কোষ বিভাজন । Cell division। মায়োসিসকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয় কেন

মায়োসিস ঘটে জীবের জনন মাতৃকোষে। জনন মাতৃকোষে ডিপ্লয়েড সংখ্যক ক্রোমোসোম থাকে। মায়োসিস কোষ বিভাজন

দুইটি ধাপে সম্পন্ন হয়। মায়োসিস-১ এবং মায়োসিস-২। মায়োসিস-১ এ প্রতিটি কোষ বিভাজিত হয়ে দুইটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে। এ প্রক্রিয়ায় কোষের নিউক্লিয়াস এবং ক্রোমোসোম উভয়ই বিভাজিত হয়। সৃষ্ট অপত্য কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক হয়। তাই মিয়োসিস-১ কে বলা হ্রাসমূলক বিভাজন। মায়োসিসে সৃষ্ট শুক্রাণু ও ডিম্বাণু হ্যাপ্লয়েড প্রকৃতির হয়। অর্থাৎ সৃষ্ট কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা অর্ধেক হয়। তাই মায়োসিসকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয়।

কোষ বিভাজন । Cell division। মাইটোটিক ইনডেক্স ।। Mitotic Index

কোন টিস্যুর মোট কোষের সংখ্যা এবং মাইটোসিস বিভাজনের কোষের সংখ্যার অনুপাতকে মাইটোটিক ইনডেক্স বা MI বলে।

মাইটোটিক ইনডেক্স এর গুরুত্ব বা ভূমিকাঃ মাইটোটিক ইনডেক্স চিকিৎসা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চিকিৎসার জন্য চিকিৎসককে মাইটোটিক ইনডেক্স জানা অতি প্রয়োজন। MI থেকে জানা যায় টিউমার বা ক্যান্সার কত তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি পাচ্ছে। উচ্চ MI থেকে বুঝা যায় টিউমার বা ক্যান্সার দ্রæত বৃদ্ধি পাচ্ছে। MI জানার পর রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

নিউক্লিওসাইড-নিউক্লিওটাইড-ডাইনিউক্লিওসাইড-পলিনিউক্লিওসাইড

নিউক্লিওসাইডঃ  এক অণু পেন্টোজ শ্যুগার ও এক অণু নাইট্রোজেন ক্ষারককে নিউক্লিওসাইড বলে। ইহা দুই ধরনের। পিউরিন নিউক্লিওসাইড এবং পাইরিমিডিন নিউক্লিওসাইড।

 

নিউক্লিওটাইডঃ   এক অণু ফসফেট এবং এক অণু নিউক্লিওসাইড মিলিত হয়ে নিউক্লিওটাইড গঠন করে। অথবা এক অণু পেন্টোজ শ্যুগার, এক অণু ফসফেট এবং এক অণু নাইট্রোজেন ক্ষারককে নিউক্লিওটাইড বলে। নিউক্লিওটাইড হলো নিউক্লিক এসিডের গাঠনিক একক। বিভিন্ন ধরণের নিউক্লিওটাইড হলো- AMP, GMP, CMP, UMP, TMP, dAMP, dGMP, dCMP, dUMP, dTMP প্রভৃতি।

 

ডাইনিউক্লিওসাইডঃ   দুই অণু নিউক্লিওটাইডকে একত্রে ডাইনিউক্লিওটাইড বলে। নিউক্লিওটাইড দু’টি ফসফো-ডাইএস্টার বন্ধনী দ্বারা যুক্ত থাকে।

 

পলিনিউক্লিওসাইডঃ  অনেকগুলো নিউক্লিওটাইড পরস্পর ফসফো-ডাইএস্টার বন্ধনী দ্বারা যুক্ত হয়ে একটি লম্বা শিকল গঠন করে। একে পলিনিউক্লিওটাইড বলে। ডাইনিউক্লিওটাইড বলে। পলিনিউক্লিওটাইডে নিউক্লিওটাইড পরস্পর ৫-৩ মুখী ভাবে অবস্থান করে।

 

 

 

 

নিউক্লিক এসিড কী । নিউক্লিক এসিডের গঠন । Nucleic acid । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

নিউক্লিক এসিড (Nucleic Acid)
নাইট্রোজেন ক্ষারক, পেন্টোজ শ্যুগার ও ফসফোরিক এসিড দ্বারা গঠিত রাসায়নিক উপাদানকে নিউক্লিক এসিড বলে। ইহা কোষের সবচেয়ে বড় রাসায়নিক অণু। ইহা বংশগতির সকল বৈশিষ্ট্য বহন করে বলে এদেরকে মাস্টার মলিকিউল বলে। ১৮৬৯ সালে সুইস চিকিৎসক ও রসায়নবিদ Friedrich Miescher শ্বেত রক্ত কণিকার নিউক্লিয়াস থেকে একটি নতুন রাসায়নিক পদার্থ আবিষ্কার করেন এবং নামকরণ করেন নিউক্লিন । ১৮৮৯ সালে অল্টম্যান নিউক্লিনকে নিউক্লিক এসিড নামকরণ করেন। ১৮৯৪ সালে Albrecht Kossel নিউক্লিক এসিডে পিউরিন, পাইরিমিডিন, শ্যুগার ও ফসফোরিক এসিড শনাক্ত করেন। এজন্য তাঁকে ১৯১০ সালে রসায়নে নোবেল পুরুষ্কার প্রদান করা হয়। ১৯২১ সালে খধারহব দুই ধরনের নিউক্লিক এসিড আবিষ্কার করেন। DNA এবং RNA।

 

নিউক্লিক এসিডের মূল উপাদান
নিউক্লিক এসিড তিনটি মূল উপাদান দ্বারা গঠিত। এগুলো হলো-
১। নাইট্রোজেন ক্ষারকঃ  কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন দ্বারা এই ক্ষারক গঠিত হয়। ক্ষারক গঠনকারী যৌগ গুলো রিং গঠন করে। রিং এর সংখ্যার উপর ভিত্তি করে নাইট্রোজেন ক্ষারককে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা –
(i) পিউরিনঃ  দুই চক্র বিশিষ্ট নাইট্রোজেন ক্ষারককে পিউরিন বলে। এর সাধারণ সংকেত C5H4N4। ইহা অ্যাডিনিন ও গুয়ানিন দ্বারা গঠিত।
(ii) পাইরিমিডিনঃ  এক চক্র বিশিষ্ট নাইট্রোজেন ক্ষারককে পাইরিমিডিন বলে। এর সাধারণ সংকেত C4H4N2। ইহা থাইমিন, সাইটোসিন ও ইউরাসিল দ্বারা গঠিত।
অ্যাডিনিন ও থাইমিন এর নামকরণ করা হয়েছে থাইমাস (Thymus) থেকে। থাইমাস গ্রন্থি থেকে এদের পৃথক করা হয়েছিল। এডিনো অর্থ গ্ল্যান্ড বা গ্রন্থি। সাইটোসিন এর নামকরণ হয়েছে সাইটো থেকে। সাইটো অর্থ সেল বা কোষ। গুয়ানিন এসেছে গুয়ানো শব্দ থেকে। গুয়ানো অর্থ বাদুরের পড়ন্ত মল। সাধারণত ক্ষারক গুলোকে AGTCU বর্ণমালা দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
২। পেন্টোজ শ্যুগারঃ  পাঁচ কার্বন বিশিষ্ট শ্যুগার (চিনি)-কে পেন্টোজ শ্যুগার বলে। DNA অণুতে ডিঅক্সিরাইবোজ শ্যুগার এবং RNA অণুতে রাইবোজ শ্যুগার থাকে। ইহা এক ধরনের মনোস্যাকারাইড। ডিঅক্সিরাইবোজ শ্যুগারের ২নং কার্বনে অক্সিজেন থাকে না বলে এরুপ নামকরণ করা হয়েছে।
৩। ফসফোরিক এসিডঃ  ক্রোমোজোমের একটি অন্যতম রাসায়নিক উপাদান হলো ফসফোরিক এসিড। এর আণবিক সংকেত H3PO4। এতে একটি দ্বিযোজী অক্সিজেন পরমাণু এবং তিনটি একযোজী হাইড্রোক্সিল গ্রুপ রয়েছে। অক্সিজেন ও হাইড্রোক্সিল গ্রুপ একটি পাঁচ যোজী ফসফোরাস পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে ফসফোরিক এসিড গঠন করে।
নিউক্লিক এসিড কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন এবং ফসফোরাস দ্বারা গঠিত। এতে নাইট্রোজেন ১৫% এবং ফসফোরাস ১০% থাকে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

জায়ান্ট ক্রোমোসোম । দৈত্যাকার ক্রোমোজোম । Giant chromosome। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

জায়ান্ট বা দৈত্যাকার ক্রোমোজোম (Giant chromosome)
যে সব ক্রোমোজোমের আকার সাধারণ ক্রোমোজোম অপেক্ষায় অনেক বড় তাকে জায়ান্ট বা দৈত্যাকার ক্রোমোজোম বলে। জীবদেহে দুই ধরণের জায়ান্ট ক্রোমোজোম পাওয়া যায়।
১। ল্যাম্প ব্রাশ ক্রোমোজোমঃ  যে ক্রোমোজোম দেখতে বাতির চিমনির ব্রাশ বা ল্যাম্প ব্রাশের মতো তাকে ল্যাম্প ব্রাশ ক্রোমোজোম বলে। এই ক্রোমোজোমের অক্ষকে কেন্দ্র করে কতগুলো জোড়া লুপ থাকে এবং দেখতে অনেকটা বাতির চিমনির ব্রাশ বা ল্যাম্প ব্রাশের মতো দেখায়। ক্রোমোজোমের অক্ষটি ক্রোমোমিয়ার ও ইন্টার-ক্রোমোমিয়ার দ্বারা এবং লুপ ট্রান্সক্রাইবিং DNA দ্বারা গঠিত। এর দৈর্ঘ্য ১৫০০-২০০০ মাইক্রোমিটার। ইহা mRNA ও ডিমের কুসুম সৃষ্টির জন্য দরকার হয়। ইহা উভচর ও পতঙ্গে (জননকোষ) অবস্থান করে।
২। পলিটেন ক্রোমোজোমঃ  ফলের মাছি Drosophila এর লালাগ্রন্থিতে ২০০০ মাইক্রোমিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট বৃহদাকার ক্রোমোজোম থাকে। একে পলিটেন বা স্যালিভারি গ্ল্যান্ড ক্রোমোজোম বলে। এই ক্রোমোজোমে ৫টি লম্বা এবং ১টি খাটো বাহু থাকে। প্রতিটি বাহুতে কালো ও সাদা ব্যান্ড থাকে। কালো বাহু হলো ইউক্রোমাটিন অঞ্চল। এর কিছু অংশ ফুলে গিয়ে বৃহৎ গঠন সৃষ্টি করে। একে ক্রোমোজোমাল পাফ বা ব্যালবিয়ানি রিং (Balbiani ring) বলে। ক্রোমোজোমাল পাফ/ব্যালবিয়ানি রিং mRNA সংশ্লেষ করে।

ক্রোমোজোমের রাসায়নিক গঠন । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ক্রোমোজোমের রাসায়নিক গঠন
ক্রোমোজোম প্রধানত দুইটি রাসায়নিক উপাদান দ্বারা গঠিত।
১। নিউক্লিক এসিড
২। প্রোটিন
১। নিউক্লিক এসিডঃ  ক্রোমোজোমে ৪৫ ভাগ নিউক্লিক এসিড থাকে। নিউক্লিক এসিড দুই ধরণের। DNA ও RNA। DNA ও RNA  উভয়ই তিনটি রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা গঠিত। নাইট্রোজেন ক্ষারক, পেন্টোজ শ্যুগার এবং ফসফোরিক এসিড। নাইট্রোজেন ক্ষারক দুই ধরনের। পিউরিন এবং পাইরিমিডিন। পিউরিন হলো অ্যাডেনিন ও গুয়ানিন এবং পাইরিমিডিন হলো থাইমিন, সাইটোসিন ও ইউরাসিল।
২। প্রোটিনঃ  প্রোটিন ক্রোমোজোমের মূল কাঠামো গঠন করে। ক্রোমোজোমে প্রোটিন থাকে ৫৫%। ক্রোমোজোমে দুই ধরনের প্রোটিন থাকে। যথা-
(i) অম্লীয় প্রোটিনঃ  উচ্চ আণবিক গুরুত্বসম্পন্ন প্রোটিন হলো অম্লধর্মী প্রোটিন। ক্রোমোজোমে DNA পলিমারেজ ও RNA পলিমারেজ প্রোটিন থাকে
(ii) ক্ষারীয় প্রোটিনঃ  নিম্ন আণবিক গুরুত্বসম্পন্ন প্রোটিন ক্ষারধর্মী প্রোটিন। ক্রোমোজোমে প্রোটামিন অথবা হিস্টোন প্রোটিন থাকে। প্রোটামিন শুক্রাণুর ক্রোমোজোমে থাকে।

ক্রোমোজোমের ভৌত গঠন । Structure of chromosome । ড. সিদ্দিক পাবলিক্রেশন্স

ক্রোমোজোমের ভৌত গঠন (Physical Structure of Chromosome)
একটি আদর্শ ক্রোমোজোমে যে সব অংশ দেখা যায় তা নিম্নরুপ
১। পেলিকল  ক্রোমোজোম যে আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে তাকে পেলিকল। আধুনিক গবেষণায় পেলিকলের কোন অস্তিস্ক পাওয়া যায় নাই।
২। মাতৃকাঃ  পেলিকলের ভিতরে যে তরল পদার্থ থাকে তাকে মাতৃকা বলে। কিন্তু আজ পর্যন্ত মাতৃকার অস্তিস্ক পাওয়া যায় নাই।
৩। ক্রোমাটিনঃ  প্রতিটি ক্রোমোজোম লম্বালম্বি ভাবে বিভক্ত হয়ে দুইটি সুতার মতো গঠন সৃষ্টি করে। এদেরকে ক্রোমাটিন বলে। ইহা প্রাথমিক ভাবে ১১ nm পুরু এবং পর্যায়ক্রমে ৩০ nm, ৩০০ nm এবং ৭০০ nm পুরু হয়ে থাকে। Heit (১৯২৮) ক্রোমাটিন তন্তুকে দু’টি ভাগে ভাগ করেন। যথা- হেটারোক্রোমাটিন এবং ইউক্রোমাটিন।
৪। ক্রোমোনেমাঃ  প্রতিটি ক্রোমাটিড লম্বালম্বি ভাবে বিভক্ত হয়ে দুইটি করে সূত্রাকার গঠন সৃষ্টি করে। একে ক্রোমোনেমা বলে। বিজ্ঞানী Vejdovsky (১৯২১) এদের ক্রোমোনেমা নামে আভিহিত করেন। প্রতিটি ক্রোমোনেমা ২৬টি অথবা ৩২টি অনুসূত্র দ্বারা গঠিত। তবে ১৯৬৫ সালে বিজ্ঞানী ডু’প্র প্রমাণ করেন, ক্রোমোনেমায় কোন অনুসূত্র থাকে না।
৫। সেন্ট্রোমিয়ারঃ  ক্রোমোজোমে যে গোলাকার, বর্ণহীন ও সংকুচিত স্থান থাকে তাকে সেন্ট্রোমিয়ার বলে। প্রতিটি সেন্ট্রোমিয়ারে একটি ছোট গাঠনিক অবকাঠামো থাকে যাকে কাইনেটোফোর বলে। প্রতিটি ক্রোমোজোমে একটি মাত্র সেন্ট্রোমিয়ার থাকে। তবে কোন কোন ক্রোমোজোমে দুই বা ততোধিক সেন্ট্রোমিয়ার থাকতে পারে।
৬। সেকেন্ডারী কুঞ্চনঃ  ক্রোমোজোমে সেন্ট্রোমিয়ার ছাড়া আরও এক বা একাধিক সংকুচিত স্থান থাকে। একে সেকেন্ডারী কুঞ্চন বলে। SAT (Sine Acid Thymonucleic) নামক সেকেন্ডারী কুঞ্চন নিউক্লিওলাস গঠন করে।
৭। ক্রোমোমিয়ারঃ  ক্রোমোজোমে যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গুটিকা দেখা যায় তাকে ক্রোমোমিয়ার বলে।
৮। বাহুঃ  সেন্ট্রোমিয়ারের উভয় পাশের অংশকে বাহু বলে। ক্রোমোজোমের বাহু দু’টি সমান অথবা অসমান হতে পারে।
৯। সেটেলাইটঃ  ক্রোমোজোমের সেকেন্ডারী কুঞ্চন সংলগ্ন ক্ষুদ্র অংশটিকে সেটেলাইট বলে। এ ধরনের ক্রোমোজোমকে স্যাট ক্রোমোজোম বলে। যেমন- ছোলার ১ নং ক্রোমোজোমে স্যাটেলাইট থাকে।
১০। টেলোমিয়ারঃ  বিজ্ঞানী এইচ. জে. মুলার ক্রোমোজোমের প্রান্তদেশে একটি বিন্দুর অবস্থান কল্পনা করেন। একে টেলোমিয়ার বলে। টেলোমিয়ারের কারনে ক্রোমোজোমের বাহু দু’টি কখনো একত্রে হতে পারে না।

 

 

 

 

 

 

ক্রোমোজোমের রঞ্জক ভিত্তিক প্রকারভেদ ও কী কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

রঞ্জক ধারণের উপর ভিত্তি করে ক্রোমাটিন পদার্থকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১। ইউক্রোমাটিনঃ  ক্রোমোজোমকে ক্ষারীয় রঞ্জক দ্বারা রঞ্জিত করলে যে অংশ হালকা বর্ণ ধারণ করে তাকে ইউক্রোমাটিন বলে। অঞ্চলে অধিক পরিমাণে DNA থাকে এবং বংশগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইহা mRNA সংশ্লেষণ করে।
২। হেটারোক্রোমাটিনঃ  ক্রোমোজোমকে ক্ষারীয় রঞ্জক দ্বারা রঞ্জিত করলে যে অংশ গাঢ় বর্ণ ধারণ করে তাকে হেটারোক্রোমাটিন বলে। অঞ্চলে স্বল্ব পরিমাণে DNA থাকে এবং বংশগতিতে তেমন ভূমিকা পালন করে না। ইহা mRNA সংশ্লেষণ করে না

 

 

 

 

 

 

ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ারের সংখ্যা ভিত্তিক প্রকারভেদও কীকী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

সেন্ট্রোমিয়ারের সংখ্যা অনুযায়ী ক্রোমোজোম তিন ধরনের।
১। অ্যাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমঃ  যে ক্রোমোজোমে সেন্ট্রোমিয়ার থাকে না তাকে অ্যাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। ইহা ক্রোমোজোমের ভঙ্গুর অংশ।
২। মনোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমঃ  যে ক্রোমোজোমে একটি মাত্র সেন্ট্রোমিয়ার থাকে তাকে মনোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। অধিকাংশ প্রজাতির ক্রোমোজোম মনোসেন্ট্রিক।
৩। ডাইসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমঃ যে ক্রোমোজোমে দুইটি সেন্ট্রোমিয়ার থাকে তাকে ডাইসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। যেমনগম
৪। পলিসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমঃ  যে ক্রোমোজোমে দুই এর অধিক সেন্ট্রোমিয়ার থাকে তাকে পলিসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। যেমনকলা গাছ।
৫। ডিফিউজ ক্রোমোজোমলঃ  ক্রোমোজোমে সেন্ট্রোমিয়ার বিচ্ছিন্ন ভাবে থাকলে তাকে ডিফিউজ ক্রোমোজোম বলে। যেমনকলা গাছ।

 

 

 

 

 

ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান ভিত্তি প্রকারভেদ ও কী কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে ক্রোমোজোমকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১। মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমঃ  যে ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার মাঝখানে থাকে তাকে মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। কোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ দশায় মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম গুলো দেখতে ইংরেজি  V  অক্ষরের মতো দেখায়।
২। সাব মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমঃ  যে ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার মাঝখানে না থেকে সামান্য দূরে থাকে তাকে সাব মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। কোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ দশায় সাব মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম গুলো দেখতে ইংরেজি  L  অক্ষরের মতো দেখায়।
৩। অ্যাক্রোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমঃ  যে ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার একেবারে প্রান্তের কাছাকাছি থাকে তাকে অ্যাক্রোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। কোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ দশায় অ্যাক্রোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম গুলো দেখতে ইংরেজি  J  অক্ষরের মতো দেখায়।
৪। টেলোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমঃ  যে ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার একেবারে প্রান্তভাগে থাকে তাকে টেলোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। কোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ দশায় টেলোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম গুলো দেখতে ইংরেজি  I  অক্ষরের মতো দেখায়।