গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থির নাম ও কাজ । পাকস্থলীর গ্রন্থির নাম । Gastric gland । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

পাকস্থলীর মিউকোসা স্তরের যেসব কোষ থেকে পরিপাককারী রস নিঃসৃত হয় তাকে গ্যস্ট্রিক গ্রন্থি বলে। গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি তিন প্রকার। ফান্ডিক গ্রন্থি, কার্ডিয়াক গ্রন্থি এবং পাইলোরিক গ্রন্থি। প্রতিবার খাদ্য গ্রহণের সময় পাকস্থলী হতে ৫০০-১০০০ মিলি গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসৃত হয়। গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিগুলো হলো-

(i) পেপটিক বা চীফ কোষঃ পেপটিক বা চীফ কোষ হতে পেপসিনোজেন, রেনিন, জিলেটিনেজ, লাইপেজ প্রভৃতি নিঃসৃত হয়।

(ii) প্যারাইটাল বা অক্সিনটিক কোষঃ  প্যারাইটাল বা অক্সিনটিক কোষ ইনট্রিনসিক ফ্যাক্টর ও HCl নিঃসৃত করে।

(iii) মিউকাস গ্রন্থিঃ মিউকাস গ্রন্থি হতে মিউসিন নিঃসৃত হয়।

(iv) জি-কোষ বা গ্যাস্ট্রিন কোষঃ জি-কোষ গ্যাস্ট্রিন রস নিঃসরণ করে।

(v) গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিঃ গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি হতে গ্যাস্ট্রিন রস নিঃসৃত হয়।

(vi) আরজেন্টাফিন কোষঃ ইহা হরমোন ক্ষরণ এবং ভিটামিন B12 শোষণ করে। ইহা সেরোটোনিন নিঃসৃত করে।

(vii) মিউকাস কোষ বা গবলেট কোষঃ ইহা মিউকাস ক্ষরণ করে।

 

অগ্ন্যাশয় গ্রন্থির গঠন ও কাজ । Pancreas gland । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

অগ্ন্যাশয় হলো একটি মিশ্র গ্রন্থি। ইহা দেখতে পাতা বা নলাকার বা বকযন্ত্র বা মরিচের মতো। এ গ্রন্থি তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। মাথা, দেহ ও লেজ। কোষীয় বিন্যাসে ইহা দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। সনালী অংশ বা এসাইনাস ও অনালী অংশ বা আইলেট্স অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স। এর দৈর্ঘ্য ২০ সেমি এবং প্রস্থ ৫ সেমি। অগ্ন্যাশয়ের গ্রন্থি থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নালিকা নির্গত হয়। এই নালিকা গুলো মিলিত হয়ে উইর্সাং নালিকা গঠন করে। উইর্সাং নালি পরে ভ্যাটারের অ্যাম্পুলার মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। অগ্ন্যাশয় লোবিওল নামক কতক গুলো খন্ডে বিভক্ত। লোবিওলের ফাঁকে ফাঁকে আইলেট্স অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স নামক কোষ পুঞ্জ থাকে। আইলেট্স অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স প্রায় ১০ লক্ষ কোষ দ্বারা গঠিত। এতে চার ধরনের কোষ থাকে। আলফা, বিটা, গামা ও ডেল্টা। অগ্ন্যাশয় হতে প্রতি ২৪ ঘন্টায় ৫০০-১২০০ মিলি রস নিঃসৃত হয়। ইহা বর্ণহীন, ক্ষারধর্মী ও তরল। এর pH ৭.৫-৮.৫।

অগ্ন্যাশয় রসের রাসায়নিক উপাদান

(i) পানিঃ অগ্ন্যাশয় রসে ৯৮% পানি থাকে।

(ii) জৈব উপাদানঃ অগ্ন্যাশয় রসে প্রোটিওলাইটিক, অ্যামাইলোলাইটিক, লিপোলাইটিক, মিউসিন, লাইপেজ, মল্টেজ, সুক্রেজ, ল্যাক্টেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন, ট্রিপসিন-ইনহিবিটর, নিউক্লিয়েজ প্রভৃতি থাকে।

(iii) অজৈব উপাদানঃ অগ্ন্যাশয় রসে সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, সালফেট, ফসফেট প্রভৃতি থাকে।

অগ্ন্যাশয় রসের কাজ বা গুরুত্ব

১। হরমোন নিঃসরণঃ অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স ১০ লক্ষ কোষের একটি গুচ্ছ নিয়ে গঠিত।

(i) আলফা কোষঃ মানব আইলেটসের ২০% কোষ হলো আলফা কোষ। ইহা গ্লুকাগন হরমোন ক্ষরণ করে এবং রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।

(ii) বিটা কোষঃ  মানব আইলেটসের ৫০-৭০% কোষ হলো বিটা কোষ। ইহা ইনসুলিন হরমোন ক্ষরণ করে এবং রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমায়। এই হরমোনের অভাবে ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগ হয়।

(iii) ডেল্টা কোষঃ মানব আইলেটসের ১০% কোষ হলো ডেল্টা কোষ। ইহা সোমাটোস্ট্যাটিন হরমোন ক্ষরণ করে যা আলফা ও বিটা কোষের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

(iv) গামা কোষঃ ইহা প্যানক্রিয়েটিক পলিপেপটাইড ক্ষরণ করে।

২। এনজাইম নিঃসরণঃ এ গ্রন্থি হতে অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন ও লাইপেজ নিঃসৃত হয়। এছাড়া এই গ্রন্থি থেকে কাইমোট্রিপসিন, কোলাজিনেজ, ইরেপসিন, ইলাস্টেজ, ফসফোলাইপেজ, এস্টারেজ, কার্বক্সিপেপটাইডেজ, অ্যামাইনোপেপটাইডেজ, ডাইপেপটাইডেজ, ট্রাইপেপটাইডেজ প্রভৃতি নিঃসৃত হয়।

৩। লবণ নিঃসরণঃ এ গ্রন্থি থেকে বাইকার্বনেট লবণ নিঃসৃত হয়। ইহা পাকস্থলীর অম্লতা দূর করে।

৪। পানি সমতাঃ ইহা দেহে পানি সমতা নিয়ন্ত্রণ করে।

৫। অম্ল-ক্ষার সমতাঃ ইহা দেহে অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করে।

অগ্ন্যাশয় রসের কাজ বা গুরুত্ব । Pancreases juice। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। হরমোন নিঃসরণঃ অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স ১০ লক্ষ কোষের একটি গুচ্ছ নিয়ে গঠিত।

(i) আলফা কোষঃ মানব আইলেটসের ২০% কোষ হলো আলফা কোষ। ইহা গ্লুকাগন হরমোন ক্ষরণ করে এবং রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।

(ii) বিটা কোষঃ  মানব আইলেটসের ৫০-৭০% কোষ হলো বিটা কোষ। ইহা ইনসুলিন হরমোন ক্ষরণ করে এবং রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমায়। এই হরমোনের অভাবে ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগ হয়।

(iii) ডেল্টা কোষঃ মানব আইলেটসের ১০% কোষ হলো ডেল্টা কোষ। ইহা সোমাটোস্ট্যাটিন হরমোন ক্ষরণ করে যা আলফা ও বিটা কোষের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

(iv) গামা কোষঃ ইহা প্যানক্রিয়েটিক পলিপেপটাইড ক্ষরণ করে।

২। এনজাইম নিঃসরণঃ এ গ্রন্থি হতে অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন ও লাইপেজ নিঃসৃত হয়। এছাড়া এই গ্রন্থি থেকে কাইমোট্রিপসিন, কোলাজিনেজ, ইরেপসিন, ইলাস্টেজ, ফসফোলাইপেজ, এস্টারেজ, কার্বক্সিপেপটাইডেজ, অ্যামাইনোপেপটাইডেজ, ডাইপেপটাইডেজ, ট্রাইপেপটাইডেজ প্রভৃতি নিঃসৃত হয়।

৩। লবণ নিঃসরণঃ এ গ্রন্থি থেকে বাইকার্বনেট লবণ নিঃসৃত হয়। ইহা পাকস্থলীর অম্লতা দূর করে।

৪। পানি সমতাঃ ইহা দেহে পানি সমতা নিয়ন্ত্রণ করে।

৫। অম্ল-ক্ষার সমতাঃ ইহা দেহে অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করে।

অগ্ন্যাশয় রসের রাসায়নিক উপাদান । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(i) পানিঃ অগ্ন্যাশয় রসে ৯৮% পানি থাকে।

(ii) জৈব উপাদানঃ অগ্ন্যাশয় রসে প্রোটিওলাইটিক, অ্যামাইলোলাইটিক, লিপোলাইটিক, মিউসিন, লাইপেজ, মল্টেজ, সুক্রেজ, ল্যাক্টেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন, ট্রিপসিন-ইনহিবিটর, নিউক্লিয়েজ প্রভৃতি থাকে।

(iii) অজৈব উপাদানঃ অগ্ন্যাশয় রসে সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, সালফেট, ফসফেট প্রভৃতি থাকে।

অগ্ন্যাশয় গ্রন্থির গঠন । Pancreas gland । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

অগ্ন্যাশয় হলো একটি মিশ্র গ্রন্থি। ইহা দেখতে পাতা বা নলাকার বা বকযন্ত্র বা মরিচের মতো। এ গ্রন্থি তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। মাথা, দেহ ও লেজ। কোষীয় বিন্যাসে ইহা দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। সনালী অংশ বা এসাইনাস ও অনালী অংশ বা আইলেট্স অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স। এর দৈর্ঘ্য ২০ সেমি এবং প্রস্থ ৫ সেমি। অগ্ন্যাশয়ের গ্রন্থি থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নালিকা নির্গত হয়। এই নালিকা গুলো মিলিত হয়ে উইর্সাং নালিকা গঠন করে। উইর্সাং নালি পরে ভ্যাটারের অ্যাম্পুলার মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। অগ্ন্যাশয় লোবিওল নামক কতক গুলো খন্ডে বিভক্ত। লোবিওলের ফাঁকে ফাঁকে আইলেট্স অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স নামক কোষ পুঞ্জ থাকে। আইলেট্স অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স প্রায় ১০ লক্ষ কোষ দ্বারা গঠিত। এতে চার ধরনের কোষ থাকে। আলফা, বিটা, গামা ও ডেল্টা। অগ্ন্যাশয় হতে প্রতি ২৪ ঘন্টায় ৫০০-১২০০ মিলি রস নিঃসৃত হয়। ইহা বর্ণহীন, ক্ষারধর্মী ও তরল। এর pH ৭.৫-৮.৫।

যকৃতের রোগগুলো কী কী । Liver Disease । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। হেপাটাইটিসঃ যকৃতের প্রদাহকে হেপাটাইটিস বলে। হেপাটাইটিস ভাইরাসের কারণে জন্ডিস রোগ হয়।

২। হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথিঃ যকৃত যদি রক্তের বিষাক্ত পদার্থ অপসারণে ব্যর্থ হয় তাহলে হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি হয়। এই রোগে মানুষ কোমায় চলে যায় অথবা মারা যায়।

৩। হেপাটোমেগালিঃ যকৃত অস্বাভাবিক ভাবে বড় হয়ে গেলে তাকে হেপাটোমেগালি বলে।

৪। বাড-কায়ারীঃ যকৃতে রক্ত সরবরাহকারী হেপাটিক শিরায় বøক সৃষ্টি হলে তাকে বাড-কায়ারী বলে।

৫। বিলিয়ারী সিরোসিসঃ বিলিয়ারী সিরোসিস হলো যকৃতের একটি অটোইমিউন।

যকৃতের বিপাকীয় ভূমিকা , বিপাকীয় কাজ । Liver । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। প্রোটিন বিপাক

(i) প্লাজমা প্রোটিন তৈরীঃ যকৃত কোষ অ্যামাইনো এসিড হতে অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন, ফাইব্রিনোজেন, প্রোথ্রম্বিন, ট্রান্সফেরিন, সেরোপ্লাজমিন, ফটোপ্রোটিন প্রভৃতি প্লাজমা প্রোটিন তৈরী করে।

(ii) হরমোন সংশ্লেষঃ যকৃত অ্যানজিওটেনসিনোজেন হরমোন সংশ্লেষ করে। এই হরমোন রক্তচাপ বৃদ্ধি করে।

(iii) ডি-অ্যামিনেশনঃ যকৃত অতিরিক্ত ও অব্যবহৃত অ্যামাইনো এসিডকে ডি-অ্যামিনেশন প্রক্রিয়ায় ভেঙ্গে কিটো এসিড ও অ্যামিন মূলকে পরিনত করে।

২। কার্বোহাইড্রেট বিপাক

(i) গ্লাইকোজেনেসিসঃ এ প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ থেকে গ্লাইকোজেন উৎপন্ন হয় তাকে গ্লাইকোজেনেসিস বলে। যকৃত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। গ্যালাক্টোজ, ফ্রুক্টোজসহ হেক্সোজ শর্করাগুলো গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা থাকে।

(ii) গ্লাইকোজেনোলাইসিসঃ এ প্রক্রিয়ায় যকৃতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন ভেঙ্গে গ্লুকোজ উৎপন্ন হয়। এই প্রক্রিয়াটি এপিনেফ্রিন ও গ্লুকাগন হরমোন দ্বারা প্রভাবিত হয়।

(iii) গ্লাইকোনিউজেনেসিসঃ যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অশর্করা জাতীয় উপাদান থেকে গ্লুকোজ উৎপন্ন হয় তাকে গ্লাইকোনিউজেনেসিস বলে। দেহে গ্লুকোজের মাত্রা অত্যধিক কমে গেলে অ্যামাইনো এসিড, ল্যাকটিক এসিড, পাইরুভিক এসিড, গিøসারল প্রভৃতি অশর্করা জাতীয় উপাদান থেকে গ্লুকোজ উৎপন্ন হয়।

(iv) লাইপোজেনেসিসঃ এ প্রক্রিয়ায় যকৃত অতিরিক্ত গ্লুকোজকে ট্রাইগিøসারাইডে রুপান্তরিত করে। উৎপন্ন ট্রাইগিøসারাইড কোষে চর্বি হিসেবে জমা থাকে। হৃৎরোগ ও স্ট্রোকের অন্যতম কারণ হলো ট্রাইগিøসারাইড।

৩। লিপিড বিপাক

(i) যকৃতে ফ্যাটি এসিড ভেঙ্গে ATP উৎপন্ন হয়। ATP পেশির প্রসারণ ও শিথিলে ব্যবহার হয়।

(ii) যকৃত লিপোপ্রোটিন সংশ্লেষণ করে। লিপোপ্রোটিন কোষের ফ্যাটি এসিড, কোলেস্টেরল ও ট্রাইগিøসারাইডের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।

(iii) যকৃত কোলেস্টেরল সঞ্চয় করে। কোলেস্টেরল দ্বারা সোডিয়াম গ্লাইকোকোলেট ও সোডিয়াম টাউরোকোলেট নামক পিত্তলবণ তৈরী হয়।

(iv) যকৃতে ফ্যাটি এসিড ও গিøসারলের জারণের মাধ্যমে কিটোন উৎপন্ন হয়।

(v) সোডিয়াম গ্লাইকোকোলেট ও সোডিয়াম টাইরোকোলেট দ্বারা স্নেহ জাতীয় খাদ্য ভেঙ্গে সাবানের ফেনার মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানায় পরিনত হয়। এই প্রক্রিয়াকে ইমালসিফিকেশন বলে।

(vi) যকৃত রসের প্রভাবে ফসফোলিপিড, গ্লাইকোলিপিড, লিপোপ্রোটিন, কোলেস্টেরল প্রভৃতি বিশ্লেষিত হয়। শর্করার অভাবে সঞ্চিত ফ্যাট হতে গ্লুকোজ উৎপন্ন হয়।

৪। নিউক্লিক এসিড বিপাকঃ যকৃত কোষের সাহায্যে পিউরিন ও পাইরিমিডিনের নিউক্লিওটাইড গুলো বিশ্লেষিত হয়। পিউরিন ভেঙ্গে ইউরিক এসিড এবং পাইরিমিডিন ভেঙ্গে ইউরিয়া উৎপন্ন হয়।

৫। হরমোন ভাঙ্গনঃ যকৃতের রস সকল প্রকার হরমোনের ভাঙ্গন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। ইস্ট্রোজেন, কর্টিকাল, টেস্টোস্টেরণ প্রভৃতি হরমোন সালফিউরিক এসিডের সাথে নির্গত হয়। টেস্টোস্টেরণ ও অ্যান্ড্রোস্টেরণ হরমোন দ্রুত এবং ইনসুলিন, গ্লুকাগন, ইস্টোজেন, প্রোজেস্টেরন, অ্যাডেনাল, থাইরক্সিন প্রভৃতি হরমোন ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়।

৬। দেহের সুরক্ষাঃ যকৃতের কাফ্ফার কোষ ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য জীবাণু ভক্ষণ করে দেহকে সুরক্ষা করে।

৭। লোহিত রক্ত কণিকা উৎপাদনঃ শিশুদের যকৃত কোষ লোহিত রক্ত কণিকা উৎপন্ন করে। আবার, ইহা মৃত প্রায় লোহিত রক্তকণিকাকে অপসারিত করে।

৮। বিলিরুবিন সৃষ্টিঃ রক্তের হিমোগ্লোবিনকে ভেঙ্গে হিম ও গ্লোবিন উৎপন্ন করে। হিম অংশ হতে সবুজ বর্ণের বিলিভার্ডিন উৎপন্ন হয়। পরে বিলিভার্ডিন হতে হলুদ বর্ণের বিলিরুবিন সৃষ্টি হয়। দেহে অতিরিক্ত বিলিরুবিন থাকলে জন্ডিস হয় এবং গায়ের রং হলুদ হয়ে যায়।

৯। নির্বিষকরণঃ দেহে বিদ্যমাণ ক্ষতিকর পদার্থকে যকৃত কোষ জারণ, বিজারণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ধ্বংস ও অপসারণ করে। দেহের অতিরিক্ত ওষুধ অপসারিত হয়।

১০। ইউরিয়া প্রস্তুতঃ যকৃত রসের প্রভাবে ডিঅ্যামাইনেশন প্রক্রিয়ায় অ্যামাইনো এসিড হতে ইউরিয়া উৎপন্ন হয়

১১। রক্তের প্রোটিন তৈরীঃ রক্তের অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন প্রভৃতি প্রোটিন যকৃতে তৈরী হয়।

১২। রক্ত জমাট বাঁধাঃ যকৃত কোষের কার্যকারীতায় ফাইব্রিনোজেন ও প্রোথ্রম্বিন উৎপন্ন হয়। ফাইব্রিনোজেন ও প্রোথ্রম্বিন রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

১৩। এনজাইম উৎপাদনঃ যকৃত ক্যাটালেজ এনজাইম উৎপন্ন করে। ক্যাটালেজ এনজাইম হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ভেঙ্গে পনি ও অক্সিজেন উৎপন্ন করে। ইহা দেহের বিষাক্ত পদার্থ নষ্ট করে দেয়।

১৪। তাপশক্তি উৎপাদনঃ যকৃতে ট্রাইগিøসারাইড ও ফ্যাটি এসিড জারিত হয়ে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়।

১৫। রক্তের উপাদান সংশ্লেষণঃ যকৃত রক্তের তঞ্চন ফ্যাক্টর, ইমিইন ফ্যাক্টর এবং রক্তকণিকা সৃষ্টির কাঁচমাল উৎপন্ন করে।

১৬। কোলেস্টেরল উৎপাদনঃ ফ্যাটযুক্ত খাবার খেলে যকৃতে কোলেস্টেরল উৎপন্ন হয়। কোলেস্টেরল হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক রোগ সৃষ্টি করে।

১৭। ট্রান্সঅ্যামিনেশনঃ ট্রান্সঅ্যামিনেশন প্রক্রিয়ায় অ্যামাইনো এসিডের নাইট্রোজেন যুক্ত অংশ শর্করাতে প্রতিস্থাপন করে নতুন অ্যামাইনো এসিড উৎপন্ন করে।

১৮। রক্ত ব্যাকটেরিয়া মুক্ত রাখাঃ কাফফার কোষ রক্তের ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে। রক্ত ব্যাকটেরিয়া মুক্ত হয়।

যকৃতের সঞ্চয়ী ভূমিকা, সঞ্চয়ী কাজ । Liver । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। গ্লাইকোজেন সঞ্চয়ঃ রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেশি হলে আইলেট্স অব ল্যাঙ্গাহ্যান্স থেকে সৃষ্টি ইনসুলিন অতিরিক্ত গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা রাখে। যকৃতে প্রায় ১০০ গ্রাম গ্লাইকোজেন জমা থাকে। দেহের প্রয়োজনে গ্লাইকোজেন আবার গ্লুকোজে পরিবর্তিত হয়ে থাকে।

২। চর্বি সঞ্চয়ঃ মানব দেহে যে সব শর্করা ব্যবহার হয় না এবং গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা থাকে না, যকৃত কোষ সে গুলোকে চর্বিতে রুপান্তরিত করে সঞ্চয় করে।

৩। ভিটামিন সঞ্চয়ঃ যকৃত কোষ মানব দেহে ভিটামিন A, D, E ও K সঞ্চয় করে। এ ছাড়া কিছু পরিমাণ নিকোটিনিক এসিড (B12) এবং ফলিক এসিড সঞ্চয় করে।

৪। রক্ত সঞ্চয়ঃ যকৃতের নালিকা গুলো রক্ত প্রবাহিত করলেও উহা বিপুল পরিমাণ রক্ত সঞ্চয়ের ভান্ডার হিসেবে কাজ করে। যকৃত প্রায় ১৫০০ ঘন সেমি রক্ত সঞ্চয় করে।

৫। পিত্তরস ক্ষরণ ও সঞ্চয়ঃ যকৃত কোষ পিত্তরস ক্ষরণ ও সঞ্চয় করে। যকৃত প্রতিদিন ৪০০-৮০০ মিলি পিত্তরস ক্ষরণ করে।

৬। লৌহ সঞ্চয়ঃ রক্তের হিমোগ্লোবিনে হিম এবং গ্লোবিন থাকে। হিমে ফেরিটিন নামক লৌহ থাকে। যকৃত ফেরিটিন লৌহ সঞ্চয় করে।

৭। খনিজ লবণ সঞ্চয়ঃ যকৃত মানব দেহে জিংক, কপার, কোবাল্ট, মলিবডেনাম, আয়ন, পটাশিয়াম প্রভৃতি খনিজ দ্রব্য সঞ্চয় করে। যকৃতের আয়ন অস্থিমজ্জায় নতুন লোহিত রক্ত কনিকা উৎপন্ন করে।

পিত্তরস বা যকৃত রসের উপাদান । Bile । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যকৃত থেকে যে রস নিঃসৃত হয় তাকে পিত্ত বা পিত্তরস বলে। ইহা গাঢ় সবুজ থেকে হলুদাভাব তরল। এর pH 7.5-8.6 এবং তিক্ত স্বাদযুক্ত। পিত্তরসের উপাদান হলো-
১। পানিঃ পিত্তরসে ৯৭-৯৮% পানি থাকে।
২। পিত্ত লবণঃ পিত্তরসে ৬% পিত্ত লবণ থাকে। পিত্ত লবণ হলো-সোডিয়াম টাউরোকোলেট, সোডিয়াম গ্লাইকোকোলেট প্রভৃতি।
৩। পিত্ত রঞ্জকঃ পিত্তরসে ৩% পিত্ত রঞ্জক থাকে। পিত্ত রঞ্জক হলো বিলিরুবিন ও বিলিভার্ডিন।
৪। ফ্যাটঃ পিত্তরসে ০.৮২% ফ্যাট থাকে।
৫। অজৈব লবণঃ পিত্তরসে ০.৮% অজৈব লবণ থাকে। অজৈব লবণ হলো সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়াম।
৬। কোলেস্টেরলঃ পিত্তরসে ০.৩৮% কোলেস্টরল থাকে।

যকৃতের গঠন । Liver structure । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যকৃত ফ্যালসিফর্ম পর্দা দ্বারা আবৃত থাকায় বাহ্যিক ভাবে দ্বিখন্ডিত মনে হয়। যকৃত চারটি অমসৃণ খন্ডে বিভক্ত। ডান খন্ড, বাম খন্ড, কডেট এবং কোয়াড্রেট খন্ড। ডান খন্ড সবচেয়ে বড়, বাম খন্ড সবচেয়ে ছোট। ডান খন্ড বাম খন্ডের চেয়ে ছয়গুণ বড়। কডেট কোয়াড্রেট খন্ড চৌকোর মতো। যকৃত গিøসন ক্যাপসুল নামক পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। এই পর্দা যকৃতকে কতক গুলো লোবিওল বা খন্ডকে বিভক্ত করে। প্রতিটি লোবিওলে যকৃত কোষ গুলো চাকার স্পোকের মতো বিন্যন্ত থাকে। পাশাপাশি অবস্থিত লোবিওলের মাঝখানে যে ফাঁকা স্থান থাকে তাকে সাইনুসয়েড বলে। প্রতিটি লোবিওলের মাঝে একটি কেন্দ্রীয় শিরা থাকে। ডান বাম যকৃত নালি মিলে সাধারণ যকৃত/হেপাটিক নালি গঠন করে। সাধারণ যকৃত নালি পিত্তাশয় নালির সাথে মিলিত হয়ে অভিন্ন পিত্তনালি গঠন করে। অভিন্ন পিত্তনালি ভ্যাটারের অ্যাম্পুলার মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবেশ করে।