ক্রোমোজোমের প্রকারভেদ ও কী কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ক্রোমোজোমের প্রকারভেদ
বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে ক্রোমোজোমকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১। অটোজোমঃ যে সব ক্রোমোজোম জীবের দেহ কোষে থাকে তাদেরকে অটোজোম বলে। অটোজোমের সংখ্যা ২২ জোড়া বা ৪৪টি।
২। সেক্স ক্রোমোজোমঃ  যে সব ক্রোমোজোম জীবের লিঙ্গ নির্ধারণ করে তাদেরকে সেক্স ক্রোমোজোম বলে। সেক্স ক্রোমোজোমের সংখ্যা এক জোড়া বা ২টি।

সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে ক্রোমোজোমকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১। মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমঃ  যে ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার মাঝখানে থাকে তাকে মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। কোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ দশায় মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম গুলো দেখতে ইংরেজি  V  অক্ষরের মতো দেখায়।
২। সাব মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমঃ  যে ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার মাঝখানে না থেকে সামান্য দূরে থাকে তাকে সাব মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। কোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ দশায় সাব মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম গুলো দেখতে ইংরেজি  L  অক্ষরের মতো দেখায়।
৩। অ্যাক্রোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমঃ  যে ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার একেবারে প্রান্তের কাছাকাছি থাকে তাকে অ্যাক্রোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। কোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ দশায় অ্যাক্রোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম গুলো দেখতে ইংরেজি  J  অক্ষরের মতো দেখায়।
৪। টেলোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমঃ  যে ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার একেবারে প্রান্তভাগে থাকে তাকে টেলোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। কোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ দশায় টেলোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম গুলো দেখতে ইংরেজি  I  অক্ষরের মতো দেখায়।

সেন্ট্রোমিয়ারের সংখ্যা অনুযায়ী ক্রোমোজোম তিন ধরনের।
১। অ্যাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমঃ  যে ক্রোমোজোমে সেন্ট্রোমিয়ার থাকে না তাকে অ্যাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। ইহা ক্রোমোজোমের ভঙ্গুর অংশ।
২। মনোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমঃ  যে ক্রোমোজোমে একটি মাত্র সেন্ট্রোমিয়ার থাকে তাকে মনোসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। অধিকাংশ প্রজাতির ক্রোমোজোম মনোসেন্ট্রিক।
৩। ডাইসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমঃ যে ক্রোমোজোমে দুইটি সেন্ট্রোমিয়ার থাকে তাকে ডাইসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। যেমন-গম
৪। পলিসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমঃ  যে ক্রোমোজোমে দুই এর অধিক সেন্ট্রোমিয়ার থাকে তাকে পলিসেন্ট্রিক ক্রোমোজোম বলে। যেমন-কলা গাছ।
৫। ডিফিউজ ক্রোমোজোমলঃ  ক্রোমোজোমে সেন্ট্রোমিয়ার বিচ্ছিন্ন ভাবে থাকলে তাকে ডিফিউজ ক্রোমোজোম বলে। যেমন-কলা গাছ।

রঞ্জক ধারনের উপর ভিত্তি করে ক্রোমাটিন পদার্থকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১। ইউক্রোমাটিনঃ  ক্রোমোজোমকে ক্ষারীয় রঞ্জক দ্বারা রঞ্জিত করলে যে অংশ হালকা বর্ণ ধারণ করে তাকে ইউক্রোমাটিন বলে। এ অঞ্চলে অধিক পরিমাণে DNA থাকে এবং বংশগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইহা mRNA সংশ্লেষণ করে।
২। হেটারোক্রোমাটিনঃ  ক্রোমোজোমকে ক্ষারীয় রঞ্জক দ্বারা রঞ্জিত করলে যে অংশ গাঢ় বর্ণ ধারণ করে তাকে হেটারোক্রোমাটিন বলে। এ অঞ্চলে স্বল্ব পরিমাণে DNA থাকে এবং বংশগতিতে তেমন ভূমিকা পালন করে না। ইহা mRNA সংশ্লেষণ করে না

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ক্রোমোজোম কী ? ক্রোমোজোমের সংখ্যা ও আবিষ্কার

ক্রোমোজোম (Chromosome)
গ্রিক শব্দ chroma অর্থ রং এবং soma অর্থ দেহ নিয়ে chromosome  শব্দটি গঠিত। এর অর্থ হলো রঞ্জিত দেহ বা রং ধারণকারী দেহ। প্রকৃত কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত নিউক্লিওপ্রোটিন দ্বারা গঠিত অনুলিপন ক্ষমতাসম্পন্ন সরু সুতার মতো ক্ষুদ্রাঙ্গ যা বংশগত বৈশিষ্ট্যাবলী বহন করে এবং প্রকরণ ও মিউটেশন ঘটাতে সক্ষম তাকে ক্রোমোজোম বলে।
আবিষ্কার ঃ ১৮৪২ সালে Karl Nagli সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষের নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম প্রত্যক্ষ করেন। ১৮৭৫ সালে বিজ্ঞানী স্ট্রাসবুর্গার সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন। ১৮৮৮ সালে বিজ্ঞানী ওয়ালটার ফ্লেমিং নিউক্লিয়াসের সূতার মতো গঠনকে নামকরণ করেন। ১৮৮৮ সালে বিজ্ঞানী ওয়ালডেয়ার ক্রোমোজোমের নামকরণ করেন। ১৯০২ সালে Sutton ও Boveri ক্রোমোজোমকে বংশগতির ধারক ও বাহক হিসেবে বর্ণনা করেন।
ক্রোমোজোম সংখ্যা
১৯২১ সালে বিজ্ঞানী Theophilus Painter সর্বপ্রথম মানুষের ক্রোমোজোম সংখ্যা প্রকাশ করেন। জীবজগতে ১০% এর কম ক্রোমোজোম সংখ্যা গণনা করা হয়েছে। প্রজাতির বৈশিষ্ট্য ভেদে ক্রেমোজোম 2n সংখ্যা ২-১৬০০ হতে পারে। উদ্ভিদ দেহে সবচেয়ে কম ক্রোমোজোম Haplopappus gracilis, 2n = 4 এবং সবচেয়ে বেশি Poa littarosa 2n = 506-530। প্রাণী দেহে সবচেয়ে কম ক্রোমোজোম Ascaris megalocephalus sub. sp. univalens 2n = 2 এবং সবচেয়ে বেশি Aulacantha (Olacantha sp.) 2n = 1600। উচ্চতর জীবের প্রতিটি দেহকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা ২-৮০। মানুষের দেহে ক্রোমোজোম সংখ্যা ২৩ জোড়া বা ৪৬টি। এর মধ্যে ২টি সেক্স ক্রোমোজোম এবং ৪৪টি অটোজোম।

কোষের বর্জ্য পদার্থ কী কী । Excretory or waste products । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

কোষের বর্জ্য পদার্থ (Excretory or waste products)

প্রোটোপ্লাজমের বিপাক ক্রিয়ায় উৎপন্ন উপজাত পদার্থকে বর্জ্য পদার্থ বলে। ইহা কোষে জমা থাকে।

১। রেজিনঃ পাইন, অরোক্যারিয়া প্রভৃতি উদ্ভিদের রজন নালীতে যে আঠা জাতীয় পদার্থ থাকে তাকে রজন বা রেজিন বলে। সেতার বেহালার তার মসৃন করার জন্য রজন ব্যবহার হয়।

২। ট্যানিনঃ তেঁতুল গাব উদ্ভিদের ফলত্বক বীজত্বকে ট্যানিন থাকে। চামড়া পাকানো, রং কালি তৈরী করতে ট্যানিন ব্যবহার হয়।

৩। গামঃ জিগা, সজিনা, বাবলা প্রভৃতি উদ্ভিদে গঁদ বা গাম থাকে। ইহা আঠা হিসেবে ব্যবহার হয়।

৪। জৈব এসিডঃ টমেটোতে ম্যালিক এসিড, লেবুতে সাইট্রিক এসিড, আমরুলে অক্সালিক এসিড, তেঁতুলে টারটারিক এসিড থাকে।

৫। ল্যাটেক্সঃ বট, ডুমুর, অশথ, আকন্দ, করবী প্রভৃতি উদ্ভিদের কান্ড, পাতা, ফুল ফলে তরুক্ষীর বা ল্যাটেক্স থাকে।

৬। টারপিনয়েডঃ তুলসী পাতা, পুদিনা পাতা, পাইনাস কোষ প্রভৃতিতে টারপিনয়েড থাকে। 

৭। অ্যালকালয়েডঃ তামাকে নিকোটিন, ধুতুরায় ডাটুরিন, কফিতে ক্যাফেইন, আফিমে ওপিয়াম, সর্পগন্ধায় সার্পেন্টাইন, সিঙ্কোনায় কুইনাইন প্রভৃতি উপক্ষার বা অ্যালকালয়েড থাকে।

৮। উদ্বায়ী তেলঃ লেবু, তুলসী, কামিনী, রক্তদ্রোণ, শ্বেতদ্রোণ, ইউক্যালিপটাস প্রভৃতি উদ্ভিদের ফুল, ফল পাতায় উদ্বায়ী তেল থাকে।

৯। খনিজ ক্রিস্টালঃ খনিজ কেলাস দুই ধরণের। সিস্টোলিথ এবং র‌্যাফাইড। আঙ্গুরের থোকার মতো ক্যালসিয়াম কার্বনেটকে সিস্টোলিথ এবং সূঁচের মতো ক্যালসিয়াম অক্সালেটকে র‌্যাফাইড বলে। বট, ডুমুর, রাবার প্রভৃতি উদ্ভিদের পাতায় সিস্টোলিথ এবং মানকচু, ওলকচু, মুখীকচু প্রভৃতি উদ্ভিদের কান্ড পাতায় র‌্যাফাইড থাকে।

 

 

কোষের সঞ্চিত পদার্থ কী কী । Reserve materials । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

কোষের সঞ্চিত পদার্থ (Reserve materials)

যে সব পদার্থ কোষে সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে জমা থাকে তাকে সঞ্চিত পদার্থ বলে। কোষের প্রধান সঞ্চিত পদার্থ হলো

১। প্রোটিনঃ মসুর, খেসারী, মটর, ছোলা, অড়হড়, মুগ, মাসকলাই প্রভৃতি দানায় প্রোটিন থাকে। এসব প্রোটিন দানাকে অ্যালিউরন দানা বলে।

২। লিপিডঃ নারকেল, বাদাম, সরিষা, রেপসিড প্রভৃতিতে লিপিড থাকে।

৩। শর্করাঃ গম, ভূট্রা, আলু, চাল, কাউন প্রভৃতিতে শর্করা থাকে।

৪। গ্লাইকোজেনঃ যকৃত পেশিকোষে প্রাণীজ শে^তসার হিসেবে সঞ্চিত থাকে। ব্যাকটেরিয়া, নীলাভসবুজ শৈবাল এবং ছত্রাকে গ্লাইকোজেন সঞ্চিত থাকে।

৫। ইনিউলিনঃ ইনিউলিন একধরণের শর্করা বা পলিস্যাকারাইড। ইহা Compoitae গোত্রের কতিপয় উদ্ভিদ বিশেষ করে সূর্যমুখী, ডালিয়া প্রভৃতি উদ্ভিদের কোষে সঞ্চিত থাকে।

৬। জাইমোজেন দানাঃ বিভিন্ন ধরণের এনজাইম একত্রিত হয়ে জাইমোজেন দানা গঠন করে। ইহা উদ্ভিদ কোষের সাইটোপ্লাজমে সঞ্চিত থাকে।

 

  কোষস্থ নির্জীব বস্তু কী কী । Ergastic substance । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

 

কোষস্থ নির্জীব বস্তু (Ergastic substance)

কোষের বিপাকের ফলে নির্জীব বস্তু সৃষ্টি হয় এবং সাইটোপ্লাজম গহ্বরে জমা থাকে। নির্জীব বস্তুগুলো তিন ধরণের। সঞ্চিত পদার্থ, নিঃসৃত পদার্থ এবং বর্জ্য পদার্থ।

 

১। সঞ্চিত পদার্থ (Reserve materials) যে সব পদার্থ কোষে সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে জমা থাকে তাকে সঞ্চিত পদার্থ বলে। কোষের প্রধান সঞ্চিত পদার্থ হলো

(i) প্রোটিনঃ মসুর, খেসারী, মটর, ছোলা, অড়হড়, মুগ, মাসকলাই প্রভৃতি দানায় প্রোটিন থাকে। এসব প্রোটিন দানাকে অ্যালিউরন দানা বলে।

(ii) লিপিডঃ নারকেল, বাদাম, সরিষা, রেপসিড প্রভৃতিতে লিপিড থাকে।

(iii) শর্করাঃ গম, ভূট্রা, আলু, চাল, কাউন প্রভৃতিতে শর্করা থাকে।

(iv) গ্লাইকোজেনঃ যকৃত পেশিকোষে প্রাণীজ শে^তসার হিসেবে সঞ্চিত থাকে। ব্যাকটেরিয়া, নীলাভসবুজ শৈবাল এবং ছত্রাকে গ্লাইকোজেন সঞ্চিত থাকে।

(v) ইনিউলিনঃ ইনিউলিন একধরণের শর্করা বা পলিস্যাকারাইড। ইহা Compoitae গোত্রের কতিপয় উদ্ভিদ বিশেষ করে সূর্যমুখী, ডালিয়া প্রভৃতি উদ্ভিদের কোষে সঞ্চিত থাকে।

(vi) জাইমোজেন দানাঃ বিভিন্ন ধরণের এনজাইম একত্রিত হয়ে জাইমোজেন দানা গঠন করে। ইহা উদ্ভিদ কোষের সাইটোপ্লাজমে সঞ্চিত থাকে।

 

২। নিঃসৃত পদার্থ (Secretory products) কোষ থেকে যে সব রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরিত বা নিঃসৃত হয় তাকে নিঃসৃত পদার্থ বলে। প্রধান নিঃসৃত পদার্থ হলো পিগমেন্ট, নেকটার (মকরন্দ), এনজাইম এবং হরমোন। ক্লোরোফিল, ক্যারোটিন, জ্যান্থোফিল, অ্যান্থোসায়ানিন প্রভৃতি হলো উল্লেখযোগ্য পিগমেন্ট।

 

৩। বর্জ্য পদার্থ (Excretory or waste products) প্রোটোপ্লাজমের বিপাক ক্রিয়ায় উৎপন্ন উপজাত পদার্থকে বর্জ্য পদার্থ বলে। ইহা কোষে জমা থাকে।

(i) রেজিনঃ পাইন, অরোক্যারিয়া প্রভৃতি উদ্ভিদের রজন নালীতে যে আঠা জাতীয় পদার্থ থাকে তাকে রজন বা রেজিন বলে। সেতার বেহালার তার মসৃন করার জন্য রজন ব্যবহার হয়।

(ii) ট্যানিনঃ তেঁতুল গাব উদ্ভিদের ফলত্বক বীজত্বকে ট্যানিন থাকে। চামড়া পাকানো, রং কালি তৈরী করতে ট্যানিন ব্যবহার হয়।

(iii) গামঃ জিগা, সজিনা, বাবলা প্রভৃতি উদ্ভিদে গঁদ বা গাম থাকে। ইহা আঠা হিসেবে ব্যবহার হয়।

(iv) জৈব এসিডঃ টমেটোতে ম্যালিক এসিড, লেবুতে সাইট্রিক এসিড, আমরুলে অক্সালিক এসিড, তেঁতুলে টারটারিক এসিড থাকে।

(v) ল্যাটেক্সঃ বট, ডুমুর, অশথ, আকন্দ, করবী প্রভৃতি উদ্ভিদের কান্ড, পাতা, ফুল ফলে তরুক্ষীর বা ল্যাটেক্স থাকে।

(vi) টারপিনয়েডঃ তুলসী পাতা, পুদিনা পাতা, পাইনাস কোষ প্রভৃতিতে টারপিনয়েড থাকে। 

(vii) অ্যালকালয়েডঃ তামাকে নিকোটিন, ধুতুরায় ডাটুরিন, কফিতে ক্যাফেইন, আফিমে ওপিয়াম, সর্পগন্ধায় সার্পেন্টাইন, সিঙ্কোনায় কুইনাইন প্রভৃতি উপক্ষার বা অ্যালকালয়েড থাকে।

(viii) উদ্বায়ী তেলঃ লেবু, তুলসী, কামিনী, রক্তদ্রোণ, শ্বেতদ্রোণ, ইউক্যালিপটাস প্রভৃতি উদ্ভিদের ফুল, ফল পাতায় উদ্বায়ী তেল থাকে।

(ix) খনিজ ক্রিস্টালঃ খনিজ কেলাস দুই ধরণের। সিস্টোলিথ এবং র‌্যাফাইড। আঙ্গুরের থোকার মতো ক্যালসিয়াম কার্বনেটকে সিস্টোলিথ এবং সূঁচের মতো ক্যালসিয়াম অক্সালেটকে র‌্যাফাইড বলে। বট, ডুমুর, রাবার প্রভৃতি উদ্ভিদের পাতায় সিস্টোলিথ এবং মানকচু, ওলকচু, মুখীকচু প্রভৃতি উদ্ভিদের কান্ড পাতায় র‌্যাফাইড থাকে।

গ্লাইঅক্সিজোম (Glyoxisome)

গ্লাইঅক্সিজোম (Glyoxisome)
যে সব অঙ্গাণু বিটা-অক্সিডেশন প্রক্রিয়া ঘটায় তাদেরকে গ্লাইঅক্সিজোম বলে। ইহা আবরণী বিশিষ্ট অঙ্গাণু। ইহা বীজের লিপিড সঞ্চয়ী কোষে থাকে। বীজের অংকুরোদগমের সময় লিপিডকে ভেঙ্গে চিনিতে পরিনত করে। এতে চারার বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে।

নিউক্লিয়াসের কাজ/গুরুত্ব

নিউক্লিয়াসের কাজ/গুরুত্ব
১। জৈবিক কাজঃ  নিউক্লিয়াসকে বলা হয় কোষের মস্তিস্ক। ইহা কোষের সকল জৈবিক কাজ করে।
২। বংশগতিঃ  ক্রোমোজোমে বিদ্যমান উঘঅ অণু বংশগতি নিয়ন্ত্রণ করে।
৩। প্রোটিন সংশ্লেষণঃ  নিউক্লিওলাস রাইবোজোম গঠন করে এবং রাইবোজোম প্রোটিন তৈরী করে।
৪। বিপাক ক্রিয়াঃ  নিউক্লিয়াস কোষের বিপাক নিয়ন্ত্রক অঙ্গাণু।
৫। এনজাইমের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণঃ  নিউক্লিওপ্লাজম এনজাইমের কার্যকলাপের মুল ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে।
৬। প্রকরণ ও মিউটেশনঃ  ইহা জীবের প্রকরণ ও মিউটেশন সৃষ্টি করে।
৭। পদার্থ বিনিময়ঃ  ইহা প্রয়োজনীয় পদার্থ বিনিময় করে।
৮। কোষ বিভাজনঃ  কোষ বিভাজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

নিউক্লিয়াসের গঠন

নিউক্লিয়াসের গঠন (Structure of Nucleus)

প্রতিটি নিউক্লয়াস ৪ টি অংশ নিয়ে গঠিত। এগুলো হলো-
১। নিউক্লিয়ার মেমব্রেন বা এনভেলপঃ  নিউক্লিয়াস যে পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে তাকে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন বলে। একে এনভেলপ, নিউক্লিওলেমা বা ক্যারিওথিকা বলা হয়। নিউক্লিয়ার মেমব্রেণ দুই স্তর বিশিষ্ট। বহিঃআবরণী এবং অন্তঃআবরণী। এরা ফসফোলিপিড দ্বারা গঠিত। আবরণী দু’টির মাঝখানের ফাঁকা স্থানকে পেরিনিউক্লিয়ার স্থান বলে। এর দুরত্ব ১০-১৫ nm। বহিঃআবরণীতে অষ্টভূজাকৃতির ছিদ্র যুক্ত। ছিদ্র গুলোকে নিউক্লিয়ার রন্ধ্র বলে। নিউক্লিয়ার মেমব্রেণে ৩০০টি নিউক্লিয়ার রন্ধ্র থাকে। প্রতিটি রন্ধ্রের ব্যাস ৯ nm। রন্ধ্রগুলো সংকুচিত ও প্রসারিত হতে পারে। নিউক্লিয়ার রন্ধে অ্যানুলাস থাকে। অ্যানুলাসে ৮টি করে দানাদার প্রান্তীয় প্রোটিন থাকে। প্রান্তীয় প্রোটিন গুলো পরস্পর স্পোক দ্বারা যুক্ত থাকে। নিউক্লিয়ার ছিদ্রের কেন্দ্রে ট্রান্সপোর্টার নামে একটি বড় প্রোটিন থাকে। ট্রান্সপোর্টারটি অ্যাংকার প্রোটিন দ্বারা এনভেলপের সাথে যুক্ত থাকে। প্রোটিনের সাথে সাব-ইউনিট ও ফাইবার থাকতে পারে। নিউক্লিয়াসের ভিতরে একটি ফাইবার খাঁচা থাকে। ফাইবার খাঁচার সাথে প্রোটিন গুলো ঝুলে থাকে।
২। নিউক্লিওপ্লাজমঃ  নিউক্লিয়ার মেমব্রেণের ভিতরে যে স্বচ্ছ, দানাদার ও জেলীর মতো অর্ধ-তরল পদার্থ থাকে তাকে নিউক্লিওপ্লাজম বা ক্যারিওলিম্ফ বলে। একে নিউক্লিয়াসের প্রোটোপ্লাজমিক রস বলা হয় । এতে নিউক্লিওলাস ও ক্রোমোজোম অবস্থান করে। ইহা প্রধানত প্রোটিন দ্বারা গঠিত। ইহাতে DNA, RNA, ফসফোপ্রোটিন, হিস্টোন প্রোটিন, এনজাইম ও খনিজ লবণ থাকে।
৩। নিউক্লিওলাসঃ  নিউক্লিয়াসের ভিতরে যে ঘন, উজ্জ্বল, গোলাকার ও বস্তু দেখা যায় তাকে নিউক্লিওলাস বলে। প্রতিটি নিউক্লিওলাস তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। পার্স অ্যামরফা, নিউক্লিওলোনিমা এবং মাতৃকা। নিউক্লিওলাসের চারিদিকের অংশকে পার্স অ্যামরফা, মধ্যভাগের অংশকে নিউক্লিওলোনিমা এবং ভিতরের তরল অংশকে মাতৃকা বলে। যে কোষে প্রোটিন সংশ্লেষণ হয় না সে কোষে নিউক্লিওলাস থাকে না। ইহা একটি ক্রোমোজোমের সাথে যুক্ত থাকে। এই ক্রোমোজোমটিকে নিউক্লিওলাস অর্গানাইজার বলে। ক্রোমোজোমের যে স্থানে নিউক্লিওলাস যুক্ত থাকে সে স্থানকে SAT বা সেটেলাইট বলে। নিউক্লিওলাসে DNA, RNA, প্রোটিন, লিপিড, এনজাইম, ফসফোরাস, সালফার, পটাশিয়াম প্রভৃতি থাকে। ১৭৮১ সালে বিজ্ঞানী ফন্টানা সর্বপ্রথম নিউক্লিওলাস দেখতে পান। ১৮৪০ সালে বোম্যান এর নামকরণ করেন।
৪। ক্রোমাটিনঃ  নিউক্লয়াসের ভিতরে যে সুক্ষ্ম সুতার মতো প্যাচানো গঠন দেখা যায় তাকে নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম বা ক্রোমাটিন তন্তু বলে। কোষকে রঞ্জিত করার সময় ইহা কিছু মৌলিক বর্ণ (ফুলজিন রং) ধারণ করে বলে একে ক্রোমাটিন বলা হয়। বর্ণ ধারণ ক্ষমতার কারণে ক্রোমাটিনে দুইটি অঞ্চল দেখা যায়। ইউক্রোমাটিন ও হেটারোক্রোমাটিন। ক্রোমাটিনের গাঢ় বর্ণের বেশি ঘন অঞ্চলকে হেটারোক্রোমাটিন এবং হালকা বর্ণের কম ঘন অঞ্চলকে ইউক্রোমাটিন বলে। ক্রোমাটিনের একক হলো নিউক্লিওসোম। হিস্টোন প্রোটিনকে আবৃত করে রাখলে যে মালার মতো গঠনের সৃষ্টি হয় তাকে নিউক্লিওসোম বলে। ক্রোমাটিনে পানি বিয়োজন ঘটে মোটা ও খাটো হলে তাকে ক্রোমোজোম বলে। প্রতিটি ক্রোমাটিনে DNA, হিস্টোন প্রোটিন ও নন-হিস্টোন প্রোটিন থাকে।

    নিউক্লিয়াস কী ? এর সংখ্যা ও অবস্থান

নিউক্লিয়াস (Nucleus)

ল্যাটিন শব্দ Nux-nut থেকে Nucleus নামের উৎপত্তি। কোষের প্রোটোপ্লাজমে অবস্থিত ঘন, অস্বচ্ছ ও গোলাকার অঙ্গাণু যা বংশগতি পদার্থ বহণ করে এবং কোষের অত্যাবশ্যকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে তাকে নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রিকা বলে। একে কোষের প্রাণকেন্দ্র, কেন্দ্রিকা এবং মস্তিস্কও বলা হয়। ইহা কোষের সবচেয়ে বড় অঙ্গাণু। ১৮৩১ সালে রবার্ট ব্রাউন রাস্নার পাতা থেকে নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন।

সংখ্যা ও অবস্থানঃ  সাধারণত প্রতিটি কোষে একটি করে নিউক্লিয়াস। তবে কোন কোন কোষে (Vaucheria, Botrydium, Shaeroplea, Penicillium, Paramecium) এর সংখ্যা বেশি থাকে। বহু নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট কোষের গঠনকে সিনোসাইট বলে। তবে সিভ-কোষ ও মানুষের লোহিত রক্ত কণিকায় ইহা থাকে না। গোলাকার নিউক্লিয়াসের ব্যাস এক মাইক্রোন। নিউক্লিয়াস কোষের ১০-১৫% স্থান দখল করে থাকতে পারে। স্পার্ম বা শুক্রাণুর প্রায় ৯০% নিউক্লিয়াস।

আকৃতিঃ  নিউক্লিয়াস সাধারণত বৃত্তাকার হয়। তবে উপবৃত্তাকার, প্যাচানো, ফিউজিফরম (মূলাকার), শ্বাখান্বিত প্রভৃতি হতে পারে।

পারঅক্সিজোম কী ? এর কাজ/গুরুত্ব

পারঅক্সিজোম (Peroxisome)
আবরণী বেষ্টিত অতি ক্ষুদ্র, দানাদার, স্বপ্রজননক্ষম ও এনজাইমপূর্ণ অঙ্গাণুকে পারঅক্সিজোম বলে। এদেরকে মাইক্রোসোম নামেও অভিহিত করা হয়। এর ব্যাস ০.২-১৭ মিলিমাইক্রন। এতে ক্রিস্টাল ও দানা আকৃতির এনজাইম থাকে। এর প্রধান এনজাইম হলো catalase, D-amino acid oxidase এবং uric acid oxidase । ইহা বিটা-অক্সিডেশন প্রক্রিয়ায় ফ্যাটি এসিডকে ভেঙ্গে অ্যাসিটাইল কো-এ উৎপন্ন করে। যে সব অঙ্গাণু বিটা-অক্সিডেশন ঘটায় তাদেরকে গ্লাইঅক্সিজোম বলে। ১৯৬৭ সালে বেলজিয়াম সাইকোলজিস্ট Christian de Duve ইহা আবিষ্কার করেন।
পারঅক্সিজোমের কাজ/গুরুত্ব
১। ইহা বিটা-অক্সিডেশন ঘটায়।
২। এতে বিদ্যমাণ এনজাইম H2 ও O এর বিক্রিয়া ঘটিয়ে বিষাক্ত H2 O2 উৎপন্ন করে।
৩। Catalase এনজাইম বিষাক্ত H2 O2-কে ভেঙ্গে পানি ও অক্সিজেন উৎপন্ন করে।
৪। Catalase এনজাইম H2 O2-কে ব্যবহার করে অ্যালকোহল, ফেনল, ফরমিক এসিড, ফরমালডিহাইড প্রভৃতিকে জারিত করে।
৫। ইহা পারঅক্সিডেশন বিক্রিয়া ঘটিয়ে মানুষের যকৃত ও বৃক্কের রক্তের বিষাক্ত পদার্থকে নষ্ট করে।
৬। উদ্ভিদ কোষে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেটিভ এনজাইম (superoxide dismutase, NADP dehydrogenase) থাকে যা গুরুত্বপূর্ণ বিক্রিয়া ঘটায়
৭। ইহা কোষে অক্সিজেনের ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ করে।
৮। ইহা NAD, DNA ও RNA উৎপাদনে সাহায্য করে।