মানুষের ব্যাকটেরিয়াঘটিত যৌন রোগ (STD) ।। Human Bacterial Disease

যে সব রোগ যৌন মিলনের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়ে তাকে যৌনবাহিত রোগ বা Sexually transmitted diseases-STD বলে। যৌনবাহিত রোগ হলো গনোরিয়া ও সিফিলিস।

(i) গনোরিয়াঃ Neisseria gonorrhoeae ব্যাকটেরিয়ার কারণে গনোরিয়া রোগ হয়। নারী ও পুরুষের যৌন মিলনের মাধ্যমে রোগটি ছড়ায়। যোনি, মুখ ও পায়ুপথ দিয়ে যৌন মিলন করলে এই রোগ এক দেহ থেকে অন্য দেহে সংক্রমিত হয়। বহিঃযৌনাঙ্গের সংস্পর্শে রোগটি ছড়ায়। রোগাক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, ক্ষত অথবা চুম্বনের মাধ্যমে রোগের বিস্তার ঘটে। সংক্রমিত বিছানা, চাদর, পোষাক প্রভৃতি থেকে শিশুরা রোগাক্রান্ত হতে পারে। ঘনবসতি ও অপরিচ্ছন্নতা থেকে শিশুদের গনোরিয়া হতে পারে। এতে নারী এবং পুরুষ উভয়ই বন্ধ্যা হয়ে যেতে পারে।

(ii) সিফিলিসঃ Treponema pallidum ব্যাকটেরিয়ার কারণে সিফিলিস রোগ হয়। নারী ও পুরুষের যৌন মিলনের মাধ্যমে রোগটি ছড়ায়। যোনি, মুখ ও পায়ুপথ দিয়ে যৌন মিলন করলে এই রোগ এক দেহ থেকে অন্য দেহে সংক্রমিত হয়। রোগাক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, ক্ষত অথবা চুম্বনের মাধ্যমে রোগ ছড়ায়। রোগীর টয়লেট, বাথট্যাব, পোষাক, খাবার পত্র এবং সুইমিং পুল ব্যবহার করলে সিফিলিস হতে পারে। রোগাক্রান্ত মায়ের সন্তানের সিফিলিস হয়। ২১ দিনের মধ্যে রোগ লক্ষণ প্রকাশ পায়। তবে ব্যক্তি বিশেষে ১০-৯০ দিনে প্রকাশ পেতে পারে।

মানুষের ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ ।। Bacterial Disease

মানুষের কলেরা (Vibrio cholerae)

আমাশয় (Bacillus dysenteti)

যক্ষ্মা (Mycobacterium tuberculosis)

টাইফয়েড (Salmonella typhosa)

হুপিংকাশি (Bordetalla pertussis)

নিউমোনিয়া (Diplococcus pneumoniae)

ডিপথেরিয়া (Corynebacterium diptheriae)

সিফিলিস (Treponema pallidum)

গনোরিয়া (Neisseria gonorrhoeae)

মেনিনজাইটিস (Neisseria meningitidis)

প্লেগ (Yersinia pestis)

ধনুষ্টাংকার/টিটেনাস (Clostridium tetani)

কুষ্ঠ (Mycobacterium leprae)

অ্যানথ্রাক্স, আনডিউলেটেড জ্বর

ব্যাকটেরিয়ার উপকারী ভুমিকা ।। Beneficial roles of Bacteria

১। চিকিৎসা ক্ষেত্রে ভূমিকা

(i) অ্যান্টিবায়োটিক তৈরীঃ ব্যাকটেরিয়া থেকে সাবটিলিন (Bacillus subtilisi), পলিমিক্সিন (Bacillus polymyxa), স্ট্রেপটোমাইসিন (Actinomycetes), টেরামাইসিন, কলিসিন বা কলিব্যাকটেরিন (E. coli) প্রভৃতি জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টিবায়োটিক তৈরী করা হয়¬।

(ii) প্রতিষেধক টিকা তৈরীঃ ব্যাকটেরিয়া থেকে কলেরা, টাইফয়েড, যক্ষ্মা, ধনুষ্টংকার, হুপিংকাশি, ডিপথেরিয়া প্রভৃতি রোগের  প্রতিষেধক টিকা তৈরী করা হয়¬। DPT রোগের  প্রতিষেধক টিকা ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরী করা হয়¬। Corynebacterium dipthae (D), Bordetalla pertussis (P) এবং Clostridium tetani (T) থেকে DPT নামকরণ করা হয়েছে।

(iii) স্টেরয়েড তৈরীঃ জৈব প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া থেকে স্টেরয়েড উৎপাদন করা হয়। স্টেরয়েড চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়। যেমন- টেস্টোস্টেরন, পেডনিসোন, ইস্ট্রাডিওল, ইস্ট্রোন প্রভৃতি।

(iv) হরমোন তৈরীঃ জৈব প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া থেকে মূল্যবান হরমোন তৈরী করা হয়। এ সব হরমোন ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়। যেমন- ইনসুলিন, এরিথ্রোপোইটিন, ইন্টারফেরন, টিপিএ প্রভৃতি।

 

২। কৃষিক্ষেত্রে ভূমিকা

(i) মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিঃ ব্যাকটেরিয়া উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহকে পচিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। ফলে মাটির জৈব উপাদান বেড়ে যায় এবং উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।

(ii) নাইট্রোজেন সংবন্ধনঃ Azotobacter, Pseudomonas, Clostridium প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া বায়ু থেকে নাইট্রোজেন ধরে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। Rhizobium শিম জাতীয় উদ্ভিদের মূলে বায়ু থেকে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে। বর্তমানে  Rhizobium-কে জীবাণু সার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মসুর ডালের মূলে Rhizobium এর তিনটি প্রজাতি নডিউল সৃষ্টি করে। এগুলো হলো- Rhizobium bangladashense, Rhizobium bine এবং Rhizobium lentis। বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ড. হারুন অর রশিদ এই তিনটি প্রজাতি আবিষ্কার করেছেন।

(iii) নাইট্রিফিকেশনঃ নাইট্রিফিকেশন প্রক্রিয়ায় নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে অ্যামোনিয়া থেকে নাইট্রাইট উৎপন্ন হয়। পরে নাইট্রাইট থেকে নাইট্রেট উৎপন্ন হয়। নাইট্রেট মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।

(iv) পতঙ্গ নাশক হিসেবেঃ কোন কোন ব্যাকটেরিয়া জমিতে পতঙ্গ নাশক হিসেবে ব্যবহার হয়। যেমন- Bacillus thuringiensis

(v) ফলন বৃদ্ধিতেঃ কিছু ব্যাকটেরিয়া জমিতে প্রয়োগ করে ধানের ফলন ৩১.৮% এবং গমের ফলন ২০.৮%  বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে।

(vi) ফসলের উন্নত জাত সৃষ্টিঃ ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে জিনের স্থানান্তর ঘটিয়ে ট্রান্সজেনিক ফসল সৃষ্টি করা হয়েছে। এসব ট্রান্সজেনিক ফসল উন্নত মানের।

(vii) জৈব সার উৎপাদনঃ বর্তমানে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে গোবর ও ময়লা আবর্জনা পচিয়ে জৈব সার তৈরী করা হচ্ছে। জমিতে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার হচ্ছে।

(viii) পশুখাদ্য বা সিলেজ তৈরীঃ ধানের খড়, ঘাস এবং লিগিউম জাতীয় উদ্ভিদের কান্ড কেটে টুকরা টুকরা করা হয়। টুকরা গুলো চিটাগুড়ের সাথে মিশিয়ে আবদ্ধ পাত্রে রাখা হয়। গাঁজন প্রক্রিয়ায় Lactobacillus ব্যাকটেরিয়া এগুলোকে উন্নতমানের গো-খাদ্যে পরিনত করে। এই গো-খাদ্যকে সিলেজ বলে।

(ix) পাট শিল্পেঃ Clostridium butricum জাতীয় ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে পাট পচিয়ে আঁশ পৃথক করা হয়।

(x) সেলুলোজ পরিপাকঃ গবাদিপশুর পাকস্থলীতে Ruminococcus albus Ruminococcus flavefaciens ব্যাকটেরিয়া বাস করে। এ সব ব্যাকটেরিয়া সেলুলেজ এনজাইম উৎপন্ন করে। সেলুলেজ এনজাইম কাঁচা ঘাস ও উদ্ভিদ হজমে সাহায্য করে।

 

৩। শিল্পক্ষেত্রে ভূমিকা

(i) ভিটামিন তৈরীঃ মানুষের পরিপাকতন্ত্রে বসবাসকারী E. coli  ব্যাকটেরিয়া ভিটামিন- B, ভিটামিন- K2, থায়ামিন, রিবোফ্ল্যাভিন, ফলিক এসিড, বায়োটিন প্রভৃতি সংশ্লেষণ করে। বর্তমানে গাঁজন প্রক্রিয়ায় ভিটামিন তৈরীতে কয়েক প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার হচ্ছে।

(ii) দুগ্ধ শিল্পেঃ  LactobacillusStreptococcus ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে দুধ থেকে ছানা, পনির, মাখন, ঘি, ঘোল প্রভৃতি তৈরী করা হয়।

(iii) চামড়া শিল্পেঃ টেনিন প্রক্রিয়ায় চামড়া থেকে লোম ছাড়ানো হয়। এরপর ব্যাকটেরিয়ার প্রোটিয়েজ এনজাইম ব্যবহার করে কাঁচা চামড়া পাঁকানো ও নমনীয় করা হয়।

(iv) প্রক্রিয়াজাতকরণেঃ চা, কফি, তামাক প্রভৃতি প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যাকটেরিয়া নিঃসৃত এনজাইম দরকার হয়। এর ফলে স্বাদ ও গন্ধের উৎপত্তি ঘটে। এ ক্ষেত্রে Bacillus megaterium ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার হয়।

(v) জৈব গ্যাস তৈরীঃ বর্তমানে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে গোবর ও ময়লা আবর্জনা পচিয়ে মিথেন, বিউটেন প্রভৃতি জৈব গ্যাস তৈরী করা হচ্ছে। Bacillus, E. coli, Clostridium, Methanococcus প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া বায়োগ্যাস উৎপন্ন করে।

(vi ) লবণ তৈরীঃ টেস্টিং লবণ তৈরীতে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার হয়।

(vii) রসায়ন শিল্পেঃ ভিনেগার (Acetobacter xylinum), ল্যাকটিক এসিড (Bacillus lacticacidi), অ্যাসিটোন (Clostridium acetobutylicum), অ্যালকোহল, এনজাইম, ভিটামিন প্রভৃতি রাসায়নিক পদার্থ তৈরী করতে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার হয়।

(viii) এনজাইম তৈরীঃ Bacillus subtilis, Clostridium histolyticum, Trichoderma konigi    প্রভৃতি প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া থেকে এনজাইম উৎপাদন করা হয়।

(ix) অ্যালকোহল ও এসিড উৎপাদনঃ ClostridiumBacillus ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে স্টার্চ থেকে বিভিন্ন এসিড ও অ্যালকোহল উৎপন্ন করা হয়।

 

৪। মানব জীবনে ভূমিকা

(i) খাদ্য পরিপাকঃ  E. coli  ও  Bacillus মানুষের খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে।

(ii) সেলুলোজ হজমঃ গবাদি পশুর অন্ত্রে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে। উহা সেলুলোজ হজমকারী এনজাইম সেলুলেজ উৎপন্ন করে। সেলুলেজ খড়, ঘাস, পাতা, কোষপ্রাচীর প্রভৃতি হজমে সাহায্য করে।

(iii) ভিটামিন তৈরীঃ মানুষের অন্ত্রে E. coli এবং অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া ভিটামিন B1, B2, K, বায়োটিন প্রভৃতি উৎপাদন ও সরবরাহ করে।

(iv) ইনসুলিন তৈরীঃ ইনসুলিন হরমোন তৈরীতে E. coli ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার হয়। ইহা ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণ করে।

(v) জিন প্রকৌশলঃ জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ Agrobacterium tumefaciens এবং E. coli ব্যাকটেরিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম।

(vi) দুগ্ধজাত খাদ্য তৈরীঃ দুধ থেকে দই, পনীর, মাখন প্রভৃতি তৈরী করা হয়। এ সব খাদ্য তৈরীতে Streptococcus lactis, Lactobacillus প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার হয়।

(vii) প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়াঃ মানুষের পরিপাকতন্ত্রে প্রায় ৫০০ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া মিথোজীবী হিসেবে বাস করে। এ সব ব্যাকটেরিয়াকে প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া বলে। প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া মানুষের খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে। তাই এদেরকে মানুষের বন্ধু ও সাহায্যকারী  ব্যাকটেরিয়া হিসেবে গণ্য করা হয়।

 

৫। পরিবেশ উন্নয়নে ভূমিকা

(i) পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধঃ ব্যাকটেরিয়া পরিবেশের জৈব বর্জ্যকে ভেঙ্গে সরল উপাদানে পরিনত করে। জটিল উপাদানকে জারিত করে পুনঃব্যবহার উপযোগী করে তুলে। এ কারণে ব্যাকটেরিয়াকে প্রাকৃতিক ঝাড়–দার বলা হয়। Pseudomonas, Nocardia, Mycobacterium প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া পেট্রোলিয়াম বর্জ্যকে অক্সিজেনের উপস্থিতিতে সরল উপাদানে পরিনত করে।

(ii) পয়ঃপ্রণালীর সুষ্ঠ ব্যবস্থাঃ ব্যাকটেরিয়া জৈব বর্জ্যকে দ্রæত তরলে রুপান্তরিত করে পয়ঃপ্রণালীকে সুষ্ঠ রাখে। Zooglea ramigera ব্যাকটেরিয়া জৈব বর্জ্য রুপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

(iii) তেল নিস্কাশনঃ সমুদ্রের পানিতে ভাসমান তেল অপসারণে তেল খাদক ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার হয়। Pseudomonas aeruginosa হলো তেল খাদক ব্যাকটেরিয়া।

(iv) জৈবিক নিয়ন্ত্রণেঃ ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের শূককীট দমনে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার হয়।

 

৬। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা

(i) ব্যাকটেরিয়া উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহকে পচিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। ফলে মাটির জৈব উপাদান বেড়ে যায় এবং উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।

(ii) Azotobacter, Pseudomonas, Clostridium   প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া বায়ু থেকে নাইট্রোজেন ধরে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। Rhizobium ব্যাকটেরিয়া শিম জাতীয় উদ্ভিদের মূলে বায়ু থেকে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে। বর্তমানে  Rhizobium কে জীবাণুসার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মসুর ডালের মূলে Rhizobium এর তিনটি প্রজাতি নডিউল সৃষ্টি করে। এগুলো হলো- Rhizobium bangladashense, Rhizobium bine এবং Rhizobium lentis। বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ড. হারুন অর রশিদ এই তিনটি প্রজাতি আবিষ্কার করেছেন।

(iii) নাইট্রিফিকেশন প্রক্রিয়ায় নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে অ্যামোনিয়া থেকে নাইট্রাইট উৎপন্ন হয়। পরে নাইট্রাইট থেকে নাইট্রেট উৎপন্ন হয়। নাইট্রেট মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।

(iv) ব্যাকটেরিয়া পরিবেশের জৈব বর্জ্যকে ভেঙ্গে সরল উপাদানে পরিনত করে। জটিল উপাদানকে জারিত করে পুনঃব্যবহার উপযোগী করে তোলে। এ কারণে ব্যাকটেরিয়াকে প্রাকৃতিক ঝাড়–দার বলা হয়। Pseudomonas, Nocardia, Mycobacterium প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া পেট্রোলিয়াম বর্জ্যকে অক্সিজেনের উপস্থিতিতে সরল উপাদানে পরিনত করে।

(v) বর্তমানে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে গোবর ও ময়লা আবর্জনা পচিয়ে জৈব সার তৈরী করা হচ্ছে।

(vi) জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ Agrobacterium tumefaciens ও  E. coli ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে রোগ প্রতিরোধী উচ্চ ফলনশীল ফসল উদ্ভাবন করা হয়েছে। এসব ফসলে কীটনাশক, ছত্রাকনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয় না। ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হয় না।

মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা ।। Bacterial roles of Soil Fertilization

(i) ব্যাকটেরিয়া উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহকে পচিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। ফলে মাটির জৈব উপাদান বেড়ে যায় এবং উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।

(ii) Azotobacter, Pseudomonas, Clostridium   প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া বায়ু থেকে নাইট্রোজেন ধরে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। Rhizobium ব্যাকটেরিয়া শিম জাতীয় উদ্ভিদের মূলে বায়ু থেকে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে। বর্তমানে  Rhizobium কে জীবাণুসার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মসুর ডালের মূলে Rhizobium এর তিনটি প্রজাতি নডিউল সৃষ্টি করে। এগুলো হলো- Rhizobium bangladashense, Rhizobium bine এবং Rhizobium lentis। বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ড. হারুন অর রশিদ এই তিনটি প্রজাতি আবিষ্কার করেছেন।

(iii) নাইট্রিফিকেশন প্রক্রিয়ায় নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে অ্যামোনিয়া থেকে নাইট্রাইট উৎপন্ন হয়। পরে নাইট্রাইট থেকে নাইট্রেট উৎপন্ন হয়। নাইট্রেট মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।

(iv) ব্যাকটেরিয়া পরিবেশের জৈব বর্জ্যকে ভেঙ্গে সরল উপাদানে পরিনত করে। জটিল উপাদানকে জারিত করে পুনঃব্যবহার উপযোগী করে তোলে। এ কারণে ব্যাকটেরিয়াকে প্রাকৃতিক ঝাড়–দার বলা হয়। Pseudomonas, Nocardia, Mycobacterium প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া পেট্রোলিয়াম বর্জ্যকে অক্সিজেনের উপস্থিতিতে সরল উপাদানে পরিনত করে।

(v) বর্তমানে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে গোবর ও ময়লা আবর্জনা পচিয়ে জৈব সার তৈরী করা হচ্ছে।

(vi) জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ Agrobacterium tumefaciens ও  E. coli ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে রোগ প্রতিরোধী উচ্চ ফলনশীল ফসল উদ্ভাবন করা হয়েছে। এসব ফসলে কীটনাশক, ছত্রাকনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয় না। ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হয় না।

পরিবেশ উন্নয়নে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা ।। Bacterial Roles of Environment

(i) পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধঃ ব্যাকটেরিয়া পরিবেশের জৈব বর্জ্যকে ভেঙ্গে সরল উপাদানে পরিনত করে। জটিল উপাদানকে জারিত করে পুনঃব্যবহার উপযোগী করে তুলে। এ কারণে ব্যাকটেরিয়াকে প্রাকৃতিক ঝাড়–দার বলা হয়। Pseudomonas, Nocardia, Mycobacterium প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া পেট্রোলিয়াম বর্জ্যকে অক্সিজেনের উপস্থিতিতে সরল উপাদানে পরিনত করে।

(ii) পয়ঃপ্রণালীর সুষ্ঠ ব্যবস্থাঃ ব্যাকটেরিয়া জৈব বর্জ্যকে দ্রæত তরলে রুপান্তরিত করে পয়ঃপ্রণালীকে সুষ্ঠ রাখে। Zooglea ramigera ব্যাকটেরিয়া জৈব বর্জ্য রুপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

(iii) তেল নিস্কাশনঃ সমুদ্রের পানিতে ভাসমান তেল অপসারণে তেল খাদক ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার হয়। Pseudomonas aeruginosa হলো তেল খাদক ব্যাকটেরিয়া।

(iv)) জৈবিক নিয়ন্ত্রণেঃ ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের শূককীট দমনে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার হয়।

মানব জীবনে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা ।। Bacterial Roles of Human

(i) খাদ্য পরিপাকঃ  E. coli  ও  Bacillus মানুষের খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে।

(ii) সেলুলোজ হজমঃ গবাদি পশুর অন্ত্রে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে। উহা সেলুলোজ হজমকারী এনজাইম সেলুলেজ উৎপন্ন করে। সেলুলেজ খড়, ঘাস, পাতা, কোষপ্রাচীর প্রভৃতি হজমে সাহায্য করে।

(iii) ভিটামিন তৈরীঃ মানুষের অন্ত্রে E. coli এবং অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া ভিটামিন B1, B2, K, বায়োটিন প্রভৃতি উৎপাদন ও সরবরাহ করে।

(iv) ইনসুলিন তৈরীঃ ইনসুলিন হরমোন তৈরীতে E. coli ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার হয়। ইহা ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণ করে।

(v) জিন প্রকৌশলঃ জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ Agrobacterium tumefaciens এবং E. coli ব্যাকটেরিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম।

(vi) দুগ্ধজাত খাদ্য তৈরীঃ দুধ থেকে দই, পনীর, মাখন প্রভৃতি তৈরী করা হয়। এ সব খাদ্য তৈরীতে Streptococcus lactis, Lactobacillus প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার হয়।

(vii) প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়াঃ মানুষের পরিপাকতন্ত্রে প্রায় ৫০০ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া মিথোজীবী হিসেবে বাস করে। এ সব ব্যাকটেরিয়াকে প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া বলে। প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া মানুষের খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে। তাই এদেরকে মানুষের বন্ধু ও সাহায্যকারী  ব্যাকটেরিয়া হিসেবে গণ্য করা হয়।

শিল্পক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা ।। Bacterial Roles of Industries

(i) ভিটামিন তৈরীঃ মানুষের পরিপাকতন্ত্রে বসবাসকারী E. coli  ব্যাকটেরিয়া ভিটামিন- B, ভিটামিন- K2, থায়ামিন, রিবোফ্ল্যাভিন, ফলিক এসিড, বায়োটিন প্রভৃতি সংশ্লেষণ করে। বর্তমানে গাঁজন প্রক্রিয়ায় ভিটামিন তৈরীতে কয়েক প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার হচ্ছে।

(ii) দুগ্ধ শিল্পেঃ  LactobacillusStreptococcus ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে দুধ থেকে ছানা, পনির, মাখন, ঘি, ঘোল প্রভৃতি তৈরী করা হয়।

(iii) চামড়া শিল্পেঃ টেনিন প্রক্রিয়ায় চামড়া থেকে লোম ছাড়ানো হয়। এরপর ব্যাকটেরিয়ার প্রোটিয়েজ এনজাইম ব্যবহার করে কাঁচা চামড়া পাঁকানো ও নমনীয় করা হয়।

(iv) প্রক্রিয়াজাতকরণেঃ চা, কফি, তামাক প্রভৃতি প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যাকটেরিয়া নিঃসৃত এনজাইম দরকার হয়। এর ফলে স্বাদ ও গন্ধের উৎপত্তি ঘটে। এ ক্ষেত্রে Bacillus megaterium ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার হয়।

(v) জৈব গ্যাস তৈরীঃ বর্তমানে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে গোবর ও ময়লা আবর্জনা পচিয়ে মিথেন, বিউটেন প্রভৃতি জৈব গ্যাস তৈরী করা হচ্ছে। Bacillus, E. coli, Clostridium, Methanococcus প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া বায়োগ্যাস উৎপন্ন করে।

(vi ) লবণ তৈরীঃ টেস্টিং লবণ তৈরীতে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার হয়।

(vii) রসায়ন শিল্পেঃ ভিনেগার (Acetobacter xylinum), ল্যাকটিক এসিড (Bacillus lacticacidi), অ্যাসিটোন (Clostridium acetobutylicum), অ্যালকোহল, এনজাইম, ভিটামিন প্রভৃতি রাসায়নিক পদার্থ তৈরী করতে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার হয়।

(viii) এনজাইম তৈরীঃ Bacillus subtilis, Clostridium histolyticum, Trichoderma konigi    প্রভৃতি প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া থেকে এনজাইম উৎপাদন করা হয়।

(ix) অ্যালকোহল ও এসিড উৎপাদনঃ ClostridiumBacillus ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে স্টার্চ থেকে বিভিন্ন এসিড ও অ্যালকোহল উৎপন্ন করা হয়।

কৃষিক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা ।। Bacterial roles of Agriculture

১। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিঃ ব্যাকটেরিয়া উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহকে পচিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। ফলে মাটির জৈব উপাদান বেড়ে যায় এবং উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।

২। নাইট্রোজেন সংবন্ধনঃ Azotobacter, Pseudomonas, Clostridium প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া বায়ু থেকে নাইট্রোজেন ধরে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। Rhizobium শিম জাতীয় উদ্ভিদের মূলে বায়ু থেকে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে। বর্তমানে  Rhizobium-কে জীবাণু সার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মসুর ডালের মূলে Rhizobium এর তিনটি প্রজাতি নডিউল সৃষ্টি করে। এগুলো হলো- Rhizobium bangladashense, Rhizobium bine এবং Rhizobium lentis। বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ড. হারুন অর রশিদ এই তিনটি প্রজাতি আবিষ্কার করেছেন।

৩।  নাইট্রিফিকেশনঃ নাইট্রিফিকেশন প্রক্রিয়ায় নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে অ্যামোনিয়া থেকে নাইট্রাইট উৎপন্ন হয়। পরে নাইট্রাইট থেকে নাইট্রেট উৎপন্ন হয়। নাইট্রেট মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।

৪।  পতঙ্গ নাশক হিসেবেঃ কোন কোন ব্যাকটেরিয়া জমিতে পতঙ্গ নাশক হিসেবে ব্যবহার হয়। যেমন- Bacillus thuringiensis

৫। ফলন বৃদ্ধিতেঃ কিছু ব্যাকটেরিয়া জমিতে প্রয়োগ করে ধানের ফলন ৩১.৮% এবং গমের ফলন ২০.৮%  বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে।

৬।  ফসলের উন্নত জাত সৃষ্টিঃ ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে জিনের স্থানান্তর ঘটিয়ে ট্রান্সজেনিক ফসল সৃষ্টি করা হয়েছে। এসব ট্রান্সজেনিক ফসল উন্নত মানের।

৭।  জৈব সার উৎপাদনঃ বর্তমানে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে গোবর ও ময়লা আবর্জনা পচিয়ে জৈব সার তৈরী করা হচ্ছে। জমিতে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার হচ্ছে।

৮।  পশুখাদ্য বা সিলেজ তৈরীঃ ধানের খড়, ঘাস এবং লিগিউম জাতীয় উদ্ভিদের কান্ড কেটে টুকরা টুকরা করা হয়। টুকরা গুলো চিটাগুড়ের সাথে মিশিয়ে আবদ্ধ পাত্রে রাখা হয়। গাঁজন প্রক্রিয়ায় Lactobacillus ব্যাকটেরিয়া এগুলোকে উন্নতমানের গো-খাদ্যে পরিনত করে। এই গো-খাদ্যকে সিলেজ বলে।

৯।  পাট শিল্পেঃ Clostridium butricum জাতীয় ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে পাট পচিয়ে আঁশ পৃথক করা হয়।

১০।  সেলুলোজ পরিপাকঃ গবাদিপশুর পাকস্থলীতে Ruminococcus albus Ruminococcus flavefaciens ব্যাকটেরিয়া বাস করে। এ সব ব্যাকটেরিয়া সেলুলেজ এনজাইম উৎপন্ন করে। সেলুলেজ এনজাইম কাঁচা ঘাস ও উদ্ভিদ হজমে সাহায্য করে।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা ।। Bacterial roles of Treatment

১।  অ্যান্টিবায়োটিক তৈরীঃ ব্যাকটেরিয়া থেকে সাবটিলিন (Bacillus subtilisi), পলিমিক্সিন (Bacillus polymyxa), স্ট্রেপটোমাইসিন (Actinomycetes), টেরামাইসিন, কলিসিন বা কলিব্যাকটেরিন (E. coli) প্রভৃতি জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টিবায়োটিক তৈরী করা হয়¬।
২। প্রতিষেধক টিকা তৈরীঃ ব্যাকটেরিয়া থেকে কলেরা, টাইফয়েড, যক্ষ্মা, ধনুষ্টংকার, হুপিংকাশি, ডিপথেরিয়া প্রভৃতি রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরী করা হয়¬। DPT রোগের প্রতিষেধক টিকা ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরী করা হয়¬। Corynebacterium dipthae (D), Bordetalla pertussis (P) এবং Clostridium tetani (T) থেকে DPT নামকরণ করা হয়েছে।
৩। স্টেরয়েড তৈরীঃ জৈব প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া থেকে স্টেরয়েড উৎপাদন করা হয়। স্টেরয়েড চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়। যেমন- টেস্টোস্টেরন, পেডনিসোন, ইস্ট্রাডিওল, ইস্ট্রোন প্রভৃতি।
৪। হরমোন তৈরীঃ জৈব প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া থেকে মূল্যবান হরমোন তৈরী করা হয়। এ সব হরমোন ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়। যেমন- ইনসুলিন, এরিথ্রোপোইটিন, ইন্টারফেরন, টিপিএ প্রভৃতি।

ব্যাকটেরিয়ার জনন পদ্ধতি ।। Reproduction of Bacteria

ব্যাকটেরিয়ার অঙ্গজ জনন

১। দ্বি-বিভাজন (Binary fission)

(i) দ্বি-বিভাজনের শুরুতে ব্যাকটেরিয়া খাদ্য গ্রহণ করে আকারে বড় হয়। এর নিউক্লিয়াসটিও বড় হয়।

(ii) ব্যাকটেরিয়ার DNA কোষের মাঝখানে অবস্থান করে এবং কোষঝিল্লির সাথে যুক্ত হয়।

(iii) কোষঝিল্লির সাথে যুক্ত থাকা অবস্থায় DNA-এর রেপ্লিকেশন ঘটে।

(iv) কোষটি লম্বায় বৃদ্ধি পায়। কোষপ্রাচীর এবং কোষঝিল্লির বৃদ্ধি কোষের দুই প্রান্তের মাঝখানে ঘটে।

(v) কোষপ্রাচীর এবং কোষঝিল্লি লম্বায় বৃদ্ধির কারণে DNA রেপ্লিকা দুটি দুই দিকে পৃথক হয়ে যায়।

(vi) কোষের সাইটোপ্লাজম ভিতরের দিকে ভাঁজ হয়ে যায়। এরপর নিউক্লিয়াসটি দুটি খন্ডে পরিনত হয়। সাইটোপ্লাজমের ভাঁজ আরও ভিতরে প্রবেশ করে। পরে সাইটোপ্লাজম নিউক্লিয়াসসহ দুটি কোষে পরিনত হয়।

(vii) টার্গার প্রেসারের কারণে নতুন সৃষ্ট অপত্য কোষ দুটি পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে যায়।

(viii) অপত্য কোষ দুটি বৃদ্ধি পেয়ে মাতৃকোষের সমান হয়। পুনরায় দ্বি-বিভাজনে অংশ গ্রহণ করে। এ প্রক্রিয়ায় সময় লাগে ২০-৩০ মিনিট।

২। মুকুলোদগমঃ ব্যাকটেরিয়ায় ছোট ছোট মুকুল সৃষ্টি হয়। প্রথমে একপাশে একটি ছোট কুঁড়ি বের হয়। এরপর একদিকে কুড়িটি ধীরে ধীরে বড় হয় এবং অপরদিকে মূল ব্যাকটেরিয়ার নিউক্লিওয়েড বস্তু দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। নিউক্লিওয়েড বস্তুর একটি খন্ড মুকুলে প্রবেশ করে। মুকুল বৃদ্ধি পেয়ে বড় হয় এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যেমন- Ancalomicrobium adetum.

৩। খন্ডায়নঃ বিভিন্ন কারণে ব্যাকটেরিয়া এক বা একাধিক খন্ডে পরিনত হয়। প্রতিটি খন্ড পূর্ণাঙ্গ ব্যাকটেরিয়ায় পরিনত হয়।

৪। শাখা উৎপাদনঃ ব্যাকটেরিয়া থেকে এক বা একাধিক শাখা সৃষ্টি হয়। শাখাগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনভাবে বাস করে।

 

ব্যাকটেরিয়ার অযৌন জনন

১। কনিডিয়াঃ সূত্রাকার ব্যাকটেরিয়া থেকে কনিডিওফোর সৃষ্টি হয়। কনিডিওফোরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কনিডিয়া উৎপন্ন হয়।  কনিডিয়াগুলো শিকলের ন্যায় অবস্থান করে। পরিনত কনিডিয়া বিচ্ছিন্ন হয় এবং অনুকূল পরিবেশে অঙ্কুরিত হয়ে নতুন ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি করে। যেমন- Streptomyces

২। গনিডিয়াঃ প্রতিকূল পরিবেশে সূত্রাকার ব্যাকটেরিয়ার প্রোটোপ্লাস্ট বিভক্ত হয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ সৃষ্টি করে। প্রতিটি অংশের চারিদেকে সাইটোপ্লাজম জমা হয়ে গনিডিয়া গঠন করে। পরিনত গনিডিয়া থেকে নতুন ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি হয়। যেমন- Leucothris

৩। জুস্পোরঃ প্রতিকূল পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া জুস্পোর সৃষ্টি করে। জুস্পোর থেকে নতুন ব্যাকটেরিয়া উৎপন্ন হয়। যেমন- Azotobactor, Rhizobium.

৪। এন্ডোস্পোরঃ প্রতিকুল পরিবেশে খাদ্যের অভাবে ব্যাকটেরিয়ার প্রোটোপ্লাস্ট সঙ্কুচিত হয়ে গোলাকার বা ডিম্বাকার ধারণ করে। এরপর পুরু আবরণী দ্বারা আবৃত হয়ে এন্ডোস্পোরে পরিনত হয়। একে রেস্টিং স্পোর বলা হয়। অনুকূল পরিবেশে রেস্টিং স্পোর থেকে নতুন ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হয়। যেমন- Bacillus subtilis, Clostridium tetan, Escherichia coli .

৫। মাইক্রোসিস্টঃ মিক্সোব্যাকটেরিয়ার কতকগুলো কোষ একত্রিত হয়ে সোয়ার্ম গঠন করে। সোয়ার্ম এর প্রতিটি কোষ মাইক্রোসিস্টে পরিনত হয়। মাইক্রোসিস্ট থেকে নতুন ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হয়। যেমন- Myxococcus fulvus, Chondromyces crocatus.

 

ব্যাকটেরিয়ার যৌন জনন

ব্যাকটেরিয়াতে প্রকৃত যৌন জনন ঘটে না। এর যৌন জনন জেনেটিক রিকম্বিনেশন নামে পরিচিত। যে প্রক্রিয়ায় কোন কোষের জেনেটিক পদার্থ বা DNA অন্য কোন কোষে স্থানান্তরিত হয়ে নতুন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন নতুন কোষ সৃষ্টি করে তাকে জেনেটিক রিকম্বিনেশন বলে। ১৯৪৬ সালে বিজ্ঞানী লিন্ডারবার্গ (Lenderberg) এবং ট্যাটাম (Tatum) ব্যাকটেরিয়ার যৌন জনন আবিষ্কার করেন। ওলম্যান রিঙ্ক (Wollman Rink) এবং জ্যাকব (Jacob) ব্যাকটেরিয়ার যৌন জনন বর্ননা করেন। ব্যাকটেরিয়ার জেনেটিক রিকম্বিনেশন তিনটি উপায়ে হয়ে থাকে।

১। কনজুগেশনঃ যে প্রক্রিয়ায় দু’টি কোষের মধ্যে কনজুগেশন নালী সৃষ্টির মাধ্যমে এককোষ থেকে নিউক্লিয়ার পদার্থ (DNA) অন্য কোষে স্থানান্তরিত হয় তাকে কনজুগেশন বলে। বিপরীত যৌনতা (+,Ñ) সম্পন্ন দুটি ব্যাকটেরিয়া কোষ পরস্পরের কাছাকাছি আসে এবং ঘনিষ্ট ভাবে পাশাপাশি অবস্থান করে। এদের একটিকে দাতা (Doner) এবং অপরটিকে গ্রহীতা (Recipient) বলে। মুখোমুখী অবস্থিত দুটি কোষের প্রাচীর স্ফীত হয়ে সংশ্লে¬ষ নালী সৃষ্টি করে। নালিকা দুটি বৃদ্ধি পেয়ে পরস্পরকে স্পর্শ করে। পরে স্পর্শ স্থানের প্রাচীর বিগলিত হয়ে একটি কনজুগেশন নালিকা গঠন করে। পাইলাসের (fertility pilus) মধ্য দিয়ে দাতা কোষ হতে নিউক্লিয়ার বস্তু (DNA) গ্রহীতা কোষে প্রবেশ করে। দাতা কোষ থেকে গ্রহীতা কোষে নিউক্লিয়ার বস্তুর সম্পুর্ণ অংশ প্রবেশ করার আগেই কোষ দুটি পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে যায়। ফলে দাতা কোষ থেকে গ্রহীতা কোষে নিউক্লিয়ার বস্তুর অংশ বিশেষ প্রবেশ করে। দাতা কোষটি নিউক্লিয়ার বস্তু হারিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। পরে দাতা ও গ্রহীতার নিউক্লিয়ার বস্তু মিলিত হয়ে জাইগোট সৃষ্টি করে। একে মেরোজাইগোট বলে। পরবর্তীতে মেরোজাইগোট দ্বি-বিভাজন প্রক্রিয়ায় সংখ্যা বৃদ্ধি করতে থাকে। উৎপন্ন প্রতিটি নতুন কোষে দাতা ও গ্রহীতার গুণাবলী বিদ্যমান থাকে। ১৯৪৬ সালে বিজ্ঞানী লিন্ডারবার্গ (Lenderberg) এবং ট্যাটাম (Tatum) ব্যাকটেরিয়ার কনজুগেশন প্রক্রিয়াটি আবিষ্কার করেন।

২। ট্রান্সফরমেশনঃ যে প্রক্রিয়ায় একটি কোষের DNA অন্য কোষে প্রবেশ করে বংশগতীয় পুনর্বিন্যাস ঘটায় তাকে ট্রান্সফরমেশন বলে। ট্রান্সফরমেশন প্রক্রিয়ায় দাতা কোষ হতে শুধু মাত্র DNA গ্রহীতা কোষে প্রবেশ করে। পরে দাতা ও গ্রহীতার DNA  মিলিত হয়ে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটায়।

৩। ট্রান্সডাকশনঃ যে প্রক্রিয়ায় ভাইরাসের মাধ্যমে একটি ব্যাকটেরিয়া থেকে জেনেটিক পদার্থ (DNA) অন্য একটি ব্যাকটেরিয়াতে স্থানান্তরিত হয়ে নতুন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন নতুন ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি করে তাকে ট্রান্সডাকশন বলে। ১৯৫২ সালে বিজ্ঞানী জিনডার (Zinder) এবং লিন্ডারবার্গ (Lenderberg) ব্যাকটেরিয়ার ট্রান্সডাকশন আবিষ্কার করেন।