যে প্রক্রিয়ায় ফুসফুসে অক্সিজেন সমৃদ্ধ বায়ু প্রবেশ করে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড সমৃদ্ধ বায়ু ফুসফুস থেকে বের হয়ে যায় তাকে শ্বাসক্রিয়া বা Breathing বলে। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতি মিনিটে ১৬-১৮ বার প্রশ্বাস-নিঃশ্বাস ঘটে। শ্বাসক্রিয়া দুইটি ধাপে সম্পন্ন হয়। এগুলো হলো-
১। প্রশ্বাস বা শ্বাস গ্রহণ (Inspiration)ঃ যে প্রক্রিয়ায় ফুসফুসে অক্সিজেন সমৃদ্ধ বায়ু প্রবেশ করে তাকে প্রশ্বাস বা শ্বাস গ্রহণ বলে। এ সময় ডায়াফ্রম এবং ইন্টারকোস্টাল পেশি সংকুচিত হয়। পর্শুকা গুলো উপরের দিকে উঠে যায় এবং ডায়াফ্রম নিচের দিকে নেমে যায়। ফলে বক্ষগহŸরের আয়তন বেড়ে যায়। ফুসফুস প্রসারিত হয়। ফুসফুসের ভিতর বায়ুচাপ কম থাকে। কিন্তু বাইরের পরিবেশে বায়ুচাপ স্বাভাবিক থাকে। ফলে বাইরের পরিবেশ থেকে অক্সিজেন সমৃদ্ধ বায়ু ফুসফুসে প্রবেশ করে।
২। নিঃশ্বাস বা শ্বাস ত্যাগ (Expiration)ঃ যে প্রক্রিয়ায় ফুসফুস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড সমৃদ্ধ বায়ু নির্গত হয় তাকে নিঃশ্বাস বা শ্বাস ত্যাগ বলে। এ সময় ডায়াফ্রম এবং ইন্টারকোস্টাল পেশি প্রসারিত হয়। পর্শুকা গুলো নিচের দিকে নেমে যায় এবং ডায়াফ্রম উপরের দিকে উঠে আসে। ফলে বক্ষগহ্বরের আয়তন কমে যায়। ফুসফুস সংকুচিত হয়। ফুসফুসের ভিতর বায়ুচাপ বেড়ে যায় (৩-৪ মিমি পারদচাপ অধিক)। ফুসফুসের বায়ুচাপ কিন্তু বাইরের পরিবেশে বায়ুচাপ স্বাভাবিক থাকে। ফলে ফুসফুস হতে কার্বন ডাই অক্সাইড সমৃদ্ধ বায়ু বাইরে নির্গত হয়।