শৈবাল শুকিয়ে বা পুড়িয়ে কেল্প তৈরী করা হয়। কেল্প পোল্ট্রিখাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। যেমন- Laminaria, Mucus, Sargassum প্রভৃতি।
পশুখাদ্য হিসেবে শৈবালের ভূমিকা । Animal food
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শৈবাল পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। যেমন- Alaria, Laminaria, Rhodymenia, Ascophyllum, Sargassum, Fucus প্রভৃতি।
খাদ্য হিসেবে শৈবালের ভুমিকা । Human food । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
(i) খাদ্য বিশারদগণ ১০০টি শৈবাল প্রজাতিকে মানুষের খাদ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এসব শৈবালে প্রোটিন থাকে বলে পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে তালিকা করা হয়েছে।
(ii) প্রাচীনকাল থেকে Chlorella, Laminaria, Ulva, Chondrus, Gracilaria প্রভৃতি শৈবাল মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।
(iii) বাদামী শৈবাল থেকে প্রস্তুত অ্যারামি ও ক্যুমবো জাপানীদের সর্বাধিক জনপ্রিয় খাদ্য।
(iv) Porphyra শৈবাল থেকে জাপানে নরি, কোরিয়ায় জিম এবং যুক্তরাজ্যে ল্যাভার তৈরী করা হয়।
(v) Chlorella একটি ভিটামিন সমৃদ্ধ শৈবাল।
(vi) Spirulina-কে ভবিষত্যের সেরা খাদ্য হিসেবে মন্তব্য করা হয়।
শৈবালের জীবনচক্র বর্ণনা । Life cycle of algae
১। হ্যাপ্লন্টিক টাইপঃ এধরনের শৈবালের অঙ্গজ দেহ ডিপ্লয়েড এবং জাইগোট ডিপ্লয়েড প্রকৃতির। যেমন- Ulothrix.
২। ডিপ্লন্টিক টাইপঃ এসব শৈবালের গ্যামিট হ্যাপ্লয়েড এবং অঙ্গজ দেহ ডিপ্লয়েড প্রকৃতির। যেমন- Sargassum.
৩। আইসোমেরিক টাইপঃ এধরনে শৈবালের হ্যাপ্লয়েড এবং ডিপ্লয়েড অঙ্গজ দেহ বিদ্যমান। যেমন- Laminaria, Macrocystis, Nerocystis প্রভৃতি।
৪। হেটারোমরফিক টাইপঃ এসব শৈবালের গ্যামিটোফাইটিক দশা হ্যাপ্লয়েড এবং
স্পোরোফাইটিক দশা ডিপ্লয়েড। যেমন- Urospor.
৫। হ্যাপ্লবায়োন্টিক টাইপঃ এদের জীবনচক্রে দুইটি হ্যাপ্লয়েড দশা এবং একটি ডিপ্লয়েড দশা বিদ্যমান। যেমন- Coleochaete.
৬। ডিপ্লবায়োন্টিক টাইপঃ এদের জীবনচক্রে দুইটি ডিপ্লয়েড দশা এবং একটি হ্যাপ্লয়েড দশা বিদ্যমান। যেমন- Polysiphoni.
পার্থেনোজেনেসিস কী । অপুংজনি কী । Parthenogenesis
পুংগ্যামেট ও স্ত্রীগ্যামেটের যৌন মিলন ব্যর্থ হলে পার্থেনোরেণু বা অ্যাজাইগোরেণু সৃষ্টি হয়। পার্থেনোরেণু থেকে সরাসরি নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে পার্থেনোজেনেসিস বলে। শৈবালে পার্থেনোজেনেসিস ঘটে। যেমন– Spirogyra.
শৈবালের যৌন জনন আলোচনা । Sextual reproduction of algae । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
থ্যালাসের প্রকৃতি অনুসারে শৈবালের যৌন জনন প্রক্রিয়াকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
১। হোমোথ্যালিক (Homothelic)ঃ যে যৌন জনন প্রক্রিয়ায় একই থ্যালাসে উৎপন্ন শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিলিত হয়ে জাইগোট সৃষ্টি করে তাকে হোমোথ্যালিক যৌন জনন বলে। যেমন- Spirogyra, Chlamydomonas প্রভৃতি।
২। হেটারোথ্যালিক (Heterothelic)ঃ যে যৌন জনন প্রক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন থ্যালাসে উৎপন্ন শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিলিত হয়ে জাইগোট সৃষ্টি করে তাকে হেটারোথ্যালিক যৌন জনন বলে। যেমন- Ulothrix.
জনন কোষ বা গ্যামিটের প্রকৃতি অনুসারে শৈবালের যৌন জনন প্রক্রিয়াকে (হেটারোথ্যালিক) তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
১। আইসোগ্যামি (Isogamy)ঃ আকার, আকৃতি ও গঠন বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে একই প্রকৃতির দুটি গ্যামিটের মিলনকে আইসোগ্যামি বলে। যৌন জননে অংশ গ্রহণকারী গ্যামিটকে আইসোগ্যামিট বলা হয়। ইহা ফ্ল্যাজেলাযুক্ত ও সচল অথবা ফ্ল্যাজেলাবিহীন ও নিশ্চল হতে পারে। যেমন- Ulothrix, Chlamydomonas, Spirogyra প্রভৃতি।
২। অ্যানাইসোগ্যামি (Anisogamy)ঃ আকার, আকৃতি ও গঠন বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির দু’টি গ্যামিটের মিলনকে অ্যানাইসোগ্যামি বলে। যৌন জননে অংশ গ্রহণকারী গ্যামিটকে অ্যানাইসোগ্যামিট বলা হয়। ইহা ফ্ল্যাজেলাযুক্ত ও সচল অথবা ফ্ল্যাজেলাবিহীন ও নিশ্চল হতে পারে। একটি আকারে বড় এবং অন্যটি আকারে ছোট। বড় গ্যামিটকে ম্যাক্রোগ্যামিট বা স্ত্রীগ্যামিট এবং ছোট গ্যামিটকে মাইক্রোগ্যামিট বা পুংগ্যামিট বলে। যেমন- Pandorina, Chlamydomonas, Caulerpa, Ectocarpus, Ulothrix প্রভৃতি।
৩। ঊগ্যামি (Oogamy)ঃ যে যৌন জনন প্রক্রিয়ায় পুংগ্যামিট ছোট ও সচল এবং স্ত্রীগ্যামিট বড় ও নিশ্চল হয় তাকে ঊগ্যামি বলে। স্ত্রীজননাঙ্গে একটি মাত্র নিশ্চল ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়। সচল শুক্রাণু ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট গঠন করে। যেমন- Fucus, Oedogonium, Chlamydomonas, Vaucheria, Volvox, Chara, Polysiphonia, Sargassum প্রভৃতি।
ঊগ্যামি কী । Oogamy কী
যে যৌন জনন প্রক্রিয়ায় পুংগ্যামিট ছোট ও সচল এবং স্ত্রীগ্যামিট বড় ও নিশ্চল হয় তাকে ঊগ্যামি বলে। স্ত্রীজননাঙ্গে একটি মাত্র নিশ্চল ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়। সচল শুক্রাণু ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট গঠন করে। যেমন- Fucus, Oedogonium, Chlamydomonas, Vaucheria, Volvox, Chara, Polysiphonia, Sargassum প্রভৃতি।
অ্যানাইসোগ্যামি কী । Anisogamy কী
আকার, আকৃতি ও গঠন বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির দু’টি গ্যামিটের মিলনকে অ্যানাইসোগ্যামি বলে। যৌন জননে অংশ গ্রহণকারী গ্যামিটকে অ্যানাইসোগ্যামিট বলা হয়। ইহা ফ্ল্যাজেলাযুক্ত ও সচল অথবা ফ্ল্যাজেলাবিহীন ও নিশ্চল হতে পারে। একটি আকারে বড় এবং অন্যটি আকারে ছোট। বড় গ্যামিটকে ম্যাক্রোগ্যামিট বা স্ত্রীগ্যামিট এবং ছোট গ্যামিটকে মাইক্রোগ্যামিট বা পুংগ্যামিট বলে। যেমন- Pandorina, Chlamydomonas, Caulerpa, Ectocarpus, Ulothrix প্রভৃতি।
আইসোগ্যামি কী । Isogamy কী
আকার, আকৃতি ও গঠন বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে একই প্রকৃতির দুটি গ্যামিটের মিলনকে আইসোগ্যামি বলে। যৌন জননে অংশ গ্রহণকারী গ্যামিটকে আইসোগ্যামিট বলা হয়। ইহা ফ্ল্যাজেলাযুক্ত ও সচল অথবা ফ্ল্যাজেলাবিহীন ও নিশ্চল হতে পারে। যেমন- Ulothrix, Chlamydomonas, Spirogyra প্রভৃতি।
হেটারোথ্যালিক কী । Heterothelic শৈবাল কী
যে যৌন জনন প্রক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন থ্যালাসে উৎপন্ন শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিলিত হয়ে জাইগোট সৃষ্টি করে তাকে হেটারোথ্যালিক যৌন জনন বলে। যেমন- Ulothrix.