পৃথিবীতে প্রায় পাঁচ ননিলিয়ন ব্যাকটেরিয়া আছে। এক গ্রাম মাটিতে প্রায় ৪০ মিলিয়ন এবং এক মিলিলিটার মিঠা পানিতে প্রায় ১ মিলিয়ন ব্যাকটেরিয়া থাকে। Encyclopedia of Flora and Fauna of Bangladesh পুস্তকে বাংলাদেশ থেকে মোট ৪৭২ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ প্রজাতির সায়ানোব্যাকটেরিয়া, ৬০ প্রজাতির প্রোটিওব্যাকটেরিয়া, ৪২ প্রজাতির ফিরমিকিউট্স এবং ৭০ প্রজাতির অ্যাকটিনোব্যাকটেরিয়া।
Category: Biology Second Paper Lecture Sheet
ব্যাকটেরিয়ার আকার
ব্যাকটেরিয়া আকারে প্রায় ০.২-৫০ মাইক্রোমিটার হয়ে থাকে। ব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া ৫×০.৪-০.৭ মাইক্রোমিটার, সিউডোমোনাস ব্যাকটেরিয়া ০.৪-০.৭ মাইক্রোমিটার এবং মাইক্রোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া প্রায় ০.৬ মাইক্রোমিটার হয়। সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম ব্যাকটেরিয়া হলো Dialister pneumosintes। ইহা মানুষের শ^াসনালিতে রোগ সৃষ্টি করে। সবচেয়ে বৃহত্তম ব্যাকটেরিয়া হলো Epulopiscium fishelsoni। ইহা এক প্রকার সামুদ্রিক মাছের অন্ত্রে মিথোজীবী হিসেবে বাস করে। বর্তমানে মাইকোপ্লাজমাকে ব্যাকটেরিয়া হিসেবে ধরা হয়।
ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার
১৬৭৫ সালে ওলন্দাজ বিজ্ঞানী অ্যান্টিনি ভন লিউয়েন হুক (Antony Von Leeuwenhoek) ব্যাকটেরিয়া পর্যবেক্ষণ করেন এবং নাম দেন ক্ষুদ্র প্রাণী বা animalcule। ১৭৭৩ সালে ড্যানিশ বিজ্ঞানী মুলার দন্ডাকার ক্ষুদ্র প্রাণীকে ব্যাসিলি নামে অভিহিত করেন। ১৮২৯ সালে জার্মান বিজ্ঞানী এরেনবার্গ (C. G Ehrenberg) সর্বপ্রথম ক্ষুদ্র জীবদের ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন। ১৮৬৯ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (Louis Pasteur) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্ব বা Germ theory of disease প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৭৮ সালে জার্মান চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী স্যাডিলট (Sadilot) ব্যাকটেরিয়াকে মাইক্রোবস্ নামে আখ্যা দেন। ১৯৫২ সালে জিন্ডার ও লিন্ডারবার্গ ব্যাকটেরিয়ার ট্রান্সডাকশন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। ১৯৬৮ সালে বিজ্ঞানী ম্যারি (Mary) ব্যাকটেরিয়াকে প্রোক্যারিওটার অন্তর্ভুক্ত করেন। জার্মান চিকিৎসক রবার্ট কচ (Robert Koch) কে ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়।
ব্যাকটেরিয়া ।। Bacteria
গ্রীক শব্দ bakterion অর্থ লাঠি বা দন্ড। উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহে রোগ সৃষ্টিকারী জটিল কোষপ্রাচীর বিশিষ্ট ক্লোরোফিলবিহীন এককোষী আদি প্রকৃতির আণুবীক্ষণিক সরলতম জীবকে ব্যাকটেরিয়া বলে। ব্যাকটেরিয়াকে প্রাকৃতিক ঝাড়–দার বলা হয়। জীববিজ্ঞানের যে শাখায় ব্যাকটেরিয়ার গঠন, আবাস, রোগতত্ত¡, বংশবিস্তার প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে ব্যাকটেরিওলজি বলে। অ্যান্টনী ভ্যান লিউয়েন হুককে ব্যাকটেরিওলজি ও প্রোটোজুওলজির জনক বলা হয়।
এইডস এর চিকিৎসা
এইডস নিরাময়ের কোন চিকিৎসা আজ পর্যন্ত আবিষ্কার হয় নাই। ওষুধ দ্বারা এইডস এর চিকিৎসাকে anti-retroviral therapy বা ART বলে। এইডস এর চিকিৎসায় Food and Drug Administration-FDA (USA) দুইটি গ্রুপের ওষুধ একত্রে সেবন করতে বলেছে। এই ধরনের চিকিৎসা Highly Active Antiretroviral Therapy-HAART নামে পরিচিত। প্রথম গ্রুপের ওষুধ হলো Nucleoside reverse transcriptase inhibitors যা এর সংক্রমণকে বিলম্বিত করে। দ্বিতীয় গ্রুপের ওষুধ হলো Protease inhibitors যা HIV এর রেপ্লিকেশনে বাধা সৃষ্টি করে। অনুমোদিত কয়েকটি ওষুধ হলো- Fusion Inhibitors, Entry Inhibitors, Integrase Inhibitor, Pharmacokinetic Enhancers etc.
HIV প্রতিরোধে করণীয়
(i) সামাজিক ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে হবে।
(ii) বিশ্বস্ত সঙ্গীর সঙ্গে মেলামেশা করতে হবে।
(iii) যৌন মিলনের সময় কনডম ব্যবহার করতে হবে।
(iv) শিরায় ড্রাগ গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে।
(v) একই সিরিঞ্জ বার বার ব্যবহার করা যাবে না।
(vi) রক্ত গ্রহণের আগে ভাইরাস মুক্ত কিনা তা পরীক্ষা করে নিতে হবে।
(vii) সেলুনে একই ব্লেড একাধিক বার ব্যবহার না করা।
(viii) রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসা করাতে হবে।
(ix) যৌন কর্মীদের নিরাপদ যৌনতা সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।
(x) জনগণকে সচেতন করতে হবে।
AIDS রোগ নির্ণয়করণ
অ্যান্টিবডি টেস্ট, ওয়েস্টার্ন ব্লট টেস্ট ইত্যাদি। রক্তের T-helper cells বা CD-4 cells পরীক্ষা করা হয়। (CD-4 cells এর স্বাভাবিক মাত্রা ৫০০-১,৫০০ cell/mm3)।
এইডস রোগের লক্ষণ
(i) জ্বর আসে, মাথা ব্যথা হয় এবং ক্লান্তিবোধ হয়।
(ii) শুকনা কফ হয়। নিউমোনিয়া দেখা দেয় এবং নিঃশ্বাসে সাঁ সাঁ শব্দ হয়।
(iii) লসিকা গ্রন্থি ফুলে যায় এবং লিম্ফোমা ক্যান্সার হয়।
(iv) পেট ব্যথা হয় এবং খাবারে অরুচি হয়।
(v) অস্থিসন্ধি প্রচন্ড ব্যথা এবং জ্বালাপোড়া করে।
(vi) ত্বক ও মুখে কারপোসি সারকোমা ক্যান্সার (বাদামী দাগ) হয়।
(vii) মস্তিষ্কে ট্রক্সোপ্লাজমোসিস হয় এবং চিন্তা শক্তি হ্রাস পায়। স্মৃতিশক্তি ও দৃষ্টি শক্তি হ্রাস পায়।
(viii) অঙ্গ বিকৃত হয়। শরীরের ওজন হ্রাস পায়। শরীর দুর্বল হয়ে যায়।
(ix) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে যায় এবং রোগী মারা যায়।
Human Immunodeficiency Virus (HIV)
মরণব্যাধি AIDS রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস হলো HIV। ইহা মানুষের শে^ত রক্তকণিকাকে করে ধ্বংস করে দেয়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় বা নষ্ট হয়ে যায়। বাংলাদেশে ক্রমেই এইডস্ রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।
HIV সংক্রমণের উপায়
নারী-পুরুষের যে কোন ধরনের (মুখ, যোনি, পায়ু) যৌন মিলন। সংক্রমিত মায়ের গর্ভে জন্ম গ্রহণকারী শিশু। সংক্রমিত মায়ের দুধ পান করলে। সংক্রমণকারীর রক্ত গ্রহণ করলে। সংক্রমিত সিরিঞ্জ ব্যবহার করলে। একই ব্লেড বা ক্ষুর বিভিন্ন ব্যক্তি ব্যবহার করলে। দন্ত চিকিৎসা অথবা শল্য চিকিৎসার মাধ্যমে।
Covid-19 ভ্যাক্সিন বুস্টার
কোন নির্দিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক টিকার কার্যকারিতা উজ্জীবিত করতে যে বাড়তি ডোজ দেওয়া হয় তাকে বুস্টার ডোজ বলে। প্রাথমিক টিকা নেওয়ার ৫ মাস পর প্রথম বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়। প্রাথমিক টিকা গ্রহণের ১২ বছর পর Covid-19 ভ্যাক্সিন বুস্টার নিতে হয়।