লোহিত শৈবালের বৈশিষ্ট্য কী কী । Rhodophyta । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(i) লোহিত শৈবালে r-ফাইকোইরিথ্রিন রঞ্জক থাকায় লাল বর্ণের দেখায়। এদেরকে সামুদ্রিক মস বলা হয়।
(ii) যে সব লোহিত শৈবাল প্রবাল প্রাচীর গঠন করে তাদেরকে কোরালাইন শৈবাল বলে। এরা ক্যালসিয়াম কার্বোনেট নিঃসরণ করে প্রবাল প্রাচীর গঠন করে।
(iii) লোহিত শৈবাল শে^ত রক্তকণিকা সৃষ্টি করে দেহের অনাক্রম্যতন্ত্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
(iv) Porphyra শৈবাল থেকে জাপানে নরি, কোরিয়ায় জিম এবং যুক্তরাজ্যে ল্যাভার তৈরী করা হয়।
(v) এরা বৃহৎ সামুদ্রিক শৈবাল গোষ্ঠি যার প্রজাতি সংখ্যা ৭০০০।

বাদামী শৈবালের বৈশিষ্ট্য কী কী । Phaeophyta

(i) বাদামী শৈবালে ফিউকোজেনথিন রঞ্জক থাকে বলে বাদামী বা হলুদ-বাদামী বর্ণের দেখায়।
(ii) Macrocystis হলো বৃহৎ কেল্প শৈবাল। ইহা সমুদ্রের পানির নিচে কেল্প ফরেস্ট গঠন করে। এর দৈর্ঘ্য ৬০ মিটার।
(iii) আটলান্টিক মহাসাগরের যে অঞ্চলে Sargassum শৈবাল প্রচুর পরিমাণে জন্মে সে অঞ্চলকে Sargasso Sea বলে।
(iv) অনেক বাদামী শৈবাল সমুদ্র উপকূলের পাথরের উপর জন্মে।
(v) বাদামী শৈবালের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধী এবং ইহা মানুষের অনাক্রম্যতন্ত্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
(vi) বাদামী শৈবালের প্রজাতি সংখ্যা ২০০০।

ডায়াটম বা সোনালী হলুদ শৈবালের বৈশিষ্ট্য কী কী (Diatom)

(i) ডায়াটম শৈবাল সোনালী-হলুদ বর্ণের। পূর্ণাঙ্গ ডায়াটম কোষকে ফ্রুস্টিউল বলে।

(ii) এদের কোষ প্রাচীর দৃঢ়, মজবুত, সিলিকা নির্মিত এবং নানা অলঙ্কৃত দু’টি কপাটিকা নিয়ে গঠিত।

(iii) এরা দেখতে অনেক সুন্দর বলে এদেরকে সমুদ্রের অলঙ্কার বা জীবিত বর্ণালি পাথর বলে।

(iv) Dinoflagellate শৈবাল রাতের অন্ধকারে আলো উৎপন্ন করে। এঘটনাকে বায়োলুমিনিসেন্স বলে (Noctiluca sp.)।

(v) এদের ২০০ গণের ১০,০০০ প্রজাতি রয়েছে।

কয়েকটি ডায়াটম- Fragilaria capucina, Asterionella formosa, Tabellaria fenestrata, Navicula fossa, Noctiluca miliaris  প্রভৃতি।

সবুজ শৈবালের বৈশিষ্ট্য কী কী । Chlorophyta । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(i) সবুজ শৈবাল পৃথিবীর সর্বত্র পাওয়া যায়। এরা ছত্রাকের সাথে যুক্ত হয়ে লাইকেন গঠন করে।

(ii) Charales বর্গের শৈবালদেরকে উচ্চশ্রেণীর উদ্ভিদের নিকটাত্মীয় বলে মনে করা হয়।

(iii) এদের রঞ্জক পদার্থ হলো ক্লোরোফিল এ, বি এবং ক্যারোটিনয়েড।

(iv) এদের সঞ্চিত খাদ্য স্টার্চ।

(v) এদের কোষ প্রাচীর সেলুলোজ ও পেকটিন নির্মিত।

(vi) সবুজ শৈবালের সংখ্যা ৭০০০।

কয়েকটি সবুজ শৈবাল- Ulothrix zonata, Chlorella vulgaris, Spirogyra maxima, Volvox globator প্রভৃতি।

শৈবালের বৈশিষ্ট্য কী কী । Characters of algae । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। শৈবাল এককোষী বা বহুকোষী, ফিলামেন্টাস, কলোনিয়াল বা মাইসেলিয়্যাল।

২। এদের দেহকে মূল, কান্ড ও পাতায় ভাগ করা যায় না। অর্থাৎ এরা থ্যালাস আকৃতির।

৩। এরা সবুজ, স্বভোজী ও স্বাবলম্বী। অর্র্থাৎ ফটোসিন্থেটিক পিগমেন্ট থাকে (ব্যতিক্রম- Polytoma)।

৪। শৈবালের প্লাস্টিডে এক বা একাধিক পাইরিনয়েড থাকে। ইহা শর্করা সঞ্চয় করে।

৫। শৈবাল প্রধানত গ্যামিটোফাইটিক উদ্ভিদ।

৬। এদের কোষ প্রাচীর সেলুলোজ ও পেকটিন নির্মিত (ব্যতিক্রম- Euglenophyta)।

৭। এদের সঞ্চিত খাদ্য শর্করা (সায়ানোব্যাকটেরিয়াতে গ্লাইকোজেন)। এছাড়া অ্যালকোহল, তেল ও চর্বি থাকতে পারে

৮। কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে।

৯। এদের ক্রোমাটিন বডিতে DNA, RNA ও প্রোটিন থাকে।

১০। এদের জননাঙ্গ এককোষী এবং বন্ধ্যা আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে না (ব্যতিক্রম- Chara)।

১১। এদের স্পোরাঞ্জিয়াম বা রেণুস্থলী এককোষী। এককোষী স্পোর দ্বারা অযৌন জনন ঘটে।

১২। এদের পরিবহন কলা বা ভাস্কুলার বান্ডল থাকে না। অর্থাৎ এরা অভাস্কুলার।

১৩। এদের কোষ বিভাজন অ্যামাইটোসিস, মাইটোসিস ও মায়োসিস প্রকৃতির।

১৪। যৌন জনন আইসোগ্যামাস, অ্যানাইসোগ্যামাস ও ঊগ্যামাস প্রকৃতির।

১৫। এদের জীবন ধারণের জন্য সূর্যালোক অপরিহার্য।

১৬। এদের জীবনচক্রে কখনো বহুকোষী ভ্রƒণ সৃষ্টি হয় না। জীবনচক্রে সুস্পষ্ট জনুঃক্রম দেখা যায় না।

১৭। এরা অধিকাংশ জলজ। তবে স্থলজ, অর্ধজলজ, এপিফাইটিক ও এন্ডোফাইটিক হতে পারে।

১৮। এরা মরুজ, বায়বীয় ও বরফে জন্মাতে পারে।

শৈবালবিদ্যা কী । Phycology কী

জীববিজ্ঞানের যে শাখায় শৈবাল নিয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা, পরীক্ষণ-নিরীক্ষণ ও গবেষণা করা হয় তাকে শৈবালবিদ্যা বা Phycology বলে। শৈবালবিদ্যাকে অ্যালগোলজিও বলা হয়। শৈবাল নিয়ে যারা গবেষণা করেন তাদেরকে অ্যালগোলজিস্ট বা ফাইকোলজিস্ট বলে।