দংশকরোম ।। দংশকরোম কী

এককোষী, লম্বা, সুঁচালো ও বিষাক্ত রস পূর্ণ ট্রাইকোমকে দংশকরোম বলে। দংশকরোম প্রাণিদেহের সংস্পর্শে এলে সূঁচালো ডগা ভেঙ্গে যায় এবং বিষাক্ত রস মুক্ত হয়। বিষাক্ত রসের কারণে চামড়া জ্বালা-পোড়া করে। যেমন- বিছুটি (Tragia involucrata), আলকুশি (Mucuna pruriens), লাপোর্টিয়া (Laportea aestuans), অগ্নিচুতরা প্রভৃতি।

গ্রন্থিরোম কী ।। পিড়কা কী ।। কোলেটার্স ।। Colleters কী

কোলেটার্স হলো বিশেষ ধরনের বহুকোষী ট্রাইকোম। ইহা চটচটে আঠালো পদার্থ দ্বারা পূর্ণ থাকে। পতঙ্গভ‚ক উদ্ভিদের পরিপাক গ্রন্থিতে কোলেটার্স থাকে। পুনর্ণভা, লেবু, Rosa ও Carya উদ্ভিদে কোলেটার্স থাকে।

রোম কী ।। Hair কী ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

মূলরোম এককোষী ও কিউটিক্ল বিবর্জিত এবং কান্ডরোম বহুকোষী ও কিউটিক্ল যুক্ত। ইহা শাখাযুক্ত বা শাখাবিহীন বা তারকাকৃতি বা স্টিলেট (Althaea-পাতা) হতে পারে। কার্পাস তুলার বীজত্বক থেকে সৃষ্ট রোম দেখতে আঁশের মতো এবং তুলা তন্তু গঠন করে। একবীজপত্রী কান্ডে কান্ডরোম থাকে না। মূলরোম মাটি থেকে পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে। পাতা ও কান্ডের রোম প্রস্বেদন হ্রাস করে।

এপিডার্মিস ।। এপিডার্মিস বা ত্বককী ।। Epidermis ।। এপিডার্মিস বা ত্বকের কাজ কী কী ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

উদ্ভিদের পাতা ও কান্ডের বহিরাবরণীকে এপিডার্মিস বলে। মূলের বহিরাবরণীকে এপিবেøমা বলে। মূল ও কান্ডের শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যুর প্রোটোডার্ম বা ডার্মাটোজেন থেকে ত্বক সৃষ্টি হয়। এপিডার্মিসে কিউটিন ও সুবেরিন জমা হয়ে কিউটিকলের পুরু স্তর গঠন করে। আখ, ধান, বাঁশ, ঘাস, নলখাগড়া প্রভৃতি উদ্ভিদের পাতায় সিলিকা কোষ ও কর্ক কোষ থাকে বলে কিনারা ধারাল হয়। বট, অশ^ত্থ, ডুমুর, রাবার প্রভৃতি উদ্ভিদের পাতায় লিথোসিস্ট নামক বৃহদাকার কোষ থাকে এবং সিস্টোলিথ নামক ক্যালসিয়াম কার্বোনেট থাকে। সরিষা গোত্রীয় উদ্ভিদের (সরিষা, রাই, মূলা) পাতায় মাইরোসিন কোষ থাকে। ইহা মাইরোসিন এনজাইম নিঃসরণ করে। গম, ভ‚ট্রা, আখ প্রভৃতি উদ্ভিদের পাতায় বুলিফর্ম নামক বৃহদাকৃতির কোষ থাকে। বুলিফর্ম পানি সঞ্চয় করে। ফুলের পাপড়ি এবং ফলের ত্বকে অ্যান্থোসায়ানিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকে। কোষপ্রাচীরের বাইরে কিউটিন, সুবেরিন, লিগনিন, মোম প্রভৃতির পাতলা প্রলেপ থাকে। মূলের ত্বক থেকে মূলরোম উৎপন্ন হয় বলে মূল ত্বককে পিলিফেরাস স্তর বলা হয়। বট, অশ^ত্থ, রাবার, পাকুড়, করবী ও অর্কিডের ত্বক একাধিক কোষস্তর বিশিষ্ট হয়।

এপিডার্মিস বা ত্বকের কাজ

(i) এপিডার্মিস উদ্ভিদের ভিতরের কোষকে বাইরের আঘাত এবং প্রতিকূলতা থেকে রক্ষা করে।

(ii) ত্বক পানি অপচয় বন্ধ করে। ত্বকের কিউটিন, সিলিকা ও মোম প্রস্বেদন হার হ্রাস করে।

(iii) বিষাক্ত গ্রন্থিগুলো প্রাণীর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

(iv) পাতায় বিদ্যমান পত্ররন্ধ্র গ্যাসীয় পদার্থের বিনিময় ঘটায়।

(v) মূলরোম পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে।

(vi) ক্লোরোপ্লাস্ট যুক্ত ত্বক খাদ্য তৈরী করে।

(vii) ত্বককোষ বিভাজিত হয়ে ক্ষত নিরাময় করে।

(viii) বুলিফর্ম কোষ পানি সঞ্চয় করে।

(ix) ইহা পানি ও বর্জ্য পদার্থ সঞ্চয় করে।

(x) ত্বকের মোমের আস্তরণ ছত্রাকের আক্রমণ প্রতিহত করে।

এপিডার্মিস বা ত্বকের কাজ কী কী ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(i) এপিডার্মিস উদ্ভিদের ভিতরের কোষকে বাইরের আঘাত এবং প্রতিকূলতা থেকে রক্ষা করে।

(ii) ত্বক পানি অপচয় বন্ধ করে। ত্বকের কিউটিন, সিলিকা ও মোম প্রস্বেদন হার হ্রাস করে।

(iii) বিষাক্ত গ্রন্থিগুলো প্রাণীর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

(iv) পাতায় বিদ্যমান পত্ররন্ধ্র গ্যাসীয় পদার্থের বিনিময় ঘটায়।

(v) মূলরোম পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে।

(vi) ক্লোরোপ্লাস্ট যুক্ত ত্বক খাদ্য তৈরী করে।

(vii) ত্বককোষ বিভাজিত হয়ে ক্ষত নিরাময় করে।

(viii) বুলিফর্ম কোষ পানি সঞ্চয় করে।

(ix) ইহা পানি ও বর্জ্য পদার্থ সঞ্চয় করে।

(x) ত্বকের মোমের আস্তরণ ছত্রাকের আক্রমণ প্রতিহত করে।

এপিডার্মিস কী ।। ত্বক কী ।। Epidermis কী ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

উদ্ভিদের পাতা ও কান্ডের বহিরাবরণীকে এপিডার্মিস বলে। মূলের বহিরাবরণীকে এপিবেøমা বলে। মূল ও কান্ডের শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যুর প্রোটোডার্ম বা ডার্মাটোজেন থেকে ত্বক সৃষ্টি হয়। এপিডার্মিসে কিউটিন ও সুবেরিন জমা হয়ে কিউটিকলের পুরু স্তর গঠন করে। আখ, ধান, বাঁশ, ঘাস, নলখাগড়া প্রভৃতি উদ্ভিদের পাতায় সিলিকা কোষ ও কর্ক কোষ থাকে বলে কিনারা ধারাল হয়। বট, অশ^ত্থ, ডুমুর, রাবার প্রভৃতি উদ্ভিদের পাতায় লিথোসিস্ট নামক বৃহদাকার কোষ থাকে এবং সিস্টোলিথ নামক ক্যালসিয়াম কার্বোনেট থাকে। সরিষা গোত্রীয় উদ্ভিদের (সরিষা, রাই, মূলা) পাতায় মাইরোসিন কোষ থাকে। ইহা মাইরোসিন এনজাইম নিঃসরণ করে। গম, ভ‚ট্রা, আখ প্রভৃতি উদ্ভিদের পাতায় বুলিফর্ম নামক বৃহদাকৃতির কোষ থাকে। বুলিফর্ম পানি সঞ্চয় করে। ফুলের পাপড়ি এবং ফলের ত্বকে অ্যান্থোসায়ানিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকে। কোষপ্রাচীরের বাইরে কিউটিন, সুবেরিন, লিগনিন, মোম প্রভৃতির পাতলা প্রলেপ থাকে। মূলের ত্বক থেকে মূলরোম উৎপন্ন হয় বলে মূল ত্বককে পিলিফেরাস স্তর বলা হয়। বট, অশ^ত্থ, রাবার, পাকুড়, করবী ও অর্কিডের ত্বক একাধিক কোষস্তর বিশিষ্ট হয়।

শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যু হতেই সকল টিস্যুর উৎপত্তি

টিস্যুর উৎপত্তি সম্পর্কে বিভিন্ন বিজ্ঞানী বিভিন্ন মতবাদ প্রকাশ করেছেন। তবে অনেক বিজ্ঞানীর মতে, শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যু হতেই সকল টিস্যুর উৎপত্তি। উদ্ভিদের মূল, কান্ড ও শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে অবস্থিত ভাজক টিস্যুকে শীর্ষস্থ বা অ্যাপিক্যাল ভাজক টিস্যু বলে। উদ্ভিদের মূল ও কান্ডের অগ্রভাগ প্রস্থচ্ছেদ করলে ভাজক টিস্যু ব্যতীত অন্য কোন টিস্যু পাওয়া যায় না। আবার এর সামান্য পিছনে প্রস্থচ্ছেদ করলে ভাজক টিস্যু ছাড়াও অন্যান্য টিস্যু অর্থাৎ ত্বক, অধঃত্বক, কর্টেক্স, পেরিসাইকল, ভাস্কুলার বান্ডল, মজ্জা, মজ্জারশ্মি প্রভৃতি পাওয়া যায়। এ থেকে বুঝা যায়, এসব টিস্যু শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যু হতেই ক্রম বিকশিত হয়েছে। তাই বলা যায় যে, শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যু হতেই সকল টিস্যুর উৎপত্তি।

স্থায়ী টিস্যু ।। স্থায়ী টিস্যুর কাজ কী কী ।। Functions of permanent tissue ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। ক্লোরেনকাইমা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরী করে।

২। স্থায়ী টিস্যু বিভিন্ন কোষে পানি ও খাদ্য পরিবহন করে।

৩। ইহা বিভিন্ন পদার্থ ক্ষরণ এবং রেচন কাজে জড়িত।

৪। ইহা উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গকে রক্ষা করে।

৫। ইহা উদ্ভিদকে দৃঢ়তা দান করে।

ক্ষরণকারী বা নিঃস্রাবী টিস্যু কী

যে স্থায়ী টিস্যু নানা প্রকার তরল পদার্থ ক্ষরণ করে তাকে ক্ষরণকারী টিস্যু বলে। ক্ষরণকারী টিস্যু থেকে উৎসেচক বা এনজাইম, রেজিন, গদ, উদ্বায়ী তেল, আঠা প্রভৃতি নিঃসৃত হয়। ইহা দুই ধরনের। তরুক্ষীর টিস্যু এবং গ্রন্থি টিস্যু।