মাইটোকন্ড্রিয়ার ভৌত ও রাসায়নিক গঠন

মাইটোকন্ড্রিয়ার গঠন (Structure of Mitochondria)
১। আবরণীঃ  প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়া দ্বিস্তর বিশিষ্ট একটি আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। বহিঃআবরণী এবং অন্তঃআবরণী। বাইরের আবরণীকে বহিঃআবরণী এবং ভিতরের আবরণীকে অন্তঃআবরণী বলে। বহিঃআবরণী মসৃণ এবং অন্তঃআবরণী অমসৃন। অন্তঃআবরণী ভিতরের দিকে ভাঁজ হয়ে ক্রিস্টি গঠন করে। প্রতিটি আবরণী ৪০-৬০Å পুরু। আবরণী দু’টির মাঝখানে ব্যবধান ৬-৮ nm। ইহা লিপোপ্রোটিন দ্বারা গঠিত। ইহা মাইটোকন্ড্রিয়াকে নির্দিষ্ট আকৃতি দান করে এবং বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
২। প্রকোষ্ঠঃ মাইটোকন্ড্রিয়ায় দুই ধরনের প্রকোষ্ঠ থাকে। বহিঃপ্রকোষ্ঠ ও অন্তঃপ্রকোষ্ঠ। বহি ও অন্তঃ আবরণীর মাঝের প্রকোষ্ঠকে বহিঃপ্রকোষ্ঠ এবং অন্তঃআবরণীর মাঝের প্রকোষ্ঠকে অন্তঃপ্রকোষ্ঠ (৭০Å প্রশস্ত) বলে। ইহা বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা পুর্ণ থাকে।
৩। ম্যাটিক্সঃ  প্রকোষ্ঠের ভিতরে অবস্থিত জেলির ন্যায় পদার্থকে ম্যাটিক্স বলে।
৪। ক্রিস্টিলঃ মাইটোকন্ড্রিয়ার অন্তঃআবরণী ভিতরের দিকে ভাঁজ হয়ে আঙ্গুলের ন্যায় কতক গুলো প্রবর্ধক সৃষ্টি করে। একে ক্রিস্টি বলে। প্রতিটি ক্রিস্টির মাঝখানে যে ফাঁকা স্থান থাকে তাকে আন্তঃক্রিস্টি ফাঁকা স্থান বলে।
৫। অক্সিসোম বা F1 কণিকাঃ  মাইটোকন্ড্রিয়ার অন্তঃআবরণীর গায়ে গোলাকার বা ডিম্বাকার অসংখ্য সুক্ষ্ম দানা থাকে। এদেরকে অক্সিসোম বা F1 কণিকা বলে। ইহা মস্তক, বোটা ও ভিত্তি নিয়ে গঠিত।
৬। ETS ঃ Electron Transport System কে সংক্ষেপে ETS বলে। একে ETC (Electron Transport Chain) বলা হয়। ক্রিস্টির গায়ে ETS থাকে। ইহা এক স্থান হতে অন্য স্থানে ইলেকট্রন স্থানান্তরিত করে।
৭। ATP-Synthasesঃ  ক্রিস্টির গায়ে গোলাকার বস্তু থাকে। একে ATP-Synthases বলে। ইহা ATP উৎপন্ন করে।
৮। mDNAঃ  প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়ায় বৃত্তাকার দ্বিসূত্রক DNA থাকে। এই DNA গুলো স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে অধিকারী। একে মাইটোকন্ড্রিয়াল DNA বলে।
৯। রাইবোজোমঃ মাইটোকন্ড্রিয়ায় ৭০ S রাইবোজোম থাকে। ইহা কোষের জন্য এনজাইম সংশ্লেষণ করে।

 

রাসায়নিক গঠন (Chemical Structure)
১। প্রোটিনঃ  মাইটোকন্ড্রিয়ার শুষ্ক ওজনের প্রায় ৬৫% হলো প্রোটিন। এর মধ্যে দ্রবনীয় ও অদ্রবনীয় উভয় ধরনের প্রোটিন রয়েছে।
২। লিপিডঃ  মাইটোকন্ড্রিয়ায় প্রায় ৩৫% লিপিড থাকে। এর মধ্যে ৯০% ফসফোলিপিড এবং ১০% ফ্যাটি এসিড ও ক্যারোটিনয়েড। ইহাতে গ্লিসারাইড ২৯%, লেসিথিন ও সেফালিন ৪% এবং কোলেস্টেরল ২%। এর অন্তঃঝিল্লিতে কার্ডিওলিপিন নামক ফসফোলিপিড থাকে।
৩। রঞ্জক পদার্থঃ  ইহাতে সামান্য পরিমানে ক্যারোটিনয়েড থাকে।
৪। নিউক্লিক এসিডঃ  ইহাতে নিউক্লিক এসিড হিসেবে DNA ও RNA থাকে। প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়ায় প্রায় ২০০টি DNA থাকে
৫। এনজাইমঃ  ইহাতে প্রায় ১০০ প্রকার এনজাইম ও কো-এনজাইম থাকে।

 

 

 

মাইটোকন্ড্রিয়া কাকে বলে

মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondria)
গ্রীক mitos শব্দ অর্থ সুতা এবং chondrion অর্থ দানা নিয়ে Mitochondria শব্দটি গঠিত। Mitochondria এর অর্থ সুতাকৃতির দানা। সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত শক্তি উৎপাদনকারী অঙ্গাণুকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলে। ইহা কোষের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে বলে একে Power House  কোষের শক্তির ঘর বলা হয়।
আবিষ্কার ও নামকরণঃ  ১৮৫০ সালে কলিকার (A.V. Kolliker) অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে মাইটোকন্ড্রিয়া আবিষ্কার করেন। ১৮৮২ সালে ফ্লেমিং (W. Fleming) এর নামকরণ করেন ফিলা (Fila) ১৮৯০ সালে আল্টম্যান (Altma) এর নামকরণ করেন বায়োপ্লাস্ট। ১৮৯৭ সালে কার্ল বেন্ডা (Carl Benda) এর নামকরণ করেন মাইটোকন্ড্রিয়া।
আকৃতিঃ  আকৃতিতে ইহা বৃত্তাকার, দন্ডাকার, সূত্রাকার, তারকাকার বা কুন্ডলী আকার।
আয়তনঃ  কোষের আয়তনের ২০% হলো মাইটোকন্ড্রিয়া। সাধারণত মাইটোকন্ড্রিয়ার দৈর্ঘ্য ৩-১০ মাইক্রন ্এবং প্রস্থ ০.২-১.০ মাইক্রন হয়ে থাকে। দন্ডাকার মাইটোকন্ড্রিয়ার দৈর্ঘ্য ৯ মাইক্রন এবং প্রস্থ ০.৫ মাইক্রন। সূত্রাকার মাইটোকন্ড্রিয়ার দৈর্ঘ্য ৪০-৭০ মাইক্রন। বৃত্তাকার মাইটোকন্ড্রিয়ার ব্যাস ০.২-২.০ মাইক্রন।
সংখ্যাঃ  প্রতি কোষে গড়ে ৩০০-৪০০টি মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে। যকৃত ও বৃক্ক কোষে ১০০০ বা ততোধিক মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে। Amoeba-তে আরও বেশি থাকে। স্তন্যপায়ীর লোহিত রক্তকণিকায় মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে না।
উৎপত্তিঃ  কোষ বিভাজনের সময় মাইটোকন্ড্রিয়া বিভাজিত হয়ে নতুন মাইটোকন্ড্রিয়া সৃষ্টি করে।

সাইটোপ্লাজমের গুরুত্ব/বিপাকীয় ভূমিকা

সাইটোপ্লাজমের জৈব উপাদান
১। প্রোটিনরঃ সাইটোপ্লাজমে প্রোটিনের পরিমাণ ৭-১০%। এতে তিন ধরণের প্রোটিন থাকে।
(i) সরল প্রোটিনের মধ্যে অ্যালবিউলিন, গ্লোবিউলিন, হিস্টোন ও প্রোটামিন উল্লেখযোগ্য।
(ii) কনজুগেটেড প্রোটিন গুলো হলো গ্লাইকোপ্রোটিন, নিউক্লিওপ্রোটিন, লিপোপ্রোটিন, ক্রোমোপ্রোটিন ইত্যাদি প্রধান।
(iii) উৎপাদিত প্রোটিন হলো প্রোটিওজ, পেপটোন, লাইপেজ প্রভৃতি প্রধান।
২। লিপিডঃ  সাইটোপ্লাজমে লিপিডের পরিমাণ ১-৩%। সাইটোপ্লাজমের প্রধান লিপিড হলো গ্লিসারাইডস্, গ্লাইকোলিপিড, ফসফোলিপিড, লিপোপ্রোটিন, কোলেস্টেরল ইত্যাদি।
৩। কার্বোহাইড্রেটঃ  সাইটোপ্লাজমে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ ১-১.৫%। তিন ধরণের কার্বোহাইড্রেট থাকে।
(i) সাইটোপ্লাজমের প্রধান মনোস্যাকারাইড হলো গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, গ্যালাক্টোজ ইত্যাদি প্রধান।
(ii) ডাইস্যাকারাইড হলো সুক্রোজ, ম্যালটোজ ও ল্যাকটোজ।
(iii) পলিস্যাকারাইড হলো স্টার্চ ও গ্লাইকোজেন প্রধান।
৪। এনজাইমঃ  সাইটোপ্লাজমে এনজাইম ও কো-এনজাইম থাকে।
৫। নিউক্লিক এসিডঃ  সাইটোপ্লাজমে নিউক্লিক এসিড থাকে।

 

 

সাইটোপ্লাজমের গুরুত্ব/বিপাকীয় ভূমিকা
১। সাইটোপ্লাজম কোষের মূল উপাদান। এর ভিতরে সকল অঙ্গাণু এবং নিউক্লিয়াস থাকে।
২। ইহা দেহের জৈবিক কাজ করে।
৩। ইহা দেহের বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটায়।
৪। ইহা উত্তেজনায় সাড়া দেয়।
৫। সাইক্লোসিসের মাধ্যমে অঙ্গাণুর নড়াচড়ায় সাহায্য করে।
৬। ইহা এনজাইম ধারণ করে।
৭। ইহা শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।
৮। দেহে আয়নিক ভারসাম্য রক্ষা করে।
৯। ইহা কোষের অম্লত্ব ও ক্ষারত্ব নিয়ন্ত্রণ করে।
১০। অভি¯্রবণিক চাপ ও তরলের ঘনমাত্রা বজায় রাখে।
১১। হৃৎস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে।
১২। ইহা জীবের বংশবিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১৩। রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়।
১৪। ইহা বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনে সাহায্য করে।

সাইটোপ্লাজমের ভৌত ও রাসানিক গঠন

 

সাইটোপ্লাজম (Cytoplasm)

নিউক্লিয়াসের বাইরে অবস্থিত কোষ ঝিল্লি দ্বারা পরিবেষ্টিত প্রোটোপ্লাজামীয় অংশকে সাইটোপ্লাজম বলে। একে বর্তমানে সাইটোসল বলা হয়। সাইটোসলের বাইরের দিকের বেশি ঘন ও কম দানাদার অঞ্চলকে এক্টোপ্লাজম এবং ভিতরের দিকের কম ঘন অঞ্চলকে এন্ডোপ্লাজম বলে। সাইটোপ্লাজমের অর্ধস্বচ্ছ, দানাদার, সমধর্মী ও কলয়েডধর্মী তরল পদার্থকে সাইটোম্যাটিক্স বা হায়ালোপ্লাজম বলে। সাইটোপ্লাজমে যে সব অঙ্গাণু থাকে তাদেরকে সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু বলে। ১৯৬৫ সালে আমেরিকান প্রাণরসায়নবিদ H. A. Lardy সাইটোসল শব্দটি ব্যবহার করেন।

 

সাইটোপ্লাজমের ভৌত গঠন

১। সাইটোপ্লাজম হলো সজীব, সামান্য স্বচ্ছ, বর্ণহীন, কোলয়েডধর্মী, সান্দ্র ও স্থিতিস্থপক।

২। এতে বিভিন্ন অঙ্গাণু ও বস্তু সুষম ভাবে ছড়ানো থাকে।

৩। ইহা চটচটে আঠালো বলে প্রবাহ প্রতিরোধী শক্তি আছে।

 

সাইটোপ্লাজমের রাসায়নিক গঠন

১।  সাইটোপ্লাজমে পানি থাকে ৬৫-৯৬%।

২। এতে প্রোটিনের পরিমাণ ৭-১০%।

৩। এতে ১-৩% লিপিড থাকে।

৪। এতে কার্বোহাইড্রেট ১-১.৫%।

৫। খনিজ লবণ থাকে ১-১.৫%।

৬। ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম ইত্যাদি থাকে

 

কোষঝিল্লির গুরুত্ব । কোষঝিল্লির প্রয়োজনীয়তা । Cell membrane । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

 

কোষঝিল্লির গুরুত্ব / প্রয়োজনীয়তা

১। আকৃতি দানঃ  প্লাজমা ঝিল্লি প্রতিটি কোষকে নির্দিষ্ট আকৃতি প্রদান করে। উদ্ভিদ কোষে প্লাজমা পর্দার বাইরে কোষ প্রাচীর থাকলেও প্রাণী কোষে শুধু মাত্র প্লাজমা পর্দা থাকে। এ কারণে প্রাণী কোষের নির্দিষ্ট আকৃতি প্রদানে কোষ ঝিল্লি মুখ্য ভুমিকা পালন করে।

২। সজীব অংশকে রক্ষাঃ  প্লাজমা পর্দা সর্বদা কোষের সজীব প্রোটোপ্লাজমকে আবৃত করে রাখে এবং বাইরের তাপ, চাপ ও আঘাত থেকে রক্ষা করে।

৩। খাদ্য গ্রহণঃ  ইহা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কঠিন খাদ্য এবং পিনোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় তরল খাদ্য গ্রহণ করে।

৪। অঙ্গাণু সৃষ্টিঃ   ইহা কোষের অতি প্রয়োজনীয় কয়েকটি অঙ্গাণু মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, গলগি বডি, নিউক্লিয়ার মেমব্রেণ প্রভৃতি সৃষ্টিতে সহায়তা করে।

৫। রাসায়নিক দ্রুত হিসেবেঃ  প্লাজমা পর্দা কোষের বাহির থেকে নিউরোট্রান্সমিটার, হরমোন প্রভৃতির সাহায্যে রাসায়নিক উপায়ে তথ্য সংগ্রহ করে।

৬। রাসায়নিক ক্ষরণঃ  ইহা কোষের জন্য এনজাইম ও অ্যান্টিজেন ক্ষরণ করে।

৭। শারীরবৃত্তীয় কাজঃ  প্লাজমা মেমব্রেন জীবদেহে শ্বসন ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে অংশ গ্রহণ করে।

৮। উদ্দীপনা পরিবহনঃ  ইহা কোষের বাহির হতে ভিতরে এবং এক কোষ হতে অন্য কোষে স্নায়ু উদ্দীপনা পরিবহন করে।

৯। পরিবহনঃ  প্লাজমা পর্দার ভিতর দিয়ে কোষের প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড, গ্লুুকোজ, আয়ন প্রভৃতি কোষের বাহির হতে ভিতরে প্রবেশ করে। অপরদিকে, কোষে সৃষ্ট কার্বন ডাই অক্সাইড, অ্যামোনিয়া, ইউরিক এসিড প্রভৃতি কোষের ভিতর হতে বাইরে বেরিয়ে যায়।

১০। অভিস্রবনীয় প্রতিবন্ধকঃ ইহা কোষের বহি ও অন্তঃমাধ্যমের মধ্যে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে।

১১। আণবিক সচলতাঃ ইহা কোষের আণবিক সচলতা নিয়ন্ত্রণ করে।

১২। শক্তি উৎপাদনঃ ব্যাকটেরিয়ার কোষ ঝিল্লি ভাঁজ হয়ে মেসোজোম সৃষ্টি করে। মেসোজোম শ্বসন ঘটায় এবং শক্তি উৎপন্ন করে।

রে না। মস্তিস্কের নিউরনে টাইট জাংশন থাকে।

কোষ ঝিল্লির রুপান্তর

কোষ ঝিল্লির রুপান্তর (Modification of cell membrane)

১। মাইক্রোভিলাই (Microvilli)ঃ প্রাণিদেহে শোষণকারী নালির প্রাচীরে যে অভিক্ষেপ থাকে তাকে মাইক্রোভিলাই বলে। অন্ত্র ও নেফ্রণের প্রতিটি কোষে প্রায় ৩০০০ মাইক্রোভিলাই থাকে। ইহা শোষণতল বৃদ্ধি করে।

২। পিনোসাইটিক ভেসিকল (Pinocytic vesicle)ঃ কোষ ঝিল্লি হতে সৃষ্ট তরল খাদ্যকণা যুক্ত গহ্বরকে পিনোসাইটিক ভেসিকল বলে। যে প্রক্রিয়ায় পিনোসাইটিক ভেসিকল সৃষ্টি হয় তাকে পিনোসাইটোসিস বলে।

৩। ফ্যাগোসাইটিক ভেসিকল (Phagocytic vesicle)ঃ কোষ ঝিল্লি হতে সৃষ্ট কঠিন খাদ্যকণা যুক্ত গহ্বরকে ফ্যাগোসাইটিক ভেসিকল বলে। যে প্রক্রিয়ায় ফ্যাগোসাইটিক ভেসিকল সৃষ্টি হয় তাকে ফ্যাগোসাইটোসিস বলে। শ্বেত রক্তকণিকায় ফ্যাগোসাইটিক ভেসিকল থাকে।

৪। ডেসমোসোম (Desmosome)ঃ ঘনিষ্টভাবে সংলগ্ন দুইটি কোষের কোষ ঝিল্লি রুপান্তরিত হয়ে পাতের মতো যে গঠন সৃষ্টি করে তাকে ডেসমোসোম বলে। ডেসমোসোমের সাথে টনোফাইব্রিল তন্তু থাকে। ইহা কোষ দু’টিকে দৃঢ়ভাবে যুক্ত রাখে।

৫। নিরেট সংযোগ (Tight junction)ঃ ঘনিষ্টভাবে সংলগ্ন দুইটি কোষের কোষ ঝিল্লি যুক্ত হয়ে যে নিরেট গঠন সৃষ্টি করে তাকে নিরেট সংযোগ বা টাইট জাংশন বলে। এ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে কোন পদার্থ চলাচল করতে পারে না। মস্তিস্কের নিউরনে টাইট জাংশন থাকে।

       কোষ ঝিল্লির রুপান্তর-  প্লাজমা মেমব্রেণের গুরুত্ব প্রয়োজনীয়তা

কোষ ঝিল্লির রুপান্তর (Modification of cell membrane)

১। মাইক্রোভিলাই (Microvilli)ঃ প্রাণিদেহে শোষণকারী নালির প্রাচীরে যে অভিক্ষেপ থাকে তাকে মাইক্রোভিলাই বলে। অন্ত্র ও নেফ্রণের প্রতিটি কোষে প্রায় ৩০০০ মাইক্রোভিলাই থাকে। ইহা শোষণতল বৃদ্ধি করে।

২। পিনোসাইটিক ভেসিকল (Pinocytic vesicle)ঃ কোষ ঝিল্লি হতে সৃষ্ট তরল খাদ্যকণা যুক্ত গহ্বরকে পিনোসাইটিক ভেসিকল বলে। যে প্রক্রিয়ায় পিনোসাইটিক ভেসিকল সৃষ্টি হয় তাকে পিনোসাইটোসিস বলে।

৩। ফ্যাগোসাইটিক ভেসিকল (Phagocytic vesicle)ঃ কোষ ঝিল্লি হতে সৃষ্ট কঠিন খাদ্যকণা যুক্ত গহ্বরকে ফ্যাগোসাইটিক ভেসিকল বলে। যে প্রক্রিয়ায় ফ্যাগোসাইটিক ভেসিকল সৃষ্টি হয় তাকে ফ্যাগোসাইটোসিস বলে। শ্বেত রক্তকণিকায় ফ্যাগোসাইটিক ভেসিকল থাকে।

৪। ডেসমোসোম (Desmosome)ঃ ঘনিষ্টভাবে সংলগ্ন দুইটি কোষের কোষ ঝিল্লি রুপান্তরিত হয়ে পাতের মতো যে গঠন সৃষ্টি করে তাকে ডেসমোসোম বলে। ডেসমোসোমের সাথে টনোফাইব্রিল তন্তু থাকে। ইহা কোষ দু’টিকে দৃঢ়ভাবে যুক্ত রাখে।

৫। নিরেট সংযোগ (Tight junction)ঃ ঘনিষ্টভাবে সংলগ্ন দুইটি কোষের কোষ ঝিল্লি যুক্ত হয়ে যে নিরেট গঠন সৃষ্টি করে তাকে নিরেট সংযোগ বা টাইট জাংশন বলে। এ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে কোন পদার্থ চলাচল করতে পারে না। মস্তিস্কের নিউরনে টাইট জাংশন থাকে।

 

প্লাজমা মেমব্রেণের গুরুত্ব / প্রয়োজনীয়তা

১। আকৃতি দানঃ  প্লাজমা ঝিল্লি প্রতিটি কোষকে নির্দিষ্ট আকৃতি প্রদান করে। উদ্ভিদ কোষে প্লাজমা পর্দার বাইরে কোষ প্রাচীর থাকলেও প্রাণী কোষে শুধু মাত্র প্লাজমা পর্দা থাকে। এ কারণে প্রাণী কোষের নির্দিষ্ট আকৃতি প্রদানে কোষ ঝিল্লি মুখ্য ভুমিকা পালন করে।

২। সজীব অংশকে রক্ষাঃ  প্লাজমা পর্দা সর্বদা কোষের সজীব প্রোটোপ্লাজমকে আবৃত করে রাখে এবং বাইরের তাপ, চাপ ও আঘাত থেকে রক্ষা করে।

৩। খাদ্য গ্রহণঃ  ইহা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কঠিন খাদ্য এবং পিনোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় তরল খাদ্য গ্রহণ করে।

৪। অঙ্গাণু সৃষ্টিঃ   ইহা কোষের অতি প্রয়োজনীয় কয়েকটি অঙ্গাণু মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, গলগি বডি, নিউক্লিয়ার মেমব্রেণ প্রভৃতি সৃষ্টিতে সহায়তা করে।

৫। রাসায়নিক দ্রুত হিসেবেঃ  প্লাজমা পর্দা কোষের বাহির থেকে নিউরোট্রান্সমিটার, হরমোন প্রভৃতির সাহায্যে রাসায়নিক উপায়ে তথ্য সংগ্রহ করে।

৬। রাসায়নিক ক্ষরণঃ  ইহা কোষের জন্য এনজাইম ও অ্যান্টিজেন ক্ষরণ করে।

৭। শারীরবৃত্তীয় কাজঃ  প্লাজমা মেমব্রেন জীবদেহে শ্বসন ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে অংশ গ্রহণ করে।

৮। উদ্দীপনা পরিবহনঃ  ইহা কোষের বাহির হতে ভিতরে এবং এক কোষ হতে অন্য কোষে স্নায়ু উদ্দীপনা পরিবহন করে।

৯। পরিবহনঃ  প্লাজমা পর্দার ভিতর দিয়ে কোষের প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড, গ্লুুকোজ, আয়ন প্রভৃতি কোষের বাহির হতে ভিতরে প্রবেশ করে। অপরদিকে, কোষে সৃষ্ট কার্বন ডাই অক্সাইড, অ্যামোনিয়া, ইউরিক এসিড প্রভৃতি কোষের ভিতর হতে বাইরে বেরিয়ে যায়।

১০। অভিস্রবনীয় প্রতিবন্ধকঃ ইহা কোষের বহি ও অন্তঃমাধ্যমের মধ্যে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে।

১১। আণবিক সচলতাঃ ইহা কোষের আণবিক সচলতা নিয়ন্ত্রণ করে।

১২। শক্তি উৎপাদনঃ ব্যাকটেরিয়ার কোষ ঝিল্লি ভাঁজ হয়ে মেসোজোম সৃষ্টি করে। মেসোজোম শ্বসন ঘটায় এবং শক্তি উৎপন্ন করে।

     প্লাজমা মেমকব্রণ-প্লাজমা মেমব্রেনের ফ্লুইড-মোজাইক মডেল- রাসায়নিক গঠন

প্লাজমা মেমব্রেনের ফ্লুইড-মোজাইক মডেল (Fluid Mosaic Model)

১৯৭২ সালে বিজ্ঞানী সিঙ্গার ও নিকলসন কোষ ঝিল্লির গঠন সম্পর্কে সর্বজন স্বীকৃত যে মডেল বর্ণনা করেন তাকে ‘ফ্লুইড-মোজাইক মডেল’ বলে। লিপিড স্তরে প্রোটিন অণুকে সমুদ্রে ভাসমান হিমশৈল এর সাথে তুলনা করা হয়েছে। একে হিমশৈল বা ‘আইসবার্গ মডেল’ বলা হয়। ‘ফ্লুইড-মোজাইক মডেল’ অনুযায়ী কোষ ঝিল্লির গঠন নিচে আলোচনা করা হলো-

১। ফসফোলিপিড (Phospholipid)ঃ কোষ ঝিল্লিতে পাঁচ ধরনের ফসফোলিপিড থাকে। লেসিথিন, সেফালিন, গ্লাইকোলিপিড, গ্লাইকোফসফোটাইড ও ফসফোটাইডিক এসিড। ফসফোলিপিড দু’টি স্তরে সজ্জিত থাকে। প্রতিটি লিপিড অণুর দু’টি অংশ থাকে। মাথা ও লেজ। বাইরের দিকের বড় অংশকে মস্তক বলে। ইহা গোলাকার বা ডিম্বাকার এবং ফসফেট দ্বারা গঠিত। ইহা পোলার অংশ এবং পানি গ্রাহী (হাইড্রোফিলিক)। মস্তকের সাথে সুক্ষ্ম তন্তুর মতো যে দু’টি অংশ থাকে তাকে লেজ বলে। ইহা ফ্যাটি এসিড দ্বারা গঠিত। লেজ হলো নন পোলার এবং পানি বিদ্বেষী (হাইড্রোফোবিক)। মস্তক ও লেজের মাঝখানে গ্লিাসারল থাকে। লিপিড অণু গুলো সর্বদা সচল থাকে, কাঁপে এবং পরস্পরের সাথে ঠোকাঠুকি করে লাফিয়ে চলে। এ ধরনের চলনকে flip flop movement বলে। Flip flop ভষড়ঢ় চলনের কারণে স্তর দু’টির মধ্যে স্থান পরিবর্তন হয়, তখন ঝিল্লিকে তরল পদার্থের মতো মনে হয়।

২। প্রোটিন (Protein)ঃ  প্লাজমা মেমব্রেনে তিন ধরনের প্রোটিন থাকে। এ গুলো নিম্নরুপ-

(i) প্রান্তীয় প্রোটিন (Peripheral protein)ঃ  যে প্রোটিন লিপিড স্তরের প্রান্তে অবস্থান করে তাকে প্রান্তীয় প্রোটিন বলে। ইহা দেখতে  গোলাকার। ইহা এনজাইম প্রকৃতির।

(ii) অন্তর্নিহিত প্রোটিন (Integral protein)ঃ যে প্রোটিন লিপিড স্তরের ভিতরে অন্তর্নিহিত অবস্থায় থাকে তাকে অন্তর্নিহিত প্রোটিন বলে। ইহা দেখতে ডিম্বাকার। ইহা বাহক হিসেবে কাজ করে এবং প্রয়োজনীয় পদার্থের আদান প্রদান ঘটায়

(iii) আন্তঃঝিল্লি প্রোটিন (Inter membrane protein)ঃ যে প্রোটিন লিপিড স্তরের এক প্রান্ত হতে অপর প্রান্ত পর্যন্ত বি¯তৃত থাকে তাকে আন্তঃঝিল্লি প্রোটিন বলে। ইহা সবচেয়ে বড় প্রোটিন। ইহা ATP থেকে শক্তি নিয়ে নিজের গঠনের পরিবর্তন ঘটায়। ফলে এর মধ্য দিয়ে একটি ছিদ্র সৃষ্টি হয়। এই ছিদ্রের মধ্য দিয়ে প্রয়োজনীয় পদার্থ চলাচল করে।

৩। গ্লাইকোক্যালিক্স (Glycocalyx)ঃ কোষ ঝিল্লির বাইরের দিকে কার্বোহাইড্রেট চেইন থাকে। কার্বোহাইড্রেট চেইন লিপিডের সাথে যুক্ত হয়ে গ্লাইকোলিপিড এবং প্রোটিনের সাথে যুক্ত হয়ে গ্লাইকোপ্রোটিন গঠন করে। গ্লাইকোপ্রোটিন ও গ্লাইকোলিপিডকে একত্রে গ্লাইকোক্যালিক্স বলে। ইহা কোষের চিহ্নিত কারক (Recognizer) হিসেবে কাজ করে। ইহা প্রয়োজনীয় পদার্থের যাতায়াতে সহায়তা করে।

৪। কোলেস্টেরল (Cholesterol) ঃ ফসফোলিপিড অণুর ফাঁকে ফাঁকে কোলেস্টেরল থাকে। ইহা অনিয়মিত ভাবে বিন্যস্ত থাকে। কোলেস্টেরল প্রাণী কোষে বেশি এবং উদ্ভিদ কোষে কম থাকে। ইহা দু’ধরনের। লো ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন এবং হাই ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন।

কোষ ঝিল্লিতে ফসফোলিপিডের মাঝে প্রোটিন অণু বিক্ষিপ্ত ভাবে অবস্থান করে। এ কারণে কোষ ঝিল্লিকে পৃষ্ঠতল থেকে দেখলে প্রোটিন অণু গুলো মোজাইকের মতো দেখায়। এ অবস্থাকে এক কথায় বোঝানোর জন্য ঝিল্লির মডেলের নাম হয়েছে ‘ফ্লুইড মোজাইক মডেল’।

 

প্লাজমা মেমব্রেনের রাসায়নিক গঠন

১। কোষ ঝিল্লিতে প্রোটিন থাকে ৬০-৮০%।

২। কোষ ঝিল্লিতে লিপিড থাকে ২০-৪০%।

৩। কোন কোন ক্ষেত্রে পলিস্যাকারাইড থাকে ৪-৫%।

৪। কোষ ঝিল্লির শুষ্ক ওজনের প্রায় ৭৫% লিপিড।

৫। কোন কোন ক্ষেত্রে ATP থাকে (পিঁয়াজের কোষ)।

৬। সামান্য পরিমাণ পানি ও লবণ থাকে।

কোষ ঝিল্লি বা প্লাজমা মেমব্রেন-স্যান্ডউইচ মডেল-একক পর্দা হাইপোথিসিস

কোষ ঝিল্লি বা প্লাজমা মেমব্রেন (Plasma Membrane)

প্রোটোপ্লাজমকে আবৃত করে যে সুক্ষ্ম, পাতলা, স্থিতিস্থাপক ও বৈষম্যভেদ্য পর্দা থাকে তাকে প্লাজমা মেমব্রেন বলে। ইহা লিপিড ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত। একে সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন, সাইটোমেমব্রেন, সেল মেমব্রেন, প্লাজমালেমা, বায়োমেমব্রেন প্রভৃতি নামে অভিহিত করা হয়েছে। ইহা উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহে অর্থাৎ সকল জীব কোষে থাকে বলে একে বায়োমেমব্রেণ বলা হয়। রাসায়নিক দিক দিয়ে ইহা প্রোটিন-লিপিড-প্রোটিন এই তিনটি স্তর নিয়ে গঠিত। কার্ল নাগেলী (Nageli ও Cramer, ১৮৫৫) সর্বপ্রথম কোষঝিল্লিকে প্লাজমামেমব্রেন নামকরণ করেন। J. Q. Plower (১৯৩১) একে প্লাজমালেমা শব্দটি ব্যবহার করেন।

 

প্লাজমা মেমব্রেনের ভৌত গঠন

১। লিপিড মেমব্রেন মডেল- Gorter & grendel (১৯২৫)

২। স্যান্ডউইচ মডেল বা দ্বিস্তরবিশিষ্ট মডেল- Danielli এবং Davson (১৯৩৫)

৩। মাইসেলার মডেল- Hiller এবং Hoffman (১৯৫৩)

৪। একক পর্দা হাইপোথিসিস- Robertson (১৯৫৯)

৫। বেনসন মডেল- Benson’s model (১৯৬৬)

৬। লেনার্ড ও সিঙ্গার মডেল- Lenard & Singer’s model (১৯৬৬)

৭। প্রোটিন ক্রিস্টাল মডেল – Venderkoff  এবং Green (১৯৭০)

৮। ফ্লুইড-মোজাইক মডেল – Singer এবং Nicholson (১৯৭২)

 

 

স্যান্ডউইচ মডেল বা দ্বিস্তরবিশিষ্ট মডেল

Danielli  এবং Davson (১৯৩৫) সর্বপ্রথম কোষঝিল্লির গঠন সম্পর্কে একটি সুনির্দিষ্ট মডেল প্রস্তাব করেন। একে স্যান্ডউইচ মডেল বলে। এই মডেল অনুযায়ী কোষঝিল্লি দ্বি-স্তরবিশিষ্ট। প্রতিটি স্তরে প্রোটিন ও লিপিড উপস্তর থাকে। উপর ও নিচের স্তরে প্রোটিন এবং মাঝখানের স্তরে লিপিড থাকে।

 

একক পর্দা হাইপোথিসিস (Unit membrane)

১৯৫৯ সালে বিজ্ঞানী Robertson ইউনিট মেমব্রেন মডেলটি প্রস্তাব করেন। তাঁর মতে, সব বায়োলজিক্যাল মেমব্রেনের আণবিক গঠন একই ধরণের। ইহা তিনটি স্তর নিয়ে গঠিত। স্তর তিনটিকে একত্রে ইউনিট বা একক বলা হয়। ইহা ফসফোলিপিড বাইলেয়ার দ্বারা গঠিত। এর স্থানে স্থানে প্রোটিন গ্রোথিত থাকে। প্রোটিনসহ ফসফোলিপিড বাইলেয়ারকে ইউনিট মেমব্রেন বলা হয়। এর গঠন হলো প্রোটিন-লিপিড-প্রোটিন (P-L-P) এর মোট পুরুত্ব ৭৫ঞ্ Å । বাইরের স্তর দু’টির পুরুত্ব ২০ Å করে এবং ভিতরের স্তরটির পুরুত্ব ৩৫ Å ।

প্রোটোপ্লাস্ট কী । প্রোটোপ্লাজমের বৈশিষ্ট্য । প্রাটোপ্লাজমের রাসায়নিক উপাদান ও গঠন । চলন, কাজ বা গুরুত্ব । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

 

প্রোটোপ্লাস্ট (Protoplast)

গ্রীক শব্দ Protoplastos  অর্থ first formed হতে Protoplast শব্দটি গঠিত। কোষপ্রাচীর ব্যতীত কোষের সকল অংশকে প্রোটোপ্লাস্ট বলে। ১৮৮০ সালে Hanstein সর্বপ্রথম প্রোটোপ্লাস্ট শব্দটি ব্যবহার করেন। কৃত্রিম উপায়ে যে প্রোটোপ্লাস্ট তৈরী করা হয় তাকে আইসোলেটেড প্রোটোপ্লাস্ট বলে।

 

প্রোটোপ্লাজম (Protoplasm)

গ্রীক শব্দ Protos অর্থ আদি এবং plasma নিয়ে Protoplasm  শব্দটি গঠিত। কোষ ঝিল্লির ভিতরে অবস্থিত  অর্ধস্বচ্ছ, আঠালো, বর্ণহীন ও জেলির ন্যায় কলয়েডধর্মী সজীব অংশকে প্রোটোপ্লাজম বলে। ইহা জীবের সকল কার্যাবলি সম্পন্ন করে বলে একে জীবনের ভৌত ভিত্তি বা vivum fluidum বলা হয়। ১৮৪০ সালে পারকিনজে (Purkinje) সর্বপ্রথম Protoplasm  শব্দটি ব্যবহার করেন। ১৮৬৮ সালে Huxley  প্রোটোপ্লাজমকে জীবনের ভৌত ভিত্তি নামে অভিহিত করেন। Wilson এর মতে, প্রোটোপ্লাজম হলো রাসায়নিক পদার্থের সমষ্টি মাত্র। প্রোটোপ্লাজমের প্রধান অংশ তিনটি। কোষঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস।

 

প্রোটোপ্লাজমের বৈশিষ্ট্য (Characters of Protoplasm)

১। প্রোটোপ্লাজম হলো অর্ধস্বচ্ছ, বর্ণহীন, জেলির ন্যায় এবং আঠালো।

২। ইহা দানাদার ও কলয়েডধর্মী।

৩। এর কলয়েড বস্তুকণা সমধর্মী বৈদ্যুতিক চার্জ বহন করে।

৪। এর আপেক্ষিক গুরুত্ব পানির চেয়ে বেশি।

৫। ইহা দেহের সকল মৌলিক জৈবিক কাজ সম্পন্ন করে (শ্বসন, চলন, রেচন, প্রজনন)।

৬। ইহা তাপ, এসিড ও অ্যালকোহলের প্রভাবে জমাট বাঁধে

৭। ইহা সর্বদা গতিশীল এবং এর গতিময় চলনকে সাইক্লোসিস বলে (যেমন- Tradescantia)।

৮। ইহা আঁকাবাঁকা (zig zag) বিচলন প্রদর্শন করে। একে ব্রাউনিয়ান বিচলন (Brownian movement) বলে।

৯। সল থেকে জেল এবং জেল থেকে সল হয়।

১০। মিলিপোর ফিল্টার পেপার দ্বারা প্রোটোপ্লাজমের কণাকে আলাদা করা যায়।

১১। এর মৃত্যু ঘটে।

 

প্রোটোপ্লাজমের রাসায়নিক উপাদান
১। প্রোটোপ্লাজমের প্রধান রাসায়নিক উপাদান পানি। এতে পানির পরিমাণ ৭০%-৯০%।
২। শুষ্ক প্রোটোপ্লাজমের ৪৫% প্রোটিন, ২৫% লিপিড, ২৫% কার্বোহাইড্রেট এবং ৫% অন্যান্য বস্তু থাকে।
৩। প্রোটোপ্লাজমের প্রধান জৈব উপাদান হলো প্রোটিন ও নাইট্রোজেন যৌগ।
৪। এতে অল্প পরিমাণ তরল চর্বি ও তৈল থাকে।
৫। এর খনিজ উপাদান হলো ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, আয়রন ইত্যাদি।

 

প্রোটোপ্লাজমের গঠন সম্পর্কে মতবাদ
১। রেটিক্যুলার মতবাদঃ বিজ্ঞানী Frommann (১৮৬৫) এর মতে, ভিত্তি পদার্থের উপর জালিকাময় তন্তু দ্বারা প্রোটোপ্লাজম গঠিত।
২। গ্র্যানুলার মতবাদঃ বিজ্ঞানী Altman (১৮৮৬) এর মতে, প্রোটোপ্লাজম হলো অসংখ্য ক্ষুদ্র ও বৃহদাকার বায়োব্লাস্ট যুক্ত দানাদার তরল পদার্থ।
৩। অ্যালভিওলার মতবাদঃ বিজ্ঞানী Butschli (১৮৯২) এর মতে, প্রোটোপ্লাজম হলো সাবানের ফেনার মতো অসংখ্য অ্যালভিওলাই যুক্ত কিংবা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বুদবুদ যুক্ত।
৪। কোলয়েড মতবাদঃ বিজ্ঞানী Wilson ও Fishar (১৮৯৪) এর মতে, প্রোটোপ্লাজম আংশিক ভাবে তরল এবং আংশিক ভাবে কোলয়েডধর্মী।

 

প্রোটোপ্লাজমের চলন

প্রোটোপ্লাজম সর্বদা গতিময় চলন প্রদর্শন করে। প্রোটোপ্লাজমের গতিময় চলনকে আবর্তন বা সাইক্লোসিস বলে। ইহা আঁকাবাঁকা (zig zag) বিচলন প্রদর্শন করে, একে ব্রাউনিয়ান বিচলন বলে। ইহা দুই ধরণের চলন প্রদর্শন করে।
১। একমুখী সাইক্লোসিসঃ যে চলনে প্রোটোপ্লাজম একটি গহ্বরকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট পথে একদিকে ঘুরতে থাকে তাকে একমুখী সাইক্লোসিস বলে। পাতা ঝাঁঝির প্রোটোপ্লাজমের চলন একমুখী।
২। বহুমুখী সাইক্লোসিসঃ যে চলনে প্রোটোপ্লাজম কয়েকটি গহ্বরকে কেন্দ্র করে অনিয়মিত ভাবে বিভিন্ন দিকে ঘুরতে থাকে তাকে বহুমুখী সাইক্লোসিস বলে। Tradescantia-র প্রোটোপ্লাজমের চলন একমুখী।

প্রোটোপ্লাজমের কাজ/গুরুত্ব
১। প্রোটোপ্লাজম হলো জীবনের ভৌত ভিত্তি।
২। ইহা কোষের মূল উপাদান। কোষের সকল অঙ্গাণু ধারণ করে।
৩। ইহা কোষের জন্য পানি ধারণ করে।
৪। ইহা বংশবিস্তার ঘটায়।
৫। ইহা দৈহিক বৃদ্ধি ঘটায়।
৬। কোষে আয়নিক ভারসাম্য রক্ষা করে।