নিডারিয়া পর্বের কয়েকটি প্রাণী, উদাহরণ । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

হাইড্রা- Hydra vulgaris
ক্লোরোহাইড্রা- Chlorohydra viridissima
জেলি ফিস- Aurelia aurita
পর্তুগীজ যুদ্ধ মানব- Physalia physalis
অ্যাডামশিয়া- Adamsia palliata
ওবেলিয়া- Obelia geniculata
সমুদ্র পাখা- Gorgonia ventilina
সমুদ্র পালক- Pennatula aculeata
সাগর কুসুম- Metridium senile
ক্যারিডিয়া- Carybdea alata
সায়ানিয়া- Cyanea capillata
চিরোনেক্স- Chironex fleckeri
ব্রেইন কোরাল- Meandrina meandrites
গর্গোনিয়া- Gorgonia verrucosa
লাল প্রবাল- Corallium rubrum
কামানগোলা জেলি- Stomolophus meleagris

নিডারিয়া পর্বের শ্রেণীবিভাগ ।। Classification ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

Cnidaria পর্বকে ৪টি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে।
১। হাইড্রোজোয়াঃ এরা পানিতে বাস করে। জীবনচক্রে পলিপ বা মেডুসা দশা দেখা যায়। মেসোগ্লিয়া কোষবিহীন। এক্টোডার্ম থেকে জননাঙ্গ উৎপন্ন হয়। যেমন- Hydra viridis, Obelia geniculata।
২। স্কাইফোজোয়াঃ এরা কাপ বা ঘন্টা বা ছাতা আকৃতির প্রাণী। জীবনচক্রে মেডুসা দশা প্রধান। এন্ডোডার্ম থেকে জননাঙ্গ উৎপন্ন হয়। মেসোগ্লিয়া বৃহৎ আকৃতির এবং কোষ ও তন্তু দ্বারা গঠিত। যেমন- Aurelia aurita
৩। কুবোজোয়াঃ এরা ঝড়-বৃষ্টির মতো প্রাণী। এদের মেডুসা দশাই প্রধান। যেমন- Metridium
৪। অ্যানথোজোয়াঃ এরা ফুল আকৃতির প্রাণী। জীবনচক্রে পলিপ দশা উপস্থিত। মেসোগ্লিয়া তন্তুময় যোজক কলা দ্বারা গঠিত। এন্ডোডার্ম থেকে জননাঙ্গ উৎপন্ন হয়। যেমন- Metridium senil, Gorgoni verrucosa.

নিডারিয়া পর্বের বৈশিষ্ট্য ।। Cnidaria ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

গ্রীক শব্দ knide অর্থ কাঁটা এবং ল্যাটিন শব্দ area অর্থ সংযুক্ত নিয়ে Cnidaria শব্দটি গঠিত। নিডারিয়ানদের সমুদ্রের ফুল (flower of the sea) বলা হয়। নিডারিয়া পর্বের পূর্ব নাম সিলেনটেরাটা। এ পর্বের প্রাণী সামুদ্রিক বল্লা (Chironex fleckeri) হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত জেলিফিশ (ইহা ৬৭ জন মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে)। এ পর্বের প্রাণীরা সমুদ্রের তলদেশে ট্রপিক্যাল রেইন ফরেস্ট (Rain forest)-এর মতো কলোনী গঠন করে। এরা প্রবাল বা প্রবাল-প্রাচীর গঠন করে। এ পর্বের প্রজাতি সংখ্যা প্রায় ১০,২০৩টি। Cnidaria পর্বের নামকরণ করেন বিজ্ঞানী Leuckart (১৮৪৭)।

নিডারিয়া পর্বের বৈশিষ্ট্য
১। এরা ডিপ্লোব্লাস্টিক প্রাণী। অর্থাৎ এদের কোষে এক্টোডার্ম ও এন্ডোডার্ম নামক দুটি কোষস্তর থাকে।
২। এক্টোডার্ম ও এন্ডোডার্মের মাঝে মেসোগিøয়া নামক একটি অকোষীয় স্তর থাকে।
৩। এদের দেহাকৃতি ফিলামেন্টাস, নালিকা সদৃশ এবং ছাতাকৃতির।
৪। দেহে নিডোব্লাস্ট কোষ থাকে, যা নিমাটোসিস্ট বহন করে।
৫। গ্যাস্ট্রোভাস্কুলার বা সিলেন্টেরন নামক দেহ গহ্বর থাকে। সিলেনন্টেরনকে পরিপাক পরিবহন নালি বলা হয়। ইহা মুখছিদ্র ও পায়ু হিসেবে কাজ করে এবং পরিপাক ও পরিবহনে অংশ নেয়।
৬। কোষীয় ও আঙ্গিক শ্রমবন্টন দেখা যায়।
৭। জীবনচক্রে জনুঃক্রম, মেটাজেনেসিস ও বহুরুপতা দেখা যায় দেখা যায়।
৮। জীবনচক্রে নিশ্চল পলিপ দশা এবং সচল মেডুসা দশা বিদ্যমান।
৯। দেহে অঙ্গতন্ত্র, শ^সনতন্ত্র ও সংবহনতন্ত্র নাই। স্নায়ুতন্ত্র অনুন্নত ধরনের।
১০। এরা বহুকোষী, অরীয় প্রতিসম এবং মস্তকবিহীন।
১১। খাদ্য বস্তু বহিঃকোষীয় ও অন্তঃকোষীয় ভাবে পরিপাক হয়।
১২। সিলিয়াযুক্ত প্লানুলা লার্ভার মাধ্যমে পরিস্ফুরণ ঘটে।
১৩। বিশ প্রজাতির নিডারিয়া স্বাদু পানির। অবশিষ্ট নিডারিয়া সামুদ্রিক।
বৈশিষ্ট্য মনে রাখার প্রধান শব্দঃ ডিপ্লোব্লাস্টিক, মেসোগিøয়া, নিডোব্লাস্ট, সিলেন্টেরন, শ্রমবন্টন, মেটাজেনেসিস, বহুরুপতা, পলিপ, মেডুসা]

অস্টিয়া । Ostia । স্পঞ্জোসিল । spongocoel । কোয়ানোসাইট । Choanocyte । স্পিকিউল । Spicule । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

অস্টিয়া (Ostia)ঃ Ostia অর্থ ছিদ্র। পরিফেরা পর্বের প্রাণীদের দেহের বহির্ভাগে যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে তাকে অস্টিয়া বলে। অস্টিয়ার মধ্য দিয়ে দেহে পানি প্রবেশ করে। যেমন- স্কাইফা (Scypha gelatinosum)।

স্পঞ্জোসিল (spongocoel)ঃ স্পঞ্জোসিলকে প্যারাগ্যাস্ট্রিক গহŸর বলা হয়। পরিফেরা পর্বের প্রাণীদের দেহগহŸরকে স্পঞ্জোসিল বলে। স্পঞ্জোসিলের মুখছিদ্রকে অসক্যুলাম (osculum) বলে। স্পঞ্জোসিল পানি ধারণ করে এবং অসক্যুলামের মধ্য দিয়ে পানি দেহের বাইরে নির্গত হয়। যেমন- স্পঞ্জিলা (Spongilla lacustris)।

কোয়ানোসাইট (Choanocyte)ঃ পরিফেরা পর্বের প্রাণীদের দেহে কলসি আকৃতির ফ্ল্যাজেলাযুক্ত যে কোষ থাকে তাকে কোয়ানোসাইট বলে। ইহা নালিতন্ত্রের প্রাচীরের গহŸরে থাকে। ইহা পানির স্রোত নিয়ন্ত্রণ করে।

স্পিকিউল (Spicule)ঃ যে সব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাঁটা পরিফেরা পর্বের প্রাণীদের দেহকাঠামো গঠন করে তাকে স্পিকিউল বলে। ইহা চুন বা সিলিকা দ্বারা গঠিত। ইহা কঠিন প্রকৃতির বস্তু। নেপচুন কাপ (Poterion neptuni)।

পরিফেরা পর্বের উদাহরণ ।। পরিফেরা পর্বের কয়েকটি প্রাণী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

স্কাইফা-Scypha gelatinosum
স্পঞ্জিলা-Spongilla lacustris
বাথ স্পঞ্জ-Spongilla officinalis
মিঠাপানির স্পঞ্জ-Spongilla proliferan
ক্ল্যাথ্রিনা- Clathrina lacunosa
লিউকোসোলেনিয়া-Leucosolenia complicata
ইউপ্লেকটেলা-Euplectella aspergillus
চালিনা-Chalina oculata
হায়ালোনেমা- Hyalonema longissimum
ইউস্পঞ্জিয়া- Euspongia officinalis
চিওনা- Chiona celata
গ্রানসিয়া-Grantia compressa
নেপচুন কাপ- Poterion neptuni

পরিফেরা পর্বের শ্রেণীবিভাগ ।। Porifera Classification ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

Porifera পর্বকে ৩টি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে।
১। ক্যালকারিয়াঃ এরা আকারে ছোট এবং ফ্যাকাশে রঙের। স্পঞ্জিন কম থাকে। এদের কঙ্কাল ক্যালসিয়াম কার্বনেট দ্বারা গঠিত। এরা বেশ ভঙ্গুর প্রকৃতির। যেমন- Sycon gelatinosum।
২। হেক্সাক্টিনেলিডাঃ এরা কাপ বা ফুলদানী আকৃতির স্পঞ্জ। আকারে বড়। এদের স্পিকিউল সিলিকা নির্মিত। এক্সোপিনাকোডার্ম অনুপস্থিত। যেমন- Euplectella aspergillus.
৩ ডেমোস্পঞ্জিঃ এরা দেখতে কাপ বা ফুলদানীর মতো এবং বড়। এদের কোয়ানোসাইট সরু। স্পিকিউল সিলিকা নির্মিত। যেমন- Spongilla locustris.

পরিফেরা ।। পরিফেরা পর্বের বৈশিষ্ট্য ।। Porifera ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ল্যাটিন শব্দ porous অর্থ ছিদ্র এবং ferro অর্থ বহনকারী নিয়ে Porifera শব্দটি গঠিত। এদেরকে ছিদ্র বহনকারী প্রাণি বলা হয়। এ পর্বের প্রাণীরা স্পঞ্জ নামে পরিচিত। এই পর্বের প্রাণীদেরকে লিভিং পাম্প (living pump) বলা হয়। এ পর্বের প্রজাতি সংখ্যা প্রায় ৮,৬৫৯টি। Robert Grant (১৮৩৬) এ পর্বের নাম দেন Porifera।

পরিফেরা পর্বের বৈশিষ্ট্য

১। এরা সরলতম বহুকোষী প্রাণী এবং চলাচলে অক্ষম।

২। এদের দেহ প্রাচীরে অস্টিয়া নামক অসংখ্য ছিদ্র আছে।

৩। দেহে কোয়ানোসাইট নামক ফ্ল্যাজেলাযুক্ত কোষ আছে।

৪। দেহে স্পঞ্জোসিল বা প্যারাগ্যাস্ট্রিক নামক গহŸর আছে। প্রতিটি স্পঞ্জোসিলে অসক্যুলাম নমক একটি করে ছিদ্র পথ থাকে।

৫। দেহে সুগঠিত কলা, অঙ্গ বা তন্ত্র নাই।

৬। এদের দেহে নালিকা তন্ত্র আছে। ক্যানাল সিস্টেম তিন ধরনের। অ্যাসকন টাইপ, সাইকন টাইপ এবং লিউকন টাইপ। ইহা শ্বসন ও পানি প্রবাহের কাজ করে।

৭। স্পিকিউল  বা স্পঞ্জতন্তু দ্বারা অন্তঃকংকাল গঠিত। স্পিকিউল চুন দ্বারা এবং স্পঞ্জি কোলাজেন প্রোটিন দ্বারা গঠিত।

৮। দেহ প্রাচীরে ৩টি স্তর থাকে। বাইরের দিকে পিনোকোডার্ম, মাঝখানে মেসেনকাইম  এবং ভিতরে কোয়ানোডার্ম।

৯। দেহ প্রাচীরের মাঝখানের মাতৃকায় মেসোহিল নামক জিলাটিনাস প্রোটিন থাকে। এই মাতৃকা অ্যামিবোসাইট এবং কঙ্কাল বস্তু ধারণ করে।

৯। অস্টিয়া পথে পানি স্রোতের মাধ্যমে খাদ্য, অক্সিজেন ও শুক্রাণু প্রবেশ করে।

১০। এরা উভয়লিঙ্গ এবং যৌন ও অযৌন জনন  ঘটে। কুঁড়ি বা গেমিউল দ্বারা অযৌন জনন ঘটে।

১১। জীবনচক্রে অ্যাম্ফিব্লাস্টুলা অথবা প্যারেনকাইমুলা লার্ভা দেখা যায়।

[বৈশিষ্ট্য মুখস্ত রাখার প্রধান শব্দঃ অস্টিয়া, কোয়ানোসাইট, স্পঞ্জোসিল, ক্যানাল সিস্টেম, স্পিকিউল, মেসোহিল অ্যাম্ফিব্লাস্টুলা, প্যারেনকাইমুলা]

নন-কর্ডাটা ।। নন-কর্ডাটার বৈশিষ্ট্য । Non Chordata । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে সব প্রাণিদের নটোকর্ড থাকে না তাদেরকে ননকর্ডাটা বলে। পৃথিবীতে ননকর্ডাটার সংখ্যা প্রায় ৯৫৯৭% ননকর্ডাটার বৈশিষ্ট্য হলো

১। নটোকর্ড অনুপস্থিত।

২। স্নায়ুরজ্জু (Nerve cord) গ্রন্থিযুক্ত, অঙ্কীয় নিরেট

৩। হিমোগ্লোবিন রক্তরসে থাকে।

৪। হেপাটিক পোর্টালতন্ত্র  থাকে না।

৫। ত্বক হতে চক্ষু সৃষ্টি হয়েছে।

৬। রক্ত সংবহনতন্ত্র পৃষ্ঠীয়।

৭। ফুলকারন্ধ্র এবং লেজ থাকে না।

৮। প্রকৃত লেজ এবং অন্তঃকঙ্কাল অনুপস্থিত।

৯। উপাঙ্গ থাকলে দুই জোড়ার বেশি থাকে।

১০। পায়ু পশ্চাৎ লেজে থাকে না।

১১। পৌষ্টিকনালির পৃষ্ঠদেশে হৃদযন্ত্র উপস্থিত বা অনুপস্থিত

প্রাণীজগতের শ্রেণীবিন্যাস ।। Classification of Animalia ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

সুইডিশ প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস প্রাণীজগতকে ৩টি দলে ভাগ করেছেন। Primates, Secundates এবং Tertiates| Tertiates কে ৫টি শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন। ভার্মিস, ইনসেক্টা, পিসেস, অ্যাম্ফিবিয়া এবং অ্যাভিস।

Hickman et al. (2017) রচিত ইন্টেগ্র্যাটেড প্রিন্সিপল অফ জুওলোজি (Integrated Principles of Zoology) পুস্তকের বর্ণনায় প্রাণীজগতকে দুইটি পর্বে ভাগ করা হয়েছে। প্রধান পর্ব এবং গৌণ পর্ব।

১। প্রধান পর্ব (Major phyla)ঃ যে সব পর্বের প্রজাতি সংখ্যা ৫০০০ এর বেশি তাকে প্রধান পর্ব বলে। প্রধান পর্ব মোট ৯টি। প্রধান পর্বগুলোর মধ্যে ৮টি নন-কর্ডাটা এবং ১টি কর্ডাটা। প্রধান পর্বগুলো হলো- Porifera, Cnidaria, Platyhelminthes, Nematoda, Mollusca, Annelida, Arthropoda, Echinodermata ও Chordata|

২। গৌণ পর্ব (Minor phyla)ঃ যে সব পর্বের প্রজাতি সংখ্যা ৫০০০ এর কম তাকে গৌণ পর্ব বলে। গৌণ পর্ব হলে- Placozoa, Ctenophora.

জীবের আধুনিক শ্রেণীবিন্যাস ।। Modern classification ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১৯৬৯ সালে জীববিজ্ঞানী Robert H. Whittaker ব্যাকটেরিয়া ও অন্যন্য অণুজীবকে অন্তর্ভুক্ত করে সমগ্র জীবজগতকে ৫টি জগত বা রাজ্যে বিভক্ত করে ‘পাঁচ জগৎ শ্রেণীবিন্যাস’ প্রস্তাব করেন। ১৯৭৪ সালে জীববিজ্ঞানী ড. লিন মারগিউলিস Symbiotic Planet গ্রন্থে পাঁচ জগৎ শ্রেণীবিন্যাস পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত করে আধুনিক শ্রেণীবিন্যাস প্রবর্তন করেন। তিনি উদ্ভিদ ও প্রাণীকে একত্রে জীবজগত বিবেচনা করেন। জীবজগতকে দুইটি সুপার কিংডম ও পাঁচটি জগতে বিভক্ত করেন। এ করণে, একে পাঁচ জগত শ্রেণীবিন্যাস বলা হয়। এগুলো হলো-

 

সুপার কিংডম- প্রোক্যারিওটা এবং  সুপার কিংডম- ইউক্যারিওটা

সুপার কিংডম- ১ প্রোক্যারিওটাঃ এদের সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না। এরা এককোষী ও আণুবীক্ষনিক। প্রোক্যারিওটা একটি মাত্র জগত মনেরা নিয়ে গঠিত।

 

১। জগত-১ঃ মনেরা (Monera)

(i) এরা এককোষী, ফিলামেন্টাস, কলোনিয়াল বা মাইসেলিয়্যাল।

(ii) কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস নাই।

(iii) ক্রোমাটিন বডিতে DNA আছে, কিন্তু প্রোটিন নাই।

(iv) কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ড্রোপ্লাজমিক জালিকা, লাইসোজোম প্রভৃতি থাকে না।

(v) কোষ প্রাচীর পলিস্যাকারাইড ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত।

(vi) কোষ বিভাজন ঘটে অ্যামাইটোসিস প্রক্রিয়ায়।

(vii) প্রধানত শোষণ পদ্ধতিতে খাদ্য গ্রহণ করে। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে এরা ফটোসিনথেটিক বা কেমোসিনথেটিক।

(viii) মনেরা ১৫টি পর্ব নিয়ে গঠিত।

উদাহরণঃ Nostoc linka, Anabaena, Spirulina, Esherichia coli, Bacillus albus.

 

সুপার কিংডম- ২ ইউক্যারিওটাঃ এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে। এরা এককোষী বা বহুকোষী। ইউক্যারিওটা ৪টি জগত নিয়ে গঠিত।

 

২। জগত-২ঃ প্রোটকটিস্টা (Protoctista)

(i) এরা এককোষী বা বহুকোষী এবং একক বা কলোনিয়াল।

(ii) এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস আছে।

(iii) ক্রোমাটিন বডিতে DNA, RNA ও প্রোটিন আছে।

(iv) কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ড্রোপ্লাজমিক জালিকা, লাইসোজোম প্রভৃতি থাকে।

(v) কোষ বিভাজন ঘটে মাইটোসিস ও মিয়োসিস  প্রক্রিয়ায়।

(vi) এরা অধিকাংশই জলজ।

(vii) এদের পুষ্টি ভক্ষণ বা শোষণ বা ফটোসিনথেটিক পদ্ধতিতে ঘটে।

(viii) এদের জীবনচক্রে বহুকোষী ভ্রুণ সৃষ্টি হয় না।

(ix) এরা সবুজ, স্বভোজী ও স্বাবলম্বী। অর্র্থাৎ ফটোসিনেথেটিক পিগমেন্ট থাকে।

(x) শৈবাল প্রধানত গ্যামিটোফাইটিক উদ্ভিদ।

(xi) এদের কোষ প্রাচীর সেলুলোজ ও পেকটিন নির্মিত।

(xii) এদের সঞ্চিত খাদ্য শর্করা।

(xiii) এদের জননাঙ্গ এককোষী এবং বন্ধ্যা আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে না (ব্যতিক্রম- Chara)।

(xiv) এদের পরিবহন কলা বা ভাস্কুলার থাকে না। অর্থাৎ এরা অভাস্কুলার।

(xv) যৌন জনন আইসোগ্যামাস, অ্যানাইসোগ্যামাস ও ঊগ্যামাস।

(xvi) এদের জীবন ধারণের জন্য সূর্যালোক অপরিহার্য।

(xvii) প্রোটকটিস্টা ৭টি পর্ব নিয়ে গঠিত।

উদাহরণঃ Spirogyra hyalina, Amoeba proteus, Ulothrix, Chlamydomonas.

 

৩। জগত-৩ঃ ফানজাই (Fungi)

(i) এরা বর্ণহীন, পরজীবী বা মৃতজীবী।

(ii) এরা এককোষী বা বহুকোষ এবং মাইসেলিয়াল।

(iii) এদের কোষ প্রাচীর কাইটিন নির্মিত।

(iv) পরিবহন কলা নাই এবং ভ্রুণ সৃষ্টি হয় না।

(v) এদের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন।

(vi) কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে।

(vii) এদের ক্রোমাটিন বডিতে DNA, RNA ও প্রোটিন থাকে।

(viii) এদের জননাঙ্গ এককোষী এবং বন্ধ্যা আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে না।

(ix) এদের পরিবহন কলা বা ভাস্কুলার বান্ডল থাকে না। অর্থাৎ এরা অভাস্কুলার।

(x) এদের কোষ বিভাজন অ্যামাইটোসিস, মাইটোসিস ও মিয়োসিস প্রকৃতির।

(xi) যৌন জনন আইসোগ্যামাস, অ্যানাইসোগ্যামাস ও ঊগ্যামাস ধরনের।

(xii) এদের জীবন ধারণের জন্য সূর্যালোক অপরিহার্য না।

(xiii) এদের সঞ্চিত খাদ্য গøাইকোজেন ও তেল বিন্দু।

(xiv) এদের কোষ প্রাচীর প্রধানত কাইটিন নির্মিত।

(xv) এরা হ্যাপ্লয়েড স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।

(xvi) এদের অভিযোজন ক্ষমতা তীব্র (৫-৫০ডিগ্রী সে)।

 

৪। জগত- ৪ঃ প্ল্যান্টি (Plantae)

(i) প্রধান উদ্ভিদ দেহ স্পোরোফাইট।

(ii) এরা এককোষী বা বহুকোষী এবং সুকেন্দ্রীক উদ্ভিদ।

(iii) টিস্যু বিন্যাস উন্নত এবং কোষ প্রাচীর সেলুলোজ নির্মিত।

(iv) সঞ্চিত খাদ্য শ্বেতসার।

(v) যৌনজনন অ্যানাইসোগ্যামাস ও ঊগ্যামাস প্রকৃতির।

(vi) এরা ভাস্কুলার। অর্থাৎ ভাস্কুলার বান্ডল থাকে।

(vii) এদের বীজ সৃষ্টি হয়।

(viii) এদের শুক্রাণু ফ্ল্যাজেলাযুক্ত অথবা ফ্ল্যাজেলাবিহীন।

(ix) জীবনচক্রে সুস্পষ্ট জনুঃক্রম থাকে।

উদাহরণঃ ধান, গম, আখ, ভূট্রা প্রভৃতি।

 

প্ল্যান্টি রাজ্যকে দুইটি গ্রেড-এ ভাগ করা হয়েছে। ব্রায়োফাইটা ও ট্রাকিওফাইটা

গ্রেড-১ঃ ব্রায়োফাইটা (Bryophyta)

(i) উদ্ভিদ গ্যামিটোফাইটিক।

(ii) এরা অভাস্কুলার উদ্ভিদ। অর্থাৎ পরিবহন টিস্যু নাই।

উদাহরণঃ Semibarbula orientalis

 

গ্রেড-২ঃ ট্রাকিওফাইটা (Tracheophyta)

(i) উদ্ভিদ স্পোরোফাইটিক।

(ii) এরা ভাস্কুলার উদ্ভিদ। অর্থাৎ পরিবহন টিস্যু আছে।

উদাহরণঃ Oryza sativa

৫। জগত-৫ঃ অ্যানিম্যালিয়া (Animalia)

(i) এরা বহুকোষী এবং সুকেন্দ্রীক প্রাণী।

(ii) এদের পুষ্টি হলোজোয়িক ধরনের।

(iii) ক্লোরোফিল না থাকায় এরা পরনির্ভরশীল।

(iv) কোষ প্রাচীর, প্লাস্টিড ও কোষ গহ্বর থাকে না।

(v) মাইটোসিস ও মিয়োসিসের মাধ্যমে কোষ বিভাজন ঘটে।

উদাহরণঃ Homo sapiens, Panthera tigris, Labeo rohita, Bombyx mori|