যে যৌন জনন প্রক্রিয়ায় একই থ্যালাসে উৎপন্ন শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিলিত হয়ে জাইগোট সৃষ্টি করে তাকে হোমোথ্যালিক যৌন জনন বলে। যেমন- Spirogyra, Chlamydomonas প্রভৃতি।
শৈবালের অযৌন জনন কী কী । Asextual reproduction of algae । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১। চলরেণু (Zoospore)ঃ শৈবালের এক বা একাধিক কোষ রুপান্তরিত হয়ে জুওস্পোরাঞ্জিয়াম গঠন করে। জুওস্পোরাঞ্জিয়ামের প্রোটোপ্লাস্ট বিভাজিত হয়ে দুই বা ততোধিক জুওস্পোর উৎপন্ন করে। এসব জুওস্পোর দুই বা চার ফ্ল্যাজেলা বিশিষ্ট এবং সচল। তবে Oedogoniales বর্গের এবং Vaucheriaceae গোত্রের শৈবালের জুওস্পোরাঞ্জিয়ামের ভিতরে বহু ফ্ল্যাজেলা বিশিষ্ট একটি মাত্র জুওস্পোর উৎপন্ন হয়। একে সিনজুওস্পোর বলে। এসব জুওস্পোর অঙ্কুরিত হয়ে নতুন শৈবালের জন্ম দেয়। যেমন- Ulothrix, Chara, Vaucheria, Ectocarpus, Oedogonium প্রভৃতি।
২। অচলরেণু (Aplanospore)ঃ প্রতিকূল পরিবেশে শৈবালের দেহে অ্যাপ্লানোস্পোরাঞ্জিয়াম গঠিত হয়। অ্যাপ্লানোস্পোরাঞ্জিয়ামের ভিতরে ফ্ল্যাজেলাবিহীন রেণু উৎপন্ন হয়। এসব রেণু প্রাচীর দ্বারা আবৃত হয়ে অ্যাপ্লানোস্পোরে পরিনত হয়। স্পোর গুলো অনুকূল পরিবেশে অঙ্কুরিত হয়ে নতুন ফিলামেন্ট গঠন করে। যেমন- Vaucheria, Ulothrix, Microspora, Chlorella প্রভৃতি।
৩। অটোস্পোর (Autospore)ঃ শৈবালের দেহে মাতৃকোষের অনুরুপ অত্যন্ত ক্ষুদ্র অ্যাপ্লানোস্পোর সৃষ্টি হয়। এই স্পোর গুলোকে অটোস্পোর বলে। অটোস্পোর অঙ্কুরিত হয়ে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি করে। যেমন- Chlorococcus, Chlorella, Scenedesmus প্রভৃতি।
৪। পামেলা দশা (Pameloid)ঃ অত্যন্ত শুষ্ক পরিবেশে শৈবালের দেহকোষের প্রোটোপ্লাস্ট বিভাজিত হয়ে অসংখ্য অপত্য কোষ সৃষ্টি করে। ফ্ল্যাজেলাবিহীন (অ্যাপ্লানোস্পোর) এই অপত্য কোষ গুলো জেলাটিনের আবরণী দ্বারা আবৃত হয়। এই অবস্থাকে পামেলা দশা বলে। অনুকূল পরিবেশে পানির প্রবাহে জেলাটিন আবরণী গলে যায় এবং প্রতিটি কোষ জুস্পোরে পরিনত হয়। প্রতিটি জুস্পোর নতুন শৈবালের জন্ম দেয়। যেমন- Fucus, Sargassum, Chlamydomonas প্রভৃতি।
৫। হিপনোস্পোর (Hipnospore)ঃ চরম প্রতিকূল পরিবেশে অ্যাপ্লানোস্পোর প্রচুর খাদ্য সঞ্চয় করে এবং পুরু প্রাচীর দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়। একে হিপনোস্পোর বলে। যেমন- Ulothrix, Botrydium, Chlamydomonas, Vaucheria, Pediastrum, Sphaerella প্রভৃতি।
৬। অন্তরেণু (Endospore)ঃ ব্যাসিলারিওফাইসী শ্রেণীর ও কিছু কিছু নীলাভ সবুজ শৈবাল এন্ডোস্পোর সৃষ্টির মাধ্যমে অযৌন জনন ঘটায়। যেমন- Chaemaesiphon.
৭। অক্সোস্পোর (Axospore)ঃ ব্যাসিলারিওফাইসী শ্রেণীর শৈবাল অক্সোস্পোর নামক বিশেষ ধরনের স্পোর সৃষ্টির মাধ্যমে অযৌন জনন সম্পন্ন করে। যেমন- Chaemaesiphon, Navicula প্রভৃতি।
৮। অ্যাকাইনিটি (Akinity)ঃ প্রতিকূল পরিবেশে কিছু সূত্রাকার শৈবালের এক বা একাধিক কোষ প্রচুর খাদ্য সঞ্চয় করে স্ফীত হয় এবং পুরু প্রাচীর দ্বারা আবৃত হয়ে রেস্টিং স্পোরে পরিনত হয়। এসব কোষকে অ্যাকিনিটি বলে। প্রতিটি অ্যাকিনিটি অনুকূল পরিবেশে অঙ্কুরিত হয়ে নতুন শৈবালে পরিনত হয়। যেমন- Nostoc, Oedogonium, Gloeotrichia, Oscillatoria, Pithophora, Ulothrix, Revularia, Cladophora প্রভৃতি।
অ্যাকাইনিটি কী । Akinity কী
প্রতিকূল পরিবেশে কিছু সূত্রাকার শৈবালের এক বা একাধিক কোষ প্রচুর খাদ্য সঞ্চয় করে স্ফীত হয় এবং পুরু প্রাচীর দ্বারা আবৃত হয়ে রেস্টিং স্পোরে পরিনত হয়। এসব কোষকে অ্যাকিনিটি বলে। প্রতিটি অ্যাকিনিটি অনুকূল পরিবেশে অঙ্কুরিত হয়ে নতুন শৈবালে পরিনত হয়। যেমন- Nostoc, Oedogonium, Gloeotrichia, Oscillatoria, Pithophora, Ulothrix, Revularia, Cladophora প্রভৃতি।
হিপনোস্পোর কী । Hipnospore কী
চরম প্রতিকূল পরিবেশে অ্যাপ্লানোস্পোর প্রচুর খাদ্য সঞ্চয় করে এবং পুরু প্রাচীর দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়। একে হিপনোস্পোর বলে। যেমন- Ulothrix, Botrydium, Chlamydomonas, Vaucheria, Pediastrum, Sphaerella প্রভৃতি।
পামেলা দশা কী । Pameloid কী
অত্যন্ত শুষ্ক পরিবেশে শৈবালের দেহকোষের প্রোটোপ্লাস্ট বিভাজিত হয়ে অসংখ্য অপত্য কোষ সৃষ্টি করে। ফ্ল্যাজেলাবিহীন (অ্যাপ্লানোস্পোর) এই অপত্য কোষ গুলো জেলাটিনের আবরণী দ্বারা আবৃত হয়। এই অবস্থাকে পামেলা দশা বলে। অনুকূল পরিবেশে পানির প্রবাহে জেলাটিন আবরণী গলে যায় এবং প্রতিটি কোষ জুস্পোরে পরিনত হয়। প্রতিটি জুস্পোর নতুন শৈবালের জন্ম দেয়। যেমন- Fucus, Sargassum, Chlamydomonas প্রভৃতি।
অটোস্পোর কী । Autospore কী
শৈবালের দেহে মাতৃকোষের অনুরুপ অত্যন্ত ক্ষুদ্র অ্যাপ্লানোস্পোর সৃষ্টি হয়। এই স্পোর গুলোকে অটোস্পোর বলে। অটোস্পোর অঙ্কুরিত হয়ে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি করে। যেমন- Chlorococcus, Chlorella, Scenedesmus প্রভৃতি।
চলরেণু কী । Zoospore কী
শৈবালের এক বা একাধিক কোষ রুপান্তরিত হয়ে জুওস্পোরাঞ্জিয়াম গঠন করে। জুওস্পোরাঞ্জিয়ামের প্রোটোপ্লাস্ট বিভাজিত হয়ে দুই বা ততোধিক জুওস্পোর উৎপন্ন করে। এসব জুওস্পোর দুই বা চার ফ্ল্যাজেলা বিশিষ্ট এবং সচল। তবে Oedogoniales বর্গের এবং Vaucheriaceae গোত্রের শৈবালের জুওস্পোরাঞ্জিয়ামের ভিতরে বহু ফ্ল্যাজেলা বিশিষ্ট একটি মাত্র জুওস্পোর উৎপন্ন হয়। একে সিনজুওস্পোর বলে। এসব জুওস্পোর অঙ্কুরিত হয়ে নতুন শৈবালের জন্ম দেয়। যেমন- Ulothrix, Chara, Vaucheria, Ectocarpus, Oedogonium প্রভৃতি।
শৈবালের অঙ্গজ জনন কী কী । Vegetative reproduction of algae
১। দ্বিবিভাজন (By fission)ঃ এককোষী শৈবাল খাদ্য গ্রহণ করে আকারে বড় হয় এবং দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় বিভক্ত হয়ে দুইটি নতুন শৈবাল উৎপন্ন করে। যেমন- Chlorella, Euglena, Navicula, Diatom, Protococcus, Gloeocapsa, Synechococcus প্রভৃতি।
২। খন্ডায়ন (Segment)ঃ আঘাত অথবা ভৌত কারণে বহুকোষী শৈবালের ফিলামেন্ট ও কলোনী দুই বা ততোধিক খন্ডে পরিনত হলে প্রতিটি খন্ড হতে একটি করে নতুন শৈবাল সৃষ্টি হয়। যেমন- Ulothrix, Oedogonium, Spirogyra, Nostoc, Oscillatoria প্রভৃতি।
৩। মুকুল বা বাডিং (Budding)ঃ অনুকূল পরিবেশে শৈবাল খাদ্য গ্রহণ করে আকারে বড় হয় এবং দেহের পার্শ্ব থেকে উপবৃদ্ধি সৃষ্টি হয়। এরপর উপবৃদ্ধি থেকে বাড বা মুকুল উৎপন্ন হয় এবং মুকুল মাতৃদেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন শৈবালের জন্ম দেয়। যেমন- Protosiphon.
৪। হর্মোগোনিয়া (Hormogonia)ঃ নীলাভ-সবুজ শৈবালের ট্রাইক্রোম খন্ডিত হয়ে হর্মোগোনিয়া সৃষ্টি করে। হর্মোগোনিয়াম পুরু প্রাচীর দ্বারা আবৃত হয়ে হর্মোসিস্ট গঠন করে। অনুকূল পরিবেশে হর্মোগোনিয়া হতে নতুন শৈবাল উৎপন্ন হয়। যেমন- Nostoc, Oscillatoria প্রভৃতি।
৫। হরমোসিস্ট (Hormocysts)ঃ প্রতিকূল পরিবেশে শৈবালের হর্মোগোনিয়াম পুরু প্রাচীর দ্বারা আবৃত হয়ে হরমোসিস্ট গঠন করে। অনুকূল পরিবেশে হর্মোসিস্ট অংকুরিত হয়ে নতুন শৈবালের জন্ম দেয়। যেমন- Nostoc, Oscillatoria প্রভৃতি।
৬। টিউবার/বুলবিল (Tuber/Bulbil)ঃ কোন কোন শৈবালের পর্বে রাইজয়েডের উপরে ও নিচে খাদ্য জমা হয়ে টিউবার বা বুলবিল উৎপন্ন হয়। এ গুলো মাতৃদেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন শৈবাল গঠন করে। যেমন- Chara, Cladophora, Botrydium প্রভৃতি।
৭। অ্যাকিনিটি (Akinity)ঃ প্রতিকূল পরিবেশে কিছু সূত্রাকার শৈবালের এক বা একাধিক কোষ প্রচুর খাদ্য সঞ্চয় করে স্ফীত হয় এবং পুরু প্রাচীর দ্বারা আবৃত হয়ে রেস্টিং স্পোরে পরিনত হয়। এসব কোষকে অ্যাকিনিটি বলে। প্রতিটি অ্যাকিনিটি অনুকূল পরিবেশে অঙ্কুরিত হয়ে নতুন শৈবালে পরিনত হয়। যেমন- Nostoc, Oscillatoria, Pithophora, Ulothrix, Gloeotrichea, Revularia প্রভৃতি।
৮। স্টার্চ স্টার (Star stach)ঃ কোন কোন শৈবালের দেহে শ্বেতসার জমা হয়ে তারকাকার অঙ্গ গঠন করে। এদেরকে স্টার্চ স্টার বা অ্যামাইলাম স্টার বলে। পরে স্টার্চ স্টার হতে নতুন শৈবালের জন্ম হয়। যেমন- Chara, Botrydium প্রভৃতি।
৯। প্রোটোনেমা (Protonema)ঃ কোন কোন শৈবালের রাইজয়েড হতে সূত্রাকার প্রোটোনেমা উৎপন্ন হয়। এসব প্রোটোনেমা হতে নতুন শৈবাল জন্মে। যেমন- Chara, Nitella প্রভৃতি।
স্টার্চ স্টার কী । Star stach কী
কোন কোন শৈবালের দেহে শ্বেতসার জমা হয়ে তারকাকার অঙ্গ গঠন করে। এদেরকে স্টার্চ স্টার বা অ্যামাইলাম স্টার বলে। পরে স্টার্চ স্টার হতে নতুন শৈবালের জন্ম হয়। যেমন- Chara, Botrydium প্রভৃতি।
অ্যাকিনিটি কী । Akinity কী
প্রতিকূল পরিবেশে কিছু সূত্রাকার শৈবালের এক বা একাধিক কোষ প্রচুর খাদ্য সঞ্চয় করে স্ফীত হয় এবং পুরু প্রাচীর দ্বারা আবৃত হয়ে রেস্টিং স্পোরে পরিনত হয়। এসব কোষকে অ্যাকিনিটি বলে। প্রতিটি অ্যাকিনিটি অনুকূল পরিবেশে অঙ্কুরিত হয়ে নতুন শৈবালে পরিনত হয়। যেমন- Nostoc, Oscillatoria, Pithophora, Ulothrix, Gloeotrichea, Revularia প্রভৃতি।