পোলারাইজড ।। Polarize

প্রাণিকোষে ক্রোমোসোম গুলো নিউক্লিয়ার মেমব্রেনের কাছে জড়ো হয়ে ফুলের তোড়ার মতো গঠন  সৃষ্টি করে। একে পোলারাইজড বিন্যাস বলে।

মাইটোজেন ।। Mitogen

যে সব পদার্থ কোষ বিভাজনে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে তাকে মাইটোজেন বলে। কয়েকটি মাইটোজেন হলো- সাইটোকাইনিন, স্টেরয়েড, লিম্ফোকাইন ইত্যাদি।

ক্রসিংওভারের প্রভাবক ।। Catalyser of Crossing Over

১। উচ্চ তাপমাত্রাঃ উচ্চ তাপমাত্রা বিকিরণ ক্রসিংওভার সংঘটন প্রবণতা বৃদ্ধি করে।

২। বয়োঃবৃদ্ধিঃ জীবের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে ক্রসিংওভার সংঘটন প্রবণতা হ্রাস পায়। 

৩। মিউটেশনঃ মিউটেশনের কারণে ক্রসিংওভারের মাত্রা হ্রাস পায়।

৪। ইনভারশনঃ ইনভারশন ক্রসিংওভার  প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়।

৫। ইন্টারফারেন্সঃ ক্রোমোসোমের যে স্থানে কায়াজমা সৃষ্টি হয় তার কাছাকাছি স্থানে আরেকটি কায়াজমা সৃষ্টি বাধাগ্রস্থ হয়। ঘটনাকে ইন্টারফারেন্স বলে।

৬। রেডিওমিমেটিক পদার্থঃ যে সব রাসায়নিক পদার্থ সোমাটিক ক্রসিংওভারের হার বৃদ্ধি করে তাকে রেডিওমিমেটিক পদার্থ বলে। যেমনইথাইলমিথেন সালফোনেট।

৭। রাসায়নিক পদার্থঃ বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ক্রসিংওভার হ্রাস করে। যেমনকলচিসিন, সেলিনিয়াম প্রভৃতি।

ক্রসিংওভারের গুরুত্ব ।। Importance of crossing over

১। জিনের নতুন বিন্যাসঃ ক্রসিংওভারের সময় দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময় ঘটে। ফলে ক্রোমোসোমে জিনের নতুন বিন্যাস ঘটে।

২। জেনেটিক ভ্যারিয়েশনঃ ক্রসিংওভারের ফলে জীবদেহে জেনেটিক ভ্যারিয়েশন সৃষ্টি হয়। ফসলী উদ্ভিদে ক্রসিংওভারের মাধ্যমে নতুন প্রকরণ সৃষ্টি হয়।

৩। বংশগত পরিবর্তনঃ কৃত্রিম উপায়ে ক্রসিংওভার ঘটিয়ে বংশগতিতে পরিবর্তন আনা যায়। এ কারণে প্রজনন বিদ্যায় ক্রসিংওভার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৪। জীব বৈচিত্র্য সৃষ্টিঃ একটি জীবের সাথে অন্য একটি জীবের বৈশিষ্ট্যগত ও চরিত্রগত পার্থক্যই হলো জীব বৈচিত্র্য। একই প্রজাতির দুটি উদ্ভিদ বা প্রাণীর মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য জীববৈচিত্র্যের অন্তর্গত। জীনের অবস্থান ও সজ্জার পরিবর্তন হওয়ার কারণে জীববৈচিত্র্যতা সৃষ্টি হয়।

৫। নতুন পরিবেশে টিকে থাকাঃ ক্রসিংওভারের কারণে জীবদেহে বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তন ঘটে। এতে জীবকুল নতুন পরিবেশে টিকে থাকার ক্ষমতা অর্জন করে এবং টিকে থাকে।

৬। জেনেটিক ম্যাপ তৈরীঃ ক্রসিংওভারের শতকরা হার নির্ণয় করে ক্রোমোসোমে জিনের অবস্থান নির্ণয় এবং ক্রোমোসোম ম্যাপ তৈরী করা হয়।

৭। জিন তাত্তি¡ক গবেষণায়ঃ জিনতাত্তি¡ক গবেষণা বিশ্বব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ক্রসিংওভার জিন তাত্ত্বিক গবেষণায় একটি আকর্ষণীয় বিষয়।

৮। বিবর্তনে সহায়তাঃ ক্রসিংওভারে বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তন ঘটে, জীববৈচিত্র্যতা সৃষ্টি হয় এবং নতুন পরিবেশে টিকে থাকার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে বিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।

৯। ফসলী উদ্ভিদের উন্নতিঃ ক্রসিংওভারের মাধ্যমে ফসলী উদ্ভিদে কাক্সিক্ষত বৈশিষ্ট্যের সমাবেশ ঘটানো যায়। উন্নত জাতের ফসল সৃষ্টি করা যায়।

১০। প্রজনন বিদ্যায়ঃ কৃত্রিম উপায়ে ক্রসিংওভার ঘটিয়ে বংশগতিতে পরিবর্তন ঘটানো যায়। তাই প্রজনন বিদ্যায় এর ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।

১১। ক্রোমোসোমের সরলরৈখিক বিন্যাসঃ ক্রসিংওভারের কারণে ক্রোমোসোমে জিনের সরলরৈখিক বিন্যাস ঘটে।

১২। ক্রোমোসোম ম্যাপ তৈরীঃ প্রথমে ক্রসিংওভারের শতকরা হার নির্ণয় করা হয়। এরপর ক্রোমোসোমে জিনের অবস্থান নির্ণয় করে ক্রোমোসোমের ম্যাপ তৈরী করা হয়।

জীবজগতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া হলো ক্রসিংওভার। ক্রসিংওভারের মাধ্যমে ক্রোমোসোমে বংশগত বৈশিষ্ট্যর পুনর্বিন্যাস ঘটে। ফলে প্রকরণ সৃষ্টি হয়। প্রজাতিতে বিবর্তনের প্রাথমিক সূচনা ঘটে।

ক্রসিংওভার প্রক্রিয়া বর্ণনা, হোয়াইট হাউস মডেল  ।। White House Model

হোয়াইট হাউস মডেল অনুযায়ী ক্রসিংওভার চারটি ধাপে সম্পন্ন হয়। এ গুলো হলো-

১। সিন্যাপসিসঃ যে প্রক্রিয়ায় হোমোলোগাস ক্রোমোসোম গুলো জোড়া বাঁধে তাকে সিন্যাপসিস বলে। এ পর্যায়ে হোমোলোগাস ক্রোমোসোম গুলোর মধ্যে আকর্ষণ পরিলক্ষিত হয়। হোমোলোগাস ক্রোমোসোম গুলো পরস্পরের কাছাকাছি আসে এবং দৈর্ঘ্য বরাবর জোড়া বাঁধে। হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের জোড়া বাঁধার প্রক্রিয়াকে সিন্যাপসিস বলে। প্রতি জোড়া ক্রোমোসোমকে বাইভেলেন্ট বলে।

২। ক্রোমোসোমের ডুপ্লিকেশনঃ বাইভেলেন্টের প্রতিটি ক্রোমোসোম সেন্ট্রোমিয়ার ব্যতীত লম্বালম্বি ভাবে বিভক্ত হয়ে দুটি করে ক্রোমাটিড গঠন করে। ফলে প্রতিটি বাইভেলেন্টে চারটি করে ক্রোমাটিড সৃষ্টি হয়। এ অবস্থাকে টেট্রাড বলে। একই ক্রোমোসোমের ক্রোমাটিড দুটিকে সিস্টার ক্রোমাটিড এবং ভিন্ন ভিন্ন ক্রোমোসোমের ক্রোমাটিড দুটিকে নন-সিস্টার ক্রোমাটিড বলে।

৩। দেহ অংশের বিনিময়ঃ বাইভেলেন্টের দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিড পরস্পরের কাছাকাছি আসে এবং X আকৃতির কায়াজমা গঠন করে। কায়াজমা অংশে এন্ডোনিউক্লিয়েজ এনজাইমের প্রভাবে ক্রোমাটিডগুলো ভেঙ্গে যায়। লাইগেজ এনজাইমের সহায়তায় একটি ভাঙ্গা ক্রোমাটিড অপর একটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের সাথে যুক্ত হয়। এ ভাবে দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময় ঘটে। একে ক্রসিংওভার বলে।

৪। প্রান্তীয়করণঃ ক্রসিংওভার সম্পন্ন হওয়ার পর বাইভেলেন্টের ক্রোমোসোমের মধ্যে বিকর্ষণ শুরু হয়। ক্রোমোসোম গুলো পরস্পর হতে দূরে সরে যায়। কায়াজমা গুলো ধীরে ধীরে প্রান্তের দিকে সরে যেতে থাকে। একে Terminalization বা প্রান্তীয়করণ বলে।

ক্রসিংওভার কী ।। Crossing over

যে প্রক্রিয়ায় বাইভেলেন্টের হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময় ঘটে তাকে ক্রসিংওভার বলে। একে জেনেটিক রিকম্বিনেশন বলা হয়। ১৯০৯ সালে বিজ্ঞানী থমাস হান্ট মর্গান (Thomas Hunt Morgan) সর্বপ্রথম ভূট্রায় ক্রসিংওভার লক্ষ্য করেন। ১৯৩৩ সালে তিনি নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।

কোষ বিভাজন । Cell division। পিতামাতার বৈশিষ্ট্য সন্তান-সন্ততিতে স্থানান্তরে মায়োসিসের ভূমিকা

১। পুরুষের জননাঙ্গে জনন মাতৃকোষ থাকে। জনন মাতৃকোষ প্রাইমারী স্পার্মাটোসাইটে পরিনত হয়। প্রতিটি প্রাইমারী স্পার্মাটোসাইট মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে সেকেন্ডারী স্পার্মাটোসাইট গঠন করে। সেকেন্ডারী স্পার্মাটোসাইট মায়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে স্পার্মাটিড গঠন করে। স্পার্মাটিড গুলো শুক্রাণুতে রুপান্তরিত হয়। মানুষের শুক্রাণুর নিউক্লিয়াসে ২৩টি ক্রোমোসোম থাকে। শুক্রাণু হলো হ্যাপ্লয়েড কোষ এবং ইহা পিতার বৈশিষ্ট্য বহন করে।

২। স্ত্রীজননাঙ্গে জনন মাতৃকোষ থাকে। জনন মাতৃকোষ প্রাইমারী উওসাইটে পরিনত হয়। প্রতিটি প্রাইমারী উওসাইট মায়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে সেকেন্ডারী উওসাইট সৃষ্টি করে। সেকেন্ডারী উওসাইট মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে উওটিড গঠন করে। প্রতিটি উওটিড ডিম্বাণুুতে পরিনত হয়। মানুষের ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াসে ২৩টি ক্রোমোসোম থাকে। ডিম্বাণু হলো হ্যাপ্লয়েড কোষ এবং ইহা মাতার বৈশিষ্ট্য বহন করে।

৩। নিষেক প্রক্রিয়ায় শুক্রাণু ডিম্বাণুর মিলন ঘটে। নিষেকের পর শুক্রাণু ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াস স্ফীত হয়ে প্রোনিউক্লিয়াস গঠন করে। প্রোনিউক্লিয়াস মিলিত হয়ে জাইগোট সৃষ্টি করে। জাইগোটে পিতামাতার বৈশিষ্ট্যের মিশ্রণ ঘটে। জাইগোটের মাধ্যমেই পিতামাতার বৈশিষ্ট্য সন্তানসন্ততিতে স্থানান্তরিত হয়। 

৪। জাইগোট বার বার বিভাজিত হয়ে ভ্রুণে পরিনত হয়। ভ্রুণ থেকে নতুন প্রজন্ম সৃষ্টি হয়। নতুন প্রজন্মে পিতামাতার বৈশিষ্ট্যের সমাবেশ ঘটে। এভাবে পিতামাতার বৈশিষ্ট্য সন্তানসন্ততিতে স্থানান্তরিত হয়।

কোষ বিভাজন । Cell division। প্রজাতির স্বকীয়তায় মায়োসিস এর ভূমিকা

মায়োসিসের মাধ্যমে জীবজগতে ক্রোমোসোমের সংখ্যা ধ্রুব থাকে। পুরুষ দেহে হ্যাপ্লয়েড শুক্রাণু এবং স্ত্রীদেহে হ্যাপ্লয়েড ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়। যৌনজননের মাধ্যমে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে ডিপ্লয়েড জাইগোট সৃষ্টি হয়। জাইগোট বার বার বিভাজিত হয়ে নিজ প্রজাতির অনুরুপ বংশধর সৃষ্টি করে। ফলে প্রজাতির স্বকীয়তা রক্ষা পায়।

কোষ বিভাজন । Cell division। জীব বৈচিত্র্যতা সৃষ্টিতে মায়োসিস বা প্যাকাইটিনের ভূমিকা

প্যাকাইটিন উপপর্যায়ে হোমোলোগাস ক্রোমোসোম গুলোর মধ্যে আকর্ষণ ঘটে। হোমোলোগাস ক্রোমোসোম গুলো পরস্পরের কাছাকাছি আসে এবং দৈর্ঘ্য বরাবর জোড়া বাঁধে। ক্রোমোসোমের জোড়া বাঁধার প্রক্রিয়াকে সিন্যাপসিস এবং প্রতি জোড়া ক্রোমোসোমকে বাইভেলেন্ট বলে। বাইভেলেন্টের প্রতিটি ক্রোমোসোম সেন্ট্রোমিয়ার ব্যতীত লম্বালম্বি ভাবে বিভক্ত হয়ে দুটি করে ক্রোমাটিড গঠন করে। ফলে প্রতিটি বাইভেলেন্টে চারটি করে ক্রোমাটিড সৃষ্টি হয়। অবস্থাকে টেট্রাড বলে। একই ক্রোমোসোমের ক্রোমাটিড দুটিকে সিস্টার ক্রোমাটিড এবং ভিন্ন ভিন্ন ক্রোমোসোমের ক্রোমাটিড দুটিকে ননসিস্টার ক্রোমাটিড বলে। বাইভেলেন্টের দুটি ননসিস্টার ক্রোমাটিড পরস্পরের কাছাকাছি আসে এবং X আকৃতির কায়াজমা গঠন করে। কায়াজমা অংশে এন্ডোনিউক্লিয়েজ এনজাইমের প্রভাবে দুটি ননসিস্টার ক্রোমাটিডের নির্দিষ্ট অংশ ভেঙ্গে যায়। এরপর লাইগেজ এনজাইমের সহায়তায় একটি ভাঙ্গা ক্রোমাটিড অপর একটি ননসিস্টার ক্রোমাটিডের সাথে যুক্ত হয়। ভাবে দুটি ননসিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময় ঘটে এবং একে ক্রসিংওভার বলে। ক্রসিংওভারের ফলে ক্রোমোসোমে জিনের নতুন বিন্যাস ঘটে। জীনের অবস্থান সজ্জার পরিবর্তন ঘটে। জীবদেহে জেনেটিক ভ্যারিয়েশন সৃষ্টি হয়। জীবের বংশগত পরিবর্তন ঘটে। সৃষ্ট জীবে নতুন নতুন বৈশিষ্ট্যের আবির্ভাব হয়। ফলে জেনেটিক বা বংশগত বৈচিত্র্যতা সৃষ্টি হয়।

কোষ বিভাজন । Cell division। মায়োসিস কোষ বিভাজনের গুরুত্ব

১। জননকোষ সৃষ্টিঃ মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় পুংজনন মাতৃকোষ থেকে শুক্রাণু এবং স্ত্রীজনন মাতৃকোষ থেকে ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়। তাই যৌন জননক্ষম জীবে মিয়োসিস আবশ্যক।

২। ভ্রুণ সৃষ্টিঃ মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় শুক্রাণু ও ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে জাইগোট সৃষ্টি হয়। জাইগোট বার বার বিভাজিত হয়ে বহুকোষী ভ্রুণ সৃষ্টি করে। ভ্রুণ থেকে নতুন জীব সৃষ্টি হয়।

৩। ক্রোমোসোমের সংখ্যা ধ্রুব রাখাঃ মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় হ্যাপ্লয়েড শুক্রাণু ও ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়। হ্যাপ্লয়েড শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে ডিপ্লয়েড জাইগোট সৃষ্টি হয়। ফলে জীবজগতে ক্রোমোসোমের সংখ্যা ধ্রুব থাকে।

৪। প্রজাতির স্বকীয়তা বজায় রাখাঃ ক্রোমোসোম সংখ্যা সঠিক রাখার মাধ্যমে প্রতিটি প্রজাতির স্বকীয়তা রক্ষিত হয়। তাই একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির সকল সদস্য দৈহিক ভাবে সর্বাধিক মিল সম্পন্ন হয়।

৫। জীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষাঃ মিয়োসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে জীবের জীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষা পায়।

৬। বৈচিত্র্য সৃষ্টিঃ মিয়োসিসের মাধ্যমে ক্রসিংওভার ঘটে। তাই জীববৈচিত্র্যতা সৃষ্টি হয়। জীববৈচিত্র্যতাকে বিবর্তনের নিয়ামক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

৭। জিনগত পার্থক্য সৃষ্টিঃ মিয়োসিসের মাধ্যমে জননকোষে জিনগত পার্থক্য সৃষ্টি হয়। তাই জীবে নতুন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হয় এবং জীবজগতে ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়।

৮। জীবগোষ্ঠির সম্পর্ক নির্ণয়ঃ মিয়োসিসের মাধ্যমে জীবগোষ্ঠির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ণয় করা যায়।

৯। প্রকরণ সৃষ্টিঃ হোমোলোগাস ক্রোমোসোমে ক্রসিংওভারের সময় জিনের নতুন বিন্যাস ঘটে। ফলে পরবর্তী বংশধরে নতুন প্রকরণ সৃষ্টি হয়।

১০। জনুঃক্রমঃ জীবনচক্রে গ্যামিটোফাইটিক দশা এবং স্পোরোফাইটিক দশার পর্যায়ক্রমিক আবির্ভাবকে জনুঃক্রম বলে। উদ্ভিদের জনুক্রমে মিয়োসিস প্রত্যক্ষ  ভূমিকা পালন করে।

১১। মেন্ডেলিজমঃ বংশগতিবিদ্যার জনক গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের বংশগতি বিষয়ক সূত্র দু’টিকে মেন্ডেলিজম বলে। মিয়োসিস ছাড়া মেন্ডেলিজম ব্যাখ্যা করা যায় না।

১২। অভিব্যক্তিঃ মিয়োসিস আনে জীববৈচিত্র্যতা। আর জীববৈচিত্র্যতা আনে অভিব্যক্তির ধারা ও প্রবাহ।