১। গঠনগত শ্রেণীবিভাগ ঃ ১৯৮৪ সালে বিজ্ঞানী হার্সওয়ার্থ (Harsworth) এবং হিল (Hill) গঠনের উপর ভিত্তি করে লাইকেনকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেছেন। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
(i) লেপ্রোজ লাইকেন (Leprose lichen)ঃ ইহা সবচেয়ে সরলতম লাইকেন। ছত্রাকের একটি মাত্র হাইফি শৈবালকে আবৃত করে রাখে। ছত্রাকটি ধারকের রেণু বা পাউডারের মতো দেখায়। যেমন– Lapraria incana.
(ii) ক্রাস্টোজ লাইকেন (Crustose lichen)ঃ যে সব লাইকেন আবাসস্থলের সাথে নিবিড়ভাবে সন্নিবেশিত হয়ে পাতলা, চ্যাপ্টা ও শক্ত আবরণী গঠন করে তাকে ক্রাস্টোজ লাইকেন বলে। এদেরকে সমাঙ্গ লাইকেনও বলা হয়। যেমন– Graphis scripta, Lecanara muralis, Strigula angulul, Cryptothecia rubrocinta, Diploicia canescens, Calicium indicum, Pyrenula micheneri, Arthonia radiata, Trypethelium virens, Xylographa vitiligo প্রভৃতি। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
(iii) ফোলিয়োজ লাইকেন (Foliose lichen)ঃ বিষমপৃষ্ঠ, চ্যাপ্টা, চওড়া, কিনারা খন্ডিত ও বহুখাঁজ বিশিষ্ট পাতার ন্যায় বিস্তৃত লাইকেনকে ফোলিয়োজ লাইকেন বলে। এদেরকে পত্রবৎ লাইকেনও বলা হয়। এর নি¤œতল থেকে রাইজাইন উৎপন্ন হয়। যেমন– Xanthoria calcicola, Peltigera canina, Parmelia Cetraria, Parmotrema tincotorum, Collema tenax, Flavoparmelia caperata, Zanthoria peltigera, Physcia caesia প্রভৃতি। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
(iv) ফ্রুটিকোজ লাইকেন (Fruticose lichen)ঃ নলাকার, সুত্রাকার ও শাখা–প্রশাখাযুক্ত আকর্ষণীয় ও জটিল গঠন বিশিষ্ট ঝুলন্ত লাইকেনকে ফ্রুটিকোজ লাইকেন বলে। এদেরকে পুষ্পাকৃতির লাইকেনও বলা হয়। যেমন– Cladonia leporina, Usnea barbata, Alectonia sarmentosa, Letharia columbiana, Evernia prunastri প্রভৃতি। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
(v) সূত্রাকার লাইকেন (Filamentous lichen) ঃ যে লাইকেনের শৈবাল অংশটি সূত্রাকার তাকে সূত্রাকার লাইকেন বলে। যেমন– Ephebe lanata, Racoleus trichophorus প্রভৃতি। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
২। বাসস্থানগত শ্রেণীবিভাগ
(i) কর্টিকোলাস (Corticolous)ঃ ক্রান্তীয় অঞ্চলে গাছের বাকলে বা কান্ডে এই লাইকেন জন্মে। যেমন– Graphis scripta, Evernia prunastri, Parmelia sulcata, Usnea barbata প্রভৃতি। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
(ii) টেরিকোলাস (Terricolous)ঃ এরা আর্দ্র ও উঞ্চ অঞ্চলের মাটিতে জন্মে। যেমন– Collema tenax , Cladonia leporina, Lecidea atrobrunnea, Cora pavonia প্রভৃতি। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
(iii) সেক্সিকোলাস (Sexicolous)ঃ এরা শীতপ্রধান অঞ্চলে পাথর অথবা শিলাখন্ডের উপর জন্মে। যেমন– Xanthoria calcicola, Aspicilia contorta, Dermatocarpon miniatum প্রভৃতি। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
(iv) লিগনিকোলাস (Lignicolous)ঃ এরা ভেজা কাঠের উপর জন্মে। যেমন– Calicium lenticulare, Chaenotheca trichialis, Cyphelium notarisii, Piptoporus betulinus প্রভৃতি। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
(v) ফোলিকোলাস (Foliicolous)ঃ এরা ফার্ন বা সপুস্পক উদ্ভিদের পাতার উপর জন্মে। যেমন– Porina epiphylla, Strigula angulul প্রভৃতি। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
(vi) ওমনিকোলাস (Omnicolous)ঃ এরা চামড়া, কাঠ, লৌহ প্রভৃতির উপর জন্মে। যেমন– Lecanora dispersa। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৩। লাইকেন গঠনকারী ছত্রাক ভিত্তিক শ্রেণীবিভাগ
(i) অ্যাসকোলাইকেন (Ascolichen)ঃ লাইকেন গঠনকারী ছত্রাকটি অ্যাসকোমাইসিটিস শ্রেণীর হলে তাকে অ্যাসকোলাইকেন বলে। যেমন– Rhizocarpon macrosporum।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
(ii) ব্যাসিডিওলাইকেন (Basidiolichen)ঃ লাইকেন গঠনকারী ছত্রাকটি ব্যাসিডিওমাইসিটিস শ্রেণীর হলে তাকে ব্যাসিডিওলাইকেন বলে। যেমন– Clavaria mucida। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
(iii) ডিউটারোলাইকেন (Deuterolichen)ঃ লাইকেন গঠনকারী ছত্রাকটি ডিউটারোমাইসিটিস শ্রেণীর হলে তাকে ডিউটারোলাইকেন বলে। যেমন– Racodium rupestre, Leparia incana প্রভৃতি। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৪। অন্তর্গঠনগত শ্রেণীবিভাগ
(i) হোমিওমেরাস (Homoiomerous)ঃ যে সব লাইকেনে শৈবাল ও ছত্রাক সমভাবে থাকে তাকে হোমিওলাইকেন বলে। যেমন– Collema tenax. ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
(ii) হেটারোমেরাস (Heteromerous)ঃ যে সব লাইকেনে শৈবাল ও ছত্রাক অসমভাবে থাকে তাকে হেটারোমেরাস লাইকেন বলে। যেমন– Parmelia sulcata. ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স