নিডারিয়া পর্বের বৈশিষ্ট্য ।। Cnidaria ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

গ্রীক শব্দ knide অর্থ কাঁটা এবং ল্যাটিন শব্দ area অর্থ সংযুক্ত নিয়ে Cnidaria শব্দটি গঠিত। নিডারিয়ানদের সমুদ্রের ফুল (flower of the sea) বলা হয়। নিডারিয়া পর্বের পূর্ব নাম সিলেনটেরাটা। এ পর্বের প্রাণী সামুদ্রিক বল্লা (Chironex fleckeri) হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত জেলিফিশ (ইহা ৬৭ জন মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে)। এ পর্বের প্রাণীরা সমুদ্রের তলদেশে ট্রপিক্যাল রেইন ফরেস্ট (Rain forest)-এর মতো কলোনী গঠন করে। এরা প্রবাল বা প্রবাল-প্রাচীর গঠন করে। এ পর্বের প্রজাতি সংখ্যা প্রায় ১০,২০৩টি। Cnidaria পর্বের নামকরণ করেন বিজ্ঞানী Leuckart (১৮৪৭)।

নিডারিয়া পর্বের বৈশিষ্ট্য
১। এরা ডিপ্লোব্লাস্টিক প্রাণী। অর্থাৎ এদের কোষে এক্টোডার্ম ও এন্ডোডার্ম নামক দুটি কোষস্তর থাকে।
২। এক্টোডার্ম ও এন্ডোডার্মের মাঝে মেসোগিøয়া নামক একটি অকোষীয় স্তর থাকে।
৩। এদের দেহাকৃতি ফিলামেন্টাস, নালিকা সদৃশ এবং ছাতাকৃতির।
৪। দেহে নিডোব্লাস্ট কোষ থাকে, যা নিমাটোসিস্ট বহন করে।
৫। গ্যাস্ট্রোভাস্কুলার বা সিলেন্টেরন নামক দেহ গহ্বর থাকে। সিলেনন্টেরনকে পরিপাক পরিবহন নালি বলা হয়। ইহা মুখছিদ্র ও পায়ু হিসেবে কাজ করে এবং পরিপাক ও পরিবহনে অংশ নেয়।
৬। কোষীয় ও আঙ্গিক শ্রমবন্টন দেখা যায়।
৭। জীবনচক্রে জনুঃক্রম, মেটাজেনেসিস ও বহুরুপতা দেখা যায় দেখা যায়।
৮। জীবনচক্রে নিশ্চল পলিপ দশা এবং সচল মেডুসা দশা বিদ্যমান।
৯। দেহে অঙ্গতন্ত্র, শ^সনতন্ত্র ও সংবহনতন্ত্র নাই। স্নায়ুতন্ত্র অনুন্নত ধরনের।
১০। এরা বহুকোষী, অরীয় প্রতিসম এবং মস্তকবিহীন।
১১। খাদ্য বস্তু বহিঃকোষীয় ও অন্তঃকোষীয় ভাবে পরিপাক হয়।
১২। সিলিয়াযুক্ত প্লানুলা লার্ভার মাধ্যমে পরিস্ফুরণ ঘটে।
১৩। বিশ প্রজাতির নিডারিয়া স্বাদু পানির। অবশিষ্ট নিডারিয়া সামুদ্রিক।
বৈশিষ্ট্য মনে রাখার প্রধান শব্দঃ ডিপ্লোব্লাস্টিক, মেসোগিøয়া, নিডোব্লাস্ট, সিলেন্টেরন, শ্রমবন্টন, মেটাজেনেসিস, বহুরুপতা, পলিপ, মেডুসা]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Dr. Abu Bakkar Siddiq