করোনা চিকিৎসায় নিশ্চিত ফলপ্রসু ওষুধ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অ্যাভিগান (জাপানি), রেমডেসিভির (আমেরিকার), ইন্টারফেরন আলফা টু-বি (কিউবা), ফ্যাভিপিরাভির (রাশিয়া), করোনাভ্যাক (চীন), ফাইজা-বায়োএনটেক (আমেরিকা ও জার্মানী), মর্ডানা (মার্কিন), স্পুটনিক ভি (রাশিয়া), কোভিশিল্ড (যুক্তরাজ্য), জনসন অ্যান্ড জনসন (আমেরিকা, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস), সিনোফার্ম (চীন), কোভ্যাক্সিন (ভারত), নোভাভ্যাক্স (আমেরিকা, নরওয়ে, ভারত), কর্বেভ্যাক্স (ভারত, আমেরিকা) প্রভৃতি ওষুধ আশার আলো দেখাচ্ছে। মারাত্বক মুমূর্ষু রোগের ক্ষেত্রে ডেক্সামেথাসন আশাপ্রদ ফল দিচ্ছে।
Category: Biology Second Paper Lecture Sheet
নভেল করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ
ভাইরাস অকোষীয় জীবাণু তাই কখনো মারা যায় না। প্রতিষেধকই একমাত্র উত্তম ব্যবস্থা।
(i) রোগী ও সন্দেহভাজন ব্যক্তি থেকে দূরে থাকা।
(ii) জনসমাগম এড়িয়ে চলা। সভা-সমাবেশ ও হাট বাজার থেকে দূরে থাকে।
(iii) অপরিষ্কার হাত দিয়ে নাক, মুখ ও চোখ স্পর্শ না করা।
(iv) কারো সাথে হ্যান্ডশেক ও কোলাকুলি না করা।
(v) গণপরিবহন ও লিফট ব্যবহার না করা।
(vi) পশুপাখির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।
(vii) রোগাক্রান্ত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি থেকে ৩ ফুট দূরে থাকা (অনেকের মতে, ক্ষদ্র ক্ষুদ্র water drop গুলো ৪০ ফুট পর্যন্ত যেতে পারে)।
(viii) নাখ ও মুখে উত্তম মাস্ক ব্যবহার করলে রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা কম থাকে।
(ix) অপরিষ্কার হাত সাবান দিয়ে ভালভাবে ধৌত করা।
(x) রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রাখতে হবে।
(xi) নাক ও মুখে পানি দিয়ে জোর গতিতে বাতাস বা শ্বাস ত্যাগ করা।
(xii) মাছ, মাংস ও ডিম খুব ভালভাবে রান্না করা এবং কম সিদ্ধ করা খাবার গ্রহণ না করা।
(xiii) ভিটামিন-C যুক্ত ফল খাওয়া। যেমন-কমলা, লেবু, মুসাম্বি, মালটা প্রভৃতি।
(xiv) করোনা রোগীকে আইসোলেশন বা হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে।
(xv) ডিহাইড্রেশন রোধে ডাবের পানি পান করা।
(xvi) নভেল করোনা টিকা বা ভ্যাক্সিন নেওয়া।
(xvii) অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ দিয়ে রোগের অগ্রযাত্রা রোধ করা যায়। ইন্টারফেরন একটি অ্যান্টিভাইরাস ড্রাগ। অনেক উদ্ভিদে অ্যান্টিভাইরাল উপাদান আছে। ইন্টারফেরন ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করতে পারে।
কিভাবে করোনায় আক্রান্ত হয়
(i) রোগীর হাঁচি, কাশি, থুথু ও কথা বলার সময় নির্গত জলকণা বা water drop এর মাধ্যমে সুস্থ দেহে প্রবেশ করে।
(ii) বাতাসের ধুলি কণার মাধ্যমে ভাইরাস দেহে প্রবেশ করতে পারে।
(iii) কোন বস্তুর সাথে লেগে থাকা ড্রপলেটের মাধ্যমে অন্য দেহে প্রবেশ করতে পারে।
(iv) ভাইরাস যুক্ত স্থানে হাত লাগলে হাতের মাধ্যমে নাক, মুখ ও চোখে প্রবেশ করতে পারে।
(v) আক্রান্ত ব্যক্তির জামা-কাপড় ও ব্যবহৃত বস্তু থেকে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
রোগ প্রকাশের সময়কাল
করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার ২-১৪ দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। তবে সংক্রমিত দেহে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৫-৭ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমিত ব্যক্তির দেহে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। এ ধরনের ব্যক্তিকে অলক্ষèত্মক (asymptomic) বলে। অলক্ষèত্মক ব্যক্তি বিভিন্ন উপায়ে অন্যদের সংক্রমিত করে।
নভেল করোনা ভাইরাসের লক্ষণ
১। প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণ
(i) জ্বরের মাধ্যমে এ রোগের লক্ষণ শুরু হয়।
(ii) শুকনো কাশি হয়।
(iii) শ্বাসকষ্ট হয়। শ্বাসকষ্ট এ রোগের প্রধান লক্ষণ।
(iv) সর্দি, গলা ব্যথা, মাথা ব্যথা প্রভৃতি হয়।
(v) মাংসপেশিতে ব্যথা হয়।
(vi) পাতলা পায়খানা এবং শরীর দুর্বল হয়।
(vii) ত্বকে ফুসকুড়ি এবং পায়ের পাতা বিবর্ণ হয়।
(viii) চোখ লাল হওয়া বা চোখ জ্বলা।
(ix) বুকে ব্যথা হয়।
(x) ফুসফুসের ধমনীতে রক্ত জমাট বেঁধে যায়।
২। গুরুতর পর্যায়ে লক্ষণ
(i) শ্বাসকষ্ট তীব্রতর হয়।
(ii) বুকে অব্যাহত ব্যথা এবং চাপ অনুভূত হয়।
(iii) রোগী উঠতে, চলতে বা দাঁড়িয়ে থাকতে অক্ষম।
(iv) রোগীর দিশেহারা ভাব।
(v) ত্বক, নখ ও ঠোঁট ফ্যাকাশে, ধূসর বা নীল হয়ে যায়।
(vi) রোগীর নিউমোনিয়া হতে পারে।
(vii) রোগী মারা যেতে পারে।
করোনা রোগ সংক্রমণ পরীক্ষা
Reverse Transcription Polymerase Chain Reaction বা RT-PCR পরীক্ষা উত্তম। পরীক্ষায় পজিটিভ হলে অবশ্যই ভাইরাস আক্রান্ত। নেগেটিভ হলে ভাইরাস আক্রান্ত না। তবে ন্যাসোফ্যারিঞ্জিয়াল সোয়াব সেম্পল নেওয়া সঠিক না হলে পরীক্ষায় নেগেটিভ হতে পারে। বুকের এক্স-রে পরীক্ষায় নিউমোনিয়া নিশ্চিত হলে করোনা পজিটিভ।
নভেল করোনা ভাইরাস (Covid-19/ Corona virus) কী?
Co = Corona, Vi = Virus এবং D = Disease নিয়ে Covid শব্দটি গঠিত। ল্যাটিন শব্দ corona অর্থ crown like বা মুকুট। Coronaviridae গোত্রের দ্বিস্তরী লিপিড আবরণীযুক্ত মুকুটের মতো বৃহৎ ভাইরাস কণাকে করোনা ভাইরাস বা Covid-19 বলে। Covid-19 হলো পৃথিবীর সবচেয়ে মারাত্বক প্রাণঘাতী ভাইরাস। এটি বর্তমান পৃথিবীর এক নম্বর শক্র। নভেল করোনা হলো দ্বিতীয় RNA ভাইরাস। ইহা 27-32 Kb আকৃতির গোলাকার, অখন্ডিত এবং একসূত্রক RNA ভাইরাস। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা ১১ মার্চ ২০২০ সালে Covid-19 কে Pandemic অর্থাৎ বৈশি^ক মহামারি হিসেবে ঘোষণা করে।
জন্ডিস বা হেপাটাইটিস প্রতিরোধ
১। খাবার ও পানীয় দ্রব্য গ্রহণের সময় অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
২। রক্ত দেওয়া বা নেওয়ার আগে অবশ্যই হেপাটাইটিস B ও C এর উপস্থিতি পরীক্ষা করে নিতে হবে।
৩। রোগীর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে না আসা।
৪। সেলুনে সেভ করার সময় আলাদা ব্লেড ব্যবহার করা। সেলুনে সেভ না করা ভাল।
৫। সিরিঞ্জ এবং ইনজেশনের যন্ত্রপাতি জীবাণু মুক্ত রাখা। সর্বক্ষেত্রে ডিসপোজিবল সিরিঞ্জ ব্যবহার করা।
৬। রোগীর রেজার, টুথব্রাশ, নেল কাটার, ত্বক ফোটানো ও রক্ত গ্রহণের যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করা।
৭। ত্বকের কাটাছেঁড়া ও ক্ষত পরিষ্কার রাখা এবং ওয়াটার প্রুভ ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে দেওয়া।
৮। রোগাক্রান্ত ব্যক্তির সাথে যৌন মিলন করা যাবে না।
৯। সরকারী ও বেসরকারী ভাবে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা।
১০। প্যান্টাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন গ্রহণ করাই হলো প্রতিরোধের একমাত্র উপায়। হেপাটাইটিস-বি এর ভ্যাক্সিন ডোজ ৪টি। প্রথম ৩টি এক মাস পর পর এবং চতুর্থটি প্রথম ডোজ থেকে এক বছর পর নিতে হবে। পাঁচ বছর পর বুস্টার ডোজ নিতে হবে।
জন্ডিস বা হেপাটাইটিস চিকিৎসা
জন্ডিস প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হলো প্যান্টাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন গ্রহণ।
১। হেপাটাইটিস-A আক্রান্ত রোগীর নির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা দিতে হয় না। স্বতঃস্ফুর্তভাবেই এ রোগ ভাল হয়ে যায়। টিকা নিয়ে হেপাটাইটিস-A প্রতিরোধ করা যায়। হেপাটাইটিস-A এর টিকা হলো Havrix, Avaxim, BIOVAC-A প্রভৃতি।
২। হেপাটাইটিস-B আক্রান্ত রোগীর বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। রোগীকে উচ্চমাত্রার প্রোটিন ও শর্করা জাতীয় খাবার দিতে হবে। এতে ক্ষয়প্রাপ্ত যকৃত কোষগুলো পুনঃগঠিত হয়। দীর্ঘস্থায়ী রোগীকে ওষুধ এবং ইন্টরফেরন ইনজেকশন দেওয়া হয়। টিকা নিয়ে হেপাটাইটিস-B প্রতিরোধ করা যায়। হেপাটাইটিস-B এর টিকা হলো Recombivax-HB, Engerix-B, Elovac-B, Genevac-B, Shanvac-B প্রভৃতি। এ সব টিকা পেশিতে প্রয়োগ করা হয়।
৩। এখন পর্যন্ত হেপাটাইটিস-C এর কোন টিকা আবিষ্কার হয় নাই। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর কয়েকটি ওষুধ হলো- পেগাসিস, ইন্টারফেরন, ল্যামিভুমিন, এডিফোভির প্রভৃতি।
৪। হেপাটাইটিস রোগীকে ১০-১২ দিন পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে Amoxycillin, Metronidazole প্রভৃতি ওষুধ খাওয়ানো যেতে পারে।
৫। লিভার খুব দুর্বল বা অকার্যকর হয়ে গেলে লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন বা প্রতিস্থাপন করা হয়। আমেরিকা, ইউরোপ, চীন, জাপান, ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর প্রভৃতি দেশে সফল ভাবে লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন করা হচ্ছে। বাংলাদেশে খুব শীঘ্রই লিভার প্রতিস্থাপন শুরু হবে।
জন্ডিস বা হেপাটাইটিস নিয়ন্ত্রণ (Control of Hepatitis)
১। রোগীকে ঘন ঘন পানি খাওয়াতে হবে।
২। গ্লুকোজের সরবত খেতে হবে।
৩। রক্ত দেয়া নেয়ার সময় ভাল ভাবে পরীক্ষা করে নিতে হবে।
৪। পরিমিত বিশ্রাম নিতে হবে এবং শারীরিক পরিশ্রম পরিহার করতে হবে।
৫। ফলের রস, ডাবের পানি ও আখের রস খেতে হবে।
৬। ছোট মাছ ও মুরগীর ঝোল খেতে হবে।
৭। পেঁপে, পটল ও করলার তরকারী খেতে হবে।
৮। অড়হড় ও ভুঁই আমলার পাতার রস পান করতে হবে।
৯। মাদক, তন্দ্রাদায়ক ওষুধ, তৈলাক্ত ও চর্বিযুক্ত খাবার সম্পুর্ণরুপে পরিহার করতে হবে।
১০। বাসি ও খোলা খাবার এবং অফুটানো পানি পান না করা।
১১। রোগীকে ১০-১২ দিন পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে।
১২। রোগীর সাথে যৌন মিলন থেকে বিরত থাকতে হবে।
১৩। চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া।