১। ম্যালেরিয়া জ্বরঃ মানুষের লোহিত রক্তকণিকায় এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি চক্রে হিমোজয়েন নামক বিষাক্ত পদার্থ নিঃসৃত হয়। হিমোজয়েন-এর কারণে মানুষের শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং কাঁপুনীসহ জ্বর আসে। একে ম্যালেরিয়া জ্বর বলে। ইহা একটি মারাত্বক রোগ। এতে রোগীর মৃত্যু ঘটতে পারে।
২। যকৃত কোষ ধ্বংস সাধনঃ ম্যালেরিয়া পরজীবীর স্পোরোজয়েট মশকীর লালার মাধ্যমে মানুষের যকৃত কোষে প্রবেশ করে। যকৃত কোষে প্রবেশের পর স্পোরোজয়েট গুলো খাদ্য গ্রহণ করে আকারে বড় হয় এবং ক্রিপ্টোজয়েটে পরিনত হয়। ক্রিপ্টোজয়েটের নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে অসংখ্য নিউক্লিয়াসে পরিনত হয়। একে সাইজন্ট বলে। সাইজন্টের প্রতিটি নিউক্লিয়াসের চারিদিকে সাইটোপ্লাজম জমা হয়ে ক্রিপ্টোমেরোজয়েটে পরিনত হয়। ক্রিপ্টোমেরোজয়েট গুলো যকৃত কোষের প্রাচীর ভেঙ্গে যকৃত কোষকে ধ্বংস সাধনের মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে আসে।
সৃষ্ট প্রতিটি ক্রিপ্টোমেরোজয়েট আবার নতুন যকৃত কোষকে আক্রমণ করে এবং খাদ্য গ্রহণ করে আকারে বড় হয়। উহার নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে অসংখ্য নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে। একে সাইজন্ট বলে। সাইজন্টের প্রতিটি নিউক্লিয়াসের চারিদিকে সাইটোপ¬াজম জমা হয়ে মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েটে পরিনত হয়। মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট গুলো পরিনত হলে যকৃত কোষের প্রাচীর ভেঙ্গে যকৃত কোষকে ধ্বংস সাধনের মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে আসে। এভাবে একের পর এক যকৃত ধ্বংস প্রাপ্ত হয়।
৩। লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস সাধনঃ ম্যালেরিয়া পরজীবীর মেরোজয়েট রক্তরসের মাধ্যমে মানুষের লোহিত রক্তকণিকায় প্রবেশ করে। লোহিত রক্তকণিকায় প্রবেশের পর মেরোজয়েট গুলো খাদ্য গ্রহণ করে আকারে বড় হয় এবং ট্রফোজয়েটে পরিনত হয়। ট্রফোজয়েট থেকে সিগনেট রিং সৃষ্টি হয়। সিগনেট রিং এর আকৃতি পরিবর্তন হয় এবং অ্যামিবার ন্যায় অনির্দিষ্ট আকৃতি ধারণ করে। একে অ্যামিবয়েড ট্রফোজয়েট বলে। এরপর অ্যামিবয়েড ট্রফোজয়েট আকৃতি পরিবর্তন করে গোলাকার ধারণ করে। উহার নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে অসংখ্য নিউক্লিয়াসে পরিনত হয়। এ অবস্থাকে সাইজন্ট বলে। সাইজন্টের প্রতিটি নিউক্লিয়াসের চারিদিকে সাইটোপ্লাজম জমা হয়ে মেরোজয়েটে পরিনত হয়। মেরোজয়েট গুলো লোহিত রক্তকণিকার প্রাচীর ভেঙ্গে লোহিত রক্তকণিকাকে ধ্বংস সাধনের মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে আসে। সৃষ্ট প্রতিটি মেরোজয়েট পুনরায় লোহিত রক্তকণিকাকে আক্রমণ করে ধ্বংস করে। এভাবে লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস হতে থাকে।
ম্যালেরিয়া পরজীবী দ্বারা যকৃত কোষ ও লোহিত রক্তকণিকা একের পর এক ধ্বংস হতে থাকলে পোষকের রক্ত শুন্যতা দেখা দেয় এবং সবশেষে পোষক মারা যেতে পারে।