বরফ উদ্ভিদের ত্বককোষে পানি জমা থাকে এবং থলীর মতো আকার ধারণ করে। শীতকালে এই পানি বরফে পরিনত হয়। যেমন– Mesembrayanthemum crystallinum
Category: Biology Second Paper
হাইডাথোড ।। হাইডাথোডের গুরুত্ব ।। পানি পত্ররন্ধ্র ।। Hydathods ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
(i) হাইডাথোডের মধ্য দিয়ে পানি তরল আকারে নির্গত হয়।
(ii) এর নিচে একটি পানি গহ্বর আছে। সেখানে পানি জমা থাকে।
(iii) হাইডাথোড গুলো দিনের চেয়ে রাতে বেশি কার্যকর থাকে।
(iv) হাইডাথোডের কারণে ভোরে পাতার কিনারায় বিন্দু বিন্দু পানি দেখা যায়।
(v) পানি নির্গমণের সময় লবণ বের হয়।
(vi) প্রস্বেদন কম হলে পানি নির্গমনণ বেশি হয়।
(vi) প্রস্বেদন কম হলে পানি নির্গমনণ বেশি হয়।
হাইডাথোড কী।। পানি পত্ররন্ধ্র কী ।। Hydathods কী ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
উদ্ভিদের পাতার কিনারা বরাবর অবস্থিত যে রন্ধ্রের মধ্য দিয়ে পানি তরল আকারে নির্গত হয় তাকে হাইডাথোড বলে। পানি তরল আকারে নির্গত হওয়াকে গ্যাটেশন বা পানি নির্গমন বা পানি চোয়ানো বলে। হাইডাথোড গুলো দিনের চেয়ে রাতে বেশি কার্যকর থাকে। উদ্ভিদের পাতার কিনারা বরাবর হাইডাথোড অবস্থান করে। এজন্য ভোরে পাতার কিনারায় বিন্দু বিন্দু পানি দেখা যায়। ঘাস, কচু, টমেটো, কচুরিপানা, স্ট্রবেরী, প্রিমুলা, গোলাপ, ব্যালসাম, Ranunculus fluitans, Campanula rotundifolia প্রভৃতি উদ্ভিদে হাইডাথোড থাকে। ১৯৬৫ সালে ইসাও (Esau) পত্ররন্ধ্র বা পানিরন্ধ্র বা পানি গ্রন্থি নামকরণ করেন।
পানি পত্ররন্ধ্র দুই প্রকার। নিষ্ক্রিয় এবং সক্রিয় হাইডাথোড। নিষ্ক্রিয় হাইডাথোড দিয়ে পানি নিষ্ক্রিয় ভাবে এবং সক্রিয় হাইডাথোড দিয়ে সক্রিয় ভাবে পানি নির্গত হয়।
হাইডাথোড যে কোষ দ্বারা গঠিত তাকে এপিথেম বলে। পানি পত্ররন্ধ্র একগুচ্ছ জীবিত কোষ দ্বারা গঠিত। কোষগুলো পানিপূর্ণ এবং আন্তঃকোষীয় ফাঁকবিশিষ্ট। কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্ট নাই বললেই চলে। প্রতিটি হাইডাথোডে এক বা একাধিক রন্ধ্র থাকে। এর রন্ধ্রপথটি গাঠনিক ভাবে পত্ররন্ধ্রের মতো। তবে আকারে কিছুটা বড় এবং নড়নে অক্ষম। এতে এক বা একাধিক প্রকোষ্ঠ থাকে। প্রকোষ্ঠগুলো বায়ুকুঠুরী বা শ্বাসকুঠুরীতে উন্মুক্ত হয়। রন্ধ্রের নিচে একটি পানি গহ্বর (water cavity) থাকে।
পত্ররন্ধ্র ।। স্টোমাটা ।। খাদ্য উৎপাদনে পত্ররন্ধ্রের ভূমিকা ।। ড. সিদ্
(i) সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরীর কাঁচামাল কার্বন ডাই অক্সাইড পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে কোষে প্রবেশ করে। কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে শর্করা উৎপন্ন হয়। যে উদ্ভিদে পাতার সংখ্যা বেশি সে উদ্ভিদে পত্ররন্ধ্রের সংখ্যা বেশি থাকে। এ কারণে কার্বন ডাই অক্সাইড সরবরাহ বেশি হয় এবং খাদ্য উৎপাদন বেড়ে যায়।
(ii) সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হলো পানি। প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি বাষ্পাকারে নির্গত হয়। ফলে পানির প্রবাহ তৈরী হয় এবং বিভিন্ন কোষে পানি প্রবেশ করে। এই পানি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহার হয়।
(iii) সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরীর পর উপজাত পদার্থ হিসেবে নির্গত অক্সিজেন পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যায়। সালোকসংশ্লেষণে অক্সিজেন অপ্রয়োজনীয় উপাদান। ইহা সালোকসংশ্লেষণের হারকে হ্রাস করে। পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে অক্সিজেন বেরিয়ে গেলে খাদ্য উৎপাদন ত্বরান্বিত হয়।
(iv) প্রতিটি পত্ররন্ধ্রে দু’টি করে রক্ষীকোষ থাকে। রক্ষীকোষে প্রচুর পরিমাণে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে। এই ক্লোরোপ্লাস্ট সালোকসংশ্লেণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরী করে।
(v) পত্ররন্ধ্রের চারিদিকে সবুজ বর্ণের সহকারী কোষ থাকে। সহকারী কোষের ক্লোরোপ্লাস্ট সালোকসংশ্লেণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরীতে অংশ গ্রহণ করে।
স্টোমাটা বা পত্ররন্ধ্র ।। স্টোমাটা বা পত্ররন্ধ্রের কাজ ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
(i) সালোকসংশ্লেষণঃ যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সহায়তায় পানি ও কার্বন ডাই অক্সাইডের রাসায়নিক মিলন ঘটিয়ে শর্করা জাতীয় খাদ্য উৎপন্ন করে এবং উপজাত পদার্থ হিসেবে অক্সিজেন ত্যাগ করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় কার্বন ডাই অক্সাইড পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে কোষে প্রবেশ করে। কার্বন ডাই অক্সাইড পানির সাথে বিক্রিয়া করে শর্করা উৎপন্ন করে এবং উপজাত পদার্থ হিসেবে অক্সিজেন ত্যাগ করে। অক্সিজেন পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে কোষের বাইরে নির্গত হয়। তাই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সম্পাদনের জন্য পত্ররন্ধ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(ii) শ^সনঃ যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় মুক্ত অক্সিজেনের উপস্থিতিতে শ্বসনিক বস্তু সম্পুর্ণরুপে জারিত হয়ে পানি, CO2 ও শক্তি উৎপন্ন করে তাকে শ্বসন বলে। উদ্ভিদের শ^সন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে কোষে প্রবেশ করে। অক্সিজেন শ^সনিক বস্তুর সাথে বিক্রিয়া করে পানি, CO2 ও শক্তি উৎপন্ন করে। উৎপন্ন কার্বন ডাই অক্সাইড পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে কোষের বাইরে নির্গত হয়। তাই শ^সন প্রক্রিয়া সম্পাদনের জন্য পত্ররন্ধ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(iii) প্রস্বেদনঃ যে প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের মূল দ্বারা শোষিত প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে বাষ্পাকারে নির্গত হয় তাকে পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন বলে। সবুজ উদ্ভিদ মূল দ্বারা যে পরিমাণ পানি পরিশোষণ করে তার মাত্র ১-২% কাজে লাগে। অবশিষ্ট ৯৮-৯৯% পানি কোন কাজে লাগে না। প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে বাষ্পাকারে নির্গত হয়। তাই প্রস্বেদন প্রক্রিয়া সম্পাদনের জন্য পত্ররন্ধ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(iv) তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণঃ উদ্ভিদদেহে বিভিন্ন ধরনের জৈবিক ক্রিয়ার ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। প্রস্বেদনের সময় পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে তাপমাত্রা বাইরে নির্গত হয়। তাপ বাইরে নির্গত না হলে উদ্ভিদ পুড়ে মারা যেত।
(v) গ্যাসীয় বিনিময়ঃ ইহা গ্যাসীয় পদার্থ বা O2 ও CO2 এর বিনিময় ঘটায়।
(vi) পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়াঃ রক্ষীকোষ পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
(vii) জৈব খাদ্য সংশ্লেষ ও সঞ্চয়ঃ রক্ষীকোষে গ্লুকোজ সংশ্লেষিত হয় এবং শে^তসার হিসেবে সাময়িক ভাবে জমা থাকে।
পত্ররন্ধ্র বা স্টোমা ।। স্টোমাটার গঠন ।। Structure of stoma ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
পাতার প্রতি বর্গসেন্টিমিটারে ১,০০০-৬০,০০০ পত্ররন্ধ্র থাকতে পারে। খোলা অবস্থায় পত্ররন্ধ্রের দৈর্ঘ্য ১০-৪০ µ এবং প্রস্থ ৩-১২ µ। পত্ররন্ধ্রের বিভিন্ন অংশ হলো-
১। পত্ররন্ধ্র ছিদ্রঃ পত্ররন্ধ্রের কেন্দ্রে একটি বিশেষ ধরনের ছিদ্র থাকে। একে পত্ররন্ধ্র ছিদ্র বলে। এর মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ধরনের গ্যাসীয় পদার্থের বিনিময় ঘটে।
২। রক্ষীকোষঃ স্টোমাটা দুইটি অর্ধচন্দ্রাকৃতির কোষ দ্বারা আবৃত থাকে। একে রক্ষীকোষ বলে। প্রতিটি রক্ষীকোষে সাইটোপ্লাজম, ক্লোরোপ্লাস্ট, মাইটোকন্ড্রিয়া, শ্বেতসার এবং একটি বড় নিউক্লিয়াস থাকে। রক্ষীকোষে দুইটি প্রাচীর থাকে। বাইরের প্রাচীর এবং ভিতরের প্রাচীর। ভিতরের প্রাচীরটি পুরু ও অস্থিতিস্থাপক। কিন্তু বাইরের প্রাচীরটি পাতলা, অর্ধভেদ্য এবং স্থিতিস্থাপক। রক্ষীকোষ ২-৪টি উপত্বকীয় কোষ দ্বারা আবৃত থাকে। ইহা পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
৩। সহকারী কোষঃ স্টোমাকে ঘিরে কয়েকটি বিশেষ ধরনের প্যারেনকাইমা কোষ থাকে। এদেরকে সহকারী কোষ বলে। সহকারী কোষসহ প্রতিটি পত্ররন্ধ্রকে পত্ররন্ধ্র কমপ্লেক্স বলে। কিছু উদ্ভিদে সহকারী কোষ থাকে না। যেমন- কুমড়া, শশা, অর্কিড প্রভৃতি।
৪। বায়ুকুঠুরীঃ স্টোমাটার নিচে বায়ুপুর্ণ একটি বড় গহŸর থাকে। একে সাবস্টোমাটাল গহ্বর বলে। এই গহ্বরকে বায়ুকুঠুরী বা শ্বাসকুঠুরীও বলা হয়।
মরুজ উদ্ভিদের পাতার পত্ররন্ধ্র ত্বকের গভীরে লুক্কায়িত থাকে। একে লুকায়িত বা ডুবন্ত পত্ররন্ধ্র বলে। পত্ররন্ধ্র দিনের বেলা খোলা এবং রাতের বেলা বন্ধ থাকে। তবে পাথরকুচি গোত্রের উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্র দিনে বন্ধ এবং রাতে খোলা থাকে। উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্র সকাল ১০-১১ টা এবং দুপুর ১-৩টা পর্যন্ত পূর্ণমাত্রায় খোলা থাকে।
পত্ররন্ধ্র বা স্টোমাটার কত প্রকার ও কী কী ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
(i) ডায়াসাইটিকঃ ইহা দুইটি সাবসিডিয়ারী কোষ দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে এবং কোষ দুইটি রক্ষীকোষের সাথে সমকোণে অবস্থান করে। চিরতা, কলসী প্রভৃতি উদ্ভিদে ডায়াসাইটিক পত্ররন্ধ্র থাকে।
(ii) প্যারাসাইটিকঃ ইহা দুইটি সাবসিডিয়ারী কোষ দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে এবং কোষ দুইটি রক্ষীকোষের সাথে সমান্তরালে অবস্থান করে। রঙ্গন উদ্ভিদে প্যারাসাইটিক পত্ররন্ধ্র থাকে।
(iii) অ্যানিসোসাইটিকঃ ইহা তিনটি সাবসিডিয়ারী কোষ দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে এবং এদের মধ্যে একটি কোষ ছোট। সরিষা, তামাক, বেগুন প্রভৃতি উদ্ভিদে অ্যানিসোসাইটিক পত্ররন্ধ্র থাকে।
(iv) টেট্রাসাইটিকঃ ইহা চারটি সাবসিডিয়ারী কোষ দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে।
(v) অ্যাকটিনোসাইটিকঃ ইহা অনেক গুলো লম্বা কোষ দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে। Ebenaceae গোত্রের উদ্ভিদে অ্যাকটিনোসাইটিক পত্ররন্ধ্র থাকে।
(vi) অ্যানোমোসাইটিকঃ স্টোমাটা পরিবেষ্টনকারী কোষ গুলো সাধারণ কোষের সাথে যুক্ত থাকে। নয়নতারা ও কুমড়া জাতীয় উদ্ভিদে অ্যানোমোসাইটিক পত্ররন্ধ্র থাকে।
(vii) গ্রামিনিয়াসঃ পত্ররন্ধ্র দুইটি রক্ষীকোষ এবং দুইটি সহকারী কোষ দ্বারা আবৃত থাকে। ধান, গম, আখ, ভূট্রা, ঘাস প্রভৃতি উদ্ভিদে গ্রামিনিয়াস পত্ররন্ধ্র থাকে।
পত্ররন্ধ্র ।। পত্ররন্ধ্র কী ।। Stomata কী
উদ্ভিদের পাতা এবং কচি সবুজ কান্ডে অবস্থিত দুইটি অর্ধচন্দ্রাকৃতির রক্ষীকোষ দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিদ্র বা রন্ধ্রকে পত্ররন্ধ্র বলে। বিষমপৃষ্ঠ পাতার নি¤œত্বকে এবং সমাঙ্গপৃষ্ঠ পাতার উভয় ত্বকে পত্ররন্ধ্র থাকে। উদ্ভিদের পাতা, কচিকান্ড, পুষ্পপত্র, ফল ইত্যাদি বায়বীয় অঙ্গে পত্ররন্ধ্র থাকে। প্রতিটি পত্ররন্ধ্রের নিচে একটি বৃহৎ বায়ুকুঠুরী বা শ্বাসকুঠুরী বিদ্যমান। রক্ষীকোষে ক্লোরোফিল থাকে এবং সালোকসংশ্লেষণে অংশ গ্রহণ করে।
ট্রাইকোম কী ।। ট্রাইকোম কীকী । Trichom । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
উদ্ভিদের মূল ও কান্ডে যে এককোষী বা বহুকোষী উপাঙ্গ থাকে তাকে এপিডার্মাল উপাঙ্গ বা ট্রাইকোম বলে। উদ্ভিদের বিভিন্ন ধরনের ট্রাইকোম হলো-
১। রোম (Hair)ঃ মূলরোম এককোষী ও কিউটিক্ল বিবর্জিত এবং কান্ডরোম বহুকোষী ও কিউটিক্ল যুক্ত। ইহা শাখাযুক্ত বা শাখাবিহীন বা তারকাকৃতি বা স্টিলেট (Althaea-পাতা) হতে পারে। কার্পাস তুলার বীজত্বক থেকে সৃষ্ট রোম দেখতে আঁশের মতো এবং তুলা তন্তু গঠন করে। একবীজপত্রী কান্ডে কান্ডরোম থাকে না। মূলরোম মাটি থেকে পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে। পাতা ও কান্ডের রোম প্রস্বেদন হ্রাস করে।
২। গ্রন্থিরোম বা পিড়কা বা কোলেটার্স (Colleters)ঃ কোলেটার্স হলো বিশেষ ধরনের বহুকোষী ট্রাইকোম। ইহা চটচটে আঠালো পদার্থ দ্বারা পূর্ণ থাকে। পতঙ্গভ‚ক উদ্ভিদের পরিপাক গ্রন্থিতে কোলেটার্স থাকে। পুনর্ণভা, লেবু, Rosa ও Carya উদ্ভিদে কোলেটার্স থাকে।
৩। দংশকরোমঃ এককোষী, লম্বা, সুঁচালো ও বিষাক্ত রস পূর্ণ ট্রাইকোমকে দংশকরোম বলে। দংশকরোম প্রাণিদেহের সংস্পর্শে এলে সূঁচালো ডগা ভেঙ্গে যায় এবং বিষাক্ত রস মুক্ত হয়। বিষাক্ত রসের কারণে চামড়া জ্বালা-পোড়া করে। যেমন- বিছুটি (Tragia involucrata), আলকুশি (Mucuna pruriens), লাপোর্টিয়া (Laportea aestuans), অগ্নিচুতরা প্রভৃতি।
৪। শল্ক (Scale)ঃ পাতলা আবরণীযুক্ত বিশেষ রোমকে শল্ক বলে। ইহা চ্যাপ্টা, বহুকোষী এবং চাকতির মতো কোষের পাত দ্বারা গঠিত। ইহা প্রস্বেদন হার হ্রাস করে।
এপিডার্মাল উপাঙ্গ বা ট্রাইকোমের কাজ
(i) কান্ড ও পাতায় বিদ্যমান গ্রন্থিবিহীন রোম উদ্ভিদের প্রস্বেদন ও আলোকের তীব্রতা হ্রাস করে।
(ii) গ্রন্থিযুক্ত রোম উদ্ভিদকে জীবজন্তুর আক্রমণ হতে রক্ষা করে।
(iii) ফুলের গর্ভমুন্ডের রোম পরাগরেণু গ্রহণ করে উদ্ভিদের পরাগায়নে সাহায্য করে।
(iv) ফল ও বীজের ত্বকে বিদ্যমান রোম বিস্তারে সাহায্য করে।
(v) পতঙ্গভোজী উদ্ভিদের গ্রন্থিযুক্ত রোম এনজাইম নিঃসরণ করে পতঙ্গের দেহকে হজমে সাহায্য করে।
(vi) মূলরোম দ্বারা উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে।
(vii) কান্ড রোম আঠা, গদ ও বিষাক্ত পদার্থ নিঃসৃত করে উদ্ভিদকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
ট্রাইকোম ।। ট্রাইকোমের কাজ ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
(i) কান্ড ও পাতায় বিদ্যমান গ্রন্থিবিহীন রোম উদ্ভিদের প্রস্বেদন ও আলোকের তীব্রতা হ্রাস করে।
(ii) গ্রন্থিযুক্ত রোম উদ্ভিদকে জীবজন্তুর আক্রমণ হতে রক্ষা করে।
(iii) ফুলের গর্ভমুন্ডের রোম পরাগরেণু গ্রহণ করে উদ্ভিদের পরাগায়নে সাহায্য করে।
(iv) ফল ও বীজের ত্বকে বিদ্যমান রোম বিস্তারে সাহায্য করে।
(v) পতঙ্গভোজী উদ্ভিদের গ্রন্থিযুক্ত রোম এনজাইম নিঃসরণ করে পতঙ্গের দেহকে হজমে সাহায্য করে।
(vi) মূলরোম দ্বারা উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে।
(vii) কান্ড রোম আঠা, গদ ও বিষাক্ত পদার্থ নিঃসৃত করে উদ্ভিদকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।