কোষতত্ত্ব-কোষের প্রকারভেদ-উদ্ভিদ কোষ-প্রাণী কোষ

কোষতত্ত্ব (Cell theory)

১৮৩৮-৩৯ সালে জার্মান উদ্ভিদবিজ্ঞানী স্লেইডেন, প্রাণিবিজ্ঞানী থিওডোর সোয়ান এবং রবার্ট ভারচু কোষ সম্পর্কে যে তত্ত্ব প্রদান করেন তাকে কোষতত্ত্ব বলে। কোষতত্ত্বের মূল বিষয় হলো-

১। সকল জীবই কোষ দ্বারা গঠিত।

২। কোষ হলো জীবনের মৌলিক একক।

৩। কোষ হলো জীবের গাঠনিক, সাংগঠনিক ও শারীরবৃত্তীয় একক।

৪। ইহা বংশগতির একক।

৫। পূর্বতন কোষ থেকে নতুন কোষের সৃষ্টি হয়।

৬। দেহের সকল কার্যাবলী কোষের ভিতরে সংঘটিত হয়।

৭। দেহের জৈবিক কার্যক্রম সকল কোষের কার্যাবলীর উপর নির্ভর করে।

৮। একই প্রজাতির সকল সদস্যের কোষের রাসায়নিক প্রকৃতি সমরুপ।

 

কোষ মতবাদের সীমাবদ্ধতা

১। ভাইরাস, ভিরিয়ন ও প্রিয়ন এর কোষীয় অবস্থান নাই।

২। ব্যাকটেরিয়া ও নিলাভ সবুজ শৈবালের সুগঠিত নিউক্লিয়াস নাই।

৩। অনেক শৈবাল ও ছত্রাকের কোষ বহুনিউক্লিয়াসযুক্ত।

৪। অনেক কোষের প্রোটোপ্লাজম মৃত।

৫। লোহিত রক্তকণিকা ও সিভনল নিউক্লিয়াসবিহীন।

 

কোষের প্রকারভেদ (Type of Cell)

শারীরবৃত্ত্বীয় কাজের উপর ভিত্তি করে কোষকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

১। দেহকোষঃ বহুকোষী জীবের যে সব কোষ শুধু মাত্র দেহ গঠন করে তাকে দেহকোষ বলে। ইহা ডিপ্লয়েড প্রকৃতির। যেমন- মূল, কান্ড, পাতা, পেশিকোষ, স্নায়ুকোষ, জাইলেম, ফ্লোয়েম  প্রভৃতি।

২। জননকোষঃ যে সব কোষ জীবের জনন কাজে অংশ গ্রহণ করে তাকে জনন কোষ বলে। যেমন- শুক্রাণু ও ডিম্বাণু।

 

নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর ভিত্তি করে Dougherty (১৯৭৫) কোষকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন।

১। আদি কোষ (Prokaryotic cell)ঃ গ্রিক pro  শব্দ অর্থ আদি এবং karyon অর্থ নিউক্লিয়াস নিয়ে Prokaryotic শব্দটি গঠিত। Prokaryotic শব্দের অর্থ হলো আদি নিউক্লিয়াস। যে সব কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস নাই তাদেরকে আদি কোষ বলে। যেমন- ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ শৈবাল (ইএঅ), মাইকোপ্লাজমা (PPLO)

২। প্রকৃত কোষ (Eukaryotic cell)ঃ গ্রিক eu শব্দ অর্থ প্রকৃত এবং karyon অর্থ নিউক্লিয়াস নিয়ে Eukaryotic শব্দটি গঠিত। Eukaryotic শব্দের অর্থ হলো প্রকৃত নিউক্লিয়াস। যে সব কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস আছে তাদেরকে প্রকৃত কোষ বলে। যেমন- শৈবাল ও ছত্রাকের কোষ

 

কয়েকটি উদ্ভিদ কোষ (Plant Cell)

ট্রাকিড, ভেসেল, সীভনল, রক্ষীকোষ, স্টোনকোষ, গ্রন্থিকোষ, মূলরোম, ডায়াটম, প্যারেনকাইমা, কোলেনকাইমা।

 

কয়েকটি প্রাণী কোষ (Animal Cell)

শুক্রাণু, ডিম্বাণু, লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা, গবলেট কোষ, যকৃত কোষ, ফাইব্রোব্লাস্ট, সেরাটিয়াম, মেদকোষ, অস্টিওসাইট, কোয়ানোসাইট, ক্রোম্যাটোফোর, পেশিকোষ, স্নায়ুকোষ

কোষবিদ্যার সংজ্ঞা-কোষের আকৃতি-কোষের আয়তন-কোষের সংখ্যা-পরিমাপের একক

কোষবিদ্যার সংজ্ঞা (Definition of Cytology)

দুইটি গ্রীক শব্দ Kytos অর্থ কোষ এবং logos অর্থ আলোচনা নিয়ে Cytology শব্দটি গঠিত। Cytology এর অর্থ কোষ নিয়ে আলোচনা। জীববিজ্ঞানের যে শাখায় কোষের আকার, আকৃতি, গঠন, বৃদ্ধি, বিকাশ কার্যাবলী নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে কোষবিদ্যা বা Cytology বলে। সাইটোলজির জনক হলো Robert Hooke (১৬৩৫১৭০৩) তবে আধুনিক সাইটোলজির জনক হলো Carl P. Swanson (১৯১১১৯৯৬)

 

কোষের আকৃতি (Shape of Cell)

বিভিন্ন কোষের আকৃতি বিভিন্ন রকম হয়। এরা গোলাকার, ডিম্বাকার, আয়তাকার, বৃত্তাকার, লম্বাকার, চ্যাপ্টা, সূঁচালো, মাকু আকৃতির, বহুভূজাকার প্রভৃতি হতে পারে।

 

কোষের আয়তন (Size of Cell)

অধিকাংশ কোষই আণুবীক্ষণিক এবং ২০৩০ মাইক্রোমিটার হয়ে থাকে। সবচেয়ে ছোট কোষ হলো Mycoplasma (PPLO-Pleuro Pneumonia Like Organism ) যার ব্যাস . মাইক্রোমিটার। সবচেয়ে বড় কোষ হলো উট পাখির ডিম হলো (১৭ х ১২. সেমি) মানব দেহের সবচেয়ে ছোট কোষ শুক্রাণু এবং সবচেয়ে বড় কোষ ডিম্বাণু (ব্যাস . মিমি)  মানুষের মটর নিউরন কোষ .৩৭ মিটার লম্বা (স্পাইনাল কর্ডের গোড়া থেকে পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল পর্যন্ত) উদ্ভিদ জগতের সবচেয়ে বড় কোষ Acetabularia (শৈবাল) (.১০ সেমি) এবং সবচেয়ে লম্বা কোষ রেমি উদ্ভিদের (Bochmeria nivela) তন্তু (৫৫ মিটার)  তুলা, পাট, তালগাছ প্রভৃতির কোষ বেশ লম্বা।

 

কোষের সংখ্যা (Number of cell)

কোন কোন জীব একটি মাত্র কোষ দ্বারা গঠিত (Amoeba, Paramecium) অনেক কোষ দ্বারা গঠিত জীবকে বহুকোষী জীব বলে। মানব দেহে ১০০ ট্রিলিয়ান কোষ থাকে।

 

পরিমাপের একক (Units of measurement)

কোষ পরিমাপের একক হলো মিটার (M), ডেসিমিটার (dm), সেন্টিমিটার (cm), মিলিমিটার (mm), মাইক্রোমিটার বা মাইক্রন (µ), ন্যানোমিটার (nm) এবং অ্যাংস্ট্রম (Å)

মিটার = ,০০০,০০০,০০০ ন্যানোমিটার = ,০০০,০০০ মাইক্রোমিটার = ১০০০ মিমি = ১০০ সেমি

সেমি = ১০ মিমি = /১০০ মিটার

মিমি = /১০ সেমি = /১০০০ মিটার

মাইক্রোমিটার = /১০,০০০ সেমি = /,০০০,০০০ মিটার

ন্যানোমিটার = /১০, ০০০,০০০ সেমি = /,০০০,০০০,০০০ মিটার

nm  = .০০১ μm = ১০ Å

 

কোষ আবিষ্কার- কোষের বৈশিষ্ট্য

কোষ আবিষ্কার

১৬৬৫ সালে ব্রিটিশ প্রকৌশলী রবার্ট হুক নিজের তৈরী অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ছিপির একটি পাতলা স্লাইড পর্যবেক্ষণ করে মৌচাকের মতো অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কুঠুরী বা প্রকোষ্ঠ দেখতে পান। তিনি এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রকোষ্ঠগুলোর নাম দেন Cell। তাঁর পর্যবেক্ষণকৃত সকল তথ্য Microgaphia নামক গ্রন্থে প্রকাশ করেন। ১৬৭৪ সালে ডাচ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ভন লিউয়েন হুক সর্বপ্রথম প্রোটোজোয়া, ব্যাকটেরিয়া, লোহিত রক্তকণিকা, শুক্রাণু প্রভৃতি পর্যবেক্ষণ করেন। কোষ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন- গ্রু (১৬৮২), উলফ (১৭৫৯), দ্য মিরবেল (১৮০২), ওকেন (১৮০৫), ল্যামার্ক (১৮০৯) এবং ড্রট্রোচেট (১৮২৪)।

১৭৮১ সালে ফেলিস ফন্টানা কোষের ভিতর নিউক্লিয়াসের অস্তিক্ত অনুমান করেন। ১৮৩৩ সালে রবার্ট ব্রাউন সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন। ১৮৩৫ সালে ফরাসি কোষবিদ ফেলিক্স ডুজারডিন কোষের জেলির ন্যায় থকথকে পদার্থকে সারকোড নামে অভিহিত করেন। ১৮৪০ সালে পার্কিনজি জেলির ন্যায় তরল সারকোডকে প্রোটোপ্লাজম নামে অভিহিত করেন। বিজ্ঞানীদের ধারণা ৩.৫ বিলিয়ন বছর আগে কোষের আবির্ভাব হয়েছে।

 কোষের বৈশিষ্ট্য (Characters of Cell)

১। কোষ হলো জীবদেহের গাঠনিক ও কার্যিক একক।

২। ইহা জীবনের মৌলিক একক।

৩। ইহা অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।

৪। পূর্বতন কোষ থেকে নতুন কোষ সৃষ্টি হয়।

৫।  ইহা সুনিয়ন্ত্রিত ভাবে বেড়ে উঠতে পারে।

৬। ইহা দেহের স্থিতাবস্থা বা homeostatic অবস্থা বজায় রাখে।

৭। কোষ জীবনের জন্য সকল উপাদান ধারণ করে।

৮। এর অভিযোজন ক্ষমতা আছে।

৯। এর ভিতরে প্রয়োজনীয় পদার্থ চলাচল করতে পারে।

১০। ইহা যেকোন উদ্দীপনায় সাড়া দিতে পারে।

১১। কোষের নিজস্ব শক্তি উৎপাদন ব্যবস্থা আছে। উৎপাদিত শক্তি ATP হিসেবে সঞ্চিত থাকে।

১২। কোষে নাইট্রোজেন ক্ষারযুক্ত পলিমার উপাদান থাকে যা রেপলিকেশন ঘটায় ।

১৩। এরা স্বপ্রজননক্ষম।

১৪। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত কোষে নিজস্ব বংশগতিয় তথ্য থাকে।

১৫। ইহা দেহের বিপাক ঘটায়।

১৬। নির্দিষ্ট সময় পর কোষের মৃত্যু ঘটে।

কোষের সংজ্ঞা-প্রথম কোষের উৎপত্তি

কোষের সংজ্ঞা (Cell definition)

ল্যাটিন শব্দ Cellula অর্থ little box বা ক্ষুদ্র কুঠুরী নিয়ে Cell শব্দটি গঠিত। Cell এর অর্থ ক্ষুদ্র প্রকোষ্ঠ। জীবদেহের গঠনগত কার্যগত একককে কোষ বা Cell বলে।

 

বিভিন্ন বিজ্ঞানী বিভিন্ন সময়ে কোষের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।

১। Jean Brachet (১৯৬১) এর মতে, কোষ হলো জীবের গঠনগত মৌলিক একক।

২। Lowy এবং Siekevitz (১৯৬১) এর মতে, কোষ হলো জৈবিক কাজের একক যা বৈষম্যভেদ্য পর্দা দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং স্বপ্রজননক্ষম।

৩। C. P. Hickman (১৯৭০) এর মতে, কোষ হলো জৈবিক গঠন কার্যের একক এবং এটিই নুন্যতম জৈবিক একক যা নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রজননে সক্ষম।

৪। De Roberties  (১৯৭৯) এর মতে, কোষ হলো জীবের মৌলিক গঠনগত এবং কার্যগত একক।

৫। Merriam Webster  অভিধান অনুযায়ী, কোষ হলো অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা আবৃত প্রোটোপ্লাজমের একটি আণুবীক্ষণিক পিন্ড যাতে এক বা একাধিক নিউক্লিয়াস এবং অন্যান্য কোষীয় অঙ্গাণু এদের উপাদান থাকে, যা একক ভাবে বা অন্য কোষের সাথে আন্তঃক্রিয়া দ্বারা জীবনের মৌলিক কার্যাবলী সম্পাদন করতে সক্ষম এবং জীবনের স্বাধীন কার্যকরী ক্ষুদ্রতম গাঠনিক একক গঠন করে।

 

প্রথম কোষের উৎপত্তি (Formation of First cell)

Alixander Operio এবং J. B. S. Harold (১৯২০)-এর মতে, আদিকালে বায়ুমন্ডলের মিথেন (CH4), অ্যামোনিয়া (NH3), হাইড্রোজেন (H2) এবং পানির (H2O) ঘর্ষণে জৈব অণু বা অ্যামাইনো এসিড তৈরী হয়।

Stanly Miller এবং Harold Urey (১৯৫৩) গবেষণাগারে মিথেন, অ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন এবং পানির মিশ্রণে বৈদ্যুতিক প্রবাহ চালিয়ে অ্যামাইনো এসিড তৈরী করেছিলেন।

অনেকের ধারণা, আদি জীবন হলো RNA RNA থেকে পরে প্রোটিন তৈরী হয়। এই ধারণা RNA-World হাইপোথেসিস নামে পরিচিত।

১। লাইটেনিং এর করণে বায়ুমন্ডলের মিথেন (CH4), অ্যামোনিয়া (NH3), হাইড্রোজেন (H2) পানির (H2O) ঘর্ষণের ফলে অ্যামাইনো এসিড সৃষ্টি হয়েছিল।

২। গভীর সমুদ্রে অ্যামাইনো এসিড থেকে কার্বন যৌগ পলিমার সৃষ্টি হয়েছিল।

৩। পরবর্তীতে পলিমারের সাথে ফসফোলিপিড বাইলেয়ার তৈরী হয়েছিল।

৪। পলিমার হতে RNA সৃষ্টি হয়েছিল।

৫। RNA থেকে প্রোটিন সৃষ্টি হয়েছিল (RNAWorld হাইপোথেসিস)

৬। প্রোটিন হতে আদি কোষ সৃষ্টি হয়েছিল।

৭। আদি কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত হয় এবং কোষঝিল্লি দ্বারা আবৃত হয়ে প্রকৃত কোষে পরিনত হয়েছিল

৮। প্রকৃত কোষে ব্যাকটেরিয়াম প্রবেশ করে মাইটোকন্ড্রিয়নে রুপান্তরিত হয় এবং প্রাণী কোষে পরিনত হয়েছিল।

৯। প্রাণী কোষে ফটোসিনথেটিক ব্যাকটেরিয়াম প্রবেশ করে ক্লোরোপ্লাস্টে রুপান্তরিত হয় এবং উদ্ভিদ কোষে পরিনত হয়েছিল।

 

আদি উৎস থেকে সৃষ্টি হয়েছে আদি কোষ। আদি কোষের DNA নিউক্লিয়াসে পরিনত হয় এবং প্রকৃত কোষ সৃষ্টি করে। প্রকৃত কোষে বায়বীয় ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে মাইটোকন্ড্রিয়নে পরিনত হয় এবং প্রাণী কোষ গঠন করে। প্রাণী কোষে ফটোসিনথেটিক ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে ক্লোরোপ্লাস্টে পরিনত হয় এবং উদ্ভিদ কোষ গঠন করে। নিউক্লিয়াস যুক্ত কোষে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে টিকে থাকার প্রক্রিয়াকে এন্ডাসিমবায়োসিস বলে।

 

লিনিয়াস-এর কৃত্রিম শ্রেণীবিন্যাস

 

লিনিয়াসএর কৃত্রিম শ্রেণীবিন্যাস

 

ক্যারোলাস লিনিয়াস ছিলেন সুইডেন দেশীয় প্রকৃতি বিজ্ঞানী। তাকে শ্রেণীবিন্যাসবিদ্যার জনক বলা হয়। তিনি জীবের দ্বিপদ নামকরণ প্রবর্তন করেন। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ঝঢ়বপরবং চষধহঃধৎঁস হলো। এই গ্রন্থে তিনি সকল উদ্ভিদের জন্য দ্বিপদ নাম ব্যবহার করেন। ঝঢ়বপরবং চষধহঃধৎঁস কে উদ্ভিদের আধুনিক নামকরণের শুরু হিসেবে ধরা হয়।

ক্যারোলাস লিনিয়াস এর শ্রেণীবিন্যাসকে যৌন শ্রেণীবিন্যাস পদ্ধতি বলা হয়। এটি একটি কৃত্রিম শ্রেণীবিন্যাস পদ্ধতি। তিনি উদ্ভিদের পুংকেশর স্ত্রীকেশরের বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদজগতকে ২৪টি শ্রেণী বহু বর্গে বিভক্ত করেন। ২৪টি শ্রেণীর মধ্যে ১টি অপুষ্পক উদ্ভিদের এবং ২৩টি সপুষ্পক উদ্ভিদের শ্রেণী।

থিয়োফ্রাস্টাস-এর কৃত্রিম শ্রেণীবিন্যাস (Classification of Theophrastus)

থিয়োফ্রাস্টাসএর কৃত্রিম শ্রেণীবিন্যাস (Classification of Theophrastus)

Theos অর্থ god এবং to phrase অর্থ devine expression হতে Theophrastus নামটি এসেছে। Theophrastus এর নাম ছিল Tyrtamus। তিনি চমৎকার ভাবে খুব সুন্দর বক্তব্য পেশ করতে পারতেন। তাই তাঁর নাম দেওয়া হয় Theophrastus। প্লেটো অ্যারিস্টোটল এর ছাত্র ছিলেন Theophrastus। তিনি ছিলেন বিখ্যাত গ্রিক উদ্ভিদবিজ্ঞানী এবং লাইসিয়াম গার্ডেনের প্রধান। তাঁকে উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। তাঁর দুইটি বই অধিক পরিচিত। Enquiry into Plants (Hitoria Plantarum) On the Causes of Plants। তাঁর বইগুলো গ্রিক ভাষায় রচিত। Enquiry into Plants গ্রন্থটি Hitoria Plantarum নামে অধিক পরিচিত।Hitoria Plantarum গ্রন্থটি ১০ খন্ড দ্বারা গঠিত।

() এনাটমি

() বৃক্ষ বংশবিস্তার

 () বন্য বৃক্ষ

() বিদেশী বৃক্ষ গুল্ম

() কাষ্ঠ বৃক্ষ

() উপগুল্ম

() পটহার্বস

() শস্য লিগুম

() উদ্ভিদের ভেষজ ব্যবহার এবং

(১০) যা হারিয়ে গিয়েছে

Hitoria Plantarum  গ্রিক ভাষা থেকে ল্যাটিন অনুবাদ করেন Theodore Gaza এবং ইংরেজি অনুবাদ করেন Arthur Hort।

বিজ্ঞানী থিয়োফ্রাস্টাস উদ্ভিদের কান্ডের প্রকৃতি, বিস্তৃতি কাষ্ঠলতার উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদকে চারটি শ্রেণীতে ভাগ করেছেন।

১। ট্রি (Tree)

২। শ্রাব বা গুল্ম (Shrub)

৩। আন্ডারশ্রাব বা উপগুল্ম (Under Shrub)

৪। হার্ব বা বীরুৎ (Herb)

 ১। ট্রি (Tree)ঃ একক কান্ডবিশিষ্ট শক্ত কাষ্ঠল উদ্ভিদকে ট্রি বা বৃক্ষ বলে। ইহা বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। আমMangifera indica, কাঁঠালArtoccarpus heterophyllus, জামSyzygium cumini ইত্যাদি।

২। শ্রাব বা গুল্ম (Shrub) একক কান্ডবিহীন শক্ত কাষ্ঠল শাখাপ্রশাখাবিশিষ্ট ঝোপ জাতীয় উদ্ভিদকে শ্রাব বা গুল্ম বলে। ইহা বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। জবাHibiscus rosa sinensis, রঙ্গনIxora coccinea, গন্ধরাজGardenia jasminoides ইত্যাদি।

৩। আন্ডারশ্রাব বা উপগুল্ম (Under Shrub) শ্রাব এর চেয়ে ছোট কাষ্ঠল উদ্ভিকে বলা হয় আন্ডারশ্রাব বা উপগুল্ম বলে। ইহা বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। কাল্কাসুন্দাCassia sopera, আঁশ শেওড়াGlycosmis arborea, গোলাপRosa sinensis ইত্যাদি। 

৪। হার্ব বা বীরুৎ (Herb) নরম কান্ডবিশিষ্ট উদ্ভিকে হার্ব বা বীরুৎ বলে। ইহা বর্ষজীবী উদ্ভিদ। অধিকাংশ বীরুৎ একবার ফল দিয়ে মারা যায়। কাষ্ঠল কান্ডবিশিষ্ট হার্বকে উডি হার্ব বলে।  ধানOryza sativa, সরিষাBrassica npus, পাট-Corchorus olitorius ইত্যাদি।

আয়ুষ্কালের উপর ভিত্তি করে হার্বকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা

(i) বর্ষজীবী (Annual) এসব উদ্ভিদ এক ঋতু বা এক বছর এর কম সময় বেঁচে থাকে। সরিষাBrassica napus, ছোলা-Cicer arietinum, গম-Triticum aestivum ইত্যাদি।

(ii) দ্বিবর্ষজীবী (Biennual) এসব উদ্ভিদ দুই ঋতু বা বছর এর কম সময় বেঁচে থাকে। প্রথম বছর দৈহিক বৃদ্ধি লাভ করে এবং দ্বিতীয় বছর ফুল ফল হয়। মূলা-Raphanus sativus, ফুলকফপ-Brassica oleracea ইত্যাদি।

(iii) বহুবর্ষজীবী (Perennial ) এসব উদ্ভিদ দুই ঋতু বা বছর এর বেশি সময় বেঁচে থাকে। এদের ভূনি¤œস্থ কান্ড থেকে প্রতিবছর বায়বীয় কান্ড বের হয়। আদাZingiber officinale, হলুদ Curcuma domestica, দুর্বাঘাস-Cynodon dactylon  ইত্যাদি।

 শ্রেণীবিন্যাসের প্রকারভেদ (Type of Classification)

 শ্রেণীবিন্যাস তিন প্রকার

১। কৃত্রিম শ্রেণীবিন্যাস যে শ্রেণীবিন্যাস উদ্ভিদের একটি বা বিশেষ কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে তৈরী করা হয় তাকে কৃত্রিম শ্রেণীবিনাস বলে। থিওফ্রাস্টাস কারোলাস লিনিয়াস এর শ্রেণীবিন্যাস হলো কৃত্রিম শ্রেণীবিন্যাস।

২। প্রাকৃতিক শ্রেণীবিন্যাস যে শ্রেণীবিন্যাস উদ্ভিদের অঙ্গসংস্থানিক বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে তৈরী করা হয় তাকে প্রাকৃতিক শ্রেণীবিনাস বলে। বেনথামহুকার এর শ্রেণীবিন্যাস হলো প্রাকৃতিক শ্রেণীবিন্যাস।

৩। জাতিজনি শ্রেণীবিন্যাস যে শ্রেণীবিন্যাসে উদ্ভিদকে উৎপত্তিগত সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে বিবর্তনের ধারা অনুযায়ী আদি হতে আধুনিক ক্রমধারায় সাজানো হয় তাকে জাতিজনি শ্রেণীবিনাস বলে। এঙ্গলারপ্রান্টল, হাসিনসন, বেসি, ক্রনকুইস্ট তাখতাইয়ান এর শ্রেণীবিন্যাস হলো জাতিজনি শ্রেণীবিন্যাস।

জীবের দ্বিপদ নামকরণ (Binomial Nomenclature)

 

জীবের দ্বিপদ নামকরণ (Binomial Nomenclature)

ICBN বা ICZNএর নীতিমালা অনুযায়ী গণ নামের শেষে প্রজাতিক নাম যুক্ত করে দুইটি পদ বা শব্দ দ্বারা একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির একটি নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক নাম প্রদান করাকে দ্বিপদ নামকরণ বলে। ১৭৫৩ সালে সুইডিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস জীবের দ্বিপদ নামকরণের প্রক্রিয়া প্রবর্তন করেন।

 

দ্বিপদ নামকরণের নিয়মাবলী

১। একপদ জীবের প্রজাতির উপরের ছয়টি স্তরের নাম হবে একপদী। যেমনDivission

২। দ্বিপদ নামঃ  জীবের প্রজাতি নাম হবে দ্বিপদী। প্রথমটি গণ নাম এবং দ্বিতীয়টি গণের প্রজাতিক নাম। যেমন

Mangifera  indica

৩। বহুপদী নাম জীবের প্রজাতির নিচের স্তরের নামটি হবে বহুপদী। যেমনBrassica  oleracea  var.  botrytis

৪। নামের ভাষা  জীবের বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন অথবা রুপান্তরিত ল্যাটিন (latinized) ভাষায় হতে হবে।

৫। আদ্যক্ষর  জীবের গণ নামের প্রথম অক্ষর বড় হরফে এবং প্রজাতিক নামের প্রথম অক্ষরসহ সকল অক্ষর ছোট হরফে লেখতে হবে। যেমনOryza  sativa

৬। ছাপানো অবস্থা জীবের বৈজ্ঞানিক নাম ছাপালে অবশ্যই ইটালিক বা রোমান বা মোটা অক্ষরে ছাপাতে হবে।

৭। হাতে লেখা জীবের বৈজ্ঞানিক নাম হাতে লিখলে অবশ্যই ইংরেজি অক্ষর ব্যবহার করতে হবে এবং গণ প্রজাতিক অংশের নিচে আলাদা আলাদা ভাবে দাগ টানতে হবে। যেমন

Mangifera  indica

শ্রেণীবিন্যাসের একক || Unit Classification

 

শ্রেণীবিন্যাসের একক উদ্ভিদকে যে সব ধাপ বা স্তরে স্থাপন করা হয় তাকে শ্রেণীবিন্যাসের একক বলে। উদ্ভিদের শ্রেণীবিন্যাসের প্রতিটি ধাপ বা একককে ট্যাক্সন বলে। International Code of Botanical  Nomenclature (ICBN) স্বীকৃত উদ্ভিদের ৭টি একক বা ট্যাক্সা ব্যবহার করা হয়। শ্রেণীবিন্যাসের সময় ট্যাক্সা গুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোতে সাজানো হয়। একে শ্রেণীবিভাগ নিয়ামক বা ট্যাক্সোনমিক হায়ার্কি বলে।

১। প্রজাতি (Species) প্রজাতি হলো শ্রেণীবিন্যাসের সবচেয়ে ছোট একক। একে মৌলিক একক বলা হয়। দৈহিক দিক থেকে সর্বাধিক মিল সম্পন্ন এক দল জীবগোষ্ঠী, যারা নিজেদের মধ্যে যৌন মিলনের মাধ্যমে উর্বর সন্তান উৎপাদনে সক্ষম কিন্তু অন্য গোষ্ঠীর সাথে যৌন মিলনের মাধ্যমে উর্বর সন্তান উৎপাদনে অক্ষম তাদেরকে প্রজাতি বলে। শ্রেণিতত্ত্ববিদ E. Mayer (১৯৬৯) এর মতে, প্রজাতি হলো আন্তঃপ্রজননশীল এমন একটি জীবগোষ্ঠি যারা নিকটতম অনুরূপ জীবগোষ্টির প্রজননিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচ্ছিন্ন। ১৬৮৬ সালে John Ray সর্বপ্রথম Species শব্দটি ব্যবহার করেন। প্রজাতির আচরণগত বাস্তুসংস্থানিক বৈশিষ্ট্যকে নীশ বলা হয়।

২। গণ (Genus) গণ হলো শ্রেণীবিন্যাসের দ্বিতীয় একক বা ট্যাক্সন। পরস্পর নিকট সম্পর্কযুক্ত একাধিক প্রজাতি নিয়ে গঠিত হয় গণ। Artocarpus heterophyllus (কাঁঠাল), Artocarpus chaplasha (চাপালিশ), Artocarpus lacucha (ক্রওয়া) ইত্যাদি নিকট সম্পর্কযুক্ত প্রজাতি দ্বারা Artocarpus গণ গঠিত হয়েছে।

৩। গোত্র (Family) গোত্র হলো শ্রেণীবিন্যাসের তৃতীয় একক বা ট্যাক্সন। পরস্পর নিকট সম্পর্কযুক্ত একাধিক গণ নিয়ে গঠিত হয় গোত্র। উদ্ভিদের গোত্রের নামের শেষে aceae যুক্ত করা হয়। Artocarpu, Ficus, Morus ইত্যাদি নিকট সম্পর্কযুক্ত গণ দ্বারা Moraceae গোত্র গঠিত হয়েছে।

৪। বর্গ (Order) বর্গ হলো শ্রেণীবিন্যাসের চতুর্থ একক বা ট্যাক্সন। পরস্পর নিকট সম্পর্কযুক্ত একাধিক গোত্র নিয়ে গঠিত হয় বর্গ। উদ্ভিদের বর্গের নামের শেষে ales যুক্ত করা হয়। Sapindales, Morales, Malvales ইত্যাদি হলো বর্গ।

৫। শ্রেণী (Class) শ্রেণী হলো শ্রেণীবিন্যাসের একটি উচ্চতর একক বা ট্যাক্সন। পরস্পর নিকট সম্পর্কযুক্ত একাধিক বর্গ নিয়ে গঠিত হয় শ্রেণী। উদ্ভিদের শ্রেণীর নামের শেষে opsida যুক্ত করা হয়। Magnoliopsida, Liliopsida ইত্যাদি হলো শ্রেণী।

৬। বিভাগ (Division) বিভাগ হলো শ্রেণীবিন্যাসের একটি উচ্চতর একক বা ট্যাক্সন। পরস্পর নিকট সম্পর্কযুক্ত একাধিক শ্রেণী নিয়ে গঠিত হয় বিভাগ বা পর্ব। উদ্ভিদের বিভাগের শেষে phytaযুক্ত করা হয়।

ট্যাক্সোনমি (Taxonomy) শ্রেণীবিন্যাসবিদ্যার প্রধান নীতিমালা

ট্যাক্সোনমি (Taxonomy)

গ্রিক শব্দ Taxos অর্থ arrangement বা সাজানো এবং nomos অর্থ law বা নিয়ম থেকে Taxonomy শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে। উদ্ভিদবিজ্ঞানের যে শাখায় উদ্ভিদের শ্রেণীবিন্যাসের ভিত্তি, উদ্দেশ্য নিয়মনীতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয় তাকে শ্রেণীবিন্যাসবিদ্যা বা Taxonomy বলে। বিজ্ঞানী E. Mayer (১৯৬৯) এর মতে, Tazonomy is the theory and practice of classification, অর্থাৎ শ্রেণীবিন্যাস তত্ত¡ চর্চাই হলো ট্যাক্সোনমি। ফ্রান্সের উদ্ভিদবিজ্ঞানী A. P. de Candolle সর্বপ্রথম Taxonomy শব্দটি ব্যবহার করেন।

উদ্ভিদের শ্রেণীবিন্যাসে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখেন সুইডিস বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস। এজন্য তাকে শ্রেণীবিন্যাসবিদ্যার জনক বলা হয় (Father of taxonomy)

 

শ্রেণীবিন্যাসবিদ্যার প্রধান নীতিমালা

১। শ্রেণীবদ্ধগত বৈশিষ্ট্য (Taxonomic character)ঃ  যে সব বৈশিষ্ট্য দ্বারা একটি ট্যাক্সনকে অন্য ট্যাক্সন হতে আলাদা করা হয় তাকে ট্যাক্সোনমিক বৈশিষ্ট্য বলে। শ্রেণীবিন্যাস তৈরীর জন্য প্রতিটি উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য সঠিক ভাবে পর্যবেক্ষণ ও লিপিবদ্ধ করা হয়। উদ্ভিদের ট্যাক্সোনমিক বৈশিষ্ট্য হলো- জননগত বৈশিষ্ট্য, জিনগত বৈশিষ্ট্য, রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য, অঙ্গসংস্থানিক বৈশিষ্ট্য, শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্য, আচরণগত বৈশিষ্ট্য, বাস্তুসংস্থানিক বৈশিষ্ট্য প্রভৃতি। শ্রেণীবিন্যাসের সময় এসব বৈশিষ্ট্য গুলো যথাযথ ভাবে উল্লেখ করা হয়।ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

২। সনাক্তকরণ (Identification)ঃ শ্রেণীবিন্যাসের উদ্দেশ্যে প্রতিটি উদ্ভিদকে নির্ভুল ভাবে শনাক্ত করা হয়। শ্রেণীবদ্ধগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে এদের মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য নির্ণয় করা হয়। শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে এটি হতে পারে- জিনগত ভারসাম্যহীন নমুনা, প্রতিকূল অবস্থায় বৃদ্ধি প্রাপ্ত সদস্য, সংকর জাত, স¤প্রতি প্রকাশিত কোন নিবন্ধ, নতুন প্রজাতি প্রভৃতি। এরপর সংগ্রহীত নমুনা গুলোকে অন্যান্য উদ্ভিদের বর্ণনার সাথে তুলনা করা হয়। সঠিকভাবে শনাক্তকরণের জন্য উপপ্রজাতি, প্রজাতি, সিনোপসিস, রিভিউ, ক্যাটালগ, রিভিশন, মনোগ্রাফ, শ্রেণীকরণ, জাতিজনি, ফিল্ড গাইড ও চেকলিস্ট সম্পর্কে ব্যাপক ধারণা থাকতে হবে।

৩। ক্যাটাগরিকরণ (Categorization)ঃ বিবর্তনের ধারা অনুযায়ী একই বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন উদ্ভিদকে একটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে স্থাপন করা হয়। শ্রেণীবিন্যাসের মোট ৭টি ক্যাটাগরি বা র‌্যাঙ্ক আছে। এগুলো হলো- Kingdom, Phylum, Class, Order, Family, Genus ও Species। এদের মধ্যে Kingdom হলো সবচেয়ে বড় এবং Species হলো সবচেয়ে ছোট।

৪। নামকরণ (Nomenclature)ঃ কোন উদ্ভিদ বা প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরী, ব্যাখ্যা ও প্রয়োগকে নামকরণ বলে।ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(i) দ্বিপদ নামকরণঃ ICBN বা ICZN-এর নীতিমালা অনুযায়ী গণ নামের শেষে প্রজাতিক নাম যুক্ত করে দুইটি পদ বা শব্দ দ্বারা একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির একটি নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক নাম প্রদান করাকে দ্বিপদ নামকরণ বলে। ১৭৫৩ সালে সুইডিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস জীবের দ্বিপদ নামকরণের প্রক্রিয়া প্রবর্তন করেন।

(ii) ত্রিপদ নামকরণঃ জীবের নামকরণের আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী গণ, প্রজাতি ও উপপ্রজাতি তিনটি পদ বা শব্দ দ্বারা জীবের যে নাম প্রদান করা হয় তাকে ত্রিপদ নামকরণ বলে। জার্মান বিজ্ঞানী Hermann Schlegel (১৮৮৪) ত্রিপদ নামকরণ প্রবর্তন করেন। যেমন- Naja naja naja.

৫। সংরক্ষণ (Conservation)ঃ বিভিন্ন উপায়ে সংগৃহীত উদ্ভিদের নমুনা গুলো যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। নমুনা হিসেবে উদ্ভিদের পাতা, ফুল, ফল, বীজ, কান্ড, মূল প্রভৃতি সংগ্রহ করা হয়। এ সব নমুনা শুকনো অথবা তরল মাধ্যমে সংরক্ষণ করা যায়। ফরমালিন ও অ্যালকোহল হলো সংরক্ষণের সবচেয়ে ভাল তরল মাধ্যম। দেশের বিভিন্ন  জাদুঘর, সংরক্ষণশালা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারী ও বেসরকারী ভাবে উদ্ভিদের নমুনা সংরক্ষণ করা হয়।ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স