ব্যাসিডিওমাইকোটা বিভাগের ছত্রাককে মুগুর ছত্রাক বলা হয়। মাশরুম, জেলি ও শেল্ফ ছত্রাক, পাফবল এবং স্টিংহর্ন ছত্রাক এই বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। বাস্তুতান্ত্রিক ভাবে এরা অত্যন্ত জীবনীয়, কারণ এরা মৃত উদ্ভিদের পচন ঘটায়। এরা ব্যাসিডিওস্পোর উৎপন্ন করে। এই বিভাগে প্রজাতির সংখ্যা ৩০,০০০।
কয়েকটি ছত্রাক- Agaricus, Calvatia, Puccinia, Mixia প্রভৃতি।
অ্যাসকোমাইকোটা কী । Ascomycota কী
অ্যাসকোমাইকোটা বিভাগের ছত্রাককে থলি ছত্রাক বলা হয়। থলে ছত্রাক পৃথিবীর সর্বত্র পাওয়া যায়। এরা মিথোজীবী হিসেবে বাস করে। ব্রেকিং ঈস্ট, ফিশন ঈস্ট, মোরেল, টাফেল প্রভৃতি ছত্রাক এই বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। থলে ছত্রাক অ্যাস্কোস্পোর দ্বারা সংখ্যা বৃদ্ধি করে। এই বিভাগে প্রজাতির সংখ্যা ৬৪,০০০।
কয়েকটি ছত্রাক- Penicillium, Saccharomyces, Candida, Aspergillus প্রভৃতি।
জাইগোমাইকোটা কী । Zygomycota কী
জাইগোমাইকোটা বিভাগের ছত্রাককে জাইগোট ছত্রাক বলা হয়। এই বিভাগের সবচেয়ে পরিচিত ছত্রাক হলো ছাতলা বা মোন্ড ছত্রাক। এদের অধিকাংশই স্থলজ প্রকৃতির এবং মাটি, পচনশীল উদ্ভিদ বা প্রাণীদেহে জন্মে। এরা জুস্পোর ও অ্যাপ্লানোস্পোর উৎপন্ন করে। যৌন জননের সময় এরা জাইগোস্পোর উৎপন্ন করে। এই বিভাগে প্রজাতির সংখ্যা ১,০৫০।
কয়েকটি ছত্রাক- Rhizopus, Mucor, Blakeslea, Mortierella প্রভৃতি।
ছত্রাকের বৈশিষ্ট্য । Characters of fungi । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১। ছত্রাক হলো এককোষী বা বহুকোষী, ফিলামেন্টাস, কলোনিয়াল বা মাইসেলিয়্যাল।
২। এরা বর্ণহীন, মৃতজীবী বা পরজীবী।
৩। এদের পুষ্টি হেটারোট্রফিক ধরনের। অর্থাৎ নিজের খাদ্য নিজে প্রস্তুত করতে পারে না।
৪। এদের দেহকে মূল, কান্ড ও পাতায় ভাগ করা যায় না। অর্থাৎ এরা থ্যালাস আকৃতির।
৫। ছত্রাকের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে।
৬। এদের ক্রোমাটিন বডিতে DNA, RNA ও প্রোটিন থাকে।
৭। এদের জননাঙ্গ এককোষী এবং বন্ধ্যা আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে না।
৮। এদের পরিবহন কলা বা ভাস্কুলার বান্ডল থাকে না। অর্থাৎ এরা অভাস্কুলার।
৯। এদের কোষ বিভাজন অ্যামাইটোসিস, মাইটোসিস ও মিয়োসিস প্রকৃতির।
১০। ছত্রাকের যৌন জনন আইসোগ্যামাস, অ্যানাইসোগ্যামাস ও ঊগ্যামাস প্রকৃতির।
১১। এদের জীবন ধারণের জন্য সূর্যালোক অপরিহার্য না।
১২। এদের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন ও তেল বিন্দু। এছাড়া ট্রিহ্যালোজ, চিনি, অ্যালকোহল ও লিপিড থাকে।
১৩। এদের কোষপ্রাচীর প্রধানত কাইটিন নির্মিত। এছাড়া সেলুলোজ, লিপিড, প্রোটিন, গ্লুকান ও মেলানিন থাকে।
১৪। এরা হ্যাপ্লয়েড স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।
১৫। এদের অভিযোজন ক্ষমতা তীব্র (৫-৫০ ডিগ্রী সে)।
১৬। এদের জীবনচক্রে কখনো বহুকোষী ভ্রƒণ সৃষ্টি হয় না।
ছত্রাকের আবাস । fungi
ছত্রাকের বাসস্থান বিচিত্র্যধর্মী। এরা মাটি, পানি, বায়ু, উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ, পচনশীল জীবদেহ বা দেহাবশেষ, বিভিন্ন স্থাপনা ও অট্রালিকায় জন্মে। জলজ ছত্রাক পানিতে পচনশীল মৃতদেহের উপর বাস করে। স্থলজ ছত্রাক হিউমাস সমৃদ্ধ জৈব মাটিতে জন্মে।
ছত্রাকতত্ত্ব কী । Mycology
গ্রীক শব্দ Mykes অর্থ ছত্রাক এবং logos অর্থ জ্ঞান নিয়ে Mycology শব্দটি গঠিত। জীববিজ্ঞানের যে শাখায় ছত্রাকের উৎপত্তি, আবাস, শ্রেণীবিন্যাস, দৈহিক গঠন, সংখ্যাবৃদ্ধি, বাণিজ্যিক উৎপাদন প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে মাইক্রোলজি বা ছত্রাকতত্ত্ব বলে। ছত্রাক বিষয়ের উপর বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে মাইকোলোজিষ্ট বলে। বিজ্ঞানী মাইচেলি-কে মাইকোলজি বা ছত্রাকতত্ত্বের জনক বলা হয়। বিজ্ঞানী ডি বারী-কে আধুনিক মাইকোলজির জনক বলা হয়। প্রাথমিক যুগে ছত্রাক সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকায় আলেক্সোপোউলস-কে ছত্রাকতত্ত্বের লিনিয়াস বলা হয়। আলেক্সোপোউলস-এর মতে, ক্লোরোফিলবিহীন, নিউক্লিয়াসযুক্ত, অভাস্কুলার, মাইসেলিয়ামবিশিষ্ট গঠন যাদের প্রাচীর কাইটিন ও সেলুলোজ নির্মিত এবং যারা অযৌন ও যৌন উপায়ে বংশবৃদ্ধি করে তাদেরকে ছত্রাক বলা হয়।
ছত্রাকের বাসস্থান ও স্বভাব
অধিকাংশ ছত্রাক ভেজা ও আর্দ্র পরিবেশে জন্মে। মৃতজীবী ছত্রাক মৃত বা পচা জীবদেহে জন্মে এবং সেখান থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে। পরজীবী ছত্রাক উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহের উপরে জন্মে। পরজীবী ছত্রাক আবার অন্তঃপরজীবী, বহিঃপরজীবী, আন্তঃকোষীয় এবং অন্তঃকোষীয় হতে পারে। যে সব মৃতজীবী ছত্রাক শাকাশী প্রাণীর বিষ্ঠার উপর জন্মে তাকে কপ্রোফিলাস বলে। শৈবাল ও ছত্রাক মিথোজীবী হিসেবে বাস করে। উচ্চশ্রেণীর উদ্ভিদের পাতা ও মূলে এরা মিথোজীবী হিসেবে বাস করতে পারে। এই ধরনের ছত্রাককে মাইকোরাইজাল ছত্রাক এবং এরুপ সম্পর্ককে মাইকোরাইজা বলে। পরাশ্রয়ী ছত্রাক উচ্চশ্রেণীর উদ্ভিদের বাকলে বা বহির্ভাগে বাস করে।
ছত্রাক কী । Fungi কী
ল্যাটিন শব্দ fungour অর্থ দ্রæত বৃদ্ধি। মাশরুম বা ব্যাঙের ছাতা দ্রæত বৃদ্ধি পায় বলে এদেরকে fungour বা fungi বলা হতো। ক্লোরোফিলবিহীন যে সব অভাস্কুলার উদ্ভিদের দেহকে মূল, কান্ড ও পাতায় ভাগ করা যায় না এবং কোষ প্রাচীর কাইটিন দ্বারা গঠিত তাদেরকে ছত্রাক বলে। ছত্রাক খুব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং খুব দ্রুত মারা যায়। পৃথিবীতে ৯০,০০০ প্রজাতির ছত্রাক পাওয়া গিয়েছে। তবে বর্ণনা করা হয়েছে মাত্র ১০%।
Ulothrix-এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য
১। নমুনাটির দেহ অগ্র ও পশ্চাৎ অংশে বিভক্ত, শাখাবিহীন এবং সূত্রাকার।
২। দেহ কোষগুলো ক্ষুদ্র ও বেলনাকার এবং একই সারিতে বিন্যস্ত।
৩। কোষগুলো পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে ফিলামেন্ট গঠন করেছে।
৪। কোষগুলো পিপাকৃতির এবং দৈর্ঘ্যরে চেয়ে প্রস্থ বড়।
৫। সূত্রের পাদদেশের কোষটি সরু, লম্বা ও বর্ণহীন। একে হোল্ডফাস্ট বলে।
৬। সূত্রের অগ্রপ্রান্তের কোষটি সামান্য গোলাকার। একে অগ্রস্থ কোষ বলে।
৭। প্রতিটি কোষে একটি গার্ডল বা বেল্ট এবং পেয়ালা বা আংটি আকৃতির ক্লোরোপ্লাস্ট রয়েছে।
৮। ক্লোরোপ্লাস্টে একাধিক পাইরিনয়েড বিদ্যমান।
৯। প্রতিটি কোষে একটি করে নিউক্লিয়াস রয়েছে।
ইউলোথিক্স-এর যৌনজনন । Sextual reproduction
Ulothrix একটি ভিন্নবাসী বা হেটারোথ্যালিক শৈবাল। এর যৌনজনন আইসোগ্যামাস প্রকৃতির। এর যৌনজনন বর্ণনা করা হলো।
১। গ্যামিট সৃষ্টিঃ প্রতিকূল পরিবেশে Ulothrix–এর হোল্ড ফাস্ট ছাড়া যে কোন কোষ গ্যামিট্যাঞ্জিয়ামে পরিনত হয়। গ্যামিট্যাঞ্জিয়ামের প্রোটোপ্লাস্ট মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে ৮, ১৬, ৩২ বা ৬৪টি অপত্য প্রোটোপ্লাস্ট সৃষ্টি করে। প্রতিটি অপত্য প্রোটোপ্লাস্ট বাইফ্ল্যাজিলেট (দ্বি–ফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট) গ্যামিটে পরিনত হয়। প্রকৃতিতে ভিন্নধর্মীর জন্য এদেরকে + ও – স্ট্রেইন নামে চিহ্নিত করা হয়।
২। গ্যামিটের নির্গমণঃ গ্যামিটগুলো ভেসিকল দ্বারা আবৃত থাকে। ভেসিকল দ্বারা আবৃত অবস্থায় এরা গ্যামিট্যাঞ্জিয়াম হতে বের হয়ে আসে। এরপর ভেসিকল নষ্ট হয়ে যায় এবং গ্যামিটগুলো মুক্তভাবে সাঁতার কাটতে থাকে।
৩। গ্যামিটের মিলনঃ ভিন্ন ভিন্ন ফিলামেন্ট হতে আগত + স্ট্রেইন এবং – স্ট্রেইন এর যৌন মিলন বা নিষেক ঘটে। নিষেকের ফলে জাইগোট সৃষ্টি হয়।
৪। রেস্টিং স্পোরঃ Ulothrix এর জাইগোট চার ফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট হয়। ইহা কিছু সময় সচল থাকে। পরে ফ্ল্যাজেলা হারিয়ে প্রাচীর দ্বারা আবৃত হয়ে রেস্টিং স্পোরে পরিনত হয়।
৫। অংকুরোদগমঃ বিশ্রাম শেষে জাইগোটের নিউক্লিয়াসটি মায়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে ৪–১৬টি হ্যাপ্লয়েড নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট্য অপত্য প্রোটোপ্লাস্ট গঠন করে। এদের অর্ধেক + স্ট্রেইন এবং অর্ধেক – স্ট্রেইন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হয়। প্রতিটি অপত্য প্রোটোপ্লাস্ট ফ্ল্যাজেলাযুক্ত স্পোরে পরিনত হয়। মায়োসিস প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হয় বলে এদেরকে মিয়োস্পোর বলা হয়। অনুকূল পরিবেশে জুস্পোর ও অ্যাপ্লানোস্পোর অঙ্কুরিত হয়ে Ulothrix এর নতুন ফিলামেন্ট গঠন করে। lothrix একটি ভিন্নবাসী বা হেটারোথ্যালিক শৈবাল। এর যৌনজনন আইসোগ্যামাস প্রকৃতির। এর যৌনজনন বর্ণনা করা হলো।
১। গ্যামিট সৃষ্টিঃ প্রতিকূল পরিবেশে Ulothrix–এর হোল্ড ফাস্ট ছাড়া যে কোন কোষ গ্যামিট্যাঞ্জিয়ামে পরিনত হয়। গ্যামিট্যাঞ্জিয়ামের প্রোটোপ্লাস্ট মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে ৮, ১৬, ৩২ বা ৬৪টি অপত্য প্রোটোপ্লাস্ট সৃষ্টি করে। প্রতিটি অপত্য প্রোটোপ্লাস্ট বাইফ্ল্যাজিলেট (দ্বি–ফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট) গ্যামিটে পরিনত হয়। প্রকৃতিতে ভিন্নধর্মীর জন্য এদেরকে + ও – স্ট্রেইন নামে চিহ্নিত করা হয়।
২। গ্যামিটের নির্গমণঃ গ্যামিটগুলো ভেসিকল দ্বারা আবৃত থাকে। ভেসিকল দ্বারা আবৃত অবস্থায় এরা গ্যামিট্যাঞ্জিয়াম হতে বের হয়ে আসে। এরপর ভেসিকল নষ্ট হয়ে যায় এবং গ্যামিটগুলো মুক্তভাবে সাঁতার কাটতে থাকে।
৩। গ্যামিটের মিলনঃ ভিন্ন ভিন্ন ফিলামেন্ট হতে আগত + স্ট্রেইন এবং – স্ট্রেইন এর যৌন মিলন বা নিষেক ঘটে। নিষেকের ফলে জাইগোট সৃষ্টি হয়।
৪। রেস্টিং স্পোরঃ Ulothrix এর জাইগোট চার ফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট হয়। ইহা কিছু সময় সচল থাকে। পরে ফ্ল্যাজেলা হারিয়ে প্রাচীর দ্বারা আবৃত হয়ে রেস্টিং স্পোরে পরিনত হয়।
৫। অংকুরোদগমঃ বিশ্রাম শেষে জাইগোটের নিউক্লিয়াসটি মায়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে ৪–১৬টি হ্যাপ্লয়েড নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট্য অপত্য প্রোটোপ্লাস্ট গঠন করে। এদের অর্ধেক + স্ট্রেইন এবং অর্ধেক – স্ট্রেইন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হয়। প্রতিটি অপত্য প্রোটোপ্লাস্ট ফ্ল্যাজেলাযুক্ত স্পোরে পরিনত হয়। মায়োসিস প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হয় বলে এদেরকে মিয়োস্পোর বলা হয়। অনুকূল পরিবেশে জুস্পোর ও অ্যাপ্লানোস্পোর অঙ্কুরিত হয়ে Ulothrix এর নতুন ফিলামেন্ট গঠন করে।