ক্ষুদ্রান্ত্র বা আন্ত্রিক গ্রন্থি কী । আন্ত্রিক রসের উপাদান ও কাজ । Intestine gland । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

অন্ত্রের প্রাচীরের মিউকোসা স্তরে যে এককোষী গ্রন্থি থাকে তাকে আন্ত্রিক গ্রন্থি বা ক্ষুদ্রান্ত্রের গ্রন্থি বলে।  ক্ষুদ্রান্ত্রের গ্রন্থি গুলো হলো- ব্রাশ কোষ, গবলেট কোষ, লিবারক্যুন গ্রন্থি, প্যানেথ কোষ, আরজেন্টফিন্ট কোষ ও ব্রুনার গ্রন্থি।

আন্ত্রিক রস বা সাক্কাস ইন্টারিকাস

ক্ষুদ্রান্ত্র বা আন্ত্রিক গ্রন্থি হতে নিঃসৃত রসকে আন্ত্রিক রস বলে। একে সাক্কাস ইন্টারিকাস বলা হয়। ইহা ক্ষারীয় প্রকৃতির। এর pH মান ৬.৫-৭.৫।

আন্ত্রিক রসের উপাদান

(i) পানিঃ আন্ত্রিক রসে পানির পরিমাণ ৯৮.৫%।

(ii) জৈব উপাদানঃ আন্ত্রিক রসে এন্টারোকাইনেজ, ট্রিপসিনোজেন, পেপটাইডেজ, অ্যামাইলেজ, মল্টেজ, ল্যাক্টেজ, সুক্রেজ ও লাইপেজ থাকে।

(iii) অজৈব উপাদানঃ আন্ত্রিক রসে সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম লবণ থাকে।

আন্ত্রিক রসের গুরুত্ব বা কাজ

(i) আন্ত্রিক রসে মিউকাস থাকে। মিউকাস এনজাইমের ক্রিয়া থেকে অন্ত্রের প্রাচীরকে রক্ষা করে।

(ii) আন্ত্রিক রসের এন্টারোকাইনেজ নিষ্ক্রিয় ট্রিপসিনোজেনকে ট্রিপসিনে পরিনত করে।

(iii) আন্ত্রিক রসের মল্টেজ মল্টোজকে, সুক্রেজ সুক্রোজকে এবং ল্যাক্টেজ ল্যাক্টোজকে গ্লুকোজে পরিনত করে।

(iv) এই রসের পেপটাইডেজ এনজাইম পলিপেপটাইডকে অ্যামাইনো এসিডে পরিনত করে।

আন্ত্রিক রসের গুরুত্ব বা কাজ । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(i) আন্ত্রিক রসে মিউকাস থাকে। মিউকাস এনজাইমের ক্রিয়া থেকে অন্ত্রের প্রাচীরকে রক্ষা করে।

(ii) আন্ত্রিক রসের এন্টারোকাইনেজ নিষ্ক্রিয় ট্রিপসিনোজেনকে ট্রিপসিনে পরিনত করে।

(iii) আন্ত্রিক রসের মল্টেজ মল্টোজকে, সুক্রেজ সুক্রোজকে এবং ল্যাক্টেজ ল্যাক্টোজকে গ্লুকোজে পরিনত করে।

(iv) এই রসের পেপটাইডেজ এনজাইম পলিপেপটাইডকে অ্যামাইনো এসিডে পরিনত করে।

ক্ষুদ্রান্ত্র বা আন্ত্রিক গ্রন্থি । আন্ত্রিক রস । সাক্কাস ইন্টারিকাস । আন্ত্রিক রসের উপাদান । Intestine gland । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

অন্ত্রের প্রাচীরের মিউকোসা স্তরে যে এককোষী গ্রন্থি থাকে তাকে আন্ত্রিক গ্রন্থি বা ক্ষুদ্রান্ত্রের গ্রন্থি বলে।  ক্ষুদ্রান্ত্রের গ্রন্থি গুলো হলো- ব্রাশ কোষ, গবলেট কোষ, লিবারক্যুন গ্রন্থি, প্যানেথ কোষ, আরজেন্টফিন্ট কোষ ও ব্রুনার গ্রন্থি।

আন্ত্রিক রস বা সাক্কাস ইন্টারিকাস

ক্ষুদ্রান্ত্র বা আন্ত্রিক গ্রন্থি হতে নিঃসৃত রসকে আন্ত্রিক রস বলে। একে সাক্কাস ইন্টারিকাস বলা হয়। ইহা ক্ষারীয় প্রকৃতির। এর pH মান ৬.৫-৭.৫।

আন্ত্রিক রসের উপাদান

(i) পানিঃ আন্ত্রিক রসে পানির পরিমাণ ৯৮.৫%।

(ii) জৈব উপাদানঃ আন্ত্রিক রসে এন্টারোকাইনেজ, ট্রিপসিনোজেন, পেপটাইডেজ, অ্যামাইলেজ, মল্টেজ, ল্যাক্টেজ, সুক্রেজ ও লাইপেজ থাকে।

(iii) অজৈব উপাদানঃ আন্ত্রিক রসে সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম লবণ থাকে।

পরিপাকীয় রোগ কী কী । Gastrointestinal disorder । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

পরিপাকতন্ত্র ঠিক মতো কাজ না করলে যে সব রোগ হয় তাকে পরিপাকীয় রোগ বলে।

১। ক্রোন ডিজিসঃ ক্রনিক ডায়রিয়া হয়। রক্তযুক্ত পায়খানা হয়।

২। ইরটেবল বাওয়েল সিনড্রমঃ পেটে ব্যথা হয়। ডায়রিয়া হয়। কোষ্ঠ কাঠিন্য হয়।

৩। সিলিক ডিজিসঃ দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া হয়। কোষ্ঠ কাঠিন্য হয়।

৪। পিত্তপাথরঃ পাঁজরের নিচে ব্যথা হয়। বমি হয়।

৫। আলসারেটিভ কোলিটিসঃ দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া হয়। পেটে ব্যথা হয়।

৬। গ্যাস্ট্রো-ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিসঃ অন্ননালির প্রদাহ হয়।

পাকস্থলী নিজে পরিপাক হয় না কেন । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(i) নিষ্ক্রিয় এনজাইমঃ পাকস্থলী থেকে নিঃসৃত প্রোটিয়েজ এনজাইম নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। নিষ্ক্রিয় এনজাইম কখনো বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে না। তাই পাকস্থলীর এনজাইম কোন ক্ষতি করতে পারে না।

(ii) মিউকাস পর্দাঃ পাকস্থলী মিউকাস আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। এ কারণে এনজাইম পাকস্থলীর প্রাচীরের সংস্পর্শে আসতে পারে না। তাই পাকস্থলীর কোন ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।

(iii) অ্যান্টি-এনজাইমঃ কোষ থেকে অ্যান্টি-এনজাইম নিঃসৃত হয়। অ্যান্টি-এনজাইম বিভিন্ন এনজাইমের ক্রিয়ায় বাঁধা দেয়। তাই পাকস্থলীর প্রাচীরের কোন ক্ষতি হয় না।

(iv) HClঃ পাকস্থলী থেকে নিঃসৃত HCl খাদ্যকে অর্ধ-কঠিন তরল পদার্থে রুপান্তরিত করে। পাকস্থলীর ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। ক্ষতিকারক টক্সিন বা বিষ শোষণ করে। পাকস্থলীর প্রধান আচ্ছাদন হিসেবে কাজ করে। গ্যাস্ট্রিক রসকে পেপসিন ও রেনিনে পরিনত করে।

(v) পেরিস্ট্যালসিস চলনঃ পাকস্থলীর তিন স্তরবিশিষ্ট প্রাচীর খাদ্য পরিপাকের সময় সঞ্চালন মাত্রা বৃদ্ধি করে। এনজাইম খাদ্যের সাথে মিশে যায়। এর ভিতরে খাদ্য পেরিস্ট্যালসিস প্রক্রিয়ায় চলাচল করে। তাই পাকস্থলীর প্রাচীরের কোন ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।

(vi) আঁটসাঁট সংযুক্তিঃ পাকস্থলীর এপিথেলিয়াল কোষগুলো আঁটসাঁট ভাবে অবস্থান করে। তাই ঐঈষ এবং পরিপাক এনজাইম পাকস্থলীর কোন ক্ষতি করতে পারে না।

(vii) কোষের প্রতিস্থাপনঃ পাকস্থলীর এপিথেলিয়াল কোষগুলো ৩-৬ দিন পর পর মারা যায়। এরপর নতুন কোষ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। এতে পাকস্থলীর সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।

(viii) বাইকার্বনেট নিঃসরণঃ পাকস্থলীর অন্তঃগাত্রী থেকে বাইকার্বনেট নিঃসৃত হয়। বাইকার্বনেট দ্রবণ ঐঈষ কে প্রশমিত করে।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, পাকস্থলী বিভিন্ন ধরনের খাদ্য পরিপাক করে, কিন্তু নিজে পরিপাক হয় না।

গ্যাস্ট্রিক রসের কাজ বা গুরুত্ব । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(i) গ্যাস্ট্রিক রসে ঐঈষ থাকে। ইহা পাকস্থলীতে অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে, ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এবং নিস্ক্রিয় এনজাইমকে সক্রিয় এনজাইমে পরিনত করে।

(ii) গ্যাস্ট্রিক রসের পেপসিন এনজাইম প্রোটিনকে পেপটোনে পরিনত করে।

(iii) গ্যাস্ট্রিক রসের রেনিন এনজাইম দুধের ক্যাসিনকে প্যারাকেসিনে পরিনত করে।

(iv) গ্যাস্ট্রিক রসে ইনট্রিনসিক ফ্যাক্টর থাকে। ইহা ভিটামিন B12 শোষণ করে।

(v) গ্যাস্ট্রিক রসের মিউকাসপাকস্থলীর প্রাচীরকে সুরক্ষা করে। তাই পাকস্থলী নিজে হজম হয় না।

(vi) বিষাক্ত পদার্থ, ভারী ধাতু, অ্যালকালয়েড প্রভৃতি গ্যাস্ট্রিক রসের সাথে দেহ হতে বহিষ্কৃত হয়।

গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি বা পাকস্থলীর গ্রন্থির নাম। গ্যাস্ট্রিক রসের উপাদান ও কাজ । Gastric gland। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

পাকস্থলীর মিউকোসা স্তরের যেসব কোষ থেকে পরিপাককারী রস নিঃসৃত হয় তাকে গ্যস্ট্রিক গ্রন্থি বলে। গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি তিন প্রকার। ফান্ডিক গ্রন্থি, কার্ডিয়াক গ্রন্থি এবং পাইলোরিক গ্রন্থি। প্রতিবার খাদ্য গ্রহণের সময় পাকস্থলী হতে ৫০০-১০০০ মিলি গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসৃত হয়। গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিগুলো হলো-

(i) পেপটিক বা চীফ কোষঃ পেপটিক বা চীফ কোষ হতে পেপসিনোজেন, রেনিন, জিলেটিনেজ, লাইপেজ প্রভৃতি নিঃসৃত হয়।

(ii) প্যারাইটাল বা অক্সিনটিক কোষঃ  প্যারাইটাল বা অক্সিনটিক কোষ ইনট্রিনসিক ফ্যাক্টর ও HCl নিঃসৃত করে।

(iii) মিউকাস গ্রন্থিঃ মিউকাস গ্রন্থি হতে মিউসিন নিঃসৃত হয়।

(iv) জি-কোষ বা গ্যাস্ট্রিন কোষঃ জি-কোষ গ্যাস্ট্রিন রস নিঃসরণ করে।

(v) গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিঃ গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি হতে গ্যাস্ট্রিন রস নিঃসৃত হয়।

(vi) আরজেন্টাফিন কোষঃ ইহা হরমোন ক্ষরণ এবং ভিটামিন B12 শোষণ করে। ইহা সেরোটোনিন নিঃসৃত করে।

(vii) মিউকাস কোষ বা গবলেট কোষঃ ইহা মিউকাস ক্ষরণ করে।

 

গ্যাস্ট্রিক রস (Gastric juice)

পাকস্থলীর জি-কোষ, পেপটিক কোষ, গবলেট কোষ, প্যারাইটাল কোষ, মিউকাস কোষ প্রভৃতি হতে যে রস নিঃসৃত হয় তাকে গ্যাস্ট্রিক রস বলে। গ্যাস্ট্রিক রসে ভিটামিন-ই১২ এর অভাব হলে পারনিসিয়াস অ্যানিমিয়া রোগ বলে।

গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসরণের তিনটি পর্যায়

১। সেফালিক পর্যায়ঃ খাদ্য বস্তু পাকস্থলীতে প্রবেশের পুর্বে এ পর্যায় শুরু হয়। এ পর্যায়ে ২০ ভাগ গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসৃত হয়।

২। গ্যাস্ট্রিক পর্যায়ঃ পাকস্থলীতে খাবার অবস্থন করার সময় হলো গ্যাস্ট্রিক পর্যায়। এ পর্যায়ে পরিপাকের জন্য ৭০ ভাগ গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসৃত হয়। 

৩। আন্ত্রিক পর্যায়ঃ খাবার পাকস্থলী হতে ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রবেশ করলে আন্ত্রিক পর্যায় শুরু হয়। এ পর্যায়ে খুব সামান্য পরিমাণ গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসৃত হয়।

গ্যাস্ট্রিক রসের উপাদান

(i) পানিঃ গ্যাস্ট্রিক রসে ৯৯.৪৫% পানি থাকে।

(ii) জৈব উপাদানঃ গ্যাস্ট্রিক রসে পেপসিন, রেনিন, লাইপেজ, মিউসিন, ইনট্রিন্সিক ফ্যাক্টর প্রভৃতি থাকে।

(iii) অজৈব উপাদানঃ গ্যাস্ট্রিক রসে সোডিয়াম ক্লোরাইড, পটাসিয়াম ক্লোরাইড, ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড, ক্যালসিয়াম ফসফেট, ম্যাগনেসিয়াম ফসফেট প্রভৃতি থাকে।

গ্যাস্ট্রিক রসের উপাদান ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(i) পানিঃ গ্যাস্ট্রিক রসে ৯৯.৪৫% পানি থাকে।

(ii) জৈব উপাদানঃ গ্যাস্ট্রিক রসে পেপসিন, রেনিন, লাইপেজ, মিউসিন, ইনট্রিন্সিক ফ্যাক্টর প্রভৃতি থাকে।

(iii) অজৈব উপাদানঃ গ্যাস্ট্রিক রসে সোডিয়াম ক্লোরাইড, পটাসিয়াম ক্লোরাইড, ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড, ক্যালসিয়াম ফসফেট, ম্যাগনেসিয়াম ফসফেট প্রভৃতি থাকে।

গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসরণের পর্যায় । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসরণের তিনটি পর্যায়

১। সেফালিক পর্যায়ঃ খাদ্য বস্তু পাকস্থলীতে প্রবেশের পুর্বে এ পর্যায় শুরু হয়। এ পর্যায়ে ২০ ভাগ গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসৃত হয়।

২। গ্যাস্ট্রিক পর্যায়ঃ পাকস্থলীতে খাবার অবস্থন করার সময় হলো গ্যাস্ট্রিক পর্যায়। এ পর্যায়ে পরিপাকের জন্য ৭০ ভাগ গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসৃত হয়। 

৩। আন্ত্রিক পর্যায়ঃ খাবার পাকস্থলী হতে ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রবেশ করলে আন্ত্রিক পর্যায় শুরু হয়। এ পর্যায়ে খুব সামান্য পরিমাণ গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসৃত হয়।

গ্যাস্ট্রিক রস কী । Gastric juice । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

পাকস্থলীর জি-কোষ, পেপটিক কোষ, গবলেট কোষ, প্যারাইটাল কোষ, মিউকাস কোষ প্রভৃতি হতে যে রস নিঃসৃত হয় তাকে গ্যাস্ট্রিক রস বলে। গ্যাস্ট্রিক রসে ভিটামিন-ই১২ এর অভাব হলে পারনিসিয়াস অ্যানিমিয়া রোগ বলে। ।