ইউলোথিক্স এর অযৌনজনন । Asextual reproduction

১। চলরেণু (Zoospore)ঃ অনুকূল পরিবেশে Ulothrix এর এক বা একাধিক কোষ জুস্পোরাঞ্জিয়ামে পরিনত হয়। জুস্পোরাঞ্জিয়ামের প্রোটোপ্লাস্ট বিভাজিত হয়ে ৩২টি অপত্য প্রোটোপ্লাস্টে পরিনত হয়। প্রতিটি অপত্য প্রোটোপ্লাস্ট চার ফ্ল্যাজেলা বিশিষ্ট জুস্পোর বা চলরেণুতে রুপান্তরিত হয়। জুস্পোর গুলো দুই ধরনের। মাইক্রোজুস্পোর (প্রতিটি জুস্পোরাঞ্জিয়ামে ৮-৩২টি) এবং মেগাজুস্পোর (প্রতিটি জুস্পোরাঞ্জিয়ামে ১-৪টি)। জুস্পোর গুলো দেখতে নাসপাতি আকৃতির এবং একটি চক্ষুবিন্দু যুক্ত। এরা ভেসিকল দ্বারা আবৃত অবস্থায় জুস্পোরাঞ্জিয়াম থেকে বের হয়ে আসে। এরপর ভেসিকল নষ্ট হয়ে যায় এবং জুস্পোর গুলো মুক্তভাবে ভেসে বেড়ায়। ২-৬ দিন সাঁতার কাটার পর জুস্পোর গুলো ফ্ল্যাজেলা হারায় এবং প্রাচীর দ্বারা আবৃত হয়। পরে বিভাজিত হয়ে নতুন Ulothrix ফিলামেন্ট গঠন করে।

২। অচলরেণু (Aplanospore)ঃ প্রতিকূল পরিবেশে স্পোরাঞ্জিয়ামের প্রোটোপ্লাস্ট বিভাজিত হয়ে অচলরেণু উৎপন্ন করে। উহা প্রচীর দ্বারা আবৃত হয়ে অ্যাপ্লানোস্পোর অথবা রেস্টিং স্পোরে পরিনত হয়। অনুকূল পরিবেশে ইহা প্রচীর ভেদ করে বের হয়ে আসে এবং অংকুরিত হয়ে নতুন Ulothrix ফিলামেন্ট গঠন করে।

৩। হিপনোস্পোর (Hipnospore)ঃ দীর্ঘ অনাবৃষ্টির কারণে এক বা একাধিক কোষের প্রোটোপ্লাস্ট শক্ত প্রাচীর দ্বারা আবৃত হয়ে গোলাকার হিপনোস্পোর সৃষ্টি করে। অনুকূল পরিবেশে হিপনোস্পোর সরাসরি অংকুরিত হয়ে নতুন শৈবালে পরিনত হয়।

৪। অ্যাকিনিটি (Akinity)ঃ প্রতিকূল পরিবেশে Ulothrix এর এক বা একাধিক কোষ প্রচুর খাদ্য সঞ্চয় করে স্ফীত হয় এবং পুরু প্রাচীর দ্বারা আবৃত হয়ে রেস্টিং স্পোরে পরিনত হয়। এসব কোষকে অ্যাকিনিটি বলে। প্রতিটি অ্যাকিনিটি অনুকূল পরিবেশে অংকুরিত হয়ে নতুন শৈবালে পরিনত হয়।

৫। পামেলা দশা (Pameloid)ঃ অত্যন্ত শুষ্ক পরিবেশে Ulothrix এর দেহকোষের প্রোটোপ্লাস্ট বিভাজিত হয়ে অসংখ্য অপত্য কোষ সৃষ্টি করে। অপত্য কোষ গুলো জেলাটিনের আবরণী দ্বারা আবৃত হয়। এই অবস্থাকে পামেলা দশা বলে। অনুকূল পরিবেশে পানির প্রবাহে জেলাটিন আবরণী গলে যায় এবং প্রতিটি কোষ জুস্পোরে পরিনত হয়। প্রতিটি জুস্পোর নতুন শৈবালে পরিনত হয়।

ইউলোথিক্স-এর দৈহিক গঠন । Vegetative structure

Ulothrix হলো অশাখ, অসীম বৃদ্ধি সম্পন্ন এবং সূত্রাকার ফিলামেন্ট বিশিষ্ট শৈবাল। এর দৈহিক গঠন দুইটি উপায়ে বর্ণনা করা যায়। ফিলামেন্টের গঠন এবং কোষীয় গঠন।

ফিলামেন্টের গঠন (Structure of filament)

Ulothrix হলো সবুজ বর্ণের বহুকোষী শৈবাল। অনেক গুলো কোষ পরস্পর মাথায় মাথায় যুক্ত হয়ে সরু, সূত্রাকার ও শাখা-প্রশাখাবিহীন ফিলামেন্ট গঠন করে। এর ফিলামেন্ট তিন ধরনের কোষ দ্বারা গঠিত। এগুলো হলো-

১। হোল্ড ফাস্ট বা হেপ্টেরন (Hold fast)ঃ শৈবালের গোড়ায় যে সরু, লম্বা ও বর্ণহীন কোষ থাকে তাকে হোল্ড ফাস্ট বা হেপ্টেরন বলে। ইহা শৈবালকে মাটি বা অন্য কোন বস্তুর সাথে আটকে রাখে।

২। দেহকোষ (Somatic cell)ঃ Ulothrix হলো বহুকোষী শৈবাল। এর দেহ পিপাকৃতির ছোট ছোট একসারী কোষ দ্বারা গঠিত। কোষ গুলো দেখতে একই রকম। কোষগুলোর দৈর্ঘ্য অপেক্ষা প্রস্থ বড় অথবা দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সমান হতে পারে। প্রজাতিভেদে দেহকোষের দৈর্ঘ্য প্রস্থের চেয়ে ২-৬ গুণ বেশি। দেহ কোষের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে শৈবালটির দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে। তাই এর দৈহিক বৃদ্ধি অনির্দিষ্ট। কোষ গুলো সবুজ হওয়ায় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরী করে।

৩। অগ্রস্থ কোষ (Apical cell)ঃ ফিলামেন্টের অগ্রভাগে একটি অর্ধবৃত্তাকার কোষ থাকে। কোষটির উপরিভাগ বেলনাকার বা গোলাকার বা উত্তল লেন্সের মতো। ইহা সবুজ এবং অন্যান্য কোষ থেকে আলাদা।

 

কোষীয় গঠন (Structure of Cell)

Ulothrix এর কোষীয় গঠন বর্ণনা করা হলো-

১। কোষ প্রাচীরঃ Ulothrix এর কোষ দুই স্তরবিশিষ্ট একটি প্রাচীর দ্বারা আবৃত থাকে। বাইরের স্তরটি পেকটোজ এবং ভিতরের স্তরটি সেলুলোজ দ্বারা গঠিত। ইহা কোষকে নির্দিষ্ট আকৃতি দান করে এবং বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।

২। প্লাজমাপর্দাঃ কোষ প্রাচীরের ভিতরে অবস্থিত সুক্ষ্ম পাতলা পর্দাকে প্লাজমাপর্দা বলে। ইহা লিপিড ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত। ইহা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্রযুক্ত। এই ছিদ্রের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ কোষের বাইরে ও ভিতরে যাতায়াত করে।

৩। প্রোটোপ্লাজমঃ কোষ প্রাচীরের ভিতরে অবস্থিত কোষের সকল সজীব অংশকে একত্রে প্রোটোপ্লাজম বলে। ইহা দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস।

(i) সাইটোপ্লাজমঃ সাইটোপ্লাজমের অংশ গুলো হলো-

ক্লোরোপ্লাস্টঃ প্রতিটি কোষে একটি করে ক্লোরোপ্লাস্ট বিদ্যমান। ইহা ফিতা বা গার্ডল বা পেয়ালা বা আংটি আকৃতির। ইহা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরী করে।

পাইরিনয়েডঃ প্রতিটি ক্লোরোপ্লাস্টে এক বা একাধিক পাইরিনয়েড থাকে। ইহা প্রোটিন দ্বারা গঠিত। ইহা শর্করা জাতীয় খাদ্য সঞ্চয় করে।

কোষ গহ্বরঃ প্রতিটি কোষে ছোট ছোট কোষ গহ্বর থাকে। ইহা কোষরস দ্বারা পূর্ণ থাকে। কেন্দ্রীয় গহ্বরকে আবৃত করে প্রিমোডিয়াম ইউট্রিকল থাকে।

সঞ্চিত খাদ্যঃ এদের কোষে সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে স্টার্চ জমা থাকে।

(ii) নিউক্লিয়াসঃ Ulothrix হলো প্রকৃতকোষী শৈবাল। এর প্রতিটি কোষে একটি করে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে। ইহা কোষের সকল জৈবিক কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে।

ইউলোথিক্স এর কোষীয় গঠন । Ulothrix । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

Ulothrix এর কোষীয় গঠন বর্ণনা করা হলো-
১। কোষ প্রাচীরঃ Ulothrix এর কোষ দুই স্তরবিশিষ্ট একটি প্রাচীর দ্বারা আবৃত থাকে। বাইরের স্তরটি পেকটোজ এবং ভিতরের স্তরটি সেলুলোজ দ্বারা গঠিত। ইহা কোষকে নির্দিষ্ট আকৃতি দান করে এবং বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
২। প্লাজমাপর্দাঃ কোষ প্রাচীরের ভিতরে অবস্থিত সুক্ষ্ম পাতলা পর্দাকে প্লাজমাপর্দা বলে। ইহা লিপিড ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত। ইহা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্রযুক্ত। এই ছিদ্রের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ কোষের বাইরে ও ভিতরে যাতায়াত করে।
৩। প্রোটোপ্লাজমঃ কোষ প্রাচীরের ভিতরে অবস্থিত কোষের সকল সজীব অংশকে একত্রে প্রোটোপ্লাজম বলে। ইহা দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস।
(i) সাইটোপ্লাজমঃ সাইটোপ্লাজমের অংশ গুলো হলো-
ক্লোরোপ্লাস্টঃ প্রতিটি কোষে একটি করে ক্লোরোপ্লাস্ট বিদ্যমান। ইহা ফিতা বা গার্ডল বা পেয়ালা বা আংটি আকৃতির। ইহা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরী করে।
পাইরিনয়েডঃ প্রতিটি ক্লোরোপ্লাস্টে এক বা একাধিক পাইরিনয়েড থাকে। ইহা প্রোটিন দ্বারা গঠিত। ইহা শর্করা জাতীয় খাদ্য সঞ্চয় করে।
কোষ গহ্বরঃ প্রতিটি কোষে ছোট ছোট কোষ গহ্বর থাকে। ইহা কোষরস দ্বারা পূর্ণ থাকে। কেন্দ্রীয় গহ্বরকে আবৃত করে প্রিমোডিয়াম ইউট্রিকল থাকে।
সঞ্চিত খাদ্যঃ এদের কোষে সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে স্টার্চ জমা থাকে।
(ii) নিউক্লিয়াসঃ Ulothrix হলো প্রকৃতকোষী শৈবাল। এর প্রতিটি কোষে একটি করে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে। ইহা কোষের সকল জৈবিক কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে।

ইউলোথিক্স এর ফিলামেন্টের গঠন । Ulothrix

Ulothrix হলো সবুজ বর্ণের বহুকোষী শৈবাল। অনেক গুলো কোষ পরস্পর মাথায় মাথায় যুক্ত হয়ে সরু, সূত্রাকার ও শাখা-প্রশাখাবিহীন ফিলামেন্ট গঠন করে। এর ফিলামেন্ট তিন ধরনের কোষ দ্বারা গঠিত। এগুলো হলো-
১। হোল্ড ফাস্ট বা হেপ্টেরন (Hold fast)ঃ শৈবালের গোড়ায় যে সরু, লম্বা ও বর্ণহীন কোষ থাকে তাকে হোল্ড ফাস্ট বা হেপ্টেরন বলে। ইহা শৈবালকে মাটি বা অন্য কোন বস্তুর সাথে আটকে রাখে।
২। দেহকোষ (Somatic cell)ঃ Ulothrix হলো বহুকোষী শৈবাল। এর দেহ পিপাকৃতির ছোট ছোট একসারী কোষ দ্বারা গঠিত। কোষ গুলো দেখতে একই রকম। কোষগুলোর দৈর্ঘ্য অপেক্ষা প্রস্থ বড় অথবা দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সমান হতে পারে। প্রজাতিভেদে দেহকোষের দৈর্ঘ্য প্রস্থের চেয়ে ২-৬ গুণ বেশি। দেহ কোষের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে শৈবালটির দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে। তাই এর দৈহিক বৃদ্ধি অনির্দিষ্ট। কোষ গুলো সবুজ হওয়ায় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরী করে।
৩। অগ্রস্থ কোষ (Apical cell)ঃ ফিলামেন্টের অগ্রভাগে একটি অর্ধবৃত্তাকার কোষ থাকে। কোষটির উপরিভাগ বেলনাকার বা গোলাকার বা উত্তল লেন্সের মতো। ইহা সবুজ এবং অন্যান্য কোষ থেকে আলাদা।

ইউলোথিক্স এর বাসস্থান ও স্বভাব । Ulothrix

Ulothrix এর ৬০টি প্রজাতির মধ্যে অধিকাংশ প্রজাতি মিঠা পানিতে জন্মে। এরা পুকুর, নদী-নালা, খাল-বিল, হাওড়-বাওড় প্রভৃতিতে জন্মে। নিমজ্জিত বস্তুর সাথে আবদ্ধ হয়ে অবস্থান করে। কয়েকটি প্রজাতি সামুদ্রিক। গ্রীষ্ম মৌসুমে এরা জন্মে না। প্রফেসর এ. কে. এম নুরুল ইসলাম (১৯৬৯) বাংলাদেশ থেকে Ulothrix simplex আবিষ্কার করেন। এটি বাংলাদেশের এন্ডেমিক শৈবাল। এছাড়া Ulothrix tenerrima ও Ulothrix variabilis বাংলাদেশে পাওয়া যায়।

ইউলোথিক্স শৈবাল কী । Ulothrix কী

গ্রিক শব্দ Oulos অর্থ পশম এবং thrix অর্থ সুতা নিয়ে Ulothrix শব্দটি গঠিত। Ulothrix এর অর্থ হলো পশমের মতো সুতা। Ulothrix হলো অশাখ ও ফিলামেন্ট বিশিষ্ট সুতার মতো শৈবাল। এর রাজ্য Protoctista, বিভাগ Chlorophyta, শ্রেণী Chlorophyceae, বর্গ Ulotricales এবং গোত্র Ulotricaceae।

শৈবালের অপকারীতা কী কী । Harmful of algae । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। ওয়াটার ব্লুমঃ পুকুর বা জলাশয়ের পানিতে প্রচুর পরিমাণে নীলাভ সবুজ শৈবাল (সায়ানোব্যাকটেরিয়া) জন্মে, একে ওয়াটার ব্লুম বা অ্যালগাল ব্লুম বলে। এতে জলাশয়ের পানি দুষিত হয়ে যায় এবং মাছ মারা যায়। যেমন- Nostoc, Anabaena, Mycrocystis, Rivularia, Ocillatoria প্রভৃতি।
২। উদ্ভিদের রোগঃ কোন কোন শৈবাল চা, কফি, ম্যাগনোলিয়া প্রভৃতি গাছে রোগ সৃষ্টি করে এবং ফলন কমিয়ে দেয়। যেমন- Cephaleuros virescens.
৩। মাছের রোগঃ মাছ ডাইনোফ্ল্যাজেলেট জাতীয় শৈবাল অধিক পরিমাণে ভক্ষণ করলে বিষাক্ত টক্সিন সৃষ্টি হয়। কোন কোন শৈবাল মাছের ফুলকা রোগ সৃষ্টি করে। যেমন- Oedogonium
৪। গবাদিপশুর মৃত্যুঃ কোন কোন শৈবাল ভক্ষণে গবাদি পশুর মৃত্যু হতে পারে। যেমন- Anabaena, Mycrocystis, Gloeotrichia প্রভৃতি।
৫। মশার বংশবৃদ্ধিঃ কিছু শৈবাল মশার লার্ভার পুষ্টি যোগায় এবং মশার সংখ্যা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
৬। সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহতঃ পরাশ্রয়ী শৈবাল আশ্রয়দাতা উদ্ভিদকে আচ্ছাদিত করে রাখে এবং সালোকসংশ্লেষণে ব্যাঘাত ঘটায়।
৭। চলাচলে সমস্যাঃ রাস্তা এবং পুকুর ঘাটে নীলাভ সবুজ শৈবাল জন্মে এসব স্থান পিচ্ছিল করে। এতে পথ চলতে অসুবিধা হয় এবং দুর্ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন নৌযানের তলদেশে আবদ্ধ থেকে শৈবাল নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়।
৮। স্থাপনার ক্ষতিঃ দেয়াল এবং দালানে শৈবাল জন্মে ক্ষতি করে। ফলে স্থাপনার স্থায়িত্ব নষ্ট হয়।
৯। দুর্গন্ধ সৃষ্টিঃ অনেক শৈবালের কোষ থেকে দুর্গন্ধযুক্ত পদার্থ সৃষ্টি হয়। এসব পদার্থ পরিবেশ দুষণ করে।
১০। টক্সিন সৃষ্টিঃ Gymnodinium ও Microcystis শৈবাল ক্ষতিকর টক্সিন উৎপন্ন করে। এই টক্সিন মাছ ও গবাদি পশুর জন্য ক্ষতিকর। Gonyaulax শৈবাল থেকে উৎপন্ন ক্ষতিকর টক্সিন মাছের দেহে সঞ্চিত থাকে। এই মাছ খেয়ে মানুষের পক্ষাঘাত রোগ হয়।

শৈবালের উপকারিতা । Beneficial role of algae

১। মানুষের খাদ্য হিসেবে (Human food)

(i) খাদ্য বিশারদগণ ১০০টি শৈবাল প্রজাতিকে মানুষের খাদ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এসব শৈবালে প্রোটিন থাকে বলে পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে তালিকা করা হয়েছে।

(ii) প্রাচীনকাল থেকে Chlorella, Laminaria, Ulva, Chondrus, Gracilaria প্রভৃতি শৈবাল মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।

(iii) বাদামী শৈবাল থেকে প্রস্তুত অ্যারামি ও ক্যুমবো জাপানীদের সর্বাধিক জনপ্রিয় খাদ্য।

(iv) Porphyra শৈবাল থেকে জাপানে নরি, কোরিয়ায় জিম এবং যুক্তরাজ্যে ল্যাভার তৈরী করা হয়।

(v) Chlorella একটি ভিটামিন সমৃদ্ধ শৈবাল।

(vi) Spirulina-কে ভবিষত্যের সেরা খাদ্য হিসেবে মন্তব্য করা হয়।

২। উৎপাদক হিসেবে (Producer)ঃ শৈবাল জলাশয়ে খাদ্য শৃঙ্খলে উৎপাদক হিসেবে কাজ করে। এরা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরী করে।

৩। পশুখাদ্য হিসেবে (Animal food)ঃ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শৈবাল পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। যেমন- Alaria, Laminaria, Rhodymenia, Ascophyllum, Sargassum, Fucus প্রভৃতি।

৪। পোল্ট্রিখাদ্য হিসেবে (Poultry food)ঃ শৈবাল শুকিয়ে বা পুড়িয়ে কেল্প তৈরী করা হয়। কেল্প পোল্ট্রিখাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। যেমন- Laminaria, Mucus, Sargassum প্রভৃতি।

৫। অক্সিজেন উৎপাদন (Oxygen production)ঃ শৈবাল সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন উৎপন্ন করে। পৃথিবীর ৬০% অক্সিজেন শৈবাল উৎপন্ন করে।

৬। পরিবেশ দুষণ রোধ (Pollution control)ঃ শৈবাল অক্সিজেন উৎপন্ন করে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে। ফলে বায়ুমন্ডলের বিশুদ্ধতা রক্ষা পায়। নালা-নর্দমার আবর্জনা শোধনে শৈবাল ব্যবহার হয়। পানি শোধনে Nitzschia (ডায়াটম) শৈবাল ব্যবহার হয়। বায়ু শোধন এবং নর্দমার বর্জ্য অপসারণে Chlorella শৈবাল ব্যবহার হয়। ফলে পরিবেশ দুষণ রোধ হয়।

৭। সামুদ্রিক মাছের অবস্থান নির্ণয় (Marine fish position)ঃ সমুদ্রের যে অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে শৈবাল জন্মে সে অঞ্চলে প্রচুর মাছ থাকে। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মাছের অবস্থান নির্ণয় করা হয়। ফলে অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণ মাছ ধরা যায়।

৮। বায়োফুয়েল তৈরী (Biofuel production)ঃ শৈবাল থেকে Biofuel বাv Biodiesel  তৈরী করা হয়। তাই শৈবালকে Second generation biofuels নামে অভিহিত করা হয়।  Biofuel তৈরীতে Botryococcus braunii শৈবাল ব্যবহৃত হচ্ছে। ChlorellaScenedesmus শৈবাল হতে বায়োফুয়েল তৈরীর চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি গবেষকগণ মাইক্রোঅ্যালগাল বায়োম্যাস থেকে তৃতীয় প্রজন্মের জৈব জ¦ালানি (Third generation biofuels) উৎপাদনের চেষ্টা করছে। কিছু মাইক্রো-অ্যালগাল প্রজাতি Kirchneriella lunaris, Ankistrodesmus fusiformis, Ankistrodesmus falcatus, Chlamydocapsa bacillus, Chlorella, Scenedesmus প্রভৃতি থেকে বায়োডিজেল উৎপাদনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

৯। জৈব সার হিসেবে (Bio-fertilizer)ঃ সামুদ্রিক শৈবাল পটাশ সারের উৎস হিসেবে ব্যবহার হয়। যেমন- Spirulina, Scytonema, Oscillatoria, Anabaena, Nostoc প্রভৃতি।

১০। গোয়েন্দা সাবমেরিনের অবস্থান নির্ণয় (Submarine position)ঃ নীলাভ সবুজ শৈবালে phycobilin protein নামক রঞ্জক কণিকা থাকে। এই রঞ্জক কণিকা (C-phycoerythrin, C-phycocyanin) গোয়েন্দা সাবমেরিন থেকে বিকরিত রশ্মি শোষণ করে। শোষিত রশ্মির পরিমাণ হতে গোয়েন্দা সাবমেরিনের অবস্থান জানা যায়।

১১। ডায়াটমীয় মাটি (Diatomite)ঃ ডায়াটম জাতীয় (Navicula) শৈবালের মৃতদেহ জলাশয়ের তলদেশে জমা হয়ে ডায়াটমীয় মাটি বা ডায়াটোমাইট গঠন করে। মাটির স্তরে জমাকৃত ডায়াটম শৈবালের খোলস কার্বন ডেটিং করে মাটির বয়স নির্ণয় করা হয়। পানির ফিল্টার, বয়লার, বøাষ্ট চুল্লী, ধাতব পালিশ, দাঁতের মাজন প্রভৃতি তৈরীতে ডায়াটোমাইট ব্যবহার হয়। ডিনামাইট তৈরীতে ডায়াটমীয় মাটি ব্যবহার হতো।

১২। ওষুধ তৈরীতে (Madicine)ঃ Gelidium, Gracilaria, Pterocladia প্রভৃতি হতে অ্যাগার অ্যাগার, Sargassum Laminaria থেকে গলগন্ড রোগের ওষুধ এবং Chlorella থেকে Chloreline অ্যান্টিবায়োটিক তৈরী করা হয়। Callophyllis variegate Agardhiella tenera  নামক লাল শৈবাল থেকে গ্যালাক্টেন তৈরী করা হয়। গ্যালাক্টেন HIV প্রতিরোধে ব্যবহার হয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন বিটা ক্যারোটিনযুক্ত শৈবাল থেকে মুখের ক্যান্সারের ওষুধ তৈরী করা হয়।

১৩। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি (Diseases control)ঃ লোহিত শৈবাল শ্বেত রক্তকণিকা সৃষ্টি করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

১৪। মহাকাশ গবেষণায় (Aerospace research)ঃ মহাকাশ গবেষণায় নভোযানের দুষিত বাতাসকে বিশুদ্ধ করার জন্য Chlorella ব্যবহার হয়। Chlorella নভোযানে অক্সিজেনের চাহিদা পূরণ করে।

১৫। শিল্পক্ষেত্রে গুরুত্ব (Importance of Industry)

(i) সামুদ্রিক শৈবালের কেল্প হতে ফিটকিরি, কাঁচ, সোডা, পটাশ, অ্যালজিনিক এসিড ও সাবান তৈরী করা হয়।

(ii) বাদামী শৈবালের অলজিন এবং লোহিত শৈবালের জিলাটিন হতে আইসক্রিম, জেরি, রং, বার্নিস, শ্যাম্পু ও প্রসাধনী তৈরী করা হয়।

(iii) শৈবালের অ্যাগার-অ্যাগার থেকে সাবান, কাগজ, ফটোগ্রাফি, রেয়ন প্রভৃতি তৈরী করা হয়।

(iv) শৈবালে প্রাকৃতিক উপায়ে স্টার্চ ও পলিহাইড্রোক্সি-অ্যালকানোয়েটস জাতীয় পলিমার সৃষ্টি হয়। এ সব পলিমার থেকে বায়োপ্লাস্টিক তৈরী করা হয়।

(v) শৈবালের (ঈযড়হফৎঁং পৎরংঢ়ঁং) কারাজিন খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে, রেয়ন, ওষুধ শিল্পে, চামড়া শিল্পে, টুথপেস্ট ও রং তৈরীতে ব্যবহার হয়।

(vi) শৈবালের (ঋঁৎপবষষধৎরধ) ফুরসেলারান জ্যাম-জেলি তৈরী, মাছ-মাংস সংরক্ষণ এবং টুথপেস্ট ও ওষুধ শিল্পে ব্যবহার হয়।

(vii) শৈবালের (এষবড়ঢ়বষঃরং ভঁৎপধঃধ) ফিউনোরি কাগজ, বস্তু শিল্পে এবং আঠা তৈরীতে ব্যবহার হয়।

(viii) Laminaria শৈবাল থেকে আয়োডিন ও পটাশ উৎপন্ন করা হয়।

১৬। অ্যাগার-অ্যাগার (Agar agar)ঃ সামুদ্রিক লোহিত শৈবাল (Gelidium, Gracilaria, Gigartina) থেকে অ্যাগার-অ্যাগার তৈরী করা হয়। ইহা কয়েক প্রকার খাদ্য তৈরীতে ব্যবহার হয়।

১৭। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসঃ সামুদ্রিক শৈবাল থেকে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়।

১৮। মাছ চাষেঃ বিভিন্ন ধরনের শৈবাল মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। তাই মাছ চাষে পুকুর বা জলাশয়ে শৈবাল ব্যবহার হয়। তেলাপিয়া মাছ চাষে কয়েক প্রকার শৈবাল খাদ্যরুপে ব্যবহার হয়।

১৯। নাইট্রোজেন সংবন্ধনঃ Nostoc, Anabaena, Aulosira প্রভৃতি শৈবালে হেটারোসিস্ট থাকে। হেটারোসিস্ট নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে। এসব শৈবাল নাইট্রোজেনকে গ্রহণ যোগ্য অ্যামোনিয়াতে রুপান্তরিত করে।

২০। ন্যানো ফিল্টার তৈরীঃ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় এবং সুইডেনের উপশালা বিশ^বিদ্যালয়ের একদল গবেষক  Pithophora শৈবাল থেকে ন্যানো ফিল্টার তৈরী করেছেন। ন্যানো ফিল্টার হলো সেলুলোজ ফিল্টার। ইহা সাদা কাগজের মতো এবং ছাঁকনিগুলোর ছিদ্র ১৭ ন্যানোমিটার। পানিবাহিত জীবাণু ৩০-১০০ ন্যানোমিটার হয়। তাই সকল ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া ছাঁকনিতে আটকা পড়ে। পানি থেকে বিষাক্ত আর্সেনিক, আয়ন, লবণ প্রভৃতি পৃথক করা সম্ভব।

২১। আবাদ মাধ্যম তৈরী (ঈঁষঃঁৎব সবফরঁস) ঃ গবেষণাগারে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের আবাদ মাধ্যম তৈরীতে শৈবাল ব্যাপক ভাবে ব্যবহার হচ্ছে।

২২। মশা নিয়ন্ত্রণ (Mosquito control)ঃ জলাশয়ে Chara, Nitella প্রভৃতি শৈবালের উপস্থিতিতে মশার লার্ভা মারা যায়। জলাশয়ে এ সব শৈবাল চাষ করে মশা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

মশা নিয়ন্ত্রণে শৈবাল । Mosquito control

জলাশয়ে Chara, Nitella প্রভৃতি শৈবালের উপস্থিতিতে মশার লার্ভা মারা যায়। জলাশয়ে এ সব শৈবাল চাষ করে মশা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

নাইট্রোজেন সংবন্ধনে শৈবাল

Nostoc, Anabaena, Aulosira প্রভৃতি শৈবালে হেটারোসিস্ট থাকে। হেটারোসিস্ট নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে। এসব শৈবাল নাইট্রোজেনকে গ্রহণ যোগ্য অ্যামোনিয়াতে রুপান্তরিত করে।