হাইড্রার পরিস্ফুটন প্রক্রিয়া ।। Development of Hydra ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

পরিস্ফুটন (Development)ঃ জাইগোট বার বার বিভাজিত হয়ে পুর্ণাঙ্গ প্রাণীতে পরিনত হওয়াকে পরিস্ফুটন বলে। হাইড্রার জাইগোটের বিভাজন হলোব্লাস্টিক বা সম্পুর্ণ ধরনের। এর পরিস্ফুটনের ধাপ গুলো নিম্নরুপ।

১। মরুলা দশা (Morula)ঃ জাইগোট ক্লিভেজের মাধ্যমে বার বার বিভাজিত হয়ে বহুকোষী, নিরেট ও গোলাকার কোষপিন্ডে পরিনত হয়। একে মরুলা দশা বলে। মরুলা দশায় দুই ধরনের কোষ সৃষ্টি হয়। মাইক্রোমিয়ার ও ম্যাক্রোমিয়ার।

২। ব্লাস্টুলা দশা (Blastula)ঃ ব্লাস্টুলেশন প্রক্রিয়ায় মরুলা দশার কোষ গুলো একটি নির্দিষ্ট স্তরে সজ্জিত  হয়ে ফাঁপা গোলাকার গঠন সৃষ্টি করে।  একে ব্লাস্টুলা দশা বলে। ব্লাস্টুলার কেন্দ্রে যে গহ্বর থাকে তাকে ব্লাস্টোসিল বলে। ব্লাস্টুলার প্রাচীরকে ব্লাস্টোডার্ম (Blastoderm) এবং কোষ গুলোকে ব্লাস্টোমিয়ার বলে।

৩। গ্যাস্ট্রুলা দশা (Gastrula)ঃ গ্যাস্টুলেশন প্রক্রিয়ায় ব্লাস্টোমিয়ার কোষ গুলো দুই স্তরবিশিষ্ট নিরেট ও গোলাকার গঠন সৃষ্টি করে। একে গ্যাস্ট্রুলা দশা বলে। হাইড্রার গ্যাস্ট্রুলা মাতৃদেহের সাথে যুক্ত থাকে বলে একে স্টেরিওগ্যাস্টুলা বলা হয়। গ্যাস্ট্রুলার বাইরের স্তরকে এক্টোডার্ম এবং ভিতরের স্তরকে এন্ডোডার্ম বলে। এক্টোডার্ম ও এন্ডোডার্মের মাঝে জেলির মতো অকোষীয় মেসোগিøয়া থাকে। গ্যাস্ট্রুলার গহ্বরকে আদি সিলেন্টেরন বলে।

৪। সিস্ট (Cyst)ঃ গ্যাস্টুলার চারিদিকে কাইটিন নির্মিত কন্টকময় আবরণী থাকে। একে সিস্ট বলে।

৫। হাইড্রিলা (Hydrilla)ঃ বসন্তকালে অনুকুল তাপমাত্রায় সিস্টের ভিতরে ভ্রুণ লম্বা হয়। ভ্রিুণে মুখছিদ্র, হাইপোস্টোম, কর্ষিকা ও পদচাকতি গঠিত হয়। ভ্রুণের এই দশাকে হাইড্রুলা বলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Dr. Abu Bakkar Siddiq