ক্ল্যামাইডোস্পোর কী । Chlamydospore কী

প্রতিকুল পরিবেশে কোন কোন ছত্রাকের হাইফি প্রস্থ প্রাচীর সৃষ্টির মাধ্যমে ছোট ছোট খন্ডে পরিনত হয়। প্রতিটি খন্ডের প্রোটোপ্লাস্ট পুরু প্রাচীর দ্বারা আবৃত হয়ে ক্ল্যামাইডোস্পোরে পরিনত হয়। ক্ল্যামাইডোস্পোর গুলো অংকুরিত হয়ে ছোট হাইফি গঠন করে। যেমন – Fusarium, Mucor, Phytophthora.

আর্থোরেণু কী । Oidia কী

ছত্রাকের হাইফি ব্যবধায়ক প্রাচীর দ্বারা বিভক্ত হয়ে দুই বা ততোধিক খন্ডে পরিনত হতে পারে। প্রতিটি খন্ডকে অয়ডিয়া বা আর্থোরেণু বলে। অয়ডিয়া উপযুক্ত পরিবেশে অংকুরিত হয়ে নতুন মাইসেলিয়াম গঠন করে। যেমন- Coprinus, Rhizopus, Mucor প্রভৃতি।

কনিডিয়া কী । Conidia কী

ছত্রাকের কনিডিওফোরের অগ্রভাগে গোলাকার বা ডিম্বাকার কনিডিয়া উৎপন্ন হয়। ইহা একক বা দলবদ্ধ ভাবে শিকলের ন্যায় গঠিত হতে পারে। পরিনত কনিডিয়া অংকুরিত হয়ে নতুন মাইসেলিয়াম গঠন করে। যেমন- Penicillium, Aspergillus, Phytophthora, Helminthosporium, Alternaria প্রভৃতি।

অচলরেণু কী । Aplanospore কী

প্রতিকূল পরিবেশে ছত্রাকের দেহে অ্যাপ্লানোস্পোরাঞ্জিয়া গঠিত হয়। অ্যাপ্লানোস্পোরাঞ্জিয়ামের ভিতরে ফ্ল্যাজেলাবিহীন রেণু উৎপন্ন হয়। এসব রেণু প্রাচীর দ্বারা আবৃত হয়ে অ্যাপ্লানোস্পোরে পরিনত হয়। স্পোর গুলো অনুকূল পরিবেশে অংকুরিত হয়ে নতুন ফিলামেন্ট গঠন করে। যেমন- Mucor, Rhizopus, Fusarium প্রভৃতি।

চলরেণু কী । Zoospore কী

ছত্রাকের এক বা একাধিক কোষ রুপান্তরিত হয়ে জুওস্পোরাঞ্জিয়াম গঠন করে। জুওস্পোরাঞ্জিয়ামের প্রোটোপ্লাস্ট বিভাজিত হয়ে দুই বা ততোধিক জুওস্পোর উৎপন্ন করে। জুওস্পোর দুই বা চার ফ্ল্যাজেলা বিশিষ্ট এবং সচল। এসব জুওস্পোর অংকুরিত হয়ে নতুন ছত্রাকের জন্ম দেয়। যেমন- Saprolegnia, Pythium, Phytophthora, Synchytrium, Mucor প্রভৃতি।

ছত্রাকের অঙ্গজ জনন । Vegetative reproduction of fungi

১। দ্বিবিভাজন (By fissin)ঃ এককোষী ছত্রাক খাদ্য গ্রহণ করে আকারে বড় হয় এবং দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় বিভক্ত হয়ে দুইটি নতুন ছত্রাক উৎপন্ন করে। যেমন- Saccharomyces

২। খন্ডায়ন (Segmentation)ঃ আঘাত অথবা ভৌত কারণে বহুকোষী ছত্রাকের মাইসেলিয়াম দুই বা ততোধিক খন্ডে পরিনত হয়। প্রতিটি খন্ড থেকে একটি করে নতুন ছত্রাক সৃষ্টি হয়। যেমন- Saprolegnia, Aspergillus, Rhizopus, Penicillium প্রভৃতি।

৩। বাডিং (Budding)ঃ অনুকূল  পরিবেশে ছত্রাক খাদ্য গ্রহণ করে আকারে বড় হয়। দেহের পার্শ্ব থেকে উপবৃদ্ধি সৃষ্টি হয়। এরপর উপবৃদ্ধি থেকে বাড বা মুকুল উৎপন্ন হয়। মুকুল মাতৃদেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন ছত্রাকের জন্ম দেয়। যেমন- Saccharomyces.

৪। স্কেরোশিয়াম (Sclerotium)ঃ কোন কোন ছত্রাকের হাইফি জড়াজড়ি করে গোলাকার বা বেলনাকার শক্ত ও জটিল গঠন সৃষ্টি করে। একে স্কেরোশিয়াম বলে। স্কেরোশিয়াম প্রতিকূল পরিবেশে সুপ্ত অবস্থায় থাকে এবং অনুকূল পরিবেশে অংকুরিত হয়। যেমন- Agaricus, Claviceps, Polyporus প্রভৃতি।

৫। স্পন (Spon)ঃ ছত্রাকের মাইসেলিয়ামকে আশ্রয় স্থলের সাথে মিশিয়ে ব্লক তৈরী করা হয়। পরে উহা কালচারের মাধ্যমে চাষ করে বংশবৃদ্ধি করা হয়। একে স্পন বলে। যেমন- Agaricus

৬। গিমা (Gima)ঃ ছত্রাকের হাইফির শীর্ষের নিউক্লিয়াস যথেষ্ট পরিমাণ সাইটোপ্লাজমসহ এককোষী গিমা সৃষ্টি করে। গিমা অনুকূল পরিবেশে অঙ্কুরিত হয়ে নতুন মাইসেলিয়াম গঠন করে। যেমন- Saprolegnia.

৭। রাইজোমর্ফ (Rhizomorph)ঃ ছত্রাকের মাইসেলিয়াম পরস্পর যুক্ত হয়ে স্থুল ও শক্ত রশির মতো অঙ্গ সৃষ্টি করে। একে রাইজোমর্ফ বলে। রাইজোমর্ফ অনুকূল পরিবেশে অংকুরিত হয়ে নতুন মাইসেলিয়াম গঠন করে। যেমন- Agaricus, Alternaria প্রভৃতি।

রাইজোমর্ফ কী । Rhizomorph কী

ছত্রাকের মাইসেলিয়াম পরস্পর যুক্ত হয়ে স্থুল ও শক্ত রশির মতো অঙ্গ সৃষ্টি করে। একে রাইজোমর্ফ বলে। রাইজোমর্ফ অনুকূল পরিবেশে অংকুরিত হয়ে নতুন মাইসেলিয়াম গঠন করে। যেমন- Agaricus, Alternaria প্রভৃতি।

গিমা কী । Gima কী

ছত্রাকের হাইফির শীর্ষের নিউক্লিয়াস যথেষ্ট পরিমাণ সাইটোপ্লাজমসহ এককোষী গিমা সৃষ্টি করে। গিমা অনুকূল পরিবেশে অঙ্কুরিত হয়ে নতুন মাইসেলিয়াম গঠন করে। যেমন- Saprolegnia.

স্পন কী । Spon কী

ছত্রাকের মাইসেলিয়ামকে আশ্রয় স্থলের সাথে মিশিয়ে ব্লক তৈরী করা হয়। পরে উহা কালচারের মাধ্যমে চাষ করে বংশবৃদ্ধি করা হয়। একে স্পন বলে। যেমন- Agaricus

স্কেরোশিয়াম কী । Sclerotium কী

কোন কোন ছত্রাকের হাইফি জড়াজড়ি করে গোলাকার বা বেলনাকার শক্ত ও জটিল গঠন সৃষ্টি করে। একে স্কেরোশিয়াম বলে। স্কেরোশিয়াম প্রতিকূল পরিবেশে সুপ্ত অবস্থায় থাকে এবং অনুকূল পরিবেশে অংকুরিত হয়। যেমন- Agaricus, Claviceps, Polyporus প্রভৃতি।