রক্ত হলো এক প্রকার তরল যোজক কলা। রক্তনালিকার ভিতর দিয়ে প্রবাহমান লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, ক্ষারীয়, চটচটে ও লবণাক্ত তরল যোজক কলাকে রক্ত বলে। দেহে রক্তের পরিমাণ ৫-৬ লিটার। টেস্টটিউবে রক্ত নিয়ে সেন্ট্রিফিউগাল যন্ত্রে মিনিটে ৩০০০ বার করে ৩০ বার ঘুরালে রক্ত দুইটি স্তরে বিভক্ত হয়। রক্তরস ও রক্তকণিকা।
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম । Polycystics Ovary Syndrome- POS। ড.সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
রোগের কারণঃ পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম হলো তরুণীদের অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণজনিত জটিল রোগ। হরমোনাল ভারসাম্যহীনতা, কায়িক পরিশ্রমহীনতা, ভেজালযুক্ত খাবার গ্রহণ, পরিবেশগত, বংশগত প্রভৃতি কারণে POS রোগটি হয়।
রোগের লক্ষণঃ ১২-২৫ বছর বয়সের ২-২৫% মেয়ে এই রোগে ভুগে। এই রোগের লক্ষণ হলো- ডিম্বাশয়ের আকার বৃদ্ধি, ডিম্বাশয়ে বহু সিস্ট তৈরী, ওভিউলেশন বা ডিম্বপাত না ঘটা, অনিয়মিত রজঃচক্র, অতিরিক্ত রজঃস্রাব, গর্ভধারণে অসুবিধা, শ্রোণীচক্রে ব্যথা, মুখমন্ডলে প্রচুর ব্রণ ও আঁচিল উঠা, দেহের নানা স্থানে অস্বাভাবিক লোম গজানো, স্থুলতা, ডায়াবেটিস, হৃৎরোগ, জরায়ুর ক্যান্সার, বন্ধ্যাত্ব, গর্ভপাত, অকাল প্রসব, ত্বকে গাঢ় কালো দাগ প্রভৃতি।
রোগ নিরাময়ঃ রোগটি নিরাময়যোগ্য নয়। তবে শরীরের ওজন কমানো, সচল জীবন যাপন, নিয়মিত ব্যায়াম, হাঁটা-চলা প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। ডাক্তারের পরামর্শে অ্যান্টি-অ্যান্ড্রোজেন ওষুধ (লেট্রোজোল, ক্লোমিফোন) এবং অ্যান্টি-ডায়াবেটিস ওষুধ (মেটমরফিন, লিনাগিøপটিন) ব্যবহার করলে কিছুটা কমানো যায়।
স্থাস্থ্যের উপর স্থুলতার প্রভাব । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১। যারা অধুমপায়ী এবং বডি মাস ইনডেক্স 22.5-25.0 kg/m2 তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই কম। যারা ধুমপায়ী এবং বডি মাস ইনডেক্স 24.0-27.0 kg/m2 তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি।
২। স্থুলতার কারণে মানুষের গড় আয়ুকাল ৬-৭ বছর কমে আসে। যাদের BMI ৩০-৩৫ এর মধ্যে তাদের আয়ুকাল ২-৪ বছর এবং যাদের BMI > ৪০ তাদের আয়ুকাল ১০ বছর কমতে পারে।
৩। স্থুলতার কারণে করোনারী হার্ট ডিজিজ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগিøসারাইড বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৪। স্থুলতার কারণে সুষম পুষ্টির অভাব এবং জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
৫। স্থুলতার কারণে অস্টিওআর্থ্রাইটিস, বন্ধাত্ব, নিদ্রাহীনতা, ক্যান্সার প্রভৃতি হতে পারে ।
৬। শরীরে চর্বির মাত্রা বৃদ্ধি পেলে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। এতে রক্ত জমাট বাঁধার সম্ভাবনা থাকে।
৭। দেহে চর্বির পরিমাণ বেড়ে গেলে ইনসুলিন সঠিক ভাবে সাড়া দেয় না। ফলে ইনসুলিন শর্করা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
স্থুলতা প্রতিরোধের উপায়। স্থুলতা নিয়ন্ত্রণের উপায় । Obesity । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১। সুষম খাদ্য গ্রহণঃ পরিমিত পরিমাণ সুষম খাদ্য খেতে হবে। সুষম খাদ্যে ছয়টি উপাদান থাকে। প্রতিদিন ৫–৬ ধরনের শাক–সবজি, ফলমুল, বাদাম ও ডাল খেতে হবে।
২। চর্বিযুক্ত খাদ্য পরিহারঃ উচ্চ চর্বিযুক্ত খাদ্য, তেল, চিজ, বাটার, ফাস্টফুড ও কোল্ড ড্রিংক পরিহার করতে হবে।
৩। চিনিযুক্ত খাবার পরিহারঃ মিষ্টি, চিনি, চা, কফি, চকলেট, পুডিং, কেক প্রভৃতি পরিহার করতে হবে। চিনিযুক্ত পানীয় ও ফলের রসের পরিবর্তে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।
৪। খাদ্য নিয়ন্ত্রণঃ অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ পরিহার করতে হবে। আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। বাদামী চাল ও গমের রুটি খেতে হবে। সাদা চিনি ও ময়দা বর্জন করতে হবে।
৫। নিয়মিত ব্যায়াম করাঃ নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম ও কায়িক পরিশ্রম করতে হবে। নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো ও সাঁতার কাটতে হবে। নিয়মিত খেলা–ধুলা করতে হবে
৬। ওষুধ সেবনঃ ক্ষুধা কমানো অথবা চর্বি শোষণরোধকারী ওষুধ সেবন করে স্থুলতা রোধ করা যায়। Lorcaserine (Belviq), Orlistat (Xenical), Phentermine (Suprenza) প্রভৃতি ওষুধ স্থুলতা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার হচ্ছে।
৭। গ্যাস্ট্রিক বেলুন ব্যবহারঃ খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, ব্যায়াম ও ওষুধ সেবনে স্থুলতা নিরাময় না হলে গ্যাস্ট্রিক বেলুন ব্যবহার করা হয়। এই বেলুন ব্যবহার করলে শরীরের ওজন কমে যায়।
৮। গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল হরমোনঃ গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল হরমোন ব্যবহার করে স্থুলতাকে দ্রুত হ্রাস করা যায়। স্থুলতা দূরীকরণে এই হরমোন ম্যাজিক বুলেট হিসেবে কাজ করছে।
৯। সঠিক বিনোদনঃ বাচ্চাদের মাঠে খেলাধুলা, পার্কে ঘুরাফেরা, রাস্তায় হাটা, সুরক্ষিত ছাদে বেড়ানো প্রভৃতি কাজে উৎসাহিত করতে হবে।
১০। সরল জীবন যাপনঃ স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশে সুখী জীবন যাপন, উচ্চ মনোবল, সৃজনশীল চিন্তা ভাবনা করা।
১১। কিটোজেনিক ডায়েটঃ নিম্ন শর্করা এবং উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবারকে কিটোজেনিক ডায়েট বলে। স্থুলতা কমাতে চিকিৎসকগণ কিটোজেনিক ডায়েট গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
১২। চিকিৎসাঃ স্থুলতা কমানোর জন্য গ্যাস্ট্রিক বাইপাস সার্জারি, গ্যাস্ট্রিক স্কার্ভি, ল্যাপাপেস্কোপিক অ্যাডজস্টেবল গ্যাস্ট্রিক ব্যান্ডিজ প্রভৃতি চিকিৎসা করা যেতে পারে।
১৩। ব্যারিয়াট্রিক সার্জারিঃ ব্যারিয়াট্রিক সার্জারির মাধ্যমে দেহ থেকে সঞ্চিত চর্বি অপসারণ করা হয়। 40 kg/m2 বা BMI এর বেশি সম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যারিয়াট্রিক সার্জারি করা হয়।
স্থুলতার স্বাস্থ্যগত সমস্যা কী কী । Problem of Obesity । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১। স্থুলতার কারণে মানুষের গড় আয়ু ৭–৮ বছরকমে যায়। অতিমাত্রায় স্থুলতার কারণে মানুষের গড় আয়ু ১০বছর কমে যায়।
২। একবিংশ শতাব্দীতে আধুনিক বিশে^র ধনী দেশগুলোতে শিশুও বয়স্ক লোকের সংখ্যা আশঙ্কাজনক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমেরিকায় ২–১৯ বছর বয়সের ১৭% এবং ৪০–৫৯ বছর বয়সের ৩৬.৫% মানুষের মধ্যে স্থুল দেখা যায়।
৩। স্থুলতার কারণে মানুষের ৬০টির বেশি ক্রনিক রোগ হয়। হৃৎরোগ, ডায়াবেটিস টাইপ–২, ক্যান্সার, গিট বাত, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, নিদ্রাহীনতা, যকৃত, কার্ডিওভাস্কুলার, পিত্তথলির সমস্যা প্রভৃতি রোগ স্থুলতার কারণে হয়।
৪। ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে ৬৪% পুরুষ এবং ৭৭% মহিলা স্থুল।
৫। স্থুল মানুষ কম কর্মদিবস কাজ করে। তাদের কাজের গতি মন্থর।
৬। অসুস্থতা, অক্ষমতা এবং কম বয়সে মৃত্যুর জন্য স্থুলতা দায়ি।
৭। বিশ^ব্যাপী স্থুলতা মৃত্যুর একটি অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে ১.৫–৩.৬ লক্ষ এবং ইউরোপে ১০ লক্ষ লোক স্থুলতার কারণে মারা যায়।
স্থুলতার কারণ কী কী । Causes of obesity । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস
(i) অতিরিক্ত চর্বি ও ক্যালরীযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে মানুষ স্থুল হয়।
(ii) স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে খাবার গ্রহণ করলে স্থুল হয়।
(iii) অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড খাওয়া স্থুলতার জন্য দায়ি।
(iv) অতিমাত্রয় তরল পানীয় পান করলে স্থুলতা বাড়ে।
(v) মিষ্টি জাতীয় খাবার (কার্বোহাইড্রেট), চিনিযুক্ত ডেসার্ট, মদ্যপান, দ্রæত খাবার খাওয়া প্রভৃতি কারণে স্থুলতা হয়।
২। জীবন যাত্রা রীতি
(i) আয়েসী জীবন যাপন এবং অলস সময় কাটানো।
(ii) অতিরিক্ত বাইরের খাবার গ্রহণ।
(iii) শারীরিক পরিশ্রম কম করা। নিয়মিত ব্যায়াম না করা।
(iv) দীর্ঘ সময় ধরে টিভি দেখা, কম্পিউটারে কাজ করা এবং ইন্টারনেট ব্রাউজ করা।
(v) কায়িক পরিশ্রম নেই এমন চাকুরী করা। হেঁটে না গিয়ে গাড়িতে যাওয়া।
৩। জিনগত কারণঃ একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বংশ পরস্পরায় স্থুলতা দেখা যায়। যমজ ভাইবোনদের ক্ষেত্রেও ইহা লক্ষ্য করা যায়। বংর শগত কারণে দেহে ফ্যাট কোষের সংখ্যা বেশি থাকে। কারণ এদের মধ্যে সাদৃশ্যতা নিয়ন্ত্রণ করে জিন। জিনের বহুপ্রস্থতা বা জিন গুচ্ছ (Polymorphism) মানুষের ক্ষুধা ও বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে স্থুলতা বাড়িয়ে দেয়। যে সব লোকের FMO (Fat Mass and Obesity Associated) জিন থাকে তাদের ওজন বেশি হয়। আবার, জিনগত ত্রæটির কারণেও স্থুলতা হয়। মেলানোকটিন ও লেপ্টিন জিনের মিউটেশন ঘটলে স্থুলতা হয়।
৪। সামাজিক অভিরুচিঃ পৃথিবীর অনেক সমাজে মোটা বা স্থুলতাকে আভিজাত্য ও গর্বের বিষয় মনে করে। শারীরিক স্থুলতাকে তারা সুস্বাস্থ্য ও সুখের প্রতীক মনে করে। তাই তারা অধিক খাদ্য গ্রহণ করে মোটা হতে চায়। তবে আধুনিক সমাজ এ ভূল ধারণা পোষন করে না।
৫। ধুমপানের প্রভাবঃ অতি স্থুলতায় ধুমপানের প্রভাব খুবই নগন্য। তবে যারা ধুমপান ছেড়ে দেয় ১০ বছর সময়ের ব্যবধানে পরুষদের গড়ে ৪.৪০ কেজি (৯.৭ পাউন্ড) এবং মেয়েদের ৫ কেজি (১১ পাউন্ড) ওজন বাড়ে।
৬। গর্ভাবস্থাঃ প্রতিবার গর্ভধারণের সময় অধিকাংশ মহিলার ওজন ৫-৬ পাউন্ড বেড়ে যায়। বেশি বয়সে গর্ভ ধারণ করলে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। সন্তান প্রসাবের পর অনেক মহিলার সেই ওজন কমে না। ফলে স্থুলতা বাড়ে।
৭। আবেগঃ বিষন্নতা, আশাহীনতা, ক্রোধ, একঘেঁয়েমি, বিরক্তি, নিজেকে ছোট ভাবা প্রভৃতি কারণে স্থুলতা বাড়ে।
৮। তাপমাত্রাঃ পরিবেশের তাপমাত্রার তারতম্য কমে গেলে মানুষ মোটা হতে পারে।
৯। লিঙ্গভেদঃ নারীর চেয়ে পুরুষের দেহে বেশি পেশি থাকে। পেশির টিস্যু বেশি ক্যালরী ব্যবহার করে। একারণে সমপরিমাণ আহার করলেও পুরুষের চেয়ে নারীদের বেশি মেদ জমে ও ওজন বাড়ে। মেদের কারণে ৬৪% পুরুষ এবং ৭৭% মহিলা ডায়াবেটিস রোগে ভোগে।
১০। অসুখঃ পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম, কুসিং সিনড্রোম, হাইপোথাইরয়েডিজম, প্রাডার উইলি সিনড্রোম প্রভৃতি রোগের কারণে হয়।
১১। নিদ্রাহীনতাঃ রাতে সাত ঘন্টার কম ঘুমালে হরমোনজনিত পরিবর্তন ঘটে। ক্ষুধা বেড়ে যায়। অধিক পরিমাণে আহার গ্রহণের কারণে দেহের ওজন বেড়ে যায়।
১২। ওষুধ সেবনঃ নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের কারণে দেহের ওজন বাড়তে পারে অথবা শারীরিক গঠনে পরিবর্তন ঘটতে পারে। এর মধ্যে ইনসুলিন, স্টেরয়েড, সালফোনাইল্যুরিয়াস, থিয়াজোলিডাইনেডিয়োনেস, জন্মনিরোধ বড়ি অন্যতম।
১৩। শিক্ষার অভাবঃ স্থুলতার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অনেকের অজানা রয়েছে। সুষম খাদ্য ও সুস্বাস্থ্য সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা, স্থুলতার কারণ ও সমস্যা সম্পর্কে ধারণা না থাকা, বাচ্চাদের অতিরিক্ত খাওয়ানো প্রভৃতির কারণে ইহা ঘটছে।
স্থুলতা কত প্রকার ও কীকী । obesity। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
মানুষের স্থুলতা মাপার সূত্র হলো Body Mass Index-BMI। মানুষের BMI- এর মান ৩০ কেজি/মি২ হলে তাকে স্থুল বা মোটা ধরা হয়। স্থুলতা তিন ধরনের।
১। প্রবল স্থুলতাঃ BMI ≥ ৩৫ অথবা ৪০ হলে তাকে সিভিয়ার বা প্রবল স্থুলতা বলে।
২। ব্যাধিগ্রস্থ স্থুলতাঃ BMI ≥ ৪০ অথবা ৪৪.৯ হলে তাকে মরবিড বা ব্যাধিগ্রস্থ স্থুলতা বলে।
৩। অতিরিক্ত স্থুলতাঃ BMI ≥ ৪৫ অথবা ৫০ হলে তাকে সুপার বা অতিরিক্ত স্থুলতা বলে।
স্থুলতা কী । বেরিয়াট্রিক্স কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
দেহে মাত্রা অতিরিক্ত চর্বি জমা হয়ে অস্বাভাবিক ভাবে মুটিয়ে যাওয়াকে স্থুলতা বা মোটা বলে। কোন ব্যক্তির দেহে ২০% বা তার বেশি পরিমাণ মেদ জমা হলে তাকে স্থুলতা বলে বিবেচনা করা হয়। দেহে যে পরিমাণ শক্তি প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি পরিমাণে খাদ্য শক্তি গ্রহণ করলে স্থুলতা দেখা যায়। প্রতি ৯.৩০ ক্যালরী খাদ্য গ্রহণ করলে ১.০ গ্রাম করে চর্বি জমা হয়। চিকিৎসবিজ্ঞানের যে শাখায় স্থুলতার কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে বেরিয়াট্রিক্স বলে।
BMI । বিএম আই । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
Body Mass Index – কে সংক্ষেপে BMI বলে। কোন ব্যক্তির ওজনকে (কেজি) তার উচ্চতার (মিটার) বর্গ দিয়ে ভাগ করলে যে মান পাওয়া যায় তাকে BMI বলা হয়। BMI পরিমাপের সূত্রটি হলো
শোষিত খাদ্যের পরিনতি । আত্তীকরণ । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
যে প্রক্রিয়ায় শোষিত সরল খাদ্য জীবে দেহ বা প্রোটোপ্লাজম গঠনে অংশগ্রহণ করে তাকে আত্তীকরণ বলে।
১। কার্বোহাইড্রেট আত্তীকরণঃ কার্বোহাইড্রেট পরিপাক হয়ে গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও গ্যালাক্টোজে পরিনত হয়। গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও গ্যালাক্টোজ দেহ কোষ দ্বারা শোষিত হয়। শোষিত গ্লুকোজ দেহকোষে দহন ক্রিয়ায় শক্তি উৎপন্ন করে। অতিরিক্ত গ্লুকোজ গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত থাকে। অল্প পরিমাণ মনোস্যাকারাইড প্রোটিন ও স্নেহপদার্থে রুপান্তরিত হয়।
২। প্রোটিন আত্তীকরণঃ প্রোটিন পরিপাক হয়ে অ্যামাইনো এসিডে পরিনত হয়। অ্যামাইনো এসিড দেহ কোষ দ্বারা শোষিত হয়। শোষিত অ্যামাইনো এসিড প্রোটোপ্লাজম, সাইটোপ্লাজম, এনজাইম, হরমোন প্রভৃতি গঠন করে। কিছু অ্যামাইনো এসিড জারিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন করে। অল্প পরিমাণ অ্যামাইনো এসিড শর্করায় রুপান্তরিত হয়।
৩। লিপিড আত্তীকরণঃ লিপিড পরিপাক হয়ে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিনত হয়। ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল দেহ কোষ দ্বারা শোষিত হয়। শোষিত ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল দেহকোষে ফসফোলিপিড, লিপোপ্রোটিন, কোলেস্টেরল প্রভৃতি গঠন করে। কিছু অংশ চর্বি হিসেবে ত্বকের নিচে খাদ্য হিসেবে সঞ্চিত থাকে। অল্প পরিমাণ শর্করা ও প্রোটিন হিসেবে সংশ্লেষিত হয়।