ব্যাকটেরিয়ার গঠন ।। Structure of Bacteria

১। ক্যাপসুলঃ ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরের বাইরে যে শক্ত, পুরু, দৃঢ় ও সুগঠিত স্তর থাকে তাকে ক্যাপসুল বলে। ইহা পলিপেপটাইড বা পলিস্যাকারাইড দ্বারা গঠিত। ক্যাপসুল স্তরটি পাতলা ও নমনীয় হলে তাকে স্লাইম স্তর বলে। ইহা পিচ্ছিল ও আঠালো। ইহা ব্যাকটেরিয়াকে নির্দিষ্ট আকৃতি দান করে এবং প্রতিকূল পরিবেশে শুষ্কতা হতে রক্ষা করে। ইহ নাইট্রোজেন সংবন্ধনে কার্যকরী।

২। কোষ প্রাচীরঃ  ব্যাকটেরিয়ার ক্যাপসুল স্তরের ভিতরে যে শক্ত, দৃঢ়, পুরু ও স্থিতিস্থাপক আবরণী বিদ্যমান তাকে কোষ প্রাচীর বলে। এটি জড় প্রকৃতির। ইহা মিউকোপেপটাইড বা পেপটাইডোগ্লাইক্যান বা মিউরিন দ্বারা গঠিত। তবে কোষ প্রাচীরে প্রোটিন, লিপিড এবং পলিস্যাকারাইডও থাকে। এতে কিছু পরিমাণ মুরামিক এসিড এবং টিকোয়িক এসিড থাকে। ইহা ১০-৫০ মিলিমাইক্রোন পুরু। কোষ প্রাচীরের স্থানে স্থানে কতক গুলো ছিদ্র থাকে। প্রতিটি ছিদ্রের ব্যাস ১ মিলিমাইক্রন। এই ছিদ্রের মধ্য দিয়ে প্রয়োজনীয় পদার্থের আদান-প্রদান ঘটে। ইহা কোষকে নির্দিষ্ট আকৃতি দান করে এবং বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।

৩।প্লাজমাপর্দাঃ  কোষ প্রাচীরের ভিতরে অবস্থিত সুক্ষ্ম, সজীব, পাতলা ও স্থিতিস্থাপক পর্দাকে প্লাজমাপর্দা বলে। ইহা প্রোটিন ও ফসফোলিপিড দ্বারা গঠিত। প্লাজমা পর্দায় হেপানয়েডস নামক স্টেরল থাকে। এতে ৭০-৮০% প্রোটিন এবং ২০-৩০% লিপিড থাকে। ইহা ৭.৫-৮.০ nm পুরু। এতে পারমিয়েজ এনজাইম থাকে। এই এনজাইম প্রোটিন পরিবহন করে।

৪। সাইটোপ্লাজমঃ প্লাজমাপর্দা দ্বারা পরিবেষ্টিত কোষের বর্ণহীন অংশকে সাইটোপ্লাজম বলে। সাইটোপ্লাজমের অংশ গুলো হলো-

(i) রাইবোসোমঃ কোষের সাইটোপ্লাজমে মুক্ত ভাবে ৭০S রাইবোসোম অবস্থান করে। ইহা প্রোটিন ও RNA দ্বারা গঠিত। এতে ৩০-৫০% প্রোটিন এবং ৫০-৭০% RNA থাকে। প্রতিটি ব্যাকটেরিয়ামে ১০,০০০-২০,০০০ রাইবোসোম থাকে। ইহা কোষের জন্য প্রোটিন সংশ্লে¬ষণ করে।

(ii) ক্রোম্যাটোফোরঃ ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে ফাঁপা গোলাকার ক্রোম্যাটোফোর থাকে। এতে ব্যাকটেরিওক্লোরোফিল থাকে। ইহা সালোকসংশ্লে¬ষণে সাহায্য করে।

(iii) ভলিউটিনঃ তরুণ ব্যাকটেরিয়া কোষের সাইটোপ্লাজমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানাদার ভলিউটিন থাকে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ইহা কোষ গহŸরে পরিনত হয়। ইহা কোষের জন্য খাদ্য সঞ্চয় করে এবং ফসফেট পরিবহন করে।

(iv) কোষ গহ্বরঃ কোষের সাইটোপ্লাজমে ছোট ছোট কোষ গহŸর থাকে। ইহা কোষ রস দ্বারা পুর্ণ থাকে।

(v) মেসোসোমঃ প্লাজমাপর্দা ভিতরের দিকে ভাঁজ হয়ে থলির মতো গঠন সৃষ্টি করে। একে মেসোসোম বলে। মেসোসোমকে কন্ড্রিওয়েড বলে অভিহিত করা হয়। ইহা শ্বসনে সাহায্য করে। ইহা DNA রেপ্লিকেশন করে এবং কোষ বিভাজনের সময় ব্যবধায়ক প্রাচীর গঠন করে। গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়ায় মেসোসোম থাকে।

(vi) প্লাজমিডঃ কোষের সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত Extra-chromosomal গোলাকার দ্বিতন্ত্রী DNA-কে প্লাজমিড বলে। ইহা স্বপ্রজননক্ষম। ইহা কয়েক ধরনের জিন বহন করে। Fertility factor (F-factor), Resistance factor (R-factor), Nitrogen fixing genes (Nif-genes)  প্রভৃতি। ইহা জিন প্রকৌশলীতে বাহক হিসেবে কাজ করে।

৫। নিউক্লিওয়েড (সিউডোনিউক্লিয়াস)ঃ ব্যাকটেরিয়ার কোষে প্রকৃত নিউক্লিয়াস থাকে না। এর নিউক্লিয়াসকে নিউক্লিওয়েড বা জেনোফোর বা সিউডোনিউক্লিয়াস বলে। এতে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাস থাকে না। সাইটোপ্লাজমের কেন্দ্রে একটি মাত্র প্যাচানো দ্বি-সূত্রক DNA থাকে। DNA-এর কেন্দ্রে একটি গোলাকার RNA থাকে। RNA-কে ঘিরে নিউক্লিওপ্রোটিন থাকে। এতে হিস্টোন প্রোটিন থাকে না। ইহা বংশগত বৈশিষ্ট্যাবলী বংশানুক্রমে স্থানান্তরিত করে।

৬। ফ্ল্যাজেলাঃ সাইটোপ্লাজমের বহিঃস্তর থেকে যে সূত্রাকার চাবুকের মতো উপাঙ্গ সৃষ্টি হয় তাকে ফ্ল্যাজেলা বলে। শক্ত ফ্ল্যাজেলাকে ফিমব্রি বলে। ইহা ফ্ল্যাজেলিন প্রোটিন দ্বারা গঠিত। এর দৈর্ঘ্য ৪-৫ nm। ফ্ল্যাজেলা ব্যাকটেরিয়াকে চলনে সাহায্য করে। প্রতিটি ফ্ল্যাজেলার তিনটি অংশ থাকে। বেসাল বডি, হুক ও ফিলামেন্ট। ফ্ল্যাজেলা যুক্ত ব্যাকটেরিয়াকে ট্রাইকাস এবং ফ্ল্যাজেলাবিহীন ব্যাকটেরিয়াকে অ্যাট্রাইকাস ব্যাকটেরিয়া বলে।

৭। পিলিঃ গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার বহির্গাত্র হতে অসংখ্য সুক্ষ্ম চুলের মতো উপাঙ্গ সৃষ্টি হয়। এদেরকে পিলি বা ফিমব্রি বলে। ইহা সংখ্যায় ফ্ল্যাজেলার চেয়ে বেশি এবং দৈর্ঘ্যে ছোট। ইহা পিলিন নামক প্রোটিন দ্বারা গঠিত। প্রজননের সময় কনজুগেশন টিউব সৃষ্টি করে বলে একে যৌন পিলি বলে। গনোরিয়া রোগের ব্যাকটেরিয়া পিলি দ্বারা পোষক কোষের সাথে যুক্ত থাকে।

আর্কিয়া ।। আর্কিব্যাকটেরিয়া ।। Archibacteria

গ্রিক শব্দ archaios অর্থ আদি। আদি প্রকৃতির ব্যাকটেরিয়া হলো আর্কিয়া। যে সব আর্কিয়া তাপমাত্রা পছন্দ করে তাদেরকে তাপপ্রেমী বা Thermophiles বলে। ৮৪ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রায় এরা মারা যায়। ৯৮ ডিগ্রী  সে. তাপমাত্রায় এদের ভালো বৃদ্ধি ঘটে। এরা ১১০ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রা পর্যন্ত টিকে থাকে। যেমন- Methanopyrus। যে সব আর্কিয়া তাপ ও এসিড পছন্দ করে তাদেরকে তাপ ও অম্লপ্রেমী বা Thermoacidophiles বলে। যে সব আর্কিয়া লবণ পছন্দ করে তাদেরকে লবণপ্রেমী বা Halophiles বলে।

১৯৯৬ সালে জিনোম সিকোয়েন্সিং করে জানা যায় আর্কিয়ার ১৭৩৮টি জিনের মধ্যে অর্ধেকের বেশি জিন ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য জীবগোষ্ঠি থেকে আলাদা। আর্কিয়ার যে সব সদস্য বিপাক ক্রিয়ায় মিথেন উৎপন্ন করে তাদেরকে Methanogens বলে। মিথেন তৈরীর প্রক্রিয়াকে মেথানোজেনেসিস (Methanogenesis) বলে।

ব্যাকটেরিয়ার শ্রেণীবিভাগ ।। Classification of Bacteria

ব্যাকটেরিয়ার আকৃতিগত শ্রেণীবিভাগ

১। কক্কাস-Coccus

যে সব ব্যাকটেরিয়া দেখতে গোলাকার তাদেরকে কক্কাস ব্যাকটেরিয়া বলে। বিভিন্ন ধরনের কক্কাস ব্যাকটেরিয়া হলো-

(i) মাইক্রোকক্কাসঃ গোলাকার ব্যাকটেরিয়া গুলো একা একা বা পৃথক পৃথক ভাবে অবস্থান করলে তাকে মাইক্রোকক্কাস বলে। যেমন- Micrococcus denitrificans, Micrococcus aureus, Micrococcus flavus.

(ii) ডিপ্লোকক্কাসঃ গোলাকার ব্যাকটেরিয়া গুলো জোড়ায় জোড়ায় বা দুইটি করে একত্রে অবস্থান করলে তাকে ডিপোকক্কাস বলে। যেমন- Diplococcus pneumonia.

(ররর) স্ট্রেপ্টোকক্কাসঃ গোলাকৃতির ব্যাকটেরিয়া গুলো চেইন বা শৃঙ্খল আকারে অবস্থান করলে তাকে স্ট্রেপ্টোকক্কাস বলে। যেমন- Treptococcus lactis, Treptococcus strep and Treptococcus pyrogens.

(iv) টেট্রাকক্কাসঃ গোলাকার ব্যাকটেরিয়া কোষগুলো দুইটি ভিন্ন তলে বিভাজিত হয়ে চারটি করে একত্রে অবস্থান করলে তাকে টেট্রাকক্কাস বলে। যেমন- Gaffkyacoccus tetragena, Tetracoccus sp.

(v) স্ট্যাফাইলোকক্কাসঃ গোলাকৃতির ব্যাকটেরিয়া গুলো একত্রে আঙ্গুরের থোকার মতো অবস্থান করলে তাকে স্ট্যাফাইলোকক্কাস বলে। যেমন- Staphylococcus aureus.

(vi) সারসিনাঃ নির্দিষ্ট সংখ্যক গোলাকার ব্যাকটেরিয়া কোষ নিয়মিত ভাবে সাজানো থাকলে তাকে সারসিনা বলে। যেমন- Sarcina lutea.

 

২। ব্যাসিলাস বা দন্ডাকার

যে সব ব্যাকটেরিয়া দেখতে দন্ড আকৃতির তাদেরকে ব্যাসিলাস বলে। বিভিন্ন ধরনের ব্যাসিলাস হলো-

(i) মনোব্যাসিলাসঃ দন্ডাকৃতির ব্যাকটেরিয়া গুলো একক ভাবে অবস্থান করলে তাকে মনোব্যাসিলাস বলে। যেমন- Bacillus albus, Escherichia coli.

(ii) ডিপ্লোব্যাসিলাসঃ দন্ডাকৃতির ব্যাকটেরিয়া গুলো জোড়ায় জোড়ায় অবস্থান করলে তাকে ডিপ্লোব্যাসিলাস বলে। Lactobacillus, Corynebacterium diptheriae, Moraxella lacunata, Diplobacillus.

(iii) স্ট্রেপটোব্যাসিলাসঃ দন্ডাকৃতির ব্যাকটেরিয়া গুলো চেইন বা শৃঙ্খল আকারে অবস্থান করলে তাকে স্ট্রেপটোব্যাসিলাস বলে। যেমন- Bacillus tuberculosis, Streptobacillus moniliformis.

(iv) প্যালিসেড ব্যাসিলাসঃ দন্ডাকৃতির ব্যাকটেরিয়া গুলো পাশাপাশি সমান্তরাল ভাবে অবস্থান করে অলিক টিস্যুর মতো গঠন সৃষ্টি করলে তাকে প্যালিসেড ব্যাসিলাস বলে। যেমন- Lampropedia sp.

(v) কক্কোব্যাসিলাসঃ ব্যাকটেরিয়া গুলো ঈষৎ লম্বা বা ডিম্বাকার হলে তাদেরকে কক্কোব্যাসিলাস বলে। যেমন- Salmonella,  Mycobacterium, Coxiella burnetti.

 ৩। স্পাইরিলামঃ যে সব ভাইরাস দেখতে প্যাঁচানো বা কুন্ডালাকার তাদেরকে স্পাইরিলাম ব্যাকটেরিয়া বলে। যেমন- Spirillum minus, Treponema.

৪। কমাকৃতি ব্যাকটেরিয়াঃ যে সব ব্যাকটেরিয়া দেখতে কমাকৃতির অর্থাৎ দেহ খানিকটা পাক খাওয়ানো তাদেরকে কমাকৃতি ব্যাকটেরিয়া বলে। যেমন- Vibrio cholera.

৫। প্লিওমরফিকঃ যে সব ব্যাকটেরিয়ার সুনির্দিষ্ট আকৃতি নাই তাদেরকে প্লিওমরফিক বা বহুরুপী বা pleomorphic ব্যাকটেরিয়া বলে। যেমন- Rhizobium mayense.

৬। বর্গাকৃতির ব্যাকটেরিয়াঃ চার বাহু বিশিষ্ট বর্গাকার ব্যাকটেরিয়াকে বর্গাকৃতির ব্যাকটেরিয়া বলে। যেমন- Haloquadratum.

৭। তারকাকৃতি ব্যাকটেরিয়াঃ যে সব ব্যাকটেরিয়া দেখতে তারকা বা নক্ষত্রের মতো তাদেরকে তারকাকৃতি ব্যাকটেরিয়া বলে। যেমন- Stella humosa, Stella vacuolata.

৮। হাইফা বা অণুসূত্রাকার ব্যাকটেরিয়াঃ যে সব ব্যাকটেরিয়া পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট দীর্ঘ অণুসূত্র আকৃতির হয় তাদেরকে অণুসূত্রাকার ব্যাকটেরিয়া বলে। যেমন- Candidatus savagella, Streptomyces.

 

অক্সিজেন গ্রহণের ভিত্তিতে শ্রেণীবিভাগ

অক্সিজেনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির ভিত্তিতে ব্যাকটেরিয়াকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

১। বায়ুজীব ব্যাকটেরিয়াঃ যে সব ব্যাকটেরিয়া অক্সিজেনের উপস্থিতি ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে না তাকে বায়ুজীবী ব্যাকটেরিয়া বলে। যেমন- Bacillus anthracis, Azobacter beijerinckii.

২। অবায়ুজীব ব্যাকটেরিয়াঃ যে সব ব্যাকটেরিয়া অক্সিজেনের উপস্থিতি ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে তাকে অবায়ুজীবী ব্যাকটেরিয়া বলে। যেমন- Clostridium tetani.

 তাপ সহনশীলতার ভিত্তিতে  শ্রেণীবিভাগ

তাপ সহনশীলতার ভিত্তিতে ব্যাকটেরিয়াকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

১। সাইক্রোফিলিকঃ যে সব ব্যাকটেরিয়া নিম্ন তাপমাত্রায় বেঁচে থাকে তাকে Psychrophilic ব্যাকটেরিয়া বলে। শুন্য বা তার চেয়ে কম তাপমাত্রায় এ সব ব্যাকটেরিয়া বাঁচতে পারে। এদের সবচেয়ে ভাল বৃদ্ধির জন্য ২৫-৩০ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রা উত্তম। যেমন- Psychrobacter, Acinetobacter, Arthrobacter, Pseudomonas.

২। মেসোফিলিকঃ যে সব ব্যাকটেরিয়া স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বেঁচে থাকে তাকে Mesophilic ব্যাকটেরিয়া বলে। এদের সবচেয়ে ভাল বৃদ্ধির জন্য ৩০-৪০ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রা উত্তম। যেমন- Azotobacter, Rhizobium.

৩। থার্মোফিলিকঃ যে সব ব্যাকটেরিয়া উচ্চ তাপমাত্রায় বেঁচে থাকে তাকে Thermophilic ব্যাকটেরিয়া বলে। এদের সবচেয়ে ভাল বৃদ্ধির জন্য ৪৫-৬০ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রা উত্তম। যেমন- Thermus aquaticus, Bacillus coagulans.

রঞ্জক গ্রহণের ভিত্তিতে  শ্রেণীবিভাগ

বিজ্ঞানী ক্রিস্টিয়ান গ্রাম (Hans Christian Gram, ১৮৫৩১৯৩৮) রঞ্জন পদ্ধতির উদ্ভাবক। এই পদ্ধতিতে ব্যাকটেরিয়াকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

১। গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়াঃ যে সব ব্যাকটেরিয়াকে ক্রিস্টাল ভায়োলেট রঞ্জকে রঞ্জিত করার পর ধৌত করলে রঞ্জক ধরে রাখে (ব্লু, পার্পল) তাকে গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া বলে। এদের কোষপ্রাচীর পুরু। এর কোষপ্রাচীরে পেপটাইডোগ্লাইকন, টিকোয়িক এসিড পাতলা লাইপোপলিস্যাকারাইড থাকে। যেমনClostridium, Staphylococcus, Streptococcus, Bacillus, Actinobacteria.

২। গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়াঃ যে সব ব্যাকটেরিয়াকে ক্রিস্টাল ভায়োলেট রঞ্জকে রঞ্জিত করার পর ধৌত করলে রঞ্জক ধরে রাখতে পারে না তাকে গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া বলে। এদের কোষপ্রাচীর পাতলা। এর কোষপ্রাচীরে পেপটাইডোগ্লাইকন পুরু লাইপোপলিস্যাকারাইড থাকে। E. coli, Salmonella typhi, Shigella, Proteus, Rhizobium, Vibrio cholerae, Neisseria meningitidis, Cyanobacteria.

 

ফ্ল্যাজেলার ভিত্তিতে  শ্রেণীবিভাগ

ব্যাকটেরিয়ার কোষে ফ্ল্যাজেলার সংখ্যা ও বন্টনকে ফ্ল্যাজেলেশন বলে। ফ্ল্যাজেলার উপস্থিতি, অনুপস্থিতি, সংখ্যা ও অবস্থানের ভিত্তিতে ব্যাকটেরিয়াকে নিম্নলিখিত ভাগে ভাগ করা যায়।

১। অ্যাট্রিকাসঃ যে সব ব্যাকটেরিয়ার কোষে কোন ফ্ল্যাজেলা থাকে না তাদেরকে অ্যাট্রিকাস বলে। যেমন- Bacillus diptheriae, Lactobacillus, Pasteurella, Corynebacterium diptheriae.

২। মনোট্রিকাসঃ যে ব্যাকটেরিয়া কোষের এক প্রান্তে একটি মাত্র ফ্ল্যাজেলাম থাকে তাকে মনোট্রিকাস বলে। যেমন- Vibrio cholerae.

৩। অ্যাম্ফিট্রিকাসঃ যে সব ব্যাকটেরিয়া কোষের উভয় প্রান্তে একটি করে ফ্ল্যাজেলা থাকে তাকে অ্যাম্ফিট্রিকাস বলে। যেমন- Nitrosomonas, Spirillum.

৪। সেফালোট্রিকাসঃ যে ব্যাকটেরিয়া কোষের এক প্রান্তে এক গুচ্ছ ফ্ল্যাজেলা থাকে তাকে সেফালোট্রিকাস বলে। যেমন- Pseudomonas aenoginosa, Pseudomonas fluorescens

৫। লফোট্রিকাসঃ যে সব ব্যাকটেরিয়া কোষের উভয় প্রান্তে এক গুচ্ছ করে মোট দুই গুচ্ছ ফ্ল্যাজেলা থাকে তাকে লফোট্রিকাস বলে। যেমন- Spirillum minus, Pseudomonas.

৬। পেরিট্রিকাসঃ যে ব্যাকটেরিয়ার সমগ্র কোষে ফ্ল্যাজেলা দ্বারা আবৃত থাকে তাকে পেরিট্রিকাস বলে।  যেমন- Bacillus typhi, Escherichia coli, Salmonella typhi.

ফ্ল্যাজেলার ভিত্তিতে  শ্রেণীবিভাগ

ব্যাকটেরিয়ার কোষে ফ্ল্যাজেলার সংখ্যা ও বন্টনকে ফ্ল্যাজেলেশন বলে। ফ্ল্যাজেলার উপস্থিতি, অনুপস্থিতি, সংখ্যা ও অবস্থানের ভিত্তিতে ব্যাকটেরিয়াকে নিম্নলিখিত ভাগে ভাগ করা যায়।

১। অ্যাট্রিকাসঃ যে সব ব্যাকটেরিয়ার কোষে কোন ফ্ল্যাজেলা থাকে না তাদেরকে অ্যাট্রিকাস বলে। যেমন- Bacillus diptheriae, Lactobacillus, Pasteurella, Corynebacterium diptheriae.

২। মনোট্রিকাসঃ যে ব্যাকটেরিয়া কোষের এক প্রান্তে একটি মাত্র ফ্ল্যাজেলাম থাকে তাকে মনোট্রিকাস বলে। যেমন- Vibrio cholerae.

৩। অ্যাম্ফিট্রিকাসঃ যে সব ব্যাকটেরিয়া কোষের উভয় প্রান্তে একটি করে ফ্ল্যাজেলা থাকে তাকে অ্যাম্ফিট্রিকাস বলে। যেমন- Nitrosomonas, Spirillum.

৪। সেফালোট্রিকাসঃ যে ব্যাকটেরিয়া কোষের এক প্রান্তে এক গুচ্ছ ফ্ল্যাজেলা থাকে তাকে সেফালোট্রিকাস বলে। যেমন- Pseudomonas aenoginosa, Pseudomonas fluorescens

৫। লফোট্রিকাসঃ যে সব ব্যাকটেরিয়া কোষের উভয় প্রান্তে এক গুচ্ছ করে মোট দুই গুচ্ছ ফ্ল্যাজেলা থাকে তাকে লফোট্রিকাস বলে। যেমন- Spirillum minus, Pseudomonas.

৬। পেরিট্রিকাসঃ যে ব্যাকটেরিয়ার সমগ্র কোষে ফ্ল্যাজেলা দ্বারা আবৃত থাকে তাকে পেরিট্রিকাস বলে।  যেমন- Bacillus typhi, Escherichia coli, Salmonella typhi.

রঞ্জক গ্রহণের ভিত্তিতে  শ্রেণীবিভাগ

বিজ্ঞানী ক্রিস্টিয়ান গ্রাম (Hans Christian Gram, ১৮৫৩১৯৩৮) রঞ্জন পদ্ধতির উদ্ভাবক। এই পদ্ধতিতে ব্যাকটেরিয়াকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

১। গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়াঃ যে সব ব্যাকটেরিয়াকে ক্রিস্টাল ভায়োলেট রঞ্জকে রঞ্জিত করার পর ধৌত করলে রঞ্জক ধরে রাখে (ব্লু, পার্পল) তাকে গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া বলে। এদের কোষপ্রাচীর পুরু। এর কোষপ্রাচীরে পেপটাইডোগ্লাইকন, টিকোয়িক এসিড পাতলা লাইপোপলিস্যাকারাইড থাকে। যেমনClostridium, Staphylococcus, Streptococcus, Bacillus, Actinobacteria.

২। গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়াঃ যে সব ব্যাকটেরিয়াকে ক্রিস্টাল ভায়োলেট রঞ্জকে রঞ্জিত করার পর ধৌত করলে রঞ্জক ধরে রাখতে পারে না তাকে গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া বলে। এদের কোষপ্রাচীর পাতলা। এর কোষপ্রাচীরে পেপটাইডোগ্লাইকন পুরু লাইপোপলিস্যাকারাইড থাকে। E. coli, Salmonella typhi, Shigella, Proteus, Rhizobium, Vibrio cholerae, Neisseria meningitidis, Cyanobacteria.

তাপ সহনশীলতার ভিত্তিতে  শ্রেণীবিভাগ

তাপ সহনশীলতার ভিত্তিতে ব্যাকটেরিয়াকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

১। সাইক্রোফিলিকঃ যে সব ব্যাকটেরিয়া নিম্ন তাপমাত্রায় বেঁচে থাকে তাকে Psychrophilic ব্যাকটেরিয়া বলে। শুন্য বা তার চেয়ে কম তাপমাত্রায় এ সব ব্যাকটেরিয়া বাঁচতে পারে। এদের সবচেয়ে ভাল বৃদ্ধির জন্য ২৫-৩০ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রা উত্তম। যেমন- Psychrobacter, Acinetobacter, Arthrobacter, Pseudomonas.

২। মেসোফিলিকঃ যে সব ব্যাকটেরিয়া স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বেঁচে থাকে তাকে Mesophilic ব্যাকটেরিয়া বলে। এদের সবচেয়ে ভাল বৃদ্ধির জন্য ৩০-৪০ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রা উত্তম। যেমন- Azotobacter, Rhizobium.

৩। থার্মোফিলিকঃ যে সব ব্যাকটেরিয়া উচ্চ তাপমাত্রায় বেঁচে থাকে তাকে Thermophilic ব্যাকটেরিয়া বলে। এদের সবচেয়ে ভাল বৃদ্ধির জন্য ৪৫-৬০ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রা উত্তম। যেমন- Thermus aquaticus, Bacillus coagulans.

অক্সিজেন গ্রহণের ভিত্তিতে শ্রেণীবিভাগ

অক্সিজেনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির ভিত্তিতে ব্যাকটেরিয়াকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

১। বায়ুজীব ব্যাকটেরিয়াঃ যে সব ব্যাকটেরিয়া অক্সিজেনের উপস্থিতি ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে না তাকে বায়ুজীবী ব্যাকটেরিয়া বলে। যেমন- Bacillus anthracis, Azobacter beijerinckii.

২। অবায়ুজীব ব্যাকটেরিয়াঃ যে সব ব্যাকটেরিয়া অক্সিজেনের উপস্থিতি ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে তাকে অবায়ুজীবী ব্যাকটেরিয়া বলে। যেমন- Clostridium tetani.

ব্যাকটেরিয়ার আকৃতিগত শ্রেণীবিভাগ

১। কক্কাস-Coccus

যে সব ব্যাকটেরিয়া দেখতে গোলাকার তাদেরকে কক্কাস ব্যাকটেরিয়া বলে। বিভিন্ন ধরনের কক্কাস ব্যাকটেরিয়া হলো-

(i) মাইক্রোকক্কাসঃ গোলাকার ব্যাকটেরিয়া গুলো একা একা বা পৃথক পৃথক ভাবে অবস্থান করলে তাকে মাইক্রোকক্কাস বলে। যেমন- Micrococcus denitrificans, Micrococcus aureus, Micrococcus flavus.

(ii) ডিপ্লোকক্কাসঃ গোলাকার ব্যাকটেরিয়া গুলো জোড়ায় জোড়ায় বা দুইটি করে একত্রে অবস্থান করলে তাকে ডিপোকক্কাস বলে। যেমন- Diplococcus pneumonia.

(ররর) স্ট্রেপ্টোকক্কাসঃ গোলাকৃতির ব্যাকটেরিয়া গুলো চেইন বা শৃঙ্খল আকারে অবস্থান করলে তাকে স্ট্রেপ্টোকক্কাস বলে। যেমন- Treptococcus lactis, Treptococcus strep and Treptococcus pyrogens.

(iv) টেট্রাকক্কাসঃ গোলাকার ব্যাকটেরিয়া কোষগুলো দুইটি ভিন্ন তলে বিভাজিত হয়ে চারটি করে একত্রে অবস্থান করলে তাকে টেট্রাকক্কাস বলে। যেমন- Gaffkyacoccus tetragena, Tetracoccus sp.

(v) স্ট্যাফাইলোকক্কাসঃ গোলাকৃতির ব্যাকটেরিয়া গুলো একত্রে আঙ্গুরের থোকার মতো অবস্থান করলে তাকে স্ট্যাফাইলোকক্কাস বলে। যেমন- Staphylococcus aureus.

(vi) সারসিনাঃ নির্দিষ্ট সংখ্যক গোলাকার ব্যাকটেরিয়া কোষ নিয়মিত ভাবে সাজানো থাকলে তাকে সারসিনা বলে। যেমন- Sarcina lutea.

 

২। ব্যাসিলাস বা দন্ডাকার

যে সব ব্যাকটেরিয়া দেখতে দন্ড আকৃতির তাদেরকে ব্যাসিলাস বলে। বিভিন্ন ধরনের ব্যাসিলাস হলো-

(i) মনোব্যাসিলাসঃ দন্ডাকৃতির ব্যাকটেরিয়া গুলো একক ভাবে অবস্থান করলে তাকে মনোব্যাসিলাস বলে। যেমন- Bacillus albus, Escherichia coli.

(ii) ডিপ্লোব্যাসিলাসঃ দন্ডাকৃতির ব্যাকটেরিয়া গুলো জোড়ায় জোড়ায় অবস্থান করলে তাকে ডিপ্লোব্যাসিলাস বলে। Lactobacillus, Corynebacterium diptheriae, Moraxella lacunata, Diplobacillus.

(iii) স্ট্রেপটোব্যাসিলাসঃ দন্ডাকৃতির ব্যাকটেরিয়া গুলো চেইন বা শৃঙ্খল আকারে অবস্থান করলে তাকে স্ট্রেপটোব্যাসিলাস বলে। যেমন- Bacillus tuberculosis, Streptobacillus moniliformis.

(iv) প্যালিসেড ব্যাসিলাসঃ দন্ডাকৃতির ব্যাকটেরিয়া গুলো পাশাপাশি সমান্তরাল ভাবে অবস্থান করে অলিক টিস্যুর মতো গঠন সৃষ্টি করলে তাকে প্যালিসেড ব্যাসিলাস বলে। যেমন- Lampropedia sp.

(v) কক্কোব্যাসিলাসঃ ব্যাকটেরিয়া গুলো ঈষৎ লম্বা বা ডিম্বাকার হলে তাদেরকে কক্কোব্যাসিলাস বলে। যেমন- Salmonella,  Mycobacterium, Coxiella burnetti.

 ৩। স্পাইরিলামঃ যে সব ভাইরাস দেখতে প্যাঁচানো বা কুন্ডালাকার তাদেরকে স্পাইরিলাম ব্যাকটেরিয়া বলে। যেমন- Spirillum minus, Treponema.

৪। কমাকৃতি ব্যাকটেরিয়াঃ যে সব ব্যাকটেরিয়া দেখতে কমাকৃতির অর্থাৎ দেহ খানিকটা পাক খাওয়ানো তাদেরকে কমাকৃতি ব্যাকটেরিয়া বলে। যেমন- Vibrio cholera.

৫। প্লিওমরফিকঃ যে সব ব্যাকটেরিয়ার সুনির্দিষ্ট আকৃতি নাই তাদেরকে প্লিওমরফিক বা বহুরুপী বা pleomorphic ব্যাকটেরিয়া বলে। যেমন- Rhizobium mayense.

৬। বর্গাকৃতির ব্যাকটেরিয়াঃ চার বাহু বিশিষ্ট বর্গাকার ব্যাকটেরিয়াকে বর্গাকৃতির ব্যাকটেরিয়া বলে। যেমন- Haloquadratum.

৭। তারকাকৃতি ব্যাকটেরিয়াঃ যে সব ব্যাকটেরিয়া দেখতে তারকা বা নক্ষত্রের মতো তাদেরকে তারকাকৃতি ব্যাকটেরিয়া বলে। যেমন- Stella humosa, Stella vacuolata.

৮। হাইফা বা অণুসূত্রাকার ব্যাকটেরিয়াঃ যে সব ব্যাকটেরিয়া পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট দীর্ঘ অণুসূত্র আকৃতির হয় তাদেরকে অণুসূত্রাকার ব্যাকটেরিয়া বলে। যেমন- Candidatus savagella, Streptomyces.

ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য

১। ব্যাকটেরিয়া হলো আণুবীক্ষণিক, ক্ষুদ্রতম (০.২-৫.০ মাইক্রোমিটার) ও সরলতম জীব।

২। এরা এককোষী জীব। তবে একত্রে দল বা কলোনী গঠন করতে পারে।

৩। এরা আদি প্রকৃতির জীব। অর্থাৎ এদের নিউক্লিয়াসে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাস থাকে না।

৪। এদের কোষে রাইবোজোম (৭০S) ছাড়া অন্য কোন অঙ্গাণু থাকে না। অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়ায় ক্লোরোপ্লাস্ট, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলজিবডি, লাইসোসোম, সাইটোস্কেলিটন, মাইক্রোবডিজ প্রভৃতি থাকে না।

৫। এরা পরজীবী (parasitic), মৃতজীবী (saprophytic) অথবা স্বভোজী (autophytic) হতে পারে।

৬। এদের কোষ প্রাচীর মিউকোপেপটাইড, পেপটাইডোগ্লাইক্যান, পলিস্যাকারাইড, টিকোয়িক এসিড ও মুরামিক এসিড এসিড দ্বারা গঠিত। কোষপ্রাচীর থাকে বলে এরা উদ্ভিদের সাথে মিল সম্পন্ন।

৭। এদের কোষঝিল্লি বা প্লাজমাপর্দা ভাঁজ হয়ে মেসোজোম গঠন করে।

৮। ফায্ ভাইরাসের প্রতি এরা খুবই সংবেদনশীল।

৯। এরা অজৈব লবণকে জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে।

১০। এরা প্রচন্ড ঠান্ডা -১৭ ডিগ্রী সে. থেকে শুরু করে ৮০ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

১১। অটোফাইটিক ব্যাকটেরিয়ার কোষে ফটোসিনথেটিক প্রিগমেন্ট হিসেবে ব্যাকটেরিওক্লোরোফিল, ব্যাকটেরিওভিরিডিন, ব্যাকটেরিয়াম ক্লোরোফিল ও ক্যারোটিন থাকে।

১২। এদের কোষে ক্রোমোসোম না থাকায় মাইটোসিস ও মায়োসিস কোষ বিভাজন ঘটে না।

১৩। এরা দ্বি-বিভাজন, অঙ্গজ, অযৌন ও যৌন জনন প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধি করে।

১৪। ইহা অক্সিজেনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিতে শ^সন ক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে।

১৫। কিছু ব্যাকটেরিয়া বাধ্যতামূলক বায়বীয়, কিছু ব্যাকটেরিয়া বাধ্যতামূলক অবায়বীয় এবং কিছু ব্যাকটেরিয়া সুবিধাবাদী অবায়বীয়।

১৬। ব্যাকটেরিয়ার কোষে ফ্ল্যাজেলা থাকে। ইহা ফ্ল্যাজেলিন প্রোটিন দ্বারা গঠিত।

১৭। ব্যাকটেরিয়ায় পিলি বা ফিমক্সি থাকে। ইহা পিলিন প্রোটিন দ্বারা গঠিত।

১৮। এর কোষঝিল্লিতে কোলেস্টেরল বা স্টেরয়েড থাকে না।

১৯। প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার জন্য এন্ডোস্পোর গঠন করে। এ অবস্থায় ৫০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে।

২০। এরা সাধারণত বেসিক রং (গ্রাম পজিটিভ বা নেগেটিভ) ধারণ করতে পারে।

ব্যাকটেরিয়ার অবস্থান

১। ব্যাকটেরিয়া উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহে পরজীবী হিসেবে বাস করে। প্রাণীর অন্ত্রে মিথোজীবী হিসেবে বাস করে। মানবদেহে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়া হলো- Salmonella typhosa, Mycobacterium tuberculosis, Bacillus anthracis, Diplococcus pneumoniae, Clostridium tetani প্রভৃতি।

২। এক গ্রাম মাটিতে প্রায় ৪০ মিলিয়ন এবং এক মিলিলিটার মিঠা পানিতে প্রায় ১ মিলিয়ন ব্যাকটেরিয়া থাকে। মাটিতে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়া হলো- Rhizobium, Azotobacter, Bacillus, Clostridium, Nitrosococcus, Nitrosomonas প্রভৃতি।

৩। মানবদেহে যত সংখ্যক কোষ আছে তার ১০ গুণ ব্যাকটেরিয়া আছে। মানুষের মুখে ৫০০ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া বাস করে।

৪। পৃথিবীতে প্রায় পাঁচ ননিলিয়ন ব্যাকটেরিয়া আছে। ব্যাকটেরিয়ার সামগ্রিক জীবভর সকল উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবভর অপেক্ষা বেশি।

৫। প্রচন্ড শীত (-১৭ ডিগ্রী সে.) এবং প্রচন্ড উঞ্চতায় (১০০ ডিগ্রী সে.) ব্যাকটেরিয়া অবস্থান করে। অক্সিজেনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিতে ব্যাকটেরিয়া বাঁচতে পারে।

৬। মানুষের কলেরা (Vibrio cholerae), আমাশয় (Bacillus dysenteti), যক্ষ্মা (Mycobacterium tuberculosis), টাইফয়েড (Salmonella typhosa), হুপিংকাশি (Bordetallapertussus ), নিউমোনিয়া (Diplococcus pneumoniae), ডিপথেরিয়া (Corynebacterium diptheriae), সিফিলিস (Treponema pallidum), গনোরিয়া (Neisseria gonorrhoeae), মেনিনজাইটিস (Neisseria meningitidis), প্লেগ (Yersinia pestis), ধনুষ্টাংকার/টিটেনাস (Clostridium tetani), কুষ্ঠ (Mycobacterium leprae) প্রভৃতি রোগ ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়।

৭। গরু-মহিষের যক্ষ্মা (Mycobacterium bovis) ও অ্যানডিউলেটেড জ্বর, ভেড়ার এনথ্রাক্স (Bacillus anthracis), ছাগলের ব্রুসিলোসিস (Brucella sui), ইঁদুরের প্লেগ (Yersinia pestis), হাঁস-মুরগীর কলেরা (Bacillus avisepticus) প্রভৃতি রোগ ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি করে।

৮। গমের টুন্ডু রোগ (Agrobacterium tritici), ধানের ব্লাাইট (Xanthomonas oryzae), আখের আঠাঝরা রোগ (Xanthomonas vasculorum), টমেটোর ক্যাংকার রোগ (Corynebacterium michiganese),  টমেটো ও গোলাপের ক্রাউন গল (Agrobacterium tumefaciens), লেবুর ক্যাংকার রোগ (Xanthomonas citri), আলুর স্ক্যাব রোগ (Steptomyces scabies), আপেলের ফায়ার ব্লাইট (Erwinia amylovora), ভুট্রার বোটা পচা ও আলুর নরম পচা রোগ (Erwinia carotovora), তামাকের ব্লাইট (Pseudomonas tabacci), তুলার লিফ স্পট রোগ (Xanthomonas mavacearum), সীমের লিফ স্পট (Xanthomonas malvacearum) প্রভৃতি রোগ ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়।