মাইটোসিস ।। সাইটোকাইনেসিস ।। Cytokinesis

যে প্রক্রিয়ায় কোষের সাইটোপ্লাজমের বিভাজন ঘটে তাকে সাইটোকাইনেসিস বলে। টেলোফেজ পর্যায়ের শেষের দিকে সাইটোকাইনেসিস ঘটে। উদ্ভিদকোষ এবং প্রাণীকোষে সাইটোকাইনেসিসে ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়।

১। উদ্ভিদকোষে সাইটোকাইনেসিসঃ টেলোফেজ পর্যায়ের শেষের দিকে কোষের স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চল ধীরে ধীরে প্রশস্ত হয়ে কোষ প্রাচীরকে স্পর্শ করে। এরপর স্পিন্ডল যন্ত্র গুলো অদৃশ্য হয়ে যায়। কোষের বিষুবীয় অঞ্চলে লাইসোসোমের মতো ফ্র্যাগমোজম জমা হয়। পরে ফ্র্যাগমোজম গুলো মিলিত হয়ে প্লাজমালেমা বা কোষঝিল্লি গঠন করে। প্লাজমালেমার উপরে বিভিন্ন ধরনের পদার্থ জমা হয়ে কোষ প্লেটে পরিনত হয়। কোষ প্লেটের উপর সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ, পেকটিন এবং অন্যান্য দ্রব্য জমা হয়ে কোষপ্রাচীর গঠন করে। কোষপ্রাচীর গঠিত হলে সাইটোপ্লাজম দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। ফলে দুইটি নতুন কোষ সৃষ্টি হয়।

২। প্রাণীকোষে সাইটোকাইনেসিসঃ টেলোফেজ পর্যায়ের শেষের দিকে বিষুবীয় তল বরাবর কোষঝিল্লি উভয়দিক থেকে ভিতরে প্রবেশ করে এবং একটি ক্লিভেজ খাঁজ সৃষ্টি করে। অ্যাকটিন প্রোটিন ও মায়োসিন প্রোটিন কোষঝিল্লির খাঁজ সৃষ্টিতে সাহায্য করে। কোষের সাইটোপ্লাজম পরিধি থেকে আড়াআড়ি মধ্যরেখা বরাবর সংকুচিত হতে শুরু করে। এই সঙ্কোচন ক্রমশ প্রসারিত হয়ে সাইটোপ্লাজম দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। ফলে দুইটি নতুন কোষ সৃষ্টি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Dr. Abu Bakkar Siddiq