জীবপ্রযুক্তি । অবক্ষয়িত ভূমি পুনরুদ্ধারে জৈবপ্রযুক্তি

১। ভূমি পুনঃনবায়নের জন্য মাইক্রোপ্রোপাগেশন মাইকোরাইজা ব্যবহার করতে হবে।

২। মাটির উর্বরতা ফিরিয়ে আনতে লিগিউম ফসল এবং অন্যান্য উদ্ভিদের সাথে নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করতে হবে।

৩। যে সব উদ্ভিদ অবক্ষয়িত জমিতে জন্মে তা সৃষ্টি করতে হবে। পীড়ন সহনশীল উদ্ভিদ অবক্ষয়িত জমিতে জন্মাতে পারে।

৪। ভূমি থেকে বিষাক্ত পদার্থ অপসারণের জন্য Ganoderma lucidum, Thiobacillus ferroxidan প্রভৃতি অণুজীব ব্যবহার করতে হবে।

জীবপ্রযুক্তি ।। বায়োটেকনোলজি ।। প্রোটিন বা এনজাইম প্রযুক্তি

১। উন্নত এনজাইম তৈরী করা হয়।

২। প্রাকৃতিক প্রোটিনের চেয়ে উন্নত কৃত্রিম পেপটাইড তৈরী করা।

৩। ইনসুলিন ও ইন্টারফেরন উৎপাদন।

বায়োটেকনোলজি ।। জীবপ্রযুক্তি ।। জিন প্রযুক্তিতে জীবপ্রযুক্তি ।। Gene biotechnology

১। উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহে ভাইরাস জীবাণু শনাক্ত করা হয়।

২। DNA প্রোবের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের জিনগত রোগ শনাক্তকরণ এবং নিরাময় করা।

৩। বিভিন্ন টিউমার কোষ ধ্বংস করতে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি উৎপাদন করা।

৪। বিভিন্ন জীবাণুকে ব্যবহার করে জীবাণু অস্ত্র তৈরী করা হয়।

জীবপ্রযুক্তি।। বাংলাদেশের পেক্ষাপটে জীবপ্রযুক্তি

১। ১৯৭০ দশকে ঢাকা বিশ্বববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে প্রথম পাটের টিস্যু কালচার করা হয়। এরপর বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান টিস্যু কালচার শুরু করে।
২। ঢাকা বিশ্বববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীগণ মলিকিউলার মার্কার ব্যবহার করে লবণ সহিঞ্চু ধান, ঠান্ডা সহিঞ্চু পাট এবং পতঙ্গ প্রতিরোধী ডালের জাত উদ্ভাবন করেছেন।
৩। ICDDR, B জীবপ্রযুক্তির মাধ্যমে সিগেলা ভ্যাক্সিন উৎপাদন করেছে।
৪। বাংলাদেশ প্রাণীসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট ছাগলের প্লেগ ও বসন্ত রোগ এবং গরু ও হাঁস-মুরগীর কয়েকটি ভ্যাক্সিন উদ্ভাবন করেছে।
৫। মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয় গরুর ফুট এন্ড মাউথ রোগ ও অ্যানথ্রাক্স, মুরগীর কলেরা এবং সালমোনেলা নিউক্যাসল রোগের ভ্যাক্সিন উৎপাদন করেছে।
৬। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট বিপন্ন প্রজাতির মাছের রেণু উৎপাদন, কার্প, ক্যাটফিস, তেলাপিয়া, মাগুর, পুঁটি ও GIFT মাছের জাত উদ্ভাবন করেছে।
৭। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্বববিদ্যালয়, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি এবং বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট ফিঙ্গার প্রিন্ট ও মাইক্রোস্যাটেলাইট জিনোটাইপিং পদ্ধতির উপর গবেষণা করছে। এতে দেশী জাতের ছাগল, ভেড়া, গরু ও মহিষের বংশ পরিচয় যাচাই করা হয়।
৮। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন নিম্ন মাত্রার গামা রেডিয়েশন ব্যবহার করে রেশম উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ফলের মাছি ও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের কৌশল উদ্ভাবন করেছে। হরমোন ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে IPM ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করেছে।
৯। ঢাকা বিশ্বববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি বিভাগ মথ জাতীয় বালাই নিয়ন্ত্রণের কৌশল উদ্ভাবন করেছে।
১০। বাংলাদেশ জাতীয় বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ আধুনিক আণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন ফসলী, ফলজ, বনজ ওষুধী উদ্ভিদের রোগ শনাক্তকরণের কৌশল উদ্ভাবন করেছে।
১১। ২০১০ সালে ড. মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে বাংলাদেশী বিজ্ঞানীগণ পাটের জিনোমিক সিকুয়েন্স আবিষ্কার করেছেন। এর ফলে মিহি আঁশের পাট, তুলার মতো শক্ত আঁশের পাট, শীতকালীন পাট, ঔষধী পাট, সহজে পচনযোগ্য পাট, কীট-পতঙ্গ প্রতিরোধক পাট প্রভৃতি উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে।
১২। ২০১৮ সালে আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশী বিজ্ঞানীগণ ইলিশ মাছের জিনোমিক সিকুয়েন্স আবিষ্কার করেছেন।

জীবপ্রযুক্তি ।। জীবপ্রযুক্তির সম্ভাবনা

১। জিনোম স্ক্যানিংঃ জিনোম স্ক্যানিং দ্বারা স্বল্প সময়ে খুব দ্রুত যে কোন জীবের সম্পূর্ণ জিনোম জানা যাবে। ক্রোমোজোমে বিদ্যমান নিষ্ক্রিয় জিনের (৯৭%) তথ্য উদঘাটন করা যাবে।

২। স্টেম সেলঃ স্টেম সেল দেহের যে কোন অঙ্গের কোষ তৈরী করতে সক্ষম হবে। তাই নতুন আবিষ্কৃত ওষুধ অন্য প্রাণীর দেহে পরীক্ষা করার প্রয়োজন হবে না। এছাড়া বিভিন্ন দুর্ঘটনায় হারানো অঙ্গ প্রতিস্থাপন সহজ হবে।

৩। জিন থেরাপি এবং RNAiঃ জিন থেরাপির মাধ্যমে রোগ সৃষ্টিকারী জিনকে সুস্থ জিন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়। বংশগত রোগ, ক্যান্সার এবং কিছু সংক্রামক জটিল রোগের চিকিৎসায় জিন থেরাপি প্রয়োগ করা হয়। এসব জিনের বাহক হিসেবে ভাইরাস, RNAi, অ্যান্টিসেন্স বা জিঙ্ক ফিঙ্গার প্রোটিন ব্যবহার করা হয়।

৪। মাইক্রো RNAঃ মাইক্রো RNA রোগ সৃষ্টিকারী জিনের কাজকে প্রতিরোধ করতে পারে। মাইক্রো RNA দ্বারা ক্যান্সার, ভাইরাস সংক্রমণ, বিপাক সমস্যা এবং প্রদাহজনিত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা করা হয়।

৫। জিন ক্লোনিংঃ জিন ক্লোনিং বা DNA রিকম্বিনেন্ট দ্বারা মানুষের জন্য মঙ্গলজনক ও কল্যাণকর বস্তু তৈরী করা হয়।

৬। GM অণুজীবঃ GM অণুজীব ব্যবহার করে পরিবেশ দূষণ কমানো হচ্ছে। এ সব অণুজীব পরিবেশ বান্ধব।

৭। ন্যানোটেকনোলজিঃ ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহার করে পদার্থের আণবিক পরিবর্তন ঘটিয়ে মানুষের প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরী করা হয়। এই প্রযুক্তি স্বাস্থ্যপদ এবং নিরাপদ।

৮। কৃষকের অর্থনৈতিক সাশ্রয়ঃ জীবপ্রযুক্তি কৃষকের জমি চাষ, বীজ বপন, চারা রোপন, বালাইনাশকের ব্যবহার , ফসল সংগ্রহ ও সংরক্ষণে ব্যাপক সহায়ক।

জিন থেরাপির কাজ

(i) ভাইরাসের মাধ্যমে কাক্সিক্ষত কোষে ড্রাগ প্রবেশ করানো যায়।

(ii) কাক্সিক্ষত জিন রোগীর দেহে প্রবেশ করানো হয়।

(iii) জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ব্যাপক ভাবে প্রয়োগ করা যায়।

জিন থেরাপি কী ।। Gene therapy কী

কোনো নির্দিষ্ট রোগ উৎপাদনের জন্য দায়ী ক্রটিপূর্ণ জিনকে সঠিক করার (to corrected) পদ্ধতি হলো জিন থেরাপি। ক্রটিপূর্ণ জিনকে রেস্ট্রিকশন এনজাইম দ্বারা কেটে সেখানে সঠিক জিন প্রবেশ করানো হয়। জিন থেরাপি দুইটি উপায়ে করা যায়।

১। গবেষণাগারে সঠিক জিনযুক্ত কোষ সৃষ্টি করা হয়। এরপর রোগীর দেহে ইনজেক্ট করা হয়।

২। ভাইরাসকে পরিবর্তন করে বাহকে পরিনত করা হয়। এরপর মানুষের টার্গেট কোষে প্রবেশ করা হয়। টার্গেট কোষে সঠিক জিন সংযুক্ত করা হয়। ফলে রোগমুক্ত হয়।

EPO ।। EPO তৈরীর প্রক্রিয়া

১। মানুষের দেহ থেকে EPO জিন পৃথক করা হয়।

২। EPO জিনকে প্লাজমিডের সাথে যুক্ত করে রিকম্বিনেন্ট DNA তৈরী করা হয়।

৩। রিকম্বিনেন্ট DNA-কে পোষক কোষে প্রবেশ করানো হয়।

৪। রিকম্বিনেন্ট DNA-সহ পোষককে আবাদ মাধ্যমে জন্মানো হয়।

৫। পোষক থেকে EPO পৃথক করে ওষুধ তৈরী করা হয়। কিডনী রোগীকে ইনজেকশনের মাধ্যমে EPO পুশ করলে রক্তশুন্যতা দূর হয়।

EPO কী ।। Erythropoietin

ইরিথ্রোপোইটিন হলো একধরনের হরমোন। ইহা কিডনী থেকে উৎপন্ন হয়ে হাড়ের বোনম্যারো (bone marrow) কোষে প্রবেশ করে। বোনম্যারো কোষকে লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনে সাহায্য করে। ইরিথ্রোপোইটিন হরমোনের অভাবে রোগী রক্তশুন্যতায় ভোগে।

TPA ।। TPA তৈরীর প্রক্রিয়া

১। মানুষের কোষ থেকে TPA জিন এর mRNA সজঘঅ পৃথক করা হয়েছে।

২। mRNA থেকে cDNA তৈরী করা হয়।

৩। cDNAকে প্লাজমিডের সাথে যুক্ত করে রিকম্বিনেন্ট DNA তৈরী করা হয়।

৪। রিকম্বিনেন্ট DNAকে পোষক কোষে প্রবেশ করানো হয়।

৫। রিকম্বিনেন্ট DNA সহ পোষককে আবাদ মাধ্যমে কালচার করে হাজার হাজার কপি তৈরী করা হয়।

৬। পোষক থেকে TPA প্রোটিন পৃথক করে ওষুধ তৈরী করা হয়।

৭। হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক রোগীর রক্ত নালিতে TPA ইনজেকশন পুশ করলে রক্তের ব্লক বিগলিত হয়ে যায় এবং রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে।