ফুলের পাপড়ির রং নানা রকম হওয়ার কারণ
ফুলের পাপড়ির বৈচিত্র্যপূর্ণ রং অ্যান্থোসায়ানিন ও বিটাসায়ানিন জাতীয় রঞ্জকের উপর নির্ভরশীল। কতকগুলি জটিল যৌগের সমষ্টি হলো অ্যান্থোসায়ানিন। ইহা গ্লাইকোসাইড হিসেবে কোষরসে মিশে থাকে। কোষরসের pH এর তারতম্য ঘটলে ফুলের রং এর তারতম্য ঘটে। কোষরসের pH এসিড প্রকৃতির হলে ফুলের রং লাল হয়, pH ক্ষারীয় প্রকৃতির হলে ফুলের রং নীল হয় এবং pH নিরপেক্ষ প্রকৃতির হলে ফুলের রং বেগুনী বা কালচে নীল হয়।
Author: Dr. Abu Bakkar Siddiq
প্লাস্টিড কী ? প্লাস্টিডের প্রকরেভেদ ও উৎপত্তি
প্লাস্টিড (Plastid)
উদ্ভিদ কোষের সাইটোপ্লজমে অবস্থিত ডিম্বাকার, থালাকৃতির, ফিতাকৃতির বা তারকাকার সজীব বস্তু গুলোকে প্লাস্টিড বলে। ইহা সাইটোপ্লাজমের সর্ববৃহৎ ক্ষুদ্রাঙ্গ। ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ায় প্লাস্টিড থাকে না, তবে ক্রোম্যাটোফোর থাকে। নীলাভ সবুজ শৈবাল বা সায়ানেব্যাকটেরিয়ার (BGA) থাইলাকয়েডে ক্লোরোফিল থাকে। প্রাণীকোষে প্লাস্টিড থাকে না। ১৮৮৩ সালে শিম্পার সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষে সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড লক্ষ্য করেন এবং ক্লোরোপ্লাস্ট নামকরণ করেন।
প্লাস্টিডের প্রকারভেদ
রঞ্জক পদার্থের উপর ভিত্তি করে প্লাস্টিডকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ গুলো হলো-
১। লিউকোপ্লাস্ট (Leucoplast)ঃ গ্রীক শব্দ Leuco অর্থ বর্ণহীন। বর্ণহীন প্লাস্টিডকে লিউকোপ্লাস্ট বলে। আলোর উপস্থিতিতে ইহা ক্রোমোপ্লাস্ট বা ক্লোরোপ্লাস্টে রুপান্তরিত হতে পারে। লিউকোপ্লাস্ট উদ্ভিদের মূল, ভূ-নি¤œাস্থ কান্ড, বীজ, ভাজক টিস্যু, গ্যামিট প্রভৃতিতে থাকে।
লিউকোপ্লাস্ট তিন ধরনের
(i) অ্যামাইলোপ্লাস্ট (Amyloplast)ঃ যে সব লিউকোপ্লাস্ট স্টার্চ বা শ্বেতসার জাতীয় খাদ্য সঞ্চয় করে তাকে অ্যামাইলোপ্লাস্ট বলে।
(ii) ইলায়োপ্লাস্ট (Elioplast)ঃ যে সব লিউকোপ্লাস্ট চর্বি জাতীয় খাদ্য সঞ্চয় করে তাকে ইলায়োপ্লাস্ট বলে।
(iii) অ্যালিউরোপ্লাস্ট (Aleuroplast)ঃ যে সব লিউকোপ্লাস্ট প্রোটিন জাতীয় খাদ্য সঞ্চয় করে তাকে অ্যালিউরোপ্লাস্ট বা প্রোটিনোপ্লাস্ট বলে।
২। ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast)ঃ গ্রীক শব্দ Chloros অর্থ সবুজ। সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে।
৩। ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast) ঃ গ্রীক শব্দ Chroma অর্থ রঙিন। সবুজ বর্ণ ব্যতিত অন্যান্য বর্ণের প্লাস্টিডকে ক্রোমোপ্লাস্ট বলে। ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের কারণে ইহা রঙ্গিন হয়। সম্ভবত ক্লোরোপ্লাস্ট হতে ক্রোমোপ্লাস্ট সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ধরণের ক্রোমোপ্লাস্ট হলো কমলা-লাল বর্ণের ক্যারোটিন, হলুদ বর্ণের জ্যান্থোফিল, বাদামী বর্ণের ফিওপ্লাস্ট এবং লাল বর্ণের রডোপ্লাস্ট। ফুলের পাপড়ি, রঙ্গিন ফল ও বীজ, গাজরের মূলে ক্রোমোপ্লাস্ট থাকে। ফুল ও পাতার বর্ণে কীট-পতঙ্গ আকৃষ্ট হয় এবং পরাগায়নে সাহায্য করে।
প্লাস্টিডের উৎপত্তি
কোষে ব্যবহৃত হয় এমন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক যৌগ হতে প্লাস্টিড সৃষ্টি হয়েছে। আদিকোষ এবং প্লাস্টিডের মধ্যে উৎপত্তিগত বিবর্তনিক মিল রয়েছে। এদের উভয়ের দ্বি-সূত্রক বৃত্তাকার DNA আছে। ধারণা করা হয়, কিছু অন্তঃমিথোজীবী সায়ানোব্যাকটেরিয়া থেকে প্লাস্টিডের ঊৎপত্তি হয়েছে। প্রায় ১.৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে এধরণের মিথোজীবীতা বিকশিত হয় এবং প্রকৃতকোষকে সালোকসংশ্লেষণক্ষম করে তোলে।
মাইটোকন্ড্রিয়ার গুরুত্ব / প্রয়োজনীয়তা
মাইটোকন্ড্রিয়ার গুরুত্ব / প্রয়োজনীয়তা
১। শ্বসন প্রক্রিয়াঃ শ্বসনের ক্রেব্স চক্র ও ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম মাইটোকন্ড্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। একে সাইটোপ্লাজমিক শ্বসন বলে।
২। শক্তি উৎপাদনঃ মাইটোকন্ড্রিয়ায় ATP তৈরী হয়। ATP হলো শক্তির উৎস।
৩। প্রোটিন তৈরীঃ মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের জন্য প্রোটিন তৈরী করে।
৪। নিউক্লিক এসিড তৈরীঃ ইহা DNA ও RNA জঘঅ তৈরী করে।
৫। রক্তকণিকা ও হরমোন উৎপাদনঃ ইহা রক্তকণিকা ও হরমোন উৎপাদনে সহায়তা করে।
৬। এনজাইম ধারণঃ ইহা শ্বসনের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম ও কো এনজাইম ধারণ করে।
৭। আয়নের ভারসাম্যঃ এরা কোষের বিভিন্ন অংশে ক্যালসিয়াম আয়নের সঠিক ঘনত্ব রক্ষা করে।
৮। বিপাকঃ ইহা নিউরোট্রান্সমিটার ও কোলেস্টেরল বা চর্বি বিপাক করে।
৯। অ্যাপোপটোসিস নিয়ন্ত্রণঃ মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের পূর্বনির্ধারিত মৃত্যু (apoptosis) নিয়ন্ত্রণ করে।
১০। বংশগতিঃ মাইটোকন্ড্রিয়া শুক্রাণু ও ডিম্বাণু গঠনে সাহায্য করে।
১১। শক্তি নিয়ন্ত্রণঃ ইহা কোষে শক্তি সঞ্চয় ও নির্গমণ নিয়ন্ত্রণ করে। ADP কে ATP তে রুপান্তরের মাধ্যমে উচ্চশক্তি বন্ধনী সৃষ্টি করে নিজের দেহে সঞ্চয় করে।
১২। ক্যাটায়ন সঞ্চিতঃ মাইটোকন্ড্রিয়ায় Ca2+, S2+, Fe2+, Mn2+ ইত্যাদি সঞ্চিত থাকে।
মাইটোকন্ড্রিয়ার ভৌত ও রাসায়নিক গঠন
মাইটোকন্ড্রিয়ার গঠন (Structure of Mitochondria)
১। আবরণীঃ প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়া দ্বিস্তর বিশিষ্ট একটি আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। বহিঃআবরণী এবং অন্তঃআবরণী। বাইরের আবরণীকে বহিঃআবরণী এবং ভিতরের আবরণীকে অন্তঃআবরণী বলে। বহিঃআবরণী মসৃণ এবং অন্তঃআবরণী অমসৃন। অন্তঃআবরণী ভিতরের দিকে ভাঁজ হয়ে ক্রিস্টি গঠন করে। প্রতিটি আবরণী ৪০-৬০Å পুরু। আবরণী দু’টির মাঝখানে ব্যবধান ৬-৮ nm। ইহা লিপোপ্রোটিন দ্বারা গঠিত। ইহা মাইটোকন্ড্রিয়াকে নির্দিষ্ট আকৃতি দান করে এবং বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
২। প্রকোষ্ঠঃ মাইটোকন্ড্রিয়ায় দুই ধরনের প্রকোষ্ঠ থাকে। বহিঃপ্রকোষ্ঠ ও অন্তঃপ্রকোষ্ঠ। বহি ও অন্তঃ আবরণীর মাঝের প্রকোষ্ঠকে বহিঃপ্রকোষ্ঠ এবং অন্তঃআবরণীর মাঝের প্রকোষ্ঠকে অন্তঃপ্রকোষ্ঠ (৭০Å প্রশস্ত) বলে। ইহা বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা পুর্ণ থাকে।
৩। ম্যাটিক্সঃ প্রকোষ্ঠের ভিতরে অবস্থিত জেলির ন্যায় পদার্থকে ম্যাটিক্স বলে।
৪। ক্রিস্টিলঃ মাইটোকন্ড্রিয়ার অন্তঃআবরণী ভিতরের দিকে ভাঁজ হয়ে আঙ্গুলের ন্যায় কতক গুলো প্রবর্ধক সৃষ্টি করে। একে ক্রিস্টি বলে। প্রতিটি ক্রিস্টির মাঝখানে যে ফাঁকা স্থান থাকে তাকে আন্তঃক্রিস্টি ফাঁকা স্থান বলে।
৫। অক্সিসোম বা F1 কণিকাঃ মাইটোকন্ড্রিয়ার অন্তঃআবরণীর গায়ে গোলাকার বা ডিম্বাকার অসংখ্য সুক্ষ্ম দানা থাকে। এদেরকে অক্সিসোম বা F1 কণিকা বলে। ইহা মস্তক, বোটা ও ভিত্তি নিয়ে গঠিত।
৬। ETS ঃ Electron Transport System কে সংক্ষেপে ETS বলে। একে ETC (Electron Transport Chain) বলা হয়। ক্রিস্টির গায়ে ETS থাকে। ইহা এক স্থান হতে অন্য স্থানে ইলেকট্রন স্থানান্তরিত করে।
৭। ATP-Synthasesঃ ক্রিস্টির গায়ে গোলাকার বস্তু থাকে। একে ATP-Synthases বলে। ইহা ATP উৎপন্ন করে।
৮। mDNAঃ প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়ায় বৃত্তাকার দ্বিসূত্রক DNA থাকে। এই DNA গুলো স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে অধিকারী। একে মাইটোকন্ড্রিয়াল DNA বলে।
৯। রাইবোজোমঃ মাইটোকন্ড্রিয়ায় ৭০ S রাইবোজোম থাকে। ইহা কোষের জন্য এনজাইম সংশ্লেষণ করে।
রাসায়নিক গঠন (Chemical Structure)
১। প্রোটিনঃ মাইটোকন্ড্রিয়ার শুষ্ক ওজনের প্রায় ৬৫% হলো প্রোটিন। এর মধ্যে দ্রবনীয় ও অদ্রবনীয় উভয় ধরনের প্রোটিন রয়েছে।
২। লিপিডঃ মাইটোকন্ড্রিয়ায় প্রায় ৩৫% লিপিড থাকে। এর মধ্যে ৯০% ফসফোলিপিড এবং ১০% ফ্যাটি এসিড ও ক্যারোটিনয়েড। ইহাতে গ্লিসারাইড ২৯%, লেসিথিন ও সেফালিন ৪% এবং কোলেস্টেরল ২%। এর অন্তঃঝিল্লিতে কার্ডিওলিপিন নামক ফসফোলিপিড থাকে।
৩। রঞ্জক পদার্থঃ ইহাতে সামান্য পরিমানে ক্যারোটিনয়েড থাকে।
৪। নিউক্লিক এসিডঃ ইহাতে নিউক্লিক এসিড হিসেবে DNA ও RNA থাকে। প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়ায় প্রায় ২০০টি DNA থাকে
৫। এনজাইমঃ ইহাতে প্রায় ১০০ প্রকার এনজাইম ও কো-এনজাইম থাকে।
মাইটোকন্ড্রিয়া কাকে বলে
মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondria)
গ্রীক mitos শব্দ অর্থ সুতা এবং chondrion অর্থ দানা নিয়ে Mitochondria শব্দটি গঠিত। Mitochondria এর অর্থ সুতাকৃতির দানা। সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত শক্তি উৎপাদনকারী অঙ্গাণুকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলে। ইহা কোষের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে বলে একে Power House কোষের শক্তির ঘর বলা হয়।
আবিষ্কার ও নামকরণঃ ১৮৫০ সালে কলিকার (A.V. Kolliker) অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে মাইটোকন্ড্রিয়া আবিষ্কার করেন। ১৮৮২ সালে ফ্লেমিং (W. Fleming) এর নামকরণ করেন ফিলা (Fila) ১৮৯০ সালে আল্টম্যান (Altma) এর নামকরণ করেন বায়োপ্লাস্ট। ১৮৯৭ সালে কার্ল বেন্ডা (Carl Benda) এর নামকরণ করেন মাইটোকন্ড্রিয়া।
আকৃতিঃ আকৃতিতে ইহা বৃত্তাকার, দন্ডাকার, সূত্রাকার, তারকাকার বা কুন্ডলী আকার।
আয়তনঃ কোষের আয়তনের ২০% হলো মাইটোকন্ড্রিয়া। সাধারণত মাইটোকন্ড্রিয়ার দৈর্ঘ্য ৩-১০ মাইক্রন ্এবং প্রস্থ ০.২-১.০ মাইক্রন হয়ে থাকে। দন্ডাকার মাইটোকন্ড্রিয়ার দৈর্ঘ্য ৯ মাইক্রন এবং প্রস্থ ০.৫ মাইক্রন। সূত্রাকার মাইটোকন্ড্রিয়ার দৈর্ঘ্য ৪০-৭০ মাইক্রন। বৃত্তাকার মাইটোকন্ড্রিয়ার ব্যাস ০.২-২.০ মাইক্রন।
সংখ্যাঃ প্রতি কোষে গড়ে ৩০০-৪০০টি মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে। যকৃত ও বৃক্ক কোষে ১০০০ বা ততোধিক মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে। Amoeba-তে আরও বেশি থাকে। স্তন্যপায়ীর লোহিত রক্তকণিকায় মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে না।
উৎপত্তিঃ কোষ বিভাজনের সময় মাইটোকন্ড্রিয়া বিভাজিত হয়ে নতুন মাইটোকন্ড্রিয়া সৃষ্টি করে।
সাইটোপ্লাজমের গুরুত্ব/বিপাকীয় ভূমিকা
সাইটোপ্লাজমের জৈব উপাদান
১। প্রোটিনরঃ সাইটোপ্লাজমে প্রোটিনের পরিমাণ ৭-১০%। এতে তিন ধরণের প্রোটিন থাকে।
(i) সরল প্রোটিনের মধ্যে অ্যালবিউলিন, গ্লোবিউলিন, হিস্টোন ও প্রোটামিন উল্লেখযোগ্য।
(ii) কনজুগেটেড প্রোটিন গুলো হলো গ্লাইকোপ্রোটিন, নিউক্লিওপ্রোটিন, লিপোপ্রোটিন, ক্রোমোপ্রোটিন ইত্যাদি প্রধান।
(iii) উৎপাদিত প্রোটিন হলো প্রোটিওজ, পেপটোন, লাইপেজ প্রভৃতি প্রধান।
২। লিপিডঃ সাইটোপ্লাজমে লিপিডের পরিমাণ ১-৩%। সাইটোপ্লাজমের প্রধান লিপিড হলো গ্লিসারাইডস্, গ্লাইকোলিপিড, ফসফোলিপিড, লিপোপ্রোটিন, কোলেস্টেরল ইত্যাদি।
৩। কার্বোহাইড্রেটঃ সাইটোপ্লাজমে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ ১-১.৫%। তিন ধরণের কার্বোহাইড্রেট থাকে।
(i) সাইটোপ্লাজমের প্রধান মনোস্যাকারাইড হলো গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, গ্যালাক্টোজ ইত্যাদি প্রধান।
(ii) ডাইস্যাকারাইড হলো সুক্রোজ, ম্যালটোজ ও ল্যাকটোজ।
(iii) পলিস্যাকারাইড হলো স্টার্চ ও গ্লাইকোজেন প্রধান।
৪। এনজাইমঃ সাইটোপ্লাজমে এনজাইম ও কো-এনজাইম থাকে।
৫। নিউক্লিক এসিডঃ সাইটোপ্লাজমে নিউক্লিক এসিড থাকে।
সাইটোপ্লাজমের গুরুত্ব/বিপাকীয় ভূমিকা
১। সাইটোপ্লাজম কোষের মূল উপাদান। এর ভিতরে সকল অঙ্গাণু এবং নিউক্লিয়াস থাকে।
২। ইহা দেহের জৈবিক কাজ করে।
৩। ইহা দেহের বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটায়।
৪। ইহা উত্তেজনায় সাড়া দেয়।
৫। সাইক্লোসিসের মাধ্যমে অঙ্গাণুর নড়াচড়ায় সাহায্য করে।
৬। ইহা এনজাইম ধারণ করে।
৭। ইহা শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।
৮। দেহে আয়নিক ভারসাম্য রক্ষা করে।
৯। ইহা কোষের অম্লত্ব ও ক্ষারত্ব নিয়ন্ত্রণ করে।
১০। অভি¯্রবণিক চাপ ও তরলের ঘনমাত্রা বজায় রাখে।
১১। হৃৎস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে।
১২। ইহা জীবের বংশবিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১৩। রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়।
১৪। ইহা বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনে সাহায্য করে।
সাইটোপ্লাজমের ভৌত ও রাসানিক গঠন
সাইটোপ্লাজম (Cytoplasm)
নিউক্লিয়াসের বাইরে অবস্থিত কোষ ঝিল্লি দ্বারা পরিবেষ্টিত প্রোটোপ্লাজামীয় অংশকে সাইটোপ্লাজম বলে। একে বর্তমানে সাইটোসল বলা হয়। সাইটোসলের বাইরের দিকের বেশি ঘন ও কম দানাদার অঞ্চলকে এক্টোপ্লাজম এবং ভিতরের দিকের কম ঘন অঞ্চলকে এন্ডোপ্লাজম বলে। সাইটোপ্লাজমের অর্ধস্বচ্ছ, দানাদার, সমধর্মী ও কলয়েডধর্মী তরল পদার্থকে সাইটোম্যাটিক্স বা হায়ালোপ্লাজম বলে। সাইটোপ্লাজমে যে সব অঙ্গাণু থাকে তাদেরকে সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু বলে। ১৯৬৫ সালে আমেরিকান প্রাণরসায়নবিদ H. A. Lardy সাইটোসল শব্দটি ব্যবহার করেন।
সাইটোপ্লাজমের ভৌত গঠন
১। সাইটোপ্লাজম হলো সজীব, সামান্য স্বচ্ছ, বর্ণহীন, কোলয়েডধর্মী, সান্দ্র ও স্থিতিস্থপক।
২। এতে বিভিন্ন অঙ্গাণু ও বস্তু সুষম ভাবে ছড়ানো থাকে।
৩। ইহা চটচটে আঠালো বলে প্রবাহ প্রতিরোধী শক্তি আছে।
সাইটোপ্লাজমের রাসায়নিক গঠন
১। সাইটোপ্লাজমে পানি থাকে ৬৫-৯৬%।
২। এতে প্রোটিনের পরিমাণ ৭-১০%।
৩। এতে ১-৩% লিপিড থাকে।
৪। এতে কার্বোহাইড্রেট ১-১.৫%।
৫। খনিজ লবণ থাকে ১-১.৫%।
৬। ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম ইত্যাদি থাকে
কোষঝিল্লির গুরুত্ব । কোষঝিল্লির প্রয়োজনীয়তা । Cell membrane । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
কোষঝিল্লির গুরুত্ব / প্রয়োজনীয়তা
১। আকৃতি দানঃ প্লাজমা ঝিল্লি প্রতিটি কোষকে নির্দিষ্ট আকৃতি প্রদান করে। উদ্ভিদ কোষে প্লাজমা পর্দার বাইরে কোষ প্রাচীর থাকলেও প্রাণী কোষে শুধু মাত্র প্লাজমা পর্দা থাকে। এ কারণে প্রাণী কোষের নির্দিষ্ট আকৃতি প্রদানে কোষ ঝিল্লি মুখ্য ভুমিকা পালন করে।
২। সজীব অংশকে রক্ষাঃ প্লাজমা পর্দা সর্বদা কোষের সজীব প্রোটোপ্লাজমকে আবৃত করে রাখে এবং বাইরের তাপ, চাপ ও আঘাত থেকে রক্ষা করে।
৩। খাদ্য গ্রহণঃ ইহা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কঠিন খাদ্য এবং পিনোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় তরল খাদ্য গ্রহণ করে।
৪। অঙ্গাণু সৃষ্টিঃ ইহা কোষের অতি প্রয়োজনীয় কয়েকটি অঙ্গাণু মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, গলগি বডি, নিউক্লিয়ার মেমব্রেণ প্রভৃতি সৃষ্টিতে সহায়তা করে।
৫। রাসায়নিক দ্রুত হিসেবেঃ প্লাজমা পর্দা কোষের বাহির থেকে নিউরোট্রান্সমিটার, হরমোন প্রভৃতির সাহায্যে রাসায়নিক উপায়ে তথ্য সংগ্রহ করে।
৬। রাসায়নিক ক্ষরণঃ ইহা কোষের জন্য এনজাইম ও অ্যান্টিজেন ক্ষরণ করে।
৭। শারীরবৃত্তীয় কাজঃ প্লাজমা মেমব্রেন জীবদেহে শ্বসন ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে অংশ গ্রহণ করে।
৮। উদ্দীপনা পরিবহনঃ ইহা কোষের বাহির হতে ভিতরে এবং এক কোষ হতে অন্য কোষে স্নায়ু উদ্দীপনা পরিবহন করে।
৯। পরিবহনঃ প্লাজমা পর্দার ভিতর দিয়ে কোষের প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড, গ্লুুকোজ, আয়ন প্রভৃতি কোষের বাহির হতে ভিতরে প্রবেশ করে। অপরদিকে, কোষে সৃষ্ট কার্বন ডাই অক্সাইড, অ্যামোনিয়া, ইউরিক এসিড প্রভৃতি কোষের ভিতর হতে বাইরে বেরিয়ে যায়।
১০। অভিস্রবনীয় প্রতিবন্ধকঃ ইহা কোষের বহি ও অন্তঃমাধ্যমের মধ্যে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে।
১১। আণবিক সচলতাঃ ইহা কোষের আণবিক সচলতা নিয়ন্ত্রণ করে।
১২। শক্তি উৎপাদনঃ ব্যাকটেরিয়ার কোষ ঝিল্লি ভাঁজ হয়ে মেসোজোম সৃষ্টি করে। মেসোজোম শ্বসন ঘটায় এবং শক্তি উৎপন্ন করে।
রে না। মস্তিস্কের নিউরনে টাইট জাংশন থাকে।
কোষ ঝিল্লির রুপান্তর
কোষ ঝিল্লির রুপান্তর (Modification of cell membrane)
১। মাইক্রোভিলাই (Microvilli)ঃ প্রাণিদেহে শোষণকারী নালির প্রাচীরে যে অভিক্ষেপ থাকে তাকে মাইক্রোভিলাই বলে। অন্ত্র ও নেফ্রণের প্রতিটি কোষে প্রায় ৩০০০ মাইক্রোভিলাই থাকে। ইহা শোষণতল বৃদ্ধি করে।
২। পিনোসাইটিক ভেসিকল (Pinocytic vesicle)ঃ কোষ ঝিল্লি হতে সৃষ্ট তরল খাদ্যকণা যুক্ত গহ্বরকে পিনোসাইটিক ভেসিকল বলে। যে প্রক্রিয়ায় পিনোসাইটিক ভেসিকল সৃষ্টি হয় তাকে পিনোসাইটোসিস বলে।
৩। ফ্যাগোসাইটিক ভেসিকল (Phagocytic vesicle)ঃ কোষ ঝিল্লি হতে সৃষ্ট কঠিন খাদ্যকণা যুক্ত গহ্বরকে ফ্যাগোসাইটিক ভেসিকল বলে। যে প্রক্রিয়ায় ফ্যাগোসাইটিক ভেসিকল সৃষ্টি হয় তাকে ফ্যাগোসাইটোসিস বলে। শ্বেত রক্তকণিকায় ফ্যাগোসাইটিক ভেসিকল থাকে।
৪। ডেসমোসোম (Desmosome)ঃ ঘনিষ্টভাবে সংলগ্ন দুইটি কোষের কোষ ঝিল্লি রুপান্তরিত হয়ে পাতের মতো যে গঠন সৃষ্টি করে তাকে ডেসমোসোম বলে। ডেসমোসোমের সাথে টনোফাইব্রিল তন্তু থাকে। ইহা কোষ দু’টিকে দৃঢ়ভাবে যুক্ত রাখে।
৫। নিরেট সংযোগ (Tight junction)ঃ ঘনিষ্টভাবে সংলগ্ন দুইটি কোষের কোষ ঝিল্লি যুক্ত হয়ে যে নিরেট গঠন সৃষ্টি করে তাকে নিরেট সংযোগ বা টাইট জাংশন বলে। এ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে কোন পদার্থ চলাচল করতে পারে না। মস্তিস্কের নিউরনে টাইট জাংশন থাকে।
কোষ ঝিল্লির রুপান্তর- প্লাজমা মেমব্রেণের গুরুত্ব প্রয়োজনীয়তা
কোষ ঝিল্লির রুপান্তর (Modification of cell membrane)
১। মাইক্রোভিলাই (Microvilli)ঃ প্রাণিদেহে শোষণকারী নালির প্রাচীরে যে অভিক্ষেপ থাকে তাকে মাইক্রোভিলাই বলে। অন্ত্র ও নেফ্রণের প্রতিটি কোষে প্রায় ৩০০০ মাইক্রোভিলাই থাকে। ইহা শোষণতল বৃদ্ধি করে।
২। পিনোসাইটিক ভেসিকল (Pinocytic vesicle)ঃ কোষ ঝিল্লি হতে সৃষ্ট তরল খাদ্যকণা যুক্ত গহ্বরকে পিনোসাইটিক ভেসিকল বলে। যে প্রক্রিয়ায় পিনোসাইটিক ভেসিকল সৃষ্টি হয় তাকে পিনোসাইটোসিস বলে।
৩। ফ্যাগোসাইটিক ভেসিকল (Phagocytic vesicle)ঃ কোষ ঝিল্লি হতে সৃষ্ট কঠিন খাদ্যকণা যুক্ত গহ্বরকে ফ্যাগোসাইটিক ভেসিকল বলে। যে প্রক্রিয়ায় ফ্যাগোসাইটিক ভেসিকল সৃষ্টি হয় তাকে ফ্যাগোসাইটোসিস বলে। শ্বেত রক্তকণিকায় ফ্যাগোসাইটিক ভেসিকল থাকে।
৪। ডেসমোসোম (Desmosome)ঃ ঘনিষ্টভাবে সংলগ্ন দুইটি কোষের কোষ ঝিল্লি রুপান্তরিত হয়ে পাতের মতো যে গঠন সৃষ্টি করে তাকে ডেসমোসোম বলে। ডেসমোসোমের সাথে টনোফাইব্রিল তন্তু থাকে। ইহা কোষ দু’টিকে দৃঢ়ভাবে যুক্ত রাখে।
৫। নিরেট সংযোগ (Tight junction)ঃ ঘনিষ্টভাবে সংলগ্ন দুইটি কোষের কোষ ঝিল্লি যুক্ত হয়ে যে নিরেট গঠন সৃষ্টি করে তাকে নিরেট সংযোগ বা টাইট জাংশন বলে। এ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে কোন পদার্থ চলাচল করতে পারে না। মস্তিস্কের নিউরনে টাইট জাংশন থাকে।
প্লাজমা মেমব্রেণের গুরুত্ব / প্রয়োজনীয়তা
১। আকৃতি দানঃ প্লাজমা ঝিল্লি প্রতিটি কোষকে নির্দিষ্ট আকৃতি প্রদান করে। উদ্ভিদ কোষে প্লাজমা পর্দার বাইরে কোষ প্রাচীর থাকলেও প্রাণী কোষে শুধু মাত্র প্লাজমা পর্দা থাকে। এ কারণে প্রাণী কোষের নির্দিষ্ট আকৃতি প্রদানে কোষ ঝিল্লি মুখ্য ভুমিকা পালন করে।
২। সজীব অংশকে রক্ষাঃ প্লাজমা পর্দা সর্বদা কোষের সজীব প্রোটোপ্লাজমকে আবৃত করে রাখে এবং বাইরের তাপ, চাপ ও আঘাত থেকে রক্ষা করে।
৩। খাদ্য গ্রহণঃ ইহা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কঠিন খাদ্য এবং পিনোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় তরল খাদ্য গ্রহণ করে।
৪। অঙ্গাণু সৃষ্টিঃ ইহা কোষের অতি প্রয়োজনীয় কয়েকটি অঙ্গাণু মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, গলগি বডি, নিউক্লিয়ার মেমব্রেণ প্রভৃতি সৃষ্টিতে সহায়তা করে।
৫। রাসায়নিক দ্রুত হিসেবেঃ প্লাজমা পর্দা কোষের বাহির থেকে নিউরোট্রান্সমিটার, হরমোন প্রভৃতির সাহায্যে রাসায়নিক উপায়ে তথ্য সংগ্রহ করে।
৬। রাসায়নিক ক্ষরণঃ ইহা কোষের জন্য এনজাইম ও অ্যান্টিজেন ক্ষরণ করে।
৭। শারীরবৃত্তীয় কাজঃ প্লাজমা মেমব্রেন জীবদেহে শ্বসন ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে অংশ গ্রহণ করে।
৮। উদ্দীপনা পরিবহনঃ ইহা কোষের বাহির হতে ভিতরে এবং এক কোষ হতে অন্য কোষে স্নায়ু উদ্দীপনা পরিবহন করে।
৯। পরিবহনঃ প্লাজমা পর্দার ভিতর দিয়ে কোষের প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড, গ্লুুকোজ, আয়ন প্রভৃতি কোষের বাহির হতে ভিতরে প্রবেশ করে। অপরদিকে, কোষে সৃষ্ট কার্বন ডাই অক্সাইড, অ্যামোনিয়া, ইউরিক এসিড প্রভৃতি কোষের ভিতর হতে বাইরে বেরিয়ে যায়।
১০। অভিস্রবনীয় প্রতিবন্ধকঃ ইহা কোষের বহি ও অন্তঃমাধ্যমের মধ্যে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে।
১১। আণবিক সচলতাঃ ইহা কোষের আণবিক সচলতা নিয়ন্ত্রণ করে।
১২। শক্তি উৎপাদনঃ ব্যাকটেরিয়ার কোষ ঝিল্লি ভাঁজ হয়ে মেসোজোম সৃষ্টি করে। মেসোজোম শ্বসন ঘটায় এবং শক্তি উৎপন্ন করে।