লিপিড পরিপাক প্রক্রিয়া । Lipid digestion । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। মুখবিবরে পরিপাক

মুখবিবরে লিপিড জাতীয় খাদ্য পরিপাককারী কোন এনজাইম নাই। মুখবিবরের লালারসের মিউসিন খাদ্যকে পিচ্ছিল করে।

২। পাকস্থলীতে পরিপাক

লাইপেজ নামক এনজাইম লিপিডকে ভেঙ্গে ফ্যাটি এসিড, গিøসারল মনোগিøসারাইড উৎপন্ন করে।

৩। ক্ষুদ্রান্ত্রের অগ্ন্যাশয় রসে পরিপাক

(i) লাইপেজ নামক এনজাইম লিপিডকে ভেঙ্গে ফ্যাটি এসিড গিøসারলে  পরিনত করে।

(ii) ফসফোলাইপেজ এনজাইমের উপস্থিতিতে ফসফোলিপিড ফ্যাটি এসিড মনোগিøসারাইডে রুপান্তরিত হয়

৪।  ক্ষুদ্রান্ত্রের আন্ত্রিক রসে পরিপাক

(i) লাইপেজ নামক এনজাইম ট্রাইগিøসারাইড ডাইগিøসারাইডকে ভেঙ্গে ফ্যাটি এসিড, গিøসারল মনোগিøসারাইডে পরিনত করে।

(ii) মনোগিøসারিডেজ এনজাইমের প্রভাবে মনোগিøসারাইড হতে ফ্যাটি এসিড গিøসারল উৎপন্ন হয়।

   লিপিড একটি জটিল জৈব রাসায়নিক পদার্থ। জীবদেহের জন্য ইহা জটিল, অদ্রবণীয় অশোষণযোগ্য। ইহা জীবদেহে কোন উপকারে আসে না। বিভিন্ন ধরনের এনজাইমের কার্যকারীতায় লিপিড পরিপাক হয়ে ফ্যাটি এসিড গিøসারলে পরিনত হয়। ফ্যাটি এসিড গিøসারল দেহের জন্য সরল, দ্রবণীয় শোষণযোগ্য। আমাদের দেহকোষ ফ্যাটি এসিড গিøসারল পরিশোষণ করে। এই ফ্যাটি এসিড গিøসারল আমাদের শরীরে শক্তি যোগায়।

শর্করা পরিপাকের প্রয়োজনীয়তা । Carbohydrate digestion । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

শর্করা একটি জটিল জৈব রাসায়নিক পদার্থ। জীবদেহের জন্য ইহা জটিল, অদ্রবণীয় অশোষণযোগ্য। ইহা জীবদেহে কোন উপকারে আসে না। বিভিন্ন ধরনের এনজাইমের কার্যকারীতায় শর্করা পরিপাক হয়ে গ্লাকোজ, ফ্রুক্টোজ গ্যালাকটোজে পরিনত হয়। গ্লাকোজ, ফ্রুক্টোজ গ্যালাকটোজ দেহের জন্য সরল, দ্রবণীয় শোষণযোগ্য। আমাদের দেহকোষ গ্লাকোজ ফ্রুক্টোজ পরিশোষণ করে। পরে গ্লুকোজ ফ্রুক্টোজ দেহ গঠন প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপন্ন করে। নিচে শর্করা পরিপাকের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করা হলো।

১। শক্তির উৎসঃ জীবদেহে শক্তির প্রধান উৎস হলো শর্করা। শর্করা জারিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন করে। এর অভাবে দেহে শক্তির ঘাটতি দেখা দেয় এবং শরীর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।

২। সঞ্চিত খাদ্য হিসেবেঃ  শর্করা পরিপাক হয়ে গ্লুকোজ ফ্রুক্টোজ উৎপন্ন করে। গ্লুকোজ ফ্রুক্টোজ জীবদেহে সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে জমা থাকে।

৩। রোগীর পথ্য হিসেবেঃ গ্লুকোজ সরল দ্রবণীয় বলে রোগীর পথ্য হিসেবে কাজ করে। তাই অসুস্থ দুর্বল ব্যক্তিদের জন্য শর্করা দ্রæ পরিপাক হওয়া দরকার।

৪। দৈহিক বৃদ্ধিঃ দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য পরিমাণ মত গ্লুকোজ ফ্রুক্টোজ অত্যাবশ্যক।

৫। ভিটামিন তৈরীঃ শর্করা পরিপাক হয়ে গ্লুকোজে পরিনত হয়। গ্লুকোজ জীবদেহে ভিটামিনসি তৈরী করে।

৬। গাঠনিক উপাদানঃ সেলুলোজ হেমিসেলুলোজ উদ্ভিদের গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে।

৭। রক্তের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণঃ যকৃতের গ্লাইকোজেন গ্লুকোজে পরিনত হয়। এই গ্লুকোজ জীবদেহে রক্তের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। 

জীবদেহে শক্তির প্রধান উৎস হলো শর্করা। দেহের প্রয়োজনীয় সকল শক্তি যোগান দেয় শর্করা। দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং দেহকে সুস্থ রাখার জন্য পরিমাণ মত গ্লুকোজ গ্রহণ করা দরকার। তবে রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ থাকলে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

শর্করা পরিপাক পদ্ধতি আলোচনা । Carbohydrate digestion । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। মুখবিবরে পরিপাক

(i) টায়ালিন এনজাইম স্টার্চ গ্লাইকোজেনকে ভেঙ্গে মল্টোজ, মল্টোট্রায়োজ আইসোমল্টোজে পরিনত করে

(ii) মল্টেজ এনজাইমের প্রভাবে মল্টোজ গ্লাকোজে রুপান্তরিত হয়।

২। পাকস্থলীতে পরিপাক

(i) লাইসোজাইম খাদ্যের সাথে আগত ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে।

৩। ক্ষুদ্রান্ত্রের অগ্ন্যাশয় রসে পরিপাক

(i) অ্যামাইলেজ নামক এনজাইম স্টার্চ গ্লাইকোজেনকে ভেঙ্গে মল্টোজ, মল্টোট্রায়োজ ডেক্সটিনে পরিনত করে।

(ii) মল্টেজ এনজাইমের উপস্থিতিতে মল্টোজ গ্লাকোজে রুপান্তরিত হয়।

৪।  ক্ষুদ্রান্ত্রের আন্ত্রিক রসে পরিপাক

(i) অ্যামাইলেজ এনজাইম স্টার্চ ডেক্সটিনকে ভেঙ্গে মল্টোজ, মল্টোট্রায়োজ ক্ষুদ্র ডেক্সটিনে পরিনত করে।

(ii) আইসোমল্টেজ এনজাইমের প্রভাবে আইসোমল্টোজ হতে মল্টোজ গ্লাকোজ উৎপন্ন হয়।

(iii) মল্টোট্রায়েজ এনজাইম মল্টোট্রায়োজকে ভেঙ্গে গ্লাকোজে পরিনত করে।

(iv) মল্টেজ এনজাইমের প্রভাবে মল্টোজ হতে গ্লাকোজ উৎপন্ন হয়।

(v) সুক্রেজ এনজাইম সুক্রোজকে ভেঙ্গে গ্লাকোজ ফ্রুক্টোজে পরিনত করে।

(vi) ল্যাকটেজ এনজাইমের প্রভাবে ল্যাকটোজ হতে গ্লাকোজ গ্যালাকটোজ উৎপন্ন হয়।

শর্করা একটি জটিল জৈব রাসায়নিক পদার্থ। জীবদেহের জন্য ইহা জটিল, অদ্রবণীয় অশোষণযোগ্য। ইহা জীবদেহে কোন উপকারে আসে না। বিভিন্ন ধরনের এনজাইমের কার্যকারীতায় শর্করা পরিপাক হয়ে গ্লাকোজ ফ্রুক্টোজে পরিনত হয়। গ্লাকোজ ফ্রুক্টোজ দেহের জন্য সরল, দ্রবণীয় শোষণযোগ্য। আমাদের দেহকোষ গ্লাকোজ ফ্রুক্টোজ পরিশোষণ করে। এই গ্লাকোজ ফ্রুক্টোজই আমাদের শরীরে শক্তি যোগায়।

জীবদেহে প্রোটিনের গুরুত্ব । প্রোটিন পরিপাকের প্রয়োজনীয়তা । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

প্রোটিন একটি জটিল জৈব রাসায়নিক পদার্থ। জীবদেহের জন্য ইহা জটিল, অদ্রবণীয় অশোষণযোগ্য। ইহা জীবদেহে কোন উপকারে আসে না। বিভিন্ন ধরনের এনজাইমের কার্যকারীতায় প্রোটিন পরিপাক হয়ে অ্যামাইনো এসিডে পরিনত হয়। অ্যামাইনো এসিড দেহের জন্য সরল, দ্রবণীয় শোষণযোগ্য। আমাদের দেহকোষ অ্যামাইনো এসিড পরিশোষণ করে। পরে অ্যামাইনো এসিড মিলে প্রোটিন গঠন করে। এই প্রোটিন জীবদেহের জন্য অতি প্রয়োজনীয়। নিচে প্রোটিন পরিপাকের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করা হলো।

১। দেহ গঠনঃ প্রোটিন মানব দেহের গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে। তন্তুজ প্রোটিন দেহের বিভিন্ন টিস্যুর মধ্যে সংযোগ সাধন করে। কোলাজেন প্রোটিন দেহের ত্বক, টেনডন, অস্থি, তরুনাস্থি প্রভৃতি গঠন করে। ইহা অস্থির সাথে পেশির সংযোগ রক্ষা করে। ক্যারোটিন প্রোটিন চুল নখ গঠন করে। প্রোটিন পরিপাকের মাধ্যমে দেহের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে। 

২। সঞ্চিত খাদ্য হিসেবেঃ  প্রোটিন পরিপাকের পর জীবদেহে সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে জমা থাকে।

৩। বংশগত বৈশিষ্ট্য পরিবহণঃ প্রোটিন সংশ্লেষনের মাধ্যমে উঘঅঅণুতে সংরক্ষিত বংশগত তথ্যাবলী প্রকাশিত হয়। হিস্টোন প্রোটিন ক্রোমোজোমের স্থায়িত্ব রক্ষা করে, নিউক্লিক এসিডকে কার্যকর করে এবং জিনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ইহা বংশগত বৈশিষ্ট্যাবলী বংশানুক্রমে স্থানান্তর করে।

৪। দৈহিক বৃদ্ধিঃ দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য প্রোটিন অত্যাবশ্যক। প্রোটিনের অভাবে মানুষ বামনাকৃতি ধারণ করে। ইহা জীবের মেধার সুষ্ঠ বিকাশ ঘটায়।

৫। রোগ প্রতিরোধঃ প্রোটিন জীবদেহে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে। ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। বর্তমানে ক্যান্সার রোগের কারণ হিসেবে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইন্টারফেরণ নামক বিশেষ প্রোটিন ব্লাড ক্যান্সার নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। প্রোটিনের ঘাটতি হলে দেহ সহজেই রোগাক্রান্ত হয়। তাই দেহে প্রোটিন পরিপাক হওয়া প্রয়োজন।

৬। শক্তি উৎপাদনঃ প্রোটিন দেহের প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপন্ন করে। এর অভাবে দেহে শক্তির ঘাটতি দেখা দেয় এবং দেহ ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। একারণে জীবদেহে প্রোটিন পরিপাক অতীব জরুরী।

৭। অঙ্গ বিকৃতিরোধঃ প্রোটিন দেহের বিভিন্ন অঙ্গের আকারআকৃতি সুনির্দিষ্ট করে। স্নায়বিক দুর্বল্যতারোধ করে। ত্বককে মসৃণ করে। চুল পড়া বন্ধ করে।

৮। পরিবহণ কাজঃ  হিমোগ্লোবিন নামক প্রোটিন দেহে অক্সিজেন কার্বন ডাইঅক্সাইড পরিবহণ করে। ইহা কতিপয় আয়নও পরিবহণ করে।

৯। কোষ ঝিল্লি গঠনঃ প্রোটিন জীবের প্লাজমামেমব্রেন, নিউক্লিয়ার মেমব্রেন, বিভিন্ন কোষীয় অঙ্গাণুর ঝিল্লি প্রভৃতি গঠন করে।

১০। হরমোন উৎপাদনঃ বিভিন্ন ধরণের হরমোন উৎপাদনে প্রোটিনের ভূমিকা রয়েছে।

১১। ক্রিয়াবিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণঃ  দেহের বিভিন্ন ধরনের ক্রিয়াবিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে প্রোটিন।

জীবদেহের প্রধান উপাদান হলো প্রোটিন। প্রোটিনের অভাবে জীবের দেহ গঠিত হয় না। এর অভাবে দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যায়। দেহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। দেহকে সুস্থ, সবল রোগমুক্ত রাখার জন্য পরিমাণ মত প্রোটিন গ্রহণ করা দরকার। দেহে প্রোটিনের পরিমাণ স্বাভাবিক হলে দেহের গঠন সুঠাম এবং ত্বক মসৃন হয়। কিন্তু দেহে প্রোটিনের ঘাটতি হলে দেহ দুর্বল হয়ে যাবে এবং অতি অভাবে জীব মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে।

প্রোটিন পরিপাক পদ্ধতি আলোচনা। Protein digestion । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। মুখবিবরে পরিপাকঃ  মুখবিবরে প্রোটিন পরিপাককারী কোন এনজাইম থাকে না। লালারসে বিদ্যমান মিউসিন খাদ্যকে পিচ্ছিল করে।

২। পাকস্থলীতে পরিপাক

(i) নিস্ক্রিয় পেপসিনোজেন HClএর প্রভাবে সক্রিয় পেপসিনে পরিনত হয়। পেপসিন প্রোটিনকে ভেঙ্গে প্রোটিওজ পেপটোনে পরিনত করে।

(ii) জিলেটিনেজ এনজাইম জিলেটিনকে ভেঙ্গে পেপটোন পলিপেপটাইড উৎপন্ন করে।

৩। ক্ষুদ্রান্ত্রের অগ্ন্যাশয় রসে পরিপাক

(i) নিস্ক্রিয় ট্রিপসিনোজেন এন্টারোকাইনেজ এনজাইমের প্রভাবে সক্রিয় ট্রিপসিনে পরিনত হয়। ট্রিপসিন পেপটোনকে ডাইপেপটাইড পলিপেপটাইডে পরিনত করে।

(ii) নিস্ক্রিয় কাইমোট্রিপসিনোজেন ট্রিপসিন এনজাইমের সহায়তায় সক্রিয় কাইমোট্রিপসিনে পরিনত হয়। কাইমোট্রিপসিন দুধের কেসিনকে ভেঙ্গে প্যারাকেসিনে পরিনত করে।

(iii) ইলাস্টেজ এনজাইম ইলাস্টিনকে ভেঙ্গে পেপটাইডে রুপান্তরিত করে।

(iv) কোলাজিনেজ এনজাইমের কার্যকারীতায় কোলাজেন হতে পেপটাইড উৎপন্ন হয়।

৪।  ক্ষুদ্রান্ত্রের আন্ত্রিক রসে পরিপাক

(i) অ্যামাইনো পেপটাইডেজ এনজাইম পলিপেপটাইডকে ভেঙ্গে অ্যামাইনো এসিডে রুপান্তরিত করে।

(ii) প্রোলিডেজ এনজাইম পেপটাইডকে ভেঙ্গে প্রোলিনে পরিনত করে।

(iii) ট্রাইপেপটাইডেজ এনজাইমের প্রভাবে ট্রাইপেপটাইড হতে ডাইপেপটাইড অ্যামাইনো এসিড উৎপন্ন হয়

(iv) ডাইপেপটাইডেজ এনজাইম ডাইপেপটাইডকে ভেঙ্গে অ্যামাইনো এসিডে পরিনত করে।

  প্রোটিন একটি জটিল জৈব রাসায়নিক পদার্থ। জীবদেহের জন্য ইহা জটিল, অদ্রবণীয় অশোষণযোগ্য। ইহা জীবদেহে কোন উপকারে আসে না। বিভিন্ন ধরনের এনজাইমের কার্যকারীতায় প্রোটিন পরিপাক হয়ে অ্যামাইনো এসিডে পরিনত হয়। অ্যামাইনো এসিড দেহের জন্য সরল, দ্রবণীয় শোষণযোগ্য। আমাদের দেহকোষ অ্যামাইনো এসিড পরিশোষণ করে। পরে অ্যামাইনো এসিড মিলে প্রোটিন গঠন করে। এই প্রোটিনই আমাদের দেহ গঠন করে।

খাদ্য পরিপাকের ধাপ সমুহ ।। Stages of digestion । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

মানবদেহে জটিল খাদ্য পরিপাকের ধাপ ৬টি।

১। খাদ্য ও পানি গলাধঃকরণ (Ingestion of food and water)

২। খাদ্যের যান্ত্রিক পরিপাক (Mechanical digestion of food)

৩। খাদ্যের রাসায়নিক পরিপাক (Chemical digestion of food)

৪। পরিপাকনালিতে খাদ্যের সঞ্চালন (Movement of food)

৫। খাদ্যসার ও পানি পরিশোষণ (Absorption of food and water)

৬। বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন (Waste disposal)

মানবদেহে খাদ্য পরিপাক । Food digestion । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

সুস্থ মানুষের খাদ্য পরিপাক হতে ২৪-৭২ ঘন্টা সময় লাগে। অতি উচ্চ ক্যালরিবিশিষ্ট চর্বিযুক্ত খাবার ৬ ঘন্টায় এবং শর্করা জাতীয় খাবার ২ ঘন্টায় হজম হয়। খাদ্য লালার সাথে মিশে পিন্ডাকৃতির বোলাস গঠন করে। পাকস্থলীতে খাদ্য পিন্ড কাইমে পরিনত হয়। পাকস্থলীতে ১৫-২০ সেকেন্ড পর পর পেরিস্ট্যালসিস বা খাদ্য তরঙ্গ ঘটে। ¯েœহ জাতীয় খাদ্য ভেঙ্গে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানায় পরিনত হয়। এ প্রক্রিয়াকে ইমালসিফিকেশন বলে।

দন্তসংকেত কী । Tooth formula । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে সংকেতের সাহায্যে প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের দাঁতের সংখ্যা, অবস্থন ও প্রকৃতি জানা যায় তাকে দন্ত সংকেত বলে। মানুষের ডাইফায়োডন্ট (দুইবার গজায়) প্রকৃতি।   শিশুদের দুই চোয়ালে মোট ২০টি দুধ দাঁত থাকে। ১৮-২৪ বছর বয়সের মধ্যে দুধ দাঁত পড়ে গিয়ে ৩২টি স্থায়ী দাঁত ওঠে। প্রাপ্ত বয়স্ক একজন মানুষের চার ধরনের দাঁত থাকে। Incisor, Canine, Pre-molar ও Molar।

১। কর্তন দাঁত (Incisor)ঃ প্রতি চোয়ালের সম্মুখে ৪টি কর্তন দাঁত থাকে। দাঁতগুলো ধারলো এবং খাদ্য কাটা ও ছেঁড়ার উপযোগী। কর্তন দাঁত ৫৫ পাউন্ড সমপরিমাণ বল প্রয়োগ করতে পারে।

২। ছেদন দাঁত (Canine)ঃ প্রতি চোয়ালে কর্তন দাঁতের পর একটি করে ছেদন দাঁত থাকে। এর সংখ্যা ২টি। দাঁত গুলো কনিক্যাল আকৃতির এবং শক্ত খাদ্য ছেঁড়ার উপযোগী।

৩। অগ্রপেষণ দাঁত (Pre-molar)ঃ প্রতি চোয়ালে ছেদন দাঁতের পর দুইটি করে অগ্রপেষণ দাঁত থাকে। এর সংখ্যা ৪টি। ইহা খাদ্য বস্তুকে চর্বণ (ম্যাস্টিকেশন) ও পেষণ করে।

৪। পেষণ দাঁত (Molar)ঃ প্রতি চোয়ালে অগ্রপেষণ দাঁতের পর তিনটি করে পেষণ দাঁত থাকে। এর সংখ্যা ৬টি। ইহা খাদ্যবস্তু চর্বণ ও পেষণ করে। পেষণ দাঁত ২০০ পাউন্ড সমপরিমাণ বল প্রয়োগ করতে পারে। শিশুদের পেষণ দাঁত থাকে না।

সুষম খাদ্য কী । Balanced diet । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে খাদ্যে ছয়টি উপাদান পরিমাণ মতো থাকে এবং দেহের জন্য পুষ্টি শক্তি সরবরাহ করে তাকে সুষম খাদ্য বা ব্যালেন্স ডায়েট বলে। সুষম খাদ্যের ৬টি উপাদান হলো শর্করা, প্রোটিন, স্নেœহদ্রব্য, ভিটামিন, খনিজ লবণ পানি।

মেমব্রেন এনজাইম কী । Membrane Enzyme । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

মাইক্রোভিলাই এর প্লাজমা মেমব্রেনে যে সব এনজাইম থাকে তাকে মেমব্রেন এনজাইম বলে। কয়েকটি মেমব্রেন এনজাইম হলোঅ্যামিনোপেপটাইডেজ, ম্যাল্টেজ, সুক্রেজ, ল্যাক্টেজ, অ্যালকালাইন ফসফেটেজ, নিউক্লিওটাইডেজ, নিউক্লিওসাইডেজ প্রভৃতি।