গলজিবডিকে কোষের ট্রাফিক পুলিশ বলা হয় কেন

গলজিবডিকে কোষের ট্রাফিক পুলিশ বলা হয় কেন
গলজিবডি কোষে উৎপন্ন প্রোটিন ও লিপিডকে লিপোপ্রোটিনে পরিনত করে। এরপর লিপোপ্রোটিনকে আবরণী দ্বারা আবদ্ধ করে বাইরে নির্গত করে। একারণে গলজিবডিকে কোষের ট্রাফিক পুলিশ বলা হয়।

রাইবোজোমের গুরুত্ব কী কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

রাইবোজোমের গুরুত্ব
১। ইহা প্রোটিন সংশ্লেষণ/ট্রান্সলেশন ঘটায়।
২। ইহা সাইটোক্রোম উৎপাদনে সাহায্য করে।
৩। ইহা স্নেহ বিপাকে সাহায্য করে।
৪। গ্লুকোজের ফসফোরাইলেশন ঘটায়।
৫। ইহা পলিপেপটাইডকে প্রোটিওলাইটিক এনজাইমের ক্ষতিকর ক্রিয়া হতে রক্ষা করে।
৬। ইহা mRNA-কে নিউক্লিয়েজ এনজাইমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে।
৭। প্রোটিন সংশ্লেষণকারী এনজাইম ধারণ করে।
৮। ইহা জেনেটিক কোডের অর্থ নিশ্চিত করে।

[আদি কোষের রাইবোজোম রাসায়নিক ভাবে ভিন্ন ধরণের। তাই টেট্রাসাইক্লিন বা স্ট্রেপ্টোমাইসিন ওষুধ রোগীর দেহে প্রয়োগ করলে ব্যাকটেরিয়ার প্রোটিন সংশ্লেষণ বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু রোগীর কোন ক্ষতি হয় না]

ভেদবার্গ একক (Svedberg unit)

ভেদবার্গ একক (Svedberg unit)

সেন্ট্রিফিউজ যন্ত্রে দ্রুত ঘুর্ণনের সময় বিভিন্ন ভর বিশিষ্ট বস্তুর অধঃক্ষেপণের হারকে ভেদবার্গ একক বলে। একে S দ্বারা প্রকাশ করা হয়। সুইডিশ প্রাণরসায়ন বিজ্ঞানী Theodor Svedberg  এর নামের প্রথম অক্ষর S দ্বারা উহা বুঝানো হয়েছে। কলয়েড বস্তুর আলট্রাসেন্ট্রিফিউজ কৌশল আবিষ্কারের জন্য তাঁকে ১৯২৬ সালে রসায়নে নোবেল পুরষ্কার দেয়া হয়।

গ্লাইঅক্সিজোম (Glyoxisome)

গ্লাইঅক্সিজোম (Glyoxisome)
যে সব অঙ্গাণু বিটা-অক্সিডেশন প্রক্রিয়া ঘটায় তাদেরকে গ্লাইঅক্সিজোম বলে। ইহা আবরণী বিশিষ্ট অঙ্গাণু। ইহা বীজের লিপিড সঞ্চয়ী কোষে থাকে। বীজের অংকুরোদগমের সময় লিপিডকে ভেঙ্গে চিনিতে পরিনত করে। এতে চারার বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে।

 

        রাইবোজোম কাকে বলে ? এর প্রকারভেদ

রাইবোজোম (Ribosome)

প্রোটিন ও RNA দ্বারা গঠিত আবরণীবিহীন প্রোটিন সংশ্লেষণকারী অতিআণুবীক্ষনিক কণাকে রাইবোজোম বলে। একে প্রোটিন ফ্যাক্টরী বলা হয়। ১৯৫৪ সালে আলবার্ট ক্লড যকৃত কোষ হতে ইহা আবিষ্কার করেন এবং নাম দেন মাইক্রোসোম। পরবর্তীতে ১৯৫৮ সালে রিচার্ড বি. রবার্ট এর নাম দেন রাইবোজোম।

 

প্রকারভেদ (Types)ঃ রাইবোজোম দুই প্রকার।

১। ৭০ S রাইবোজোম ঃ আদিকোষে ৭০ S রাইবোজোম থাকে। এরা ছোট, ব্যাস ১৫০ Å এবং আণবিক ওজন ২.৭ х ১০৬ ডালটন। এর দু’টি সাব ইউনিট হলো ৫০S ও ৩০S । ব্যাকটেরিয়া, মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টে ৭০ঝ থাকে।

২। ৮০ S রাইবোজোম ঃ প্রকৃত কোষে ৮০ S রাইবোজোম থাকে। ৮০ S রাইবোজোমের দু’টি উপএকক ৬০ S ও ৪০ S । এর আণবিক ওজন 40 х 106 ডালটন।

 

ক্লোরোপ্লাস্টের ভৌত ও রাসায়নিক গঠন

ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন (Structure of Chloroplast)
১। আবরণীঃ প্রতিটি ক্লোরোপ্লাস্ট দ্বিস্তর বিশিষ্ট একটি আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। বহিঃআবরণী এবং অন্তঃআবরণী। বাইরের আবরণীকে বহিঃআবরণী এবং ভিতরের আবরণীকে অন্তঃআবরণী বলে। আবরণী দু’টির মাঝখানের দুরত্ব ৬-৮ nm । একে পেরিপ্লাস্টিডাল স্থান বলে। ইহা মসৃন এবং লিপোপ্রোটিন দ্বারা গঠিত। ক্লোরোপ্লাস্টের আবরণীতে ফসফোলিপিডের পরিবর্তে গ্লাইকোসিল গ্লিসারাইড থাকে। ইহা ক্লোরোপ্লাস্টকে নির্দিষ্ট আকৃতি দান করে এবং বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
২। প্রকোষ্ঠঃ প্রতিটি ক্লোরোপ্লাস্টে দু’ধরনের প্রকোষ্ঠ থাকে। বহিঃপ্রকোষ্ঠ ও অন্তঃপ্রকোষ্ঠ। বহি ও অন্তঃ আবরণীর মাঝের প্রকোষ্ঠকে বহিঃপ্রকোষ্ঠ এবং অন্তঃআবরণীর মাঝের প্রকোষ্ঠকে অন্তঃপ্রকোষ্ঠ বলে। ইহা বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা পূর্ণ থাকে।
৩। স্ট্রোমাঃ ক্লোরোপ্লাস্টের ভিতরে যে পানিগ্রাহী কলয়েডধর্মী তরল পদার্থ থাকে তাকে স্ট্রোমা (Stroma) বলে। এতে ৭০ S রাইবোজোম, DNA, RNA ও শর্করা তৈরীর এনজাইম থাকে। স্ট্রোমাতে C3 ও C4 চক্র ঘটে।
৪। থাইলাকয়েডঃ স্ট্রোমাতে থলে আকৃতির ত্রিমাত্রিক সজ্জার যে গঠন থাকে তাকে থাইলাকয়েড বলে। এর প্রস্থ ১০০-৩০০ Å । থাইলাকয়েডের প্রকোষ্ঠের ভিতরে ক্লোরোফিল-এ, ক্লোরোফিল-বি, ক্যারোটিনয়েড, জ্যান্থোফিল ও এনজাইম থাকে। এসব উপাদান গুলোকে একত্রে স্ফটিকাকার দানার মতো দেখায়। তখন এদেরকে কোয়ান্টোজোম বলে।
৫। গ্রানামঃ ১০-১০০ টি থাইলাকয়েড পর পর সজ্জিত হয়ে যে স্তুপ গঠন করে তাকে গ্রানাম বলে। গ্রানাম চক্রের ঝিল্লির ভিতরের গায়ে কিছু কোয়ান্টোজোম থাকে। প্রতিটি ক্লোরোপ্লাস্টে ৪০-৬০টি গ্রানা থাকে। প্রতিটি গ্রানামের আকৃতি ০.৩-১.৭০ মাইক্রোন।
৬। স্ট্রোমা ল্যামেলীঃ পাশাপাশি অবস্থিত দু’টি থাইলাকয়েড যে নালিকা দ্বারা যুক্ত থাকে তাকে স্ট্রোমা ল্যামেলী বা ইন্টারগ্রানাল ফ্রেটস বলে। স্ট্রোমা ল্যামেলীতে ক্লোরোফিল থাকে।
৭। ATP সিন্থেসেসঃ থাইলাকয়েডের মেমব্রেনে যে গোলাকার বা ডিম্বাকার বস্তু থাকে তাকে ATP সিন্থেসেস বলে। এতে ATP তৈরীর জন্য এনজাইম থাকে। ইহা কোষের জন্য ATP তৈরী করে।
৮। ফটোসিনথেটিক ইউনিটঃ কয়েকটি ATP সিন্থেসেস মিলে এক একটি ইউনিট গঠন করে। একে ফটোসিনথেটিক ইউনিট বলে। প্রতিটি ইঊনিটে ক্লোরোফিল-এ, ক্লোরোফিল-বি, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল এর ৩০০-৪০০টি অণু থাকে। এতে বিভিন্ন ধরণের এনজাইম, ফসফোলিপিড, সালফোলিপিড, মেটাল আয়ন, কুইনোন ইত্যাদি থাকে। ফটোসিনথেটিক ইউনিট আলোক শক্তি শোষণ করে এবং ফটোফসফোরাইলেশন ঘটায়।
৯। DNAঃ ক্লোরোপ্লাস্টে ছোট ও চক্রাকার DNA থাকে। DNA গুলো স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে অধিকারী। একে ক্লোরোপ্লাস্টিক DNA (cpDNA) বলে। প্রতিটি ক্লোরোপ্লাস্টে ২০০টি cpDNA থাকে।
১০। রাইবোজোমঃ ক্লোরোপ্লাস্টে ৭০S রাইবোজোম থাকে।
১১। অজ্ঞাত গুটিকাঃ ক্লোরোপ্লাস্টে কিছু অজ্ঞাত গুটিকা থাকে। এদের প্রকৃতি ও কাজ সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায় নাই।

ক্লোরোপ্লাস্টের রাসায়নিক গঠন (Chemical Structure of Chloroplast)
১। প্রোটিনঃ ক্লোরোপ্লাস্টের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৩৫-৫৫% প্রোটিন থাকে। এর মধ্যে অদ্রবনীয় প্রোটিন ৮০% এবং দ্রবনীয় প্রোটিন ২০%।
২। লিপিডঃ ক্লোরোপ্লাস্টে ১০%-২০% লিপিড থাকে। এর মধ্যে ফসফোলিপিডই বেশি।
৩। রঞ্জক পদার্থঃ ইহাতে ৬-১২% রঞ্জক পদার্থ রয়েছে। এর মধ্যে ৭৫% ক্লোরোফিল-এ, ২৫% ক্লোরোফিল-বি, ক্যারোটিন, জ্যান্থোফিল প্রভৃতি।
৪। নিউক্লিক এসিডঃ ক্লোরোপ্লাস্টে ৫% নিউক্লিক এসিড থাকে। নিউক্লিক এসিড হলো DNA ও RNA
৫। খনিজ লবণঃ ইহাতে ৩% খনিজ লবণ থাকে। খনিজ লবণের মধ্যে ম্যাগনেসিয়াম বেশি থাকে। এছাড়া আয়ন ও কপার উল্লেখ যোগ্য।
৬। কার্বোহাইড্রেটঃ ক্লোরোপ্লাস্টে নির্দিষ্ট পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট থাকে না। ইহা সর্বদা পরিবর্তনশীল। স্টার্চ হচ্ছে এর সাধারণ কার্বোহাইড্রেট।

প্লাস্টিডের গুরুত্ব/ভূমিকা

প্লাস্টিডের গুরুত্ব/ভূমিকা
১। লিউকোপ্লাস্ট শ্বেতসার, প্রোটিন ও লিপিড জাতীয় খাদ্য সঞ্চয় করে।
২। ক্লোরোপ্লাস্ট শর্করা জাতীয় খাদ্য উৎপন্ন করে।
৩। ক্লোরোপ্লাস্ট শর্করা জাতীয় খাদ্য সঞ্চয় করে।
৪। ক্রোমোপ্লাস্ট পরাগায়নের জন্য কীটপতঙ্গকে আকৃষ্ট করে।
৫। ক্রোমোপ্লাস্ট ফল ও বীজের বিসরণের জন্য প্রাণীকুলকে আকৃষ্ট করে।
৬। ক্রোমোপ্লাস্টের উচ্চ খাদ্য মূল্য আছে।
৭। বিভিন্ন ধরণের ক্রোমোপ্লাস্ট মানুষসহ প্রাণীদের বিনোদনের উপকরণ।
৮। ঘর সাজানোর কাজে বিভিন্ন ধরণের রঙ্গিন ফুল ব্যবহার হয়।
৯। বিভিন্ন জাতীয় উৎসবে ফুলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
১০। বিভিন্ন বর্ণের ফুল ধর্মীয় বা পূজার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার হয়।

ফুলের পাপড়ির রং নানা রকম হওয়ার কারণ

ফুলের পাপড়ির রং নানা রকম হওয়ার কারণ
ফুলের পাপড়ির বৈচিত্র্যপূর্ণ রং অ্যান্থোসায়ানিন ও বিটাসায়ানিন জাতীয় রঞ্জকের উপর নির্ভরশীল। কতকগুলি জটিল যৌগের সমষ্টি হলো অ্যান্থোসায়ানিন। ইহা গ্লাইকোসাইড হিসেবে কোষরসে মিশে থাকে। কোষরসের pH এর তারতম্য ঘটলে ফুলের রং এর তারতম্য ঘটে। কোষরসের pH এসিড প্রকৃতির হলে ফুলের রং লাল হয়, pH ক্ষারীয় প্রকৃতির হলে ফুলের রং নীল হয় এবং pH নিরপেক্ষ প্রকৃতির হলে ফুলের রং বেগুনী বা কালচে নীল হয়।

প্লাস্টিড কী ? প্লাস্টিডের প্রকরেভেদ ও উৎপত্তি

প্লাস্টিড (Plastid)
উদ্ভিদ কোষের সাইটোপ্লজমে অবস্থিত ডিম্বাকার, থালাকৃতির, ফিতাকৃতির বা তারকাকার সজীব বস্তু গুলোকে প্লাস্টিড বলে। ইহা সাইটোপ্লাজমের সর্ববৃহৎ ক্ষুদ্রাঙ্গ। ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ায় প্লাস্টিড থাকে না, তবে ক্রোম্যাটোফোর থাকে। নীলাভ সবুজ শৈবাল বা সায়ানেব্যাকটেরিয়ার (BGA) থাইলাকয়েডে ক্লোরোফিল থাকে। প্রাণীকোষে প্লাস্টিড থাকে না। ১৮৮৩ সালে শিম্পার সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষে সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড লক্ষ্য করেন এবং ক্লোরোপ্লাস্ট নামকরণ করেন।

প্লাস্টিডের প্রকারভেদ
রঞ্জক পদার্থের উপর ভিত্তি করে প্লাস্টিডকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ গুলো হলো-
১। লিউকোপ্লাস্ট (Leucoplast)ঃ গ্রীক শব্দ Leuco অর্থ বর্ণহীন। বর্ণহীন প্লাস্টিডকে লিউকোপ্লাস্ট বলে। আলোর উপস্থিতিতে ইহা ক্রোমোপ্লাস্ট বা ক্লোরোপ্লাস্টে রুপান্তরিত হতে পারে। লিউকোপ্লাস্ট উদ্ভিদের মূল, ভূ-নি¤œাস্থ কান্ড, বীজ, ভাজক টিস্যু, গ্যামিট প্রভৃতিতে থাকে।

লিউকোপ্লাস্ট তিন ধরনের
(i) অ্যামাইলোপ্লাস্ট (Amyloplast)ঃ যে সব লিউকোপ্লাস্ট স্টার্চ বা শ্বেতসার জাতীয় খাদ্য সঞ্চয় করে তাকে অ্যামাইলোপ্লাস্ট বলে।
(ii) ইলায়োপ্লাস্ট (Elioplast)ঃ যে সব লিউকোপ্লাস্ট চর্বি জাতীয় খাদ্য সঞ্চয় করে তাকে ইলায়োপ্লাস্ট বলে।
(iii) অ্যালিউরোপ্লাস্ট (Aleuroplast)ঃ যে সব লিউকোপ্লাস্ট প্রোটিন জাতীয় খাদ্য সঞ্চয় করে তাকে অ্যালিউরোপ্লাস্ট বা প্রোটিনোপ্লাস্ট বলে।

২। ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast)ঃ গ্রীক শব্দ Chloros অর্থ সবুজ। সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে।

৩। ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast) ঃ গ্রীক শব্দ Chroma অর্থ রঙিন। সবুজ বর্ণ ব্যতিত অন্যান্য বর্ণের প্লাস্টিডকে ক্রোমোপ্লাস্ট বলে। ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের কারণে ইহা রঙ্গিন হয়। সম্ভবত ক্লোরোপ্লাস্ট হতে ক্রোমোপ্লাস্ট সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ধরণের ক্রোমোপ্লাস্ট হলো কমলা-লাল বর্ণের ক্যারোটিন, হলুদ বর্ণের জ্যান্থোফিল, বাদামী বর্ণের ফিওপ্লাস্ট এবং লাল বর্ণের রডোপ্লাস্ট। ফুলের পাপড়ি, রঙ্গিন ফল ও বীজ, গাজরের মূলে ক্রোমোপ্লাস্ট থাকে। ফুল ও পাতার বর্ণে কীট-পতঙ্গ আকৃষ্ট হয় এবং পরাগায়নে সাহায্য করে।

প্লাস্টিডের উৎপত্তি
কোষে ব্যবহৃত হয় এমন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক যৌগ হতে প্লাস্টিড সৃষ্টি হয়েছে। আদিকোষ এবং প্লাস্টিডের মধ্যে উৎপত্তিগত বিবর্তনিক মিল রয়েছে। এদের উভয়ের দ্বি-সূত্রক বৃত্তাকার DNA আছে। ধারণা করা হয়, কিছু অন্তঃমিথোজীবী সায়ানোব্যাকটেরিয়া থেকে প্লাস্টিডের ঊৎপত্তি হয়েছে। প্রায় ১.৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে এধরণের মিথোজীবীতা বিকশিত হয় এবং প্রকৃতকোষকে সালোকসংশ্লেষণক্ষম করে তোলে।

মাইটোকন্ড্রিয়ার গুরুত্ব / প্রয়োজনীয়তা

মাইটোকন্ড্রিয়ার গুরুত্ব / প্রয়োজনীয়তা

১। শ্বসন প্রক্রিয়াঃ  শ্বসনের ক্রেব্স চক্র ও ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম মাইটোকন্ড্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। একে সাইটোপ্লাজমিক শ্বসন বলে।

২। শক্তি উৎপাদনঃ  মাইটোকন্ড্রিয়ায় ATP তৈরী হয়। ATP হলো শক্তির উৎস।

৩। প্রোটিন তৈরীঃ  মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের জন্য প্রোটিন তৈরী করে।

৪। নিউক্লিক এসিড তৈরীঃ  ইহা DNA ও  RNA জঘঅ তৈরী করে।

৫। রক্তকণিকা ও হরমোন উৎপাদনঃ  ইহা রক্তকণিকা ও হরমোন উৎপাদনে সহায়তা করে।

৬। এনজাইম ধারণঃ  ইহা শ্বসনের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম ও কো এনজাইম ধারণ করে।

৭। আয়নের ভারসাম্যঃ  এরা কোষের বিভিন্ন অংশে ক্যালসিয়াম আয়নের সঠিক ঘনত্ব রক্ষা করে।

৮। বিপাকঃ  ইহা নিউরোট্রান্সমিটার ও কোলেস্টেরল বা চর্বি বিপাক করে।

৯। অ্যাপোপটোসিস নিয়ন্ত্রণঃ  মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের পূর্বনির্ধারিত মৃত্যু (apoptosis) নিয়ন্ত্রণ করে।

১০। বংশগতিঃ  মাইটোকন্ড্রিয়া শুক্রাণু ও ডিম্বাণু গঠনে সাহায্য করে।

১১। শক্তি নিয়ন্ত্রণঃ  ইহা কোষে শক্তি সঞ্চয় ও নির্গমণ নিয়ন্ত্রণ করে। ADP কে ATP তে রুপান্তরের মাধ্যমে উচ্চশক্তি বন্ধনী সৃষ্টি করে নিজের দেহে সঞ্চয় করে।

১২। ক্যাটায়ন সঞ্চিতঃ  মাইটোকন্ড্রিয়ায় Ca2+, S2+, Fe2+, Mn2+  ইত্যাদি সঞ্চিত থাকে।