তিনটি নাইট্রোজেন ক্ষারক মিলে একটি কোড গঠন করলে চারটি নাইট্রোজেন ক্ষরকের বিন্যাস বা সমাবেশ হবে ৪×৪×৪=৬৪। অর্থাৎ ট্রিপলেট কোডন সংখ্যা ৬৪। ৬৪টি কোড ২০টি অ্যামাইনো এসিডকে কোড করতে পারে। কার্যকরী কোডন সংখ্যা ৬১টি এবং সমাপ্তি কোডন ৩টি। ১৯৬৪ সালে Nirenberg ও Matthaei ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের জন্য ৬৪ ধরনের ট্রিপলেট কোড আবিষ্কার করেন।
জেনেটিক কোডের প্রকারভেদ ও কী কী
জেনেটিক কোডন ৩ প্রকার।
১। সেন্স বা বোধন কোডন (Sense codon)ঃ যে সব কোডন অ্যামাইনো এসিড সৃষ্টির জন্য সংকেত প্রদান করে তাকে বোধন বা সেন্স কোডন বলে। ২০টি অ্যামাইনো এসিডের জন্য ৬১টি সেন্স কোডন থাকে।
২। সূচনা কোডন (Start codon)ঃ যে সব কোডন প্রোটিন সংশ্লেষণ সূচনা করে তাকে আরম্ভ কোডন বা ইনিশিয়াল কোডন বলে। সূচনা কোডন হলো AUG। প্রোটিন সংশ্লেষণ সূচনাকারী অ্যামাইনো এসিড হলো মিথিওনিন (প্রকৃত কোষ) এবং ফরমাইল মিথিওনিন (আদি কোষ)।
৩। সমাপ্ত কোডন (Stop codon)ঃ যে সব কোডন প্রোটিন সংশ্লেষণের সমাপ্তি ঘটায় তাকে সমাপ্ত বা বিরাম কোডন বলে। বিরাম কোডন হলো UAA, UAG ও UGA। এরা অ্যামাইনো এসিড সৃষ্টির জন্য কোন সংকেত প্রদান করে না। তাই এদেরকে অবোধন বা নন সেন্স কোডন বলা হয়।
সমাপ্ত কোডন কী । Stop codon কী
যে সব কোডন প্রোটিন সংশ্লেষণের সমাপ্তি ঘটায় তাকে সমাপ্ত বা বিরাম কোডন বলে। বিরাম কোডন হলো UAA, UAG ও UGA। এরা অ্যামাইনো এসিড সৃষ্টির জন্য কোন সংকেত প্রদান করে না। তাই এদেরকে অবোধন বা নন সেন্স কোডন বলা হয়।
সূচনা কোডন কী । Start codon কী
যে সব কোডন প্রোটিন সংশ্লেষণ সূচনা করে তাকে আরম্ভ কোডন বা ইনিশিয়াল কোডন বলে। সূচনা কোডন হলো AUG। প্রোটিন সংশ্লেষণ সূচনাকারী অ্যামাইনো এসিড হলো মিথিওনিন (প্রকৃত কোষ) এবং ফরমাইল মিথিওনিন (আদি কোষ)।
সেন্স কোড কী । বোধন কোডন কী । Sense codon কী
যে সব কোডন অ্যামাইনো এসিড সৃষ্টির জন্য সংকেত প্রদান করে তাকে বোধন বা সেন্স কোডন বলে। ২০টি অ্যামাইনো এসিডের জন্য ৬১টি সেন্স কোডন থাকে।
জেনেটিক কোড কী । Genetic code কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
যে সব কোড জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যাবলী বহন করে তাকে জেনেটিক কোড বলে। DNA-অণুতে পাশাপাশি অবস্থিত তিনটি নাইট্রোজেন বেস মিলে যে কোড গঠন করে তাকে জেনেটিক কোড বলে। একে mRNA কোডও বলা হয়। জেনেটিক কোড হলো বংশগতির বায়োকেমিক্যাল ভিত্তি। বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ক্রিক প্রমাণ করেন যে, জেনেটিক কোড তিন অক্ষর বিশিষ্ট বা ট্রিপলেট বা 3-letter code। নিরেনবার্গ (Nirenberg) কোষবিহীন বা ইন ভিট্রো পদ্ধতিতে পলি U (পলিইউরিডিলিক এসিড) ব্যবহার করে কৃত্রিম mRNA সংশ্লেষণ করতে সক্ষম হন। ভারতীয় বিজ্ঞানী হরগোবিন্দ খোরানা কৃত্রিম ভাবে 5GUGUGUGUGU3 নিউক্লিওটাইড শৃঙ্খল সংশ্লেষ করেছিলেন এবং ইহা ব্যবহার করে ভ্যালিন-সিস্টেইন ভ্যালিন-সিস্টেইন পলিপেপটাইড শৃঙ্খল তৈরী করেছিলেন। এই আবিষ্কারের জন্য ১৯৬৯ সালে নিরেনবার্গ এবং হরগোবিন্দ খোরানা নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।
প্রকৃত কোষে জিনের ক্রিয়া
প্রকৃত কোষে জিনের ক্রিয়া তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়।
১। Replicationঃ যে প্রক্রিয়ায় DNA থেকে হুবহু আর একটি DNA সৃষ্টি হয় তাকে রেপ্লিকেশন বলে। কোষচক্রের S দশায় DNA রেপ্লিকেশন ঘটে।
২। Transcriptionঃ যে প্রক্রিয়ায় DNA থেকে mRNA সৃষ্টি হয় তাকে ট্রান্সক্রিপশন বলে। ট্রান্সক্রিপশন ঘটে কোষের নিউক্লিয়াসের ভিতরে।
৩। Translationঃ যে প্রক্রিয়ায় mRNA থেকে প্রোটিন সৃষ্টি হয় তাকে ট্রান্সলেশন বলে। ট্রান্সলেশন ঘটে কোষের সাইটোপ্লাজমে।
অপেরন কী । Operon কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
আদি কোষে জিন প্রকাশের ইউনিটকে অপেরন বলে। Jacob এবং Mond (১৯৬১) অপেরন মডেল প্রস্তাব করেন। তাঁদের মতে, কতকগুলো জিনের সমন্বয়ে একটি অপেরন গঠিত হয় এবং আদিকোষে এদের পারস্পরিক ক্রিয়ায় কার্যকরী জিনের প্রকাশ ঘটে। তাঁরা ল্যাক্টোজ অপেরন আবিষ্কার করেন। অপেরন চারটি অংশ নিয়ে গঠিত।
১। গাঠনিক জিনঃ ইহা এনজাইম সংশ্লেষ করে।
২। চালক জিনঃ ইহা প্রোটিন উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে।
৩। নিয়ন্ত্রক জিনঃ যে জিন অপেরনের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে তাকে নিয়ন্ত্রক জিন বলে। কোষে জিনের ট্রান্সক্রিপশন বৃদ্ধি পেলে তাকে ইনডাকশন এবং হ্রাস পেলে তাকে রিপ্রেশন বলে।
৪। প্রোমোটার বা উদ্দীপক জিনঃ এতে RNA পলিমারেজ এনজাইম সংযুক্ত হয়।
জিনের কাজ বা গুরুত্ব বা কাজ কী কী। Functions of gene । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১। স্বপ্রতিরুপ সৃষ্টিঃ প্রতিটি জিন অনুলিপনের মাধ্যমে স্বপ্রতিরুপ সৃষ্টি করতে পারে।
২। মিউটেশনঃ জিন মিউটেশনের মাধ্যমে DNA–এর গঠনের পরিবর্তন ঘটাতে পারে।
৩। হেটারোক্যাটালাইসিসঃ জিন এনজাইম তৈরীর যে কোন বৈশিষ্ট্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। একে হেটারোক্যাটালাইসিস বলে।
৪। বংশগত বৈশিষ্ট্য স্থানান্তরঃ জিনের মাধ্যমে পিতা–মাতার বৈশিষ্ট্য সন্তান–সন্ততিতে স্থানান্তরিত হয়। পিতা–মাতার বৈশিষ্ট্য সন্তান–সন্ততিতে আসার প্রক্রিয়াকে বংশগতি (Heredity) বলে। একে জেনেটিক ট্রান্সমিশনও বলা হয়।
৫। আত্মোৎপাদন ক্ষমতাঃ জিনের আত্মোৎপাদন ক্ষমতা আছে।
৬। সংশ্লেষণঃ ইহা জীবদেহে প্রোটিন, হরমোন ও এনজাইম সংশ্লেষণ করে।
৭। বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণঃ জীবের এক একটি বৈশিষ্ট্য একাধিক জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। আবার, কোন কোন ক্ষেত্রে একাধিক বৈশিষ্ট্য একটি জিন নিয়ন্ত্রণ করে।
৮। দেহ গঠন ও বিপাক ক্রিয়াঃ জিন জীবের দেহ গঠন করে এবং বিপাক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
৯। নতুন প্রকরণ সৃষ্টিঃ যৌনজননের সময় জিনের যে বিনিময় ঘটে তাতে নতুন প্রকরণ সৃষ্টি হয়।
জিনের প্রকারভেদ ও কী কী। Type of gene । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১। হোলান্ড্রিক জিন (Holandric gene) ঃ Y–ক্রোমোসোমে যে জিন থাকে তাকে হোলান্ড্রিক জিন বলে। ইহা মানুষের কানের লোম প্রকাশক জিন।
২। সেক্স–ক্রোমোসোমাল জিন (Sex-chromosomal gene)ঃ X –ক্রোমোসোমে যে জিন থাকে তাকে সেক্স–ক্রোমোসোমাল জিন বলে। ইহা হিমোফিলিয়া, বর্ণান্ধতা প্রভৃতির জন্য দায়ি।
৩। অটোসোমাল জিন (Autosomal gene) ঃ অটোসোমে যে জিন থাকে তাকে অটোসোমাল জিন বলে। ইহা মানুষের মাথার টাক (bondness), অ্যালবিনিজম প্রভৃতির জন্য দায়ি।
৪। খন্ডিত জিন (Split gene)ঃ যে জিন ইন্ট্রন ও এক্সন দ্বারা গঠিত তাকে খন্ডিত জিন বলে।
৫। ট্রান্স জিন (Trans gene)ঃ যে জিন এক কোষ থেকে বৈশিষ্ট্য নিয়ে অন্য কোষে প্রতিস্থাপন করে তাকে ট্রান্স জিন বলে।
৬। মারণ বা ঘাতক জিন (Lethal gene) ঃ যে জিনের বহিঃপ্রকাশের কারণে জীবের মৃত্যু হয় তাকে লিথাল জিন বলে।
৭। সিউডো জিন (Pseudo gene) ঃ যে জিন নিস্ক্রিয় থাকে বা পলিপেপটাইড গঠন করে না তাকে সিউডো জিন বলে।
৮। অঙ্কোজিন (Oncogene) ঃ যে জিনের কারণের ক্যান্সার সৃষ্টি হয় তাকে অঙ্কোজিন জিন বলে।
৯। হাউজ কিপিং জিন (House keeping gene) ঃ এদেরকে গঠনশীল জিন বলা হয়। বিপাকীয় কোষের সাধারণ কার্যাবলি ঘটার জন্য এসব জিন অবিরাম ক্রিয়াশীল থাকে।
১০। লাক্সারি জিন (Luxury gene)ঃ এদেরকে অ–গঠনশীল জিন বলা হয়। এসব জিন অবিরাম ক্রিয়াশীল থাকে না। ইহা শুধুমাত্র প্রয়োজনে সক্রিয় হয়।
১১। টারমিনেটর জিন (Luxury gene)ঃ জিনগত রুপান্তরিত ফসলে ব্যবহৃত জিন হলো টারমিনেটর জিন। ইহা উদ্ভিদের উর্বর বীজ উৎপাদনে বাধা দেয়।