কোন কোন শৈবালের পর্বে রাইজয়েডের উপরে ও নিচে খাদ্য জমা হয়ে টিউবার বা বুলবিল উৎপন্ন হয়। এ গুলো মাতৃদেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন শৈবাল গঠন করে। যেমন- Chara, Cladophora, Botrydium প্রভৃতি।
হরমোসিস্ট কী । Hormocysts কী
প্রতিকূল পরিবেশে শৈবালের হর্মোগোনিয়াম পুরু প্রাচীর দ্বারা আবৃত হয়ে হরমোসিস্ট গঠন করে। অনুকূল পরিবেশে হর্মোসিস্ট অংকুরিত হয়ে নতুন শৈবালের জন্ম দেয়। যেমন- Nostoc, Oscillatoria প্রভৃতি।
হর্মোগোনিয়া কী । Hormogonia কী
নীলাভ-সবুজ শৈবালের ট্রাইক্রোম খন্ডিত হয়ে হর্মোগোনিয়া সৃষ্টি করে। হর্মোগোনিয়াম পুরু প্রাচীর দ্বারা আবৃত হয়ে হর্মোসিস্ট গঠন করে। অনুকূল পরিবেশে হর্মোগোনিয়া হতে নতুন শৈবাল উৎপন্ন হয়। যেমন- Nostoc, Oscillatoria প্রভৃতি।
বায়োলুমিনিসেন্স কী । Bioluminescence কী
গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে সাগরের পানিকে আলোড়িত করলে আগুন জ্বলে এবং আলোকশক্তি উৎপন্ন হয়। একে বায়োলুমিনিসেন্স বলে। Pyrrophyta শৈবালের কারণে এরুপ হয়। এরা রেড টাইড সৃষ্টি করে। Pyrrophyta শৈবালে luciferin থাকে। Luciferin, ATP দ্বারা ফসফোরাইলেটেড হয়ে নতুন বস্তু সৃষ্টি করে। সৃষ্ট বস্তু luciferase এনজাইমের উপস্থিতিতে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে আলোকশক্তি নির্গত করে।
শৈবালের কোষীয় গঠন আলোচনা । Cellular structure of algae
১। কোষ প্রাচীরঃ শৈবালের কোষপ্রাচীর দু’স্তর বিশিষ্ট। বাইরের স্তরটি পেকটোজ এবং ভিতরের স্তরটি সেলুলোজ, পেকটিন বা মিউসিলেজ দ্বারা গঠিত। ফ্ল্যাজেলাযুক্ত শৈবালে কোষপ্রাচীর থাকে না। ডায়াটম শৈবালের কোষপ্রাচীর সিলিকাময় দুইটি কপাটিকা দ্বারা গঠিত। একটি পূর্ণাঙ্গ ডায়াটমের সিলিকাময় কোষপ্রাচীরকে ফ্রুস্টিউল বলে। Euglenophyta-তে কোষপ্রাচীরের পরিবর্তে পেরিব্লাস্ট নামক পর্দা থাকে।
২। প্লাজমাপর্দাঃ কোষপ্রাচীরের ভিতরে অবস্থিত সুক্ষ্ম ও পাতলা পর্দাকে প্লাজমাপর্দা বলে। ইহা লিপিড ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত। ফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট শৈবালের প্লাজমাপর্দা দৃঢ় প্রকৃতির হয়। এরুপ প্লাজমা পর্দাকে পেরিপ্লাস্ট বলে।
৩। প্রোটোপ্লাজমঃ কোষ প্রাচীরের ভিতরে অবস্থিত কোষের সকল সজীব অংশকে একত্রে প্রোটোপ্লাজম বলে। ইহা দু’টি অংশ নিয়ে গঠিত। সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস।
(i) সাইটোপ্লাজমঃ সাইটোপ্লাজমের বিভিন্ন অঙ্গাণু গুলো নিম্নরুপ।
প্লাস্টিডঃ প্লাস্টিড হলো রঞ্জক পদার্থ। সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। শৈবালে ক্লোরোপ্লাস্টের সাথে নীল বর্ণের ফাইকোসায়ানিন, লাল বর্ণের ফাইকোএরিথ্রিন, বাদামী বর্ণের ফিওফাইনিন এবং হলুদ-বাদামী বর্ণের ফিউকোজ্যান্থিন থাকে। এরা সালোকসংশ্লেষণ ঘটায়।
পাইরিনয়েডঃ পাইরিনয়েড হলো প্রোটিনের পুঞ্জিভূত অংশ। ক্লোরোপ্লাস্টে এক বা একাধিক পাইরিনয়েড থাকে। ইহা শর্করা জাতীয় খাদ্য সঞ্চয় করে।
কোষ গহ্বরঃ প্রতিটি কোষে ছোট ছোট কোষ গহ্বর থাকে। ইহা কোষরস দ্বারা পূর্ণ থাকে।
সঞ্চিত খাদ্যঃ সবুজ শৈবালে সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে শর্করা বা স্টার্চ বা শ্বেতসার জমা থাকে। বাদামী শৈবালে ল্যামিনারিন ও ম্যানিটল, সোনালী-হলুদ শৈবালে ভলিউটিন ও চর্বি এবং লোহিত শৈবালে ফ্লোরিডিয়ান স্টার্চ সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে জমা থাকে। কোনো কোনো শৈবালে সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে লিউকোসিন ও প্যারামাইলাম থাকে।
(ii) নিউক্লিয়াসঃ শৈবালের প্রতিটি কোষে এক বা একাধিক সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে। ইহা কোষের সকল জৈবিক কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে।
সিনোসাইটিক শৈবালের দেহ নলাকার, শাখান্বিত, প্রস্থ প্রাচীরবিহীন এবং বহু নিউক্লিয়াসযুক্ত। অ্যাসিনোসাইটিক শৈবালের দেহ প্রস্থ প্রাচীরযুক্ত এবং কোষে এক বা একাধিক নিউক্লিয়াস থাকে।
শৈবালের সঞ্চিত খাদ্য কী কী
সবুজ শৈবালে সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে শর্করা বা স্টার্চ বা শ্বেতসার জমা থাকে। বাদামী শৈবালে ল্যামিনারিন ও ম্যানিটল, সোনালী-হলুদ শৈবালে ভলিউটিন ও চর্বি এবং লোহিত শৈবালে ফ্লোরিডিয়ান স্টার্চ সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে জমা থাকে। কোনো কোনো শৈবালে সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে লিউকোসিন ও প্যারামাইলাম থাকে।
পাইরিনয়েড কী
পাইরিনয়েড হলো প্রোটিনের পুঞ্জিভূত অংশ। ক্লোরোপ্লাস্টে এক বা একাধিক পাইরিনয়েড থাকে। ইহা শর্করা জাতীয় খাদ্য সঞ্চয় করে।
শৈবালের প্লাস্টিড
প্লাস্টিড হলো রঞ্জক পদার্থ। সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। শৈবালে ক্লোরোপ্লাস্টের সাথে নীল বর্ণের ফাইকোসায়ানিন, লাল বর্ণের ফাইকোএরিথ্রিন, বাদামী বর্ণের ফিওফাইনিন এবং হলুদ-বাদামী বর্ণের ফিউকোজ্যান্থিন থাকে। এরা সালোকসংশ্লেষণ ঘটায়।
শৈবালের দৈহিক গঠন আলোচনা । Vegetative structure of algae । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
দৈহিক গঠনের কারণে জীবজগতে সবচেয়ে বেশি বৈচিত্র্যতা দেখা যায় শৈবালে। শৈবাল ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক (Micromonas) হতে বৃহৎ (৩০-৬০ মিটার) কেল্প হতে পারে।
১। সচল এককোষী (Motile unicellular)ঃ শৈবালের দেহ একটি মাত্র কোষ দ্বারা গঠিত এবং গোলাকার বা ডিম্বাকার বা উপবৃত্তাকার হয়। কোষে একটি নিউক্লিয়াস ও একটি ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে। কোষের সামনে ১-২টি ফ্ল্যাজেলা থাকায় সচল হয়। যেমন- Chlamydomonas, Euglena, Phacus, Navicula প্রভৃতি।
২। নিশ্চল এককোষী (Non-motile unicellular)ঃ শৈবালের দেহ একটি মাত্র কোষ দ্বারা গঠিত এবং গোলাকার বা ডিম্বাকার হয়। কোষে ফ্ল্যাজেলা বা সিলিয়া না থাকায় নিশ্চল হয়। যেমন- Chlorococcum, Chlorella, Chamaesiphon, Gloeocapsa প্রভৃতি।
৩। সচল আবৃত কলোনী (Motile enveloped colony)ঃ বহুসংখ্যক এককোষী ফ্ল্যাজেলাযুক্ত শৈবাল জিলাটিনের আবরণী দ্বারা আবৃত হয়ে কলোনী গঠন করলে তাকে সচল আবৃত কলোনী বলে। যে কলোনীতে নির্দিষ্ট সংখ্যক সচল কোষ নির্দিষ্ট নিয়মে সজ্জিত থাকে তাকে সিনোবিয়াম বলে। সিনোবিয়ামের শৈবালগুলো পরস্পরযুক্ত থাকে এবং এদের ফ্ল্যাজেলা বাইরের দিকে অবস্থান করে। প্রতিটি সিনোবিয়ামে ৪-৫০,০০০ শৈবাল থাকতে পারে। যেমন- Eudorina, Pleodorina, Pandorina, Volvox প্রভৃতি।
৪। সচল অনাবৃত কলোনী (Motile free colony) ঃ বহুসংখ্যক এককোষী ফ্ল্যাজেলাযুক্ত শৈবাল একত্রে সচল অনাবৃত কলোনী গঠন করে। কলোনীর বাইরে মিউসিলেজ জাতীয় পদার্থের আবরণী থাকে না।। যেমন- Pyrobotrys.
৫। নিশ্চল আবৃত কলোনী (Non-motile enveloped colony)ঃ কতিপয় ফ্ল্যাজেলাবিহীন নিশ্চল এককোষী শৈবাল জিলাটিনের আবরণী দ্বারা আবৃত হয়ে কলোনী গঠন করে। একে নিশ্চল আবৃত কলোনী বলে। যেমন- Microcystis, Eucapsis প্রভৃতি।
৬। নিশ্চল অনাবৃত কলোনী (Non-motile free colony)ঃ কিছু সংখ্যক ফ্ল্যাজেলাবিহীন নিশ্চল এককোষী শৈবাল পাশাপাশি যুক্ত হয়ে পেন্টাগোনাল বা হেক্সাগোনাল কলোনী গঠন করে। একে নিশ্চল অনাবৃত কলোনী বলে। ইহা জিলাটিনের আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে না। যেমন- Pediastrum, Hydrodictyon, Scenedesmu প্রভৃতি।
৭। অ্যামিবয়েড (Amoeboid)ঃ যে সব শৈবাল কোষের সাইটোপ্লাজম থেকে রাইজোপড বা সিইডোপড নামক ক্ষণপদ সৃষ্টি করে চলাচল করে তাদেরকে অ্যামিবয়েড বলে। যেমন- Heterochloris, Chromulina প্রভৃতি।
৮। পামেলয়েড (Pamelloid)ঃ প্রতিকূল পরিবেশে সচল শৈবাল ফ্ল্যাজেলা হারিয়ে মিউসিলেজ আবরণী দ্বারা আবদ্ধ হয় এবং প্রতিকূল পরিবেশ অতিবাহিত করে। এই অবস্থাকে পামেলা দশা বলে। যেমন- Chlamydomonas, Ulothrix, Sargassum, Fucus, Tetraspora, Aphanothece, Gonium প্রভৃতি।
৯। সূত্রাকার (Filamentous)ঃ শৈবালের কোষ গুলো পরস্পর যুক্ত হয়ে সরু, সূত্রাকার, শাখা-প্রশাখাবিহীন গঠন সৃষ্টি করলে তাকে ফিলামেন্টাস বলে। যেমন- Oedogonium, Ulothrix, Scytonema, Tolypothrix, Cladophora, Pithophora, Spirogyra প্রভৃতি।
১০। ডেনড্রয়েড (Dendroid)ঃ Dendroid অর্থ বৃক্ষসদৃশ। শৈবালের প্রতিটি কোষের নিম্নাংশ মিউসিলেজ দ্বারা আবৃত থাকে এবং পরস্পর যুক্ত হয়ে কলোনী গঠন করে। এ ধরনের গঠনকে ডেনড্রয়েড বলে। যেমন- Prasinocladus.
১১। থ্যালয়েড বা পত্রবৎ (Thaloid & Leaflike)ঃ শৈবালের কোষ বিভাজিত হয়ে পাতলা ও চ্যাপ্টা পাতার মতো থ্যালাস গঠন করলে তাকে থ্যালয়েড বলে। যেমন- Enteromorpha, Porphyra, Ulva প্রভৃতি।
১২। জাল সদৃশ (Web like)ঃ এরা জালের মতো গঠন তৈরী করে। যেমন- Hydrodictyon.
১৩। হেটেরোট্রিকাস (Heterotricus)ঃ শৈবালের থ্যালাস দু’টি অংশ নিয়ে গঠিত। শায়িত অংশ এবং বায়বীয় অংশ। এরুপ বৈশিষ্ট্য যুক্ত থ্যালাসকে হেটেরোট্রিকাস বলে। যেমন- Coleochaete, Fritschiella, Stigeoclonium, Trentepohlia প্রভৃতি।
১৪। সাইফনীয় (Siphonus)ঃ ফাঁপা নলাকার দেহবিশিষ্ট শৈবালকে সাইফন শৈবাল বলে। এই ফাঁপা নল গুলোকে সিনোসাইট বলে। যেমন- Vaucheria, Botrydium, Protosiphonia প্রভৃতি।
১৫। পলিসাইফনীয় (Polysiphonus)ঃ অনেকগুলো সাইফন বা ফাঁপা নলাকার অংশ নিয়ে পলিসাইফন শৈবালের দেহ গঠিত। এর কেন্দ্রের সিনোসাইটকে সেন্ট্রাল সাইফন এবং চারপাশের সিনোসাইটকে পেরিসেন্ট্রাল সাইফন বলে। যেমন- Codium, Polysiphonia.
১৬। নোডাস (Nodas)ঃ এদের দেহ পর্ব ও পর্বমধ্য নিয়ে গঠিত। পর্ব থেকে পার্শ্বীয় শাখা উৎপন্ন হয়। যেমন- Chara, Nitella প্রভৃতি।
১৭। জটিল শৈবাল দেহঃ কোন কোন শৈবালের দেহ তিনটি অংশ দ্বারা গঠিত। হোল্ড ফাস্ট, স্টাইপ ও ফ্রন্ড। ফ্রন্ড দেখতে পাতার ন্যায় চ্যাপ্টা। এরুপ গঠনকে জটিল দেহ বলে। যেমন- Fucus, Laminaria, Sargassum.
নোডাস কী । Nodas কী
এদের দেহ পর্ব ও পর্বমধ্য নিয়ে গঠিত। পর্ব থেকে পার্শ্বীয় শাখা উৎপন্ন হয়। যেমন- Chara, Nitella প্রভৃতি।