পরাগরেণু ।। পরাগরেণু সৃষ্টির প্রক্রিয়া ।। Microsporogenesis

যে প্রক্রিয়ায় পরাগরেণু সৃষ্টি হয় তাকে মাইক্রোস্পোরোজেনেসিস বলে। ফুলের পুংকেশরের মাথার স্ফীত অংশকে পরাগধানী বলে। পরাগধানীর ভিতরে এক বা একাধিক আর্কিস্পোরিয়াল কোষ থাকে। প্রতিটি আর্কিস্পোরিয়াল কোষ আকারে বড়, সাইটোপ্লাজম ঘন এবং নিউক্লিয়াস বড়। ইহা পেরিক্লিনালি বিভাজনের মাধ্যমে দুইটি কোষ সৃষ্টি করে। বাইরের দিকে দেয়াল কোষ এবং ভিতরের দিকে প্রাথমিক জনন কোষ বা স্পোরোজেনাস কোষ। দেয়াল কোষ বিভাজিত হয়ে পরাগরেণুর প্রাচীর গঠন করে। প্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তরকে ট্যাপেটাম বলে। স্পোরোজেনাস কোষ সরাসরি অথবা বিভাজনের মাধ্যমে পরাগরেণু মাতৃকোষে পরিনত হয়। প্রতিটি পরাগরেণু মাতৃকোষ মায়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে চারটি করে মাইক্রোস্পোর বা পরাগরেণু সৃষ্টি করে। চারটি পরাগরেণুকে একসাথে টেট্রাড বা রেণুচতুষ্টয় বলে। অধিকাংশ পরাগরেণু হলুদ বর্ণের হয়। পরাগরেণু ট্যাপেটাম থেকে পুষ্টি লাভ করে। Orchidaceae, Asclepiadaceae প্রভৃতি গোত্রের উদ্ভিদের পরাগরেণু একসাথে থাকে। পরাগরেণু পরিনত অবস্থায় এক সাথে লেগে থেকে একটি বিশেষ গঠন সৃষ্টি করে। একে পলিনিয়াম বলে।
[যে পরাগধানীতে চারটি পুংরেণুস্থলী থাকে তাকে ডাইথিকাস পরাগধানী এবং এই অবস্থাকে টেট্রাস্পোরাঞ্জিয়েট বলে। যে পরাগধানীতে দুইটি পুংরেণুস্থলী থাকে তাকে মনোথিকাস পরাগধানী এবং এই অবস্থাকে বাইস্পোরাঞ্জিয়েট বলে ]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Dr. Abu Bakkar Siddiq