ABO ব্লাড গ্রুপের বৈশিষ্ট্য । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১৯০১ সালে জীববিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার রক্ত কণিকায় অ্যান্টিজেনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির উপর ভিত্তি করে মানুষের রক্তের যে শ্রেণীবিভাগ করেন তাকে ABO ব্লাড গ্রুপ বলে। ABO ব্লাড গ্রুপকে চারটি গ্রুপে বিভক্ত করা হয়েছে।
১। A গ্রুপঃ রক্তের ২৩% হলো A গ্রুপ।
২। B গ্রুপঃ রক্তের ৩৫% হলো B গ্রুপ ।
৩। AB গ্রুপঃ রক্তের ৮% হলো AB গ্রুপ ।
৪। O গ্রুপঃ রক্তের ৩৪% হলো O গ্রুপ ।

ABO গ্রুপের বৈশিষ্ট্য
১। ABO গ্রুপ চারটি গ্রুপে বিভক্ত
২। A গ্রুপে অ্যান্টিজেন A ও অ্যান্টিবডি b থাকে
৩। B গ্রুপে অ্যান্টিজেন B ও অ্যান্টিবডি a থাকে
৪। AB গ্রুপে অ্যান্টিজেন A ও B থাকে, কিন্তু কোন অ্যান্টিবডি থাকে না
৫। O গ্রুপে কোন অ্যান্টিজেন থাকে না, তবে অ্যান্টিবডি A ও B থাকে
৬। AB গ্রুপে সকল গ্রুপের কাছ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে বলে একে সার্বজনীন গ্রহীতা বলা হয়
৭। O গ্রুপ সকল গ্রুপকে রক্ত দিতে পারে বলে একে সার্বজনীন দাতা বলা হয়

হিমোগ্লোবিন আলোচনা । Heamoglobin । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

Heme অর্থ লৌহ এবং globin অর্থ প্রোটিন নিয়ে heamoglobin শব্দটি গঠিত। লোহিত রক্ত কণিকার সাইটোপ্লাজমে যে লৌহঘটিত শ্বাসরঞ্জক পদার্থ থাকে তাকে হিমোগ্লোবিন বলে। এর কারণে রক্ত লাল বর্ণের হয়। একটি লোহিত রক্তকণিকার ওজনের ৩৩% হিমোগ্লোবিন। মানুষের প্রতিটি লোহিত রক্তকণিকায় প্রায় ২৭০ মিলিয়ন হিমোগ্লোবিন অণু আছে।  ১০০ মিলিলিটার রক্তে ১৫/১৬ গ্রাম হিমোগ্লোবিন থাকে। প্রতি গ্রাম হিমোগ্লোবিন ১.৩৬-১.৪০ মিলি অক্সিজেন যুক্ত করতে পারে। শরীরে হিমোগ্লোবিন কম থাকলে তাকে অলিগোসাইথেমিয়া বলে। আবার, হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে তাকে পলিসাইথেমিয়া বলে।

ইরাথ্রোপয়সিস কাকে বল । Erythropoiesis । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

গ্রীক Erythro শব্দ অর্থ লাল এবং poiesis অর্থ উৎপন্ন নিয়ে erythropoiesis শব্দটি গঠিত। যে প্রক্রিয়ায় লোহিত রক্ত কণিকা উৎপন্ন হয় তাকে ইরাথ্রোপয়সিস বলে। লোহিত রক্ত কণিকা অস্থিমজ্জা, যকৃত, প্লীহা থাইমাস হতে উৎপন্ন হয়। আবার, উহা যকৃত প্লীহার মধ্যে ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। সেখানে লোহিত রক্তকণিকা পরিবর্তিত হয়ে বিলিরুবিন বিলিভার্ডিন নামক পিত্তরঞ্জক তৈরী করে। প্রতি সেকেন্ডে ১০ মিলিয়ন লোহিত রক্তকণিকা উৎপন্ন হয়, অপরদিকে প্রতি সেকেন্ডে ১০ মিলিয়ন লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়।  

লসিকার কাজ আলোচনা । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। খাদ্যসার পরিবহনঃ  লসিকা অ্যামাইনো এসিড, গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, ফ্যাটি এসিড, গিøসারল প্রভৃতি কোষে পরিবহন করে।

২। অক্সিজেন পরিবহনঃ  লসিকা অক্সিজেনকে দেহের বিভিন্ন অংশে পৌছে দেয়।

৩। কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবহনঃ ইহা কার্বন ডাই অক্সাইডকে দেহের বিভিন্ন অংশ হতে হৃৎপিন্ডে নিয়ে আসে।

৪। খাদ্য শোষণঃ  ইহা চর্বি জাতীয় খাবার শোষণ করে।

৫। ভিটামিন পরিবহনঃ  লসিকার মাধ্যমে ভিটামিন পরিবাহিত হয়।

৬। রোগ প্রতিরোধঃ ইহা অ্যান্টিবডি তৈরীর মাধ্যমে দেহকে রোগ প্রতিরোধী করে।

৭। জীবাণু ধ্বংসঃ  দেহে কোন জীবাণু প্রবেশ করলে লসিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ভক্ষণ করে দেহকে রক্ষা করে।

৮। তাপমাত্রা সমতাঃ  রক্তের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র তাপের সমতা নিয়ন্ত্রিত হয়।

৯। লিপিড পরিবহনঃ  লসিকার মাধ্যমে লিপিড পরিবাহিত হয়।

১০। প্রতিরক্ষাঃ  লসিকায় লিম্ফোসাইট মনোসাইট থাকে। লিম্ফোসাইট মনোসাইট প্রতিরক্ষা অবদান রাখে।

১১। লিপিড পরিবহনঃ  লসিকার মাধ্যমে লিপিড পরিবাহিত হয়।

১২। দেহরসের পুনর্বন্টনঃ  লসিকা দেহের এক অংশ থেকে তরল পদার্থ অন্য অংশে পরিবহন করে। ফলে দেহ রসের পুনর্বন্টন ঘটে।

দ্বিতীয় সংবহনতন্ত্র কাকে বলে । লসিকাতন্ত্র কী । Lymphatic System । ড. সিদ্দিকপাবলিকেশন্স

লসিকা, লসিকা নালি এবং লসিকা গ্রন্থিকে একত্রে লসিকাতন্ত্র বলে। লসিকাতন্ত্র সমগ্র দেহে ফ্লুয়িড সংবহন করে বলে একে কখনো দ্বিতীয় সংবহনতন্ত্র বলা হয়। ডঁপযবৎবৎরধ নধহপৎড়ভঃর কৃমির আক্রমণে লসিকা নালি এবং লসিকা গ্রন্থি অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়। একে গোদ রোগ বা ফাইলেরিয়া বা এলিফ্যানথিয়াসিস বলে।

লসিকা পর্ব/গ্রন্থিগুলো আলোচনা । Lymphatic gland । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

লসিকা নালিতে যে ডিম্বাকার স্ফীত অংশ থাকে তাকে লসিকা পর্ব বা লসিকা গ্রন্থি বলে। লসিকা গ্রন্থির সংখ্যা ৪০০৭০০।  গ্রন্থিগুলো গ্রীবা, বগল কুঁচকিতে সবচেয়ে বেশি থাকে। লসিকা গ্রন্থিগুলো আলোচনা করা হলো।

১। প্লীহা বা ব্লাড ব্যাংক (Spleen) প্লীহা হলো মানবদেহের সবচেয়ে বড় লসিকা গ্রন্থি। ইহা পাঁজরের নিচে এবং পাকস্থলীর উপরে অবস্থান করে। ইহা নরম এবং কালচে বর্ণের। একে রক্তে রিজার্ভার বা ব্লাড ব্যাংক বলা হয়। ইহা দুই ধরনের প্লীহা মজ্জা নিয়ে গঠিত। লাল মজ্জা সাদা মজ্জা।  ইহা ৩০০ মিলি রক্ত জমা রাখতে পারে। প্লীহার আয়তন ১৩×× ঘন সেমি এবং ওজন ১৫০ গ্রাম। প্লীহা রক্তের প্রধান ছাঁকুনী হিসেবে কাজ করে। অধিকাংশ লোহিত রক্তকণিকা প্লীহায় ধ্বংস প্রাপ্ত হয় বলে একে লোহিত রক্তকণিকার কবরস্থান বলা হয়। ইহা জীবাণু ধ্বংস করে রোগ প্রতিরোধ করে।

২। টনসিল (Tonsil) মুখ গলবিলের ভিতরে ডান বাম দিকে ছোট বলের মতো যে গঠন দেখা যায় তাকে টনসিল বলে। মানবদেহে তিন ধরনের টনসিল থাকে। প্যালেটাইন, অ্যাডেনয়েড (ফ্যারিঞ্জিয়াল) লিঙ্গুয়াল। ইহা অ্যান্টিবডি লিম্ফোসাইট উৎপন্ন করে ব্যাকটেরিয়া ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। অনেক সময় টনসিল ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়। একে টনসিলাইটিস (tonsillitis) বা টনসিলের প্রদাহ বলে। অপারেশন করে টনসিল অপসারণকে টনসিলেকটমি (tonsillectomy) বলে।

৩। লিম্ফনোড (Lymph node) লিম্ফনোড হলো লসিকা বাহিকায় অবস্থিত ক্যাপসুলোর মতো একটি অংশ। মানবদেহে লিম্ফনোডের সংখ্যা ৪০০৭০০। ইহা ম্যাক্রোফেজ লিম্ফোসাইট দ্বারা পূর্ণ থাকে। ইহা অণুজীব বহিরাগত পদার্থকে অপসারণ করে। নোডগুলো লসিকা পরিষ্কার করে।

৪। থাইমাস (Thymus) শ্বাসনালি স্টার্ণামের মাঝে হৃৎপিন্ডের উপরে অবস্থিত পিরামিড আকৃতির অঙ্গকে থাইমাস বলে। ইহা নরম দ্বিখন্ডিত। শিশুদের থাইমাস বড় সক্রিয় থাকে। থাইমাস থেকে থাইমোসিন থাইমোপোয়েটিন হরমোন নিঃসৃত হয়। হরমোনগুলো লিম্ফোসাইটের পরিপক্কতা নিয়ন্ত্রণ করে। থাইমাস বয়ঃসন্ধিকালে ক্রমশ ফ্যাট টিস্যুতে পরিনত হয়। তবে প্রাপ্ত বয়সে অদৃশ্য হয়ে যায়। লাল অস্থিমজ্জায় উৎপন্ন শে^ রক্তকণিকা থাইমাসে পৌছে Tলিম্ফোসাইটে পরিনত হয়। এরা যে কোন প্রতিরোধী কোষ Tইফেক্টার, Tকিলার Tহেলপার পরিনত হয় এবং ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে শনাক্ত করে।

৫। লাল অস্থিমজ্জা (Reb Bone marrow) লাল অস্থি মজ্জা হলো স্পঞ্জের মতো, অর্ধকঠিন লাল বর্ণের টিস্যু। লাল অস্থিমজ্জা থেকে লোহিত রক্তকণিকা, শে^ রক্তকণিকা প্লেটলেট উৎপন্ন হয়। শিশুদের অধিকাংশ হাড়ে লাল অস্থিমজ্জা থাকে। বয়স্কদের পেলভিস, কশেরুকা, স্টার্ণাম, করোটি, ক্ল্যাভিকল, কন্ঠাস্থি, পর্শুকা, হিউমেরাস, ফিমার প্রভৃতিতে লাল অস্থিমজ্জা থাকে।

লাল অস্থিমজ্জা কী । Reb Bone marrow । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

লাল অস্থি মজ্জা হলো স্পঞ্জের মতো, অর্ধকঠিন ও লাল বর্ণের টিস্যু। লাল অস্থিমজ্জা থেকে লোহিত রক্তকণিকা, শে^ত রক্তকণিকা ও প্লেটলেট উৎপন্ন হয়। শিশুদের অধিকাংশ হাড়ে লাল অস্থিমজ্জা থাকে। বয়স্কদের পেলভিস, কশেরুকা, স্টার্ণাম, করোটি, ক্ল্যাভিকল, কন্ঠাস্থি, পর্শুকা, হিউমেরাস, ফিমার প্রভৃতিতে লাল অস্থিমজ্জা থাকে।

থাইমাস কী । Thymus । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

শ্বাসনালি ও স্টার্ণামের মাঝে হৃৎপিন্ডের উপরে অবস্থিত পিরামিড আকৃতির অঙ্গকে থাইমাস বলে। ইহা নরম ও দ্বিখন্ডিত। শিশুদের থাইমাস বড় ও সক্রিয় থাকে। থাইমাস থেকে থাইমোসিন ও থাইমোপোয়েটিন হরমোন নিঃসৃত হয়। হরমোনগুলো লিম্ফোসাইটের পরিপক্কতা নিয়ন্ত্রণ করে। থাইমাস বয়ঃসন্ধিকালে ক্রমশ ফ্যাট টিস্যুতে পরিনত হয়। তবে প্রাপ্ত বয়সে অদৃশ্য হয়ে যায়। লাল অস্থিমজ্জায় উৎপন্ন শে^ত রক্তকণিকা থাইমাসে পৌছে T-লিম্ফোসাইটে পরিনত হয়। এরা যে কোন প্রতিরোধী কোষ T-ইফেক্টার, T-কিলার ও T-হেলপার-এ পরিনত হয় এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াকে শনাক্ত করে।

লিম্ফনোড কী । Lymph node । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

লিম্ফনোড হলো লসিকা বাহিকায় অবস্থিত ক্যাপসুলোর মতো একটি অংশ। মানবদেহে লিম্ফনোডের সংখ্যা ৪০০-৭০০। ইহা ম্যাক্রোফেজ ও লিম্ফোসাইট দ্বারা পূর্ণ থাকে। ইহা অণুজীব ও বহিরাগত পদার্থকে অপসারণ করে। নোডগুলো লসিকা পরিষ্কার করে।

টনসিল কী । Tonsil । টনসিলাইটিস । Tonsillitis । টনসিলেকটমি । Tonsillectomy । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

মুখ গলবিলের ভিতরে ডান ও বাম দিকে ছোট বলের মতো যে গঠন দেখা যায় তাকে টনসিল বলে। মানবদেহে তিন ধরনের টনসিল থাকে। প্যালেটাইন, অ্যাডেনয়েড (ফ্যারিঞ্জিয়াল) ও লিঙ্গুয়াল। ইহা অ্যান্টিবডি ও লিম্ফোসাইট উৎপন্ন করে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। অনেক সময় টনসিল ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়। একে টনসিলাইটিস (tonsillitis) বা টনসিলের প্রদাহ বলে। অপারেশন করে টনসিল অপসারণকে টনসিলেকটমি (tonsillectomy) বলে।