পলিসাইফনীয় শৈবাল কী । Polysiphonus কী

অনেকগুলো সাইফন বা ফাঁপা নলাকার অংশ নিয়ে পলিসাইফন শৈবালের দেহ গঠিত। এর কেন্দ্রের সিনোসাইটকে সেন্ট্রাল সাইফন এবং চারপাশের সিনোসাইটকে পেরিসেন্ট্রাল সাইফন বলে। যেমন- Codium, Polysiphonia.

সাইফনীয় শৈবাল কী । Siphonus কী

ফাঁপা নলাকার দেহবিশিষ্ট শৈবালকে সাইফন শৈবাল বলে। এই ফাঁপা নল গুলোকে সিনোসাইট বলে। যেমন- Vaucheria, Botrydium, Protosiphonia প্রভৃতি।

হেটেরোট্রিকাস কী । Heterotricus কী

শৈবালের থ্যালাস দু’টি অংশ নিয়ে গঠিত। শায়িত অংশ এবং বায়বীয় অংশ। এরুপ বৈশিষ্ট্য যুক্ত থ্যালাসকে হেটেরোট্রিকাস বলে। যেমন- Coleochaete, Fritschiella, Stigeoclonium, Trentepohlia প্রভৃতি।

ডেনড্রয়েড কী । Dendroid কী

Dendroid অর্থ বৃক্ষসদৃশ। শৈবালের প্রতিটি কোষের নিম্নাংশ মিউসিলেজ দ্বারা আবৃত থাকে এবং পরস্পর যুক্ত হয়ে কলোনী গঠন করে। এ ধরনের গঠনকে ডেনড্রয়েড বলে। যেমন- Prasinocladus.

পামেলয়েড কী । Pamelloid কী

প্রতিকূল পরিবেশে সচল শৈবাল ফ্ল্যাজেলা হারিয়ে মিউসিলেজ আবরণী দ্বারা আবদ্ধ হয় এবং প্রতিকূল পরিবেশ অতিবাহিত করে। এই অবস্থাকে পামেলা দশা বলে। যেমন- Chlamydomonas, Ulothrix, Sargassum, Fucus, Tetraspora, Aphanothece, Gonium প্রভৃতি।

অ্যামিবয়েড কী । Amoeboid

যে সব শৈবাল কোষের সাইটোপ্লাজম থেকে রাইজোপড বা সিইডোপড নামক ক্ষণপদ সৃষ্টি করে চলাচল করে তাদেরকে অ্যামিবয়েড বলে। যেমন- Heterochloris, Chromulina প্রভৃতি।

শৈবালের কলোনী । colony । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। সচল আবৃত কলোনী (Motile enveloped colony)ঃ বহুসংখ্যক এককোষী ফ্ল্যাজেলাযুক্ত শৈবাল জিলাটিনের আবরণী দ্বারা আবৃত হয়ে কলোনী গঠন করলে তাকে সচল আবৃত কলোনী বলে। যে কলোনীতে নির্দিষ্ট সংখ্যক সচল কোষ নির্দিষ্ট নিয়মে সজ্জিত থাকে তাকে সিনোবিয়াম বলে। সিনোবিয়ামের শৈবালগুলো পরস্পরযুক্ত থাকে এবং এদের ফ্ল্যাজেলা বাইরের দিকে অবস্থান করে। প্রতিটি সিনোবিয়ামে ৪-৫০,০০০ শৈবাল থাকতে পারে। যেমন- Eudorina, Pleodorina, Pandorina, Volvox প্রভৃতি।
২। সচল অনাবৃত কলোনী (Motile free colony) ঃ বহুসংখ্যক এককোষী ফ্ল্যাজেলাযুক্ত শৈবাল একত্রে সচল অনাবৃত কলোনী গঠন করে। কলোনীর বাইরে মিউসিলেজ জাতীয় পদার্থের আবরণী থাকে না।। যেমন- Pyrobotrys.
৩। নিশ্চল আবৃত কলোনী (Non-motile enveloped colony)ঃ কতিপয় ফ্ল্যাজেলাবিহীন নিশ্চল এককোষী শৈবাল জিলাটিনের আবরণী দ্বারা আবৃত হয়ে কলোনী গঠন করে। একে নিশ্চল আবৃত কলোনী বলে। যেমন- Microcystis, Eucapsis প্রভৃতি।
৪। নিশ্চল অনাবৃত কলোনী (Non-motile free colony)ঃ কিছু সংখ্যক ফ্ল্যাজেলাবিহীন নিশ্চল এককোষী শৈবাল পাশাপাশি যুক্ত হয়ে পেন্টাগোনাল বা হেক্সাগোনাল কলোনী গঠন করে। একে নিশ্চল অনাবৃত কলোনী বলে। ইহা জিলাটিনের আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে না। যেমন- Pediastrum, Hydrodictyon, Scenedesmu প্রভৃতি।

শৈবালের এককোষী গঠন । unicellular

১। সচল এককোষী (Motile unicellular)ঃ শৈবালের দেহ একটি মাত্র কোষ দ্বারা গঠিত এবং গোলাকার বা ডিম্বাকার বা উপবৃত্তাকার হয়। কোষে একটি নিউক্লিয়াস ও একটি ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে। কোষের সামনে ১-২টি ফ্ল্যাজেলা থাকায় সচল হয়। যেমন- Chlamydomonas, Euglena, Phacus, Navicula প্রভৃতি।
২। নিশ্চল এককোষী (Non-motile unicellular)ঃ শৈবালের দেহ একটি মাত্র কোষ দ্বারা গঠিত এবং গোলাকার বা ডিম্বাকার হয়। কোষে ফ্ল্যাজেলা বা সিলিয়া না থাকায় নিশ্চল হয়। যেমন- Chlorococcum, Chlorella, Chamaesiphon, Gloeocapsa প্রভৃতি।

শৈবলের বৈচিত্র্যতা আলোচনা । Diversity of algae । সবুজ শৈবাল । ডায়াটম । বাদামী শৈবাল । লোহিত শৈবাল

১। সবুজ শৈবাল (Chlorophyta)

(i) সবুজ শৈবাল পৃথিবীর সর্বত্র পাওয়া যায়। এরা ছত্রাকের সাথে যুক্ত হয়ে লাইকেন গঠন করে।

(ii) Charales বর্গের শৈবালদেরকে উচ্চশ্রেণীর উদ্ভিদের নিকটাত্মীয় বলে মনে করা হয়।

(iii) এদের রঞ্জক পদার্থ হলো ক্লোরোফিল এ, বি এবং ক্যারোটিনয়েড।

(iv) এদের সঞ্চিত খাদ্য স্টার্চ।

(v) এদের কোষ প্রাচীর সেলুলোজ ও পেকটিন নির্মিত।

(vi) সবুজ শৈবালের সংখ্যা ৭০০০।

কয়েকটি সবুজ শৈবাল- Ulothrix zonata, Chlorella vulgaris, Spirogyra maxima, Volvox globator প্রভৃতি।

২। ডায়াটম বা সোনালী হলুদ শৈবাল (Diatom) বৈশিষ্ট্য

(i) ডায়াটম শৈবাল সোনালী-হলুদ বর্ণের। পূর্ণাঙ্গ ডায়াটম কোষকে ফ্রুস্টিউল বলে।

(ii) এদের কোষ প্রাচীর দৃঢ়, মজবুত, সিলিকা নির্মিত এবং নানা অলঙ্কৃত দু’টি কপাটিকা নিয়ে গঠিত।

(iii) এরা দেখতে অনেক সুন্দর বলে এদেরকে সমুদ্রের অলঙ্কার বা জীবিত বর্ণালি পাথর বলে।

(iv) Dinoflagellate শৈবাল রাতের অন্ধকারে আলো উৎপন্ন করে। এঘটনাকে বায়োলুমিনিসেন্স বলে (Noctiluca sp.)।

(v) এদের ২০০ গণের ১০,০০০ প্রজাতি রয়েছে।

কয়েকটি ডায়াটম- Fragilaria capucina, Asterionella formosa, Tabellaria fenestrata, Navicula fossa, Noctiluca miliaris প্রভৃতি।

৩। বাদামী শৈবালের বৈশিষ্ট্য কী কী (Phaeophyta)

(i) বাদামী শৈবালে ফিউকোজেনথিন রঞ্জক থাকে বলে বাদামী বা হলুদ-বাদামী বর্ণের দেখায়।

(ii) Macrocystis হলো বৃহৎ কেল্প শৈবাল। ইহা সমুদ্রের পানির নিচে কেল্প ফরেস্ট গঠন করে। এর দৈর্ঘ্য ৬০ মিটার।

(iii) আটলান্টিক মহাসাগরের যে অঞ্চলে Sargassum শৈবাল প্রচুর পরিমাণে জন্মে সে অঞ্চলকে Sargasso Sea বলে।

(iv) অনেক বাদামী শৈবাল সমুদ্র উপকূলের পাথরের উপর জন্মে।

(v) বাদামী শৈবালের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধী এবং ইহা মানুষের অনাক্রম্যতন্ত্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

(vi) বাদামী শৈবালের প্রজাতি সংখ্যা ২০০০।

কয়েকটি বাদামী শৈবাল- Macrocystis pyrifera, Sargassum muticum, Ascophyllum nodosum, Laminaria digitata, Fucus elastica প্রভৃতি|

৪। লোহিত শৈবাল (Rhodophyta)

(i) লোহিত শৈবালে r-ফাইকোইরিথ্রিন রঞ্জক থাকায় লাল বর্ণের দেখায়। এদেরকে সামুদ্রিক মস বলা হয়।

(ii) যে সব লোহিত শৈবাল প্রবাল প্রাচীর গঠন করে তাদেরকে কোরালাইন শৈবাল বলে। এরা ক্যালসিয়াম কার্বোনেট নিঃসরণ করে প্রবাল প্রাচীর গঠন করে।

(iii) লোহিত শৈবাল শে^ত রক্তকণিকা সৃষ্টি করে দেহের অনাক্রম্যতন্ত্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

(iv) Porphyra শৈবাল থেকে জাপানে নরি, কোরিয়ায় জিম এবং যুক্তরাজ্যে ল্যাভার তৈরী করা হয়।

(v)  এরা বৃহৎ সামুদ্রিক শৈবাল গোষ্ঠি যার প্রজাতি সংখ্যা ৭০০০।

কয়েকটি লোহিত শৈবাল- Corallina elongata, Bangia fuscopurpurea, Stylonema alsidii, Polysiphonia lanosa প্রভৃতি।

 

[কয়েকটি নীলাভ সবুজ শৈবাল- Nostoc calcicola, Anabaena laxa, Microcystis aeruginosa, Spirulina maxima, Scytonema varium]