TPA কী ।। Tissue Plasminogen Activator

মানুষের রক্তে প্লাজমিন এনজাইম থাকে। প্লাজমিন এনজাইম রক্তে প্লাজমিনোজেন অবস্থায় বিরাজ করে। প্লাজমিনোজেন নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। TPA ঞচঅ নিষ্ক্রিয় প্লাজমিনোজেনকে সক্রিয় প্লাজমিনোজেনে পরিনত করে। সক্রিয় প্লাজমিনোজেন মানুষের দেহে জমাট বাঁধা রক্তকে গলিয়ে দেয়। জমাট বাঁধা রক্ত গলানোর প্রক্রিয়াকে ফাইব্রিনোলাইসিস (Fibrinolysis) বলে। হার্ট অ্যাটাক অথবা স্ট্রোক হতে মানুষকে রক্ষা করে। রক্তের ব্লক বিগলিত করে রোগীকে সুস্থ করে। ১৯৭০ সালে ব্যাকটেরিয়া থেকে স্ট্রেপ্টোকাইনেজ (Streptokinase) এনজাইম পৃথক করা হয় যা জমাট বাঁধা রক্তকে গলিয়ে দেয়।

ভ্যাক্সিন কী ।। Vaccine কী

দুর্বল, অর্ধমৃত মৃত অণুজীবের সাসপেনশন দ্বারা তৈরী এক ধরনের অণুবীজ যা প্রয়োগ করে একই ধরনের অণুজীবের আক্রমণ প্রতিরোধ করা হয় তাকে ভ্যাক্সিন বা টিকা বলে। এডওয়ার্ড জেনার গুটি বসন্তের এবং লুই পাস্তুর জলাতঙ্কের টিকা আবিষ্কার করেন। ইহা চার প্রকার। Live vaccine, Killed vaccine, Toxoid vaccine  জাত ভিত্তিক ভ্যাক্সিন।

ইন্টারফেরন ।। ইন্টারফেরনের গুরুত্ব।। ইন্টারফেরনের কাজ

১। ইহা ভাইরাসের সংখ্যা বৃদ্ধি রোহিত করে।

২। ইহা অনাক্রম্যতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করে।

৩। | B T লিল্ফোসাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করে। ভাইরাসজনিত রোগ নিরাময় করে।

৪। Natural Killer Cell এর ক্ষমতা সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্যান্সার কোষের সংখ্যা বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।

৫। পোষকের অনাক্রম্যতা বাড়িয়ে ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করে।

৬। ইহা অ্যান্টিবডি উৎপাদনে বাঁধা দেয়। সহজাত জারণকোষের ক্ষমতা বংশবৃদ্ধি ঘটায়।

৭। জটিল হেপাটাইটিসবি, হার্পিস, প্যাপিলোমা প্রভৃতি চিকিৎসায় ইন্টারফেরন ব্যবহার হয়।

৮। জলাতঙ্ক রোগের র‌্যাবিস ভাইরাসের বিরুদ্ধে ইহা কার্যকরী।

ইন্টারফেরন উৎপাদন ।। ইন্টারফেরন উৎপাদনের ধাপসমুহ

১।  টার্গেট জিন নির্বাচন পৃথকীকরণঃ মানুষের ফাইব্রোব্লাস্ট কোষ থেকে DNA সংগ্রহ করা হয়। DNA থেকে ইন্টারফেরন কোড বহনকারী জিন (ইন্টারফেরনবিটা) পৃথক করা হয়।

২। বাহক নির্বাচনঃ টার্গেট জিন বহন করার জন্য বাহক নির্বাচন করা হয়। প্লাজমিড DNA বাহক হিসেবে কাজ করে।

৩। প্লাজমিড DNA কে নির্দিষ্ট স্থানে কর্তনঃ রেস্ট্রিকশন এনজাইম প্রয়োগ করে বাহক প্লাজমিড DNA হতে নির্দিষ্ট অংশ কেটে ফেলা হয়।

৪। রিকম্বিন্যান্ট DNA তৈরীঃ লাইগেজ এনজাইম দ্বারা ইন্টারফেরন জিনকে বাহক প্লাজমিড DNA এর সাথে সংযুক্ত করে দেয়া হয়। ফলে রিকম্বিন্যান্ট DNA তৈরী হয়ে যায়।

৫।  রিকম্বিন্যান্ট DNA কে পোষক দেহে প্রবেশ করানোঃ রিকম্বিন্যান্ট DNAকে পোষক E. coli ব্যাকটেরিয়ার কোষে প্রবেশ করানো হয়। ব্যাকটেরিয়ার কোষে রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রবেশ করানোর প্রক্রিয়াকে ট্রান্সফরমেশন বলে।

৬। রিকম্বিন্যান্ট DNA এর সংখ্যা বৃদ্ধিঃ রিকম্বিন্যান্ট DNAকে পোষক কোষে প্রবেশ করানোর পর পোষক ব্যাকটেরিয়াকে কালচার মিডিয়ামে আবাদ করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যে কালচার মিডিয়ামে ব্যাকটেরিয়া সংখ্যা বৃদ্ধি করে হাজার হাজার কপি তৈরী করে। সেই সঙ্গে রিকম্বিন্যান্ট DNA তৈরী হয়। এসময় ব্যাকটেরিয়া আবাদ মাধ্যমে ইন্টারফেরন নিঃসৃত করে।

৭। ইন্টারফেরন পৃথকীকরণঃ আবাদ মাধ্যম থেকে ইন্টারফেরন পৃথক করা হয়। এরপর রাসায়নিক উপায়ে বিশুদ্ধ করা হয়।

প্রতিটি ঈস্ট কোষে এক মিলিয়ন (১০ লক্ষ) অণু ইন্টারফেরন তৈরী হয়। E. coliএর ভিতরে 1×105 অণু ইন্টারফেরন তৈরী হয়।

ইন্টারফেরন কী ।। Interferons কী

ইন্টারফেরন হলো উচ্চ আণবিক ওজন বিশিষ্ট প্রোটিন। প্রোটিনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রæ যার আণবিক ওজন ২০,০০০৩০,০০০ ডাল্টন তাকে ইন্টারফেরন বলে। ইহা হলো প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিন। E. coli ঈস্ট হতে ইন্টারফেরন উৎপাদন করা হয়। ইন্টারফেরনের বাণিজ্যিক নাম হলো বিটাফেরন (Betaferon) ইহা তিন প্রকার। αইন্টারফেরন   βইন্টারফেরন γইন্টারফেরন।

১৯৫৭ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী অ্যালিক ইসাক (Alick Isaacs) এবং জেন লিন্ডারম্যান  (Jean Lindermann) ইন্টারফেরন আবিষ্কার করেন। ১৯৮০ সালে আমেরিকান বিজ্ঞানী গিলবার্ট এবং ওয়াইজম্যান (Gilbert & Weissmann) মানব ইন্টারফেরন উৎপাদনে সক্ষম হন।

ইনসুলিন ।। ইনসুলিন উৎপাদন প্রক্রিয়ার ধাপসমুহ

১। পলিনিউক্লিওটাইড শৃঙ্খল সংশ্লেষণঃ  ইনসুলিন অণু দুইটি পলিনিউক্লিওটাইড শৃঙ্খল দ্বারা গঠিত। A শৃঙ্খল এবং B শৃঙ্খল। A শৃঙ্খল ২১টি এবং B শৃঙ্খল ৩০টি অ্যামাইনো এসিড দ্বারা গঠিত। পরীক্ষাগারে রাসায়নিক উপায়ে ৬৩টি নিউক্লিওটাইড দ্বারা A শৃঙ্খল এবং ৯০টি নিউক্লিওটাইড দ্বারা B শৃঙ্খল তৈরী করা হয়। এরপর শৃঙ্খল দু’টি বিশুদ্ধ করা হয়।

২। রিকম্বিন্যান্ট DNA তৈরীঃ  বাহক ব্যাকটেরিয়া নির্বাচন করা হয়। ব্যাকটেরিয়া কোষ হতে প্লাজমিড DNA পৃথক করা হয়। রেস্ট্রিকশন এনজাইম প্রয়োগ করে A শৃঙ্খল ও B শৃঙ্খল হতে নির্দিষ্ট অংশ কর্তন করা হয়। আবার, একই এনজাইম প্রয়োগ করে প্লাজমিড DNA হতেও অনুরুপ অংশ কেটে ফেলা হয়। তবে প্লাজমিড DNA হতে এমন অংশটি কাটা হয়, যে অংশের জিন β গ্যালাক্টোসাইডেজ এনজাইম উৎপন্ন করে। এরপর লাইগেজ এনজাইমের সাহায্যে  A শৃঙ্খল ও B শৃঙ্খল পৃথক পৃথক প্লাজমিড DNA এর সাথে সংযুক্ত করে দেয়া হয়। A শৃঙ্খল ও B শৃঙ্খল প্লাজমিড DNA এর সাথে সংযুক্তকরণের ফলে রিকম্বিন্যান্ট DNA তৈরী হয়ে যায়। এভাবে দুই ধরনের রিকম্বিন্যান্ট DNA তৈরী হয়। A শৃঙ্খল রিকম্বিন্যান্ট DNA এবং B শৃঙ্খল রিকম্বিন্যান্ট DNA।

৩। পোষক দেহে রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রবেশ করানোঃ রিকম্বিন্যান্ট DNA-কে ট্রান্সফরমেশন প্রক্রিয়ায় পোষক ব্যাকটেরিয়ার কোষে প্রবেশ করানো হয়। এটি হিট-শক মেথড বা ইলেকট্রিক পালস্ মেথডে করা হয়। পোষককে (E. coli) প্রথমে CaCl2 দ্রবণে এবং পরে ১৪-১৬ ঘন্টা বরফে রাখা হয়। এতে পোষকের কোষপ্রাচীরে Ca লেগে থাকে। একটি পাত্রে পোষক ও রিকম্বিন্যান্ট DNA-এর মিশ্রণ ৩০ মিনিট বরফে, ৯০ সেকেন্ড ৪২০ সে তাপমাত্রায় এবং পুনরায় ২ মিনিট বরফে রাখা হয়। এতে পোষক (E. coli) রিকম্বিন্যান্ট DNA-কে শোষণ করে নেয়।

৪। জিন ক্লোনিংঃ রিকম্বিন্যান্ট DNAসহ পোষক (E. coli) ব্যাকটেরিয়াকে ফার্মেন্টেশন ট্যাংকের কালচার মিডিয়ামে জন্মানো হয়। E. coli ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রিকম্বিন্যান্ট DNA কপিও তৈরী হয়। ফলে β গ্যালাক্টোসাইডেজ A শৃঙ্খল এবং β গ্যালাক্টোসাইডেজ  B শৃঙ্খল  উৎপন্ন হয়। সেই সঙ্গে কিছু পরিমাণ মিথিওনিনও উৎপন্ন হয়।

৫। শৃঙ্খল দুটি পৃথকীকরণঃ কালচার মিডিয়াম থেকে পলিনিউক্লিওটাইডের A  শৃঙ্খল ও B শৃঙ্খল পৃথক করা হয়। এরপর সায়ানোজেন ব্রোমাইড প্রয়োগ করে A  শৃঙ্খল ও B শৃঙ্খলের সাথে উৎপন্ন মিথিওনিন অপসারণ করা হয়। অতঃপর রাসায়নিক উপায়ে শৃঙ্খল দুটি বিশুদ্ধ করা হয়।

৬। ইনসুলিন অণু তৈরীঃ সালফোনেটিং প্রক্রিয়ায় সোডিয়াম ডাইসালফোনেটিং ও সোডিয়াম সালফাইট এর উপস্থিতিতে নিউক্লিওটাইডের A শৃঙ্খল ও B শৃঙ্খল একত্রীকরণ করা হয়। অতঃপর ডাইসালফাইড বন্ধনী দ্বারা শৃঙ্খল দু’টি পুনঃসংযোজন করা হয়।

৭। ইনসুলিন বিশুদ্ধকরণঃ উৎপন্ন ইনসুলিনে ব্যাকটেরিয়ার নিজস্ব প্রোটিন থাকে। তাই আহরিত ইনসুলিনকে রাসায়নিক উপায়ে বিশুদ্ধ করা হয়।

৮। ইনসুলিন বাজার জাতকরণঃ বিশুদ্ধ ইনসুলিন উপযুক্ত এম্পুলে ভরা হয়। এরপর উহা বাজার জাত করা হয়।

ইনসুলিন ।। ইনসুলিন আবিষ্কার ও গবেষণা

১৯১৬ সালে স্যার এডওয়ার্ড শারপে শ্যাফার মানুষের অগ্ন্যাশয় থেকে ক্ষরিত ইনসুলিন আবিষ্কার করেন। ১৯২১ সালে কানাডিয়ান শারীরবিজ্ঞানী ব্যানটিং ও বেস্ট ইনসুলিনের ডায়াবেটিস প্রতিরোধী ভূমিকার কথা বর্ণনা করেন। ১৯২৩ সালে ইলি লিলি শুকর ও গরুর অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন সংগ্রহ করে বাজারজাত করেন। ১৯৫৪ সালে ফ্রেডরিক স্যাঙ্গার মানব ইনসুলিনের অ্যামাইনো এসিড সিকুয়েন্স এবং রাসায়নিক গঠন আবিষ্কার করেন। ১৯৭৭ সালে ইটাকুরা (Itakura) এবং তাঁর সহকর্মীরা সর্বপ্রথম মানব ইনসুলিনের শৃঙ্খল দুটি সংশ্লেষণ করেন। ১৯৮০ সালে ডেনমার্কের Novo Industry শুকরের ইনসুলিনকে ৯৯% বিশুদ্ধ মানব ইনসুলিনে রুপান্তরিত করেন। ১৯৮১ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার Hope National Medical Center-এর বিজ্ঞানীরা বিশুদ্ধ মানব ইনসুলিন উৎপাদন করে। ১৯৮২ সালে Eli Lilly হিউমুলিন নামক মানব ইনসুলিন বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদন করে। বর্তমানে জেনিনটেক, নভো ইন্ডাস্ট্রি, বায়োজেন, ইলি লিলি প্রভৃতি কোম্পানি বাণিজ্যিক ভাবে বিশুদ্ধ মানব ইনসুলিন বাজারজাত করছে।

ইনসুলিন কী ।। Insulin কী

ইনসুলিন হলো এক ধরনের হরমোন। যে হরমোন অগ্ন্যাশয়ের বিটা (β) কোষ থেকে নিঃসৃত হয়ে রক্তের গ্লুকোজ গ্রহণের মাত্রা ত্বরান্বিত করে ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণ করে তাকে ইনসুলিন বলে। ইনসুলিন হলো এক ধরনের ক্ষুদ্র প্রোটিন। প্রো-ইনসুলিন চারটি অংশ নিয়ে গঠিত। অগ্রীয় অংশ এবং A, B ও C অংশ। প্রো-ইনসুলিনের C অংশ অপসারণ করে A ও B অংশ ডাইসালফাইড বন্ধনী দ্বারা যুক্ত করে ইনসুলিন তৈরী করা হয়। মানুষের ইনসুলিনে ১৭ ধরনের ৫১টি অ্যামাইনো এসিড থাকে। এর রাসায়নিক সংকেত C254H377N65O75S6 এবং আণবিক ভর ৫৭৩৪। মানুষের ১১নং ক্রোমোসোমের খাটো বাহুর শীর্ষ অংশের DNA অণুতে ইনসুলিন উৎপাদনকারী জিন থাকে। ইহা ১৫৩টি নাইট্রোজেন ক্ষারক নিয়ে গঠিত। E. coli ব্যাকটেরিয়ায় 1×105 টি (১০ লক্ষ) ইনসুলিন অণু থাকে।

জিনোম সিকোয়েন্সিং ।। বাংলাদেশে জিনোম সিকোয়েন্সিং এর সীমাবদ্ধতা

১। গবেষণাগারের স্বল্পতাঃ বাংলাদেশে বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, বায়োটেকনোলজি প্রতিষ্ঠান, সরকারী বেসরকারী ক্লিনিকে জিনোম সিকোয়েন্সিং পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় এর সংখ্যা অনেক কম। তাই সরকারী, বেসরকারী এবং ব্যক্তিগত ভাবে গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি করা দরকার।

২। দুর্লভ গবেষণা উপকরণঃ জিনোম সিকোয়েন্সিং পরীক্ষণের অধিকাংশ যন্ত্রপাতি এবং উপকরণ বিদেশ থেকে আমদানী করা হয়। তাই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং উপকরণ পর্যাপ্ত নয়। অনেক যন্ত্রপাতি অকেজো হয়েছে আছে। দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব যন্ত্রপাতি এবং উপকরণ উৎপাদন করতে হবে।

৩। পরিমিত দক্ষ গবেষকঃ বাংলাদেশে জেনেটিক্স এবং জিনোম সিকোয়েন্সিং গবেষণায় দক্ষ গবেষকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অনেক বেসকরকারী বা ব্যক্তিগত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে দক্ষ গবেষক নাই।

৪। ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের অভাবঃ চিকিৎসক এবং গবেষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার। নিয়মিত প্রশিক্ষণ হলো দক্ষতার উত্তম হাতিয়ার। তাই সরকারী বেসরকারী ভাবে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

৫। দক্ষ সহকারীর অভাবঃ গবেষণা কাজে যে সব সহকারী নিয়োগ দেওয়া হয় তাদের অধিকাংশই অদক্ষ।

৬। আর্থিক সংকটঃ জিনোম সিকোয়েন্সিং গবেষণায় ব্যয় বহুল গবেষণাগার, দক্ষ গবেষক এবং দক্ষ সহকারী প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে প্রচুর অর্থ দরকার হয়। সরবরাহকৃত সরকারী এবং বেসরকারী অর্থ পর্যাপ্ত নয়।

জিনোম সিকোয়েন্সিং ।। বাংলাদেশে জিনোম সিকোয়েন্সিং এর সম্ভাবনা

১। পিতৃত্ব নির্ণয়ে প্রয়োগঃ ভুমিষ্ঠ সন্তানের পিতা বা মাতা শনাক্তকরণে জিনোম সিকোয়েন্সিং সফল ভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। সন্তান তার পিতা ও মাতার নিকট থেকে অর্ধেক করে ক্রোমোজোম লাভ করে। তাই সন্তানের DNA শনাক্ত করে পিতৃত্ব নির্ণয় করা হচ্ছে। এটি জিনোম সিকোয়েন্সিং এর অন্যতম সফলতা।

২। অপরাধী সনাক্তকরণে প্রয়োগঃ  জিনোম সিকোয়েন্সিং প্রয়োগের মাধ্যমে খুন বা ধর্ষণের সাথে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে  রক্তের ফোটা, চুল, দাঁত, নখ, সিমেন বা বীর্যরস, শরীরের খসে পড়া অংশ প্রভৃতি সংগ্রহ করা হয়। প্রাপ্ত নমুনার পরিমাণ খুব কম হলে PCR প্রক্রিয়ায় পরিমাণে বাড়িয়ে নেয়া হয়। এসব নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং এর সাথে সন্দেহভাজন ব্যক্তির জিনোম সিকোয়েন্সিং মিলিয়ে দেখা হয়। এভাবে অপরাধী শনাক্ত করা হচ্ছে।

৩। জিন থেরাপি এবং RNAiঃ জিন থেরাপি প্রয়োগ করে জিনগত ক্রুটি নিরাময় করা হচ্ছে। ক্রটিপূর্ণ জিন কোষ থেকে সরিয়ে সুস্থ জিন প্রবেশ করিয়ে রোগীকে রোগ মুক্ত করে তোলা হচ্ছে। এসব জিনের বাহক হিসেবে ভাইরাস, RNAi, অ্যান্টিসেন্স বা জিঙ্ক ফিঙ্গার প্রোটিন ব্যবহার করা হয়। ফলে হিমোফিলিয়া, বর্ণান্ধতা, রাতকানা, ক্যান্সার প্রভৃতি রোগের চিকিৎসা সহজ হয়েছে।

৪। স্টেম সেলঃ যে সব কোষ আজীবন বিভাজনক্ষম হতে পারে তাকে স্টেম সেল বলে। B-লিম্ফোসাইট ও T-লিম্ফোসাইট হলো স্টেম সেল। এ সব কোষ সৃষ্টি করে হারানো অঙ্গ প্রতিস্থাপন, অঙ্গের কোষ তৈরী এবং নতুন ওষুধ পরীক্ষা করা হয়।

৫। মাইক্রো RNAঃ ক্যান্সার, ভাইরাস সংক্রমণ, বিপাক সমস্যা, প্রদাহ প্রভৃতি রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসায় মাইক্রো RNA ব্যবহার হতে পারে। ইহা রোগ সৃষ্টিকারী জিনের কাজকে প্রতিরোধ করে।

৬। জিনোম স্ক্যানিং ঃ জিনোম স্ক্যানিং প্রযুক্তিতে অল্প খরচে এবং অতিদ্রæত যে কোন জীবের সম্পূর্ণ জিনোম জানা যায়। এই প্রক্রিয়ায় মানুষের ক্রোমোসোমের নিষ্ক্রিয় ৯৮% জিনের তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

৭। ন্যানোটেকনোলজিঃ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা ও খাদ্য নিরাপত্তার বিধান ন্যানোটেকনোলজির মাধ্যমে জৈব বস্তুর উৎপাদন সম্ভব হবে।

৮। জিন ক্লোনিং ঃ জিন ক্লোনিং প্রযুক্তি প্রয়োগ করে মানব কল্যাণে ব্যবহৃত অনেক উপাদান তৈরী করা হয়। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে অতি প্রয়োজনীয় বস্তু উৎপাদন সম্ভব হবে।

৯। GM অণুজীবঃ পৃথিবীর উন্নত দেশে GM অণুজীব ব্যবহার করে পরিবেশের দূষণ মাত্রা রোধের চেষ্টা করছে। প্রাকৃতিক পরিবেশকে নির্মল রাখার জন্য GM অণুজীব ব্যবহার করা হবে।

১০। গবেষণা প্রতিষ্ঠানঃ বাংলাদেশে বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, বায়োটেকনোলজি প্রতিষ্ঠান, সরকারী ও বেসরকারী ক্লিনিকে জিনোম সিকোয়েন্সিং পরীক্ষা করা হয়। সরকারী, বেসরকারী এবং ব্যক্তিগত চেষ্টায় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে জিনোম সিকোয়েন্সিং এর সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে।

১১। গবেষণার উপকরণঃ জিনোম সিকোয়েন্সিং পরীক্ষণের অধিকাংশ যন্ত্রপাতি এবং উপকরণ বিদেশ থেকে আমদানী করা হয়। তাই ব্যয় বহুল হয়ে পড়ে। বর্তমানে বেশ কিছু যন্ত্রপাতি এবং উপকরণ দেশে উৎপাদন হচ্ছে।

১২। দক্ষ গবেষকঃ জিনোম সিকোয়েন্সিং এবং জেনেটিক্স নিয়ে গবেষণার জন্য বাংলাদেশে দক্ষ গবেষক রয়েছে। প্রতি নিয়তই গবেষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

১৩। প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাঃ জিনোম সিকোয়েন্সিং এবং জেনেটিক্স এর গবেষণা কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের দেশে এবং বিদেশে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। ফলে বাংলাদেশে জিনোম সিকোয়েন্সিং এর সম্ভাবনা এগিয়ে চলছে।