ছত্রাক দ্বারা আখের লাল পচা রোগ সৃষ্টি হয়।
(vi) ) Exobasidium vexans ছত্রাক চা এর বিস্টার ব্লাইট রোগ সৃষ্টি করে।