রুই মাছের ডিম পাড়ার পরিবেশ । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। বর্ষাকাল বা বন্যার সময় জলাশয় পানি দ্বারা পরিপূর্ণ থাকে।

২। স্রোতময় ঘোলা পানিতে রুই মাছ ডিম পাড়ে।

৩। পোনা মাছের বেঁচে থাকার জন্য ঘোলা পানি প্রয়োজন হয়।

৪। ডিম পাড়ার পরিবেশের পানির তাপমাত্রা ২৪২৮ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড হবে।

৫। পানিতে প্রচুর পরিমাণ অক্সিজেন থাকবে।

৬। অমাবস্যা বা পুর্ণিমায় রুই মাছ ডিম পাড়ে।

৭। পুরুষ মাছ পানিতে স্টেরয়েড হরমোন নিঃসৃত করে স্ত্রী মাছকে প্রজননে আকৃষ্ট করার উপযুক্ত পরিবেশ হবে।

৮। নদীর পানি ওলটপালট হয়ে শুক্রাণু ডিম্বাণু মিশে যায় এমন হতে হবে।

৯। পরিবেশে পর্যাপ্ত খাদ্য থাকবে যাতে পোনার আঙ্গিক গাঠনিক পরিবর্তন ঘটে।

রুই মাছের জীবনচক্র Life cycle of Rohu fish । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

রুই হলো মিঠা পানির কার্প জাতীয় মাছ। এর জীবনচক্র কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। এর ধাপ গুলো নিম্নরুপ।

১। যৌন পরিপক্কতাঃ দুই বছর বয়সের রুই মাছ প্রজননক্ষম হয়। স্ত্রীমাছ ৫১-৭০ সেমি এবং পুরুষ মাছ ৬০-৬৫ সেমি লম্বা হলে যৌন পরিপক্কতা লাভ করে।

২। প্রজনন ঋতুঃ প্রকৃতিতে রুই মাছ বছরে একবার প্রজনন করে। বর্ষাকাল বা জুন-জুলাই মাস এদের প্রজননের উপযুক্ত সময়। এসময় পানি স্রোতময় ও ঘোলা হয়। ঘোলা পানি পোনা মাছের বেঁচে থাকার জন্য উপযুক্ত।

৩। ডিম পাড়াঃ মাছের ডিম উৎপাদন ক্ষমতাকে ফিকান্ডিটি বলে। মাছের ডিম পাড়ার প্রক্রিয়াকে স্পনিং বলে। রুই মাছ বদ্ধ পানিতে বাস করলেও ডিম পাড়ে স্রোতযুক্ত পানিতে। একে প্রোটামোড্রোমাস বলে। ডিম পাড়ার উপযুক্ত পরিবেশ হলো পানির তাপমাত্রা ২৪-২৮০ সে. এবং পানিতে প্রচুর পরিমাণ অক্সিজেন থাকে। অমাবস্যা বা পুর্ণিমায় রুই মাছ ডিম পাড়ে। এ সময় পুরুষ মাছ পানিতে স্টেরয়েড হরমোন নিঃসৃত করে স্ত্রী মাছকে প্রজননে আকৃষ্ট করে। রিট্যাক্সিসের আবেশীয় প্রভাবে স্ত্রী মাছ ঘোলা পানিতে প্রায় ১৯,০০,০০০ টি ডিম পাড়ে। যে সব ডিম পানিতে ভাসে তাকে পেলাজিক ডিম এবং যে সব ডিম পানিতে ডুবে যায় তাকে ডিমারসাল বলে।

৪। নিষেকঃ পুরুষ মাছ ডিম্বাণুর উপর শুক্ররস ছেড়ে দেয়। নদীর পানি ওলট-পালট হয়ে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিশে যায়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে নিষেক ঘটে। নিষেকের ফলে জাইগোট সৃষ্টি হয়।

৫। পরিস্ফুটনঃ যে প্রক্রিয়ায় জাইগোট বার বার বিভাজিত হয়ে পুর্ণাঙ্গ প্রাণীতে পরিনত হয় তাকে পরিস্ফুটন বলে। ইহা তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়।

(i) ভ্রুণীয় পরিস্ফুটনঃ জাইগোট সৃষ্টির ৩০-৪৫ মিনিট পর ক্লিভেজ শুরু হয়। জাইগোট ক্লিভেজ প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে মাইক্রোমিয়ার ও ম্যাক্রোমিয়ার কোষ সৃষ্টি করে। ব্লাস্টুলেশন প্রক্রিয়ায় এই কোষ গুলো ব্লাস্টোমিয়ারে পরিনত হয়। ব্লাস্টোমিয়ার কোষ একটি নির্দিষ্ট স্তরে সজ্জিত থাকে। গ্যাস্ট্রুলেশন প্রক্রিয়ায় ব্লাস্টোমিয়ার কোষ গুলো তিনটি স্তরে সজ্জিত হয়। যথা- এক্টোডার্ম, মেসোডার্ম ও এন্ডোডার্ম।

(ii) লার্ভা দশার পরিস্ফুটনঃ ১৫-১৮ ঘন্টার মধ্যে ডিম থেকে লার্ভা বেরিয়ে আসে। লার্ভাকে ডিমপোনা বলা হয়। ডিমপোনার বয়স ৭২ ঘন্টা হলে তাকে রেণুপোনা বলে। এ দশায় ভ্রিুণ হালকা হলুদ বর্ণ ধারণ করে। নটোকর্ড ও স্নায়ু রজ্জু গঠিত হয়। চোখ, শ্রবণ যন্ত্র ও ক্রোম্যাটাফোর সৃষ্টি হয়। বায়ুথলী ও অংকীয় পাখনা থাকে।

(iii) লার্ভা পরবর্তী পরিস্ফুটনঃ এ দশায় কুসুম থলী ধ্বংস হয়ে যায়। অপারকুলাম, পৃষ্ঠ পাখনা, পুচ্ছ পাখনা প্রভৃতির উদ্ভব ঘটে। বায়ুথলী দুই ভাগে বিভক্ত হয়। লেজ হোমোসার্কাল হয়। নাসারন্ধ্র সম্পুর্ণ বিভাজিত হয়, চোখ সমান হয় এবং মাংসাল মুখ গঠিত হয়।

৬। আঙ্গুলি পোনাঃ পোনার দৈর্ঘ্য ৭-১২ মিমি হলে তাকে ধানীপোনা বলে। পোনার বয়স ৯-৩০ দিন হলেতাকে আঙ্গুলি পোনা বলে। আঙ্গুলি পোনায় আঁইশ, পাখনা, বার্বেল প্রভৃতি গঠিত হয়।

৭। ব্রæড মাছঃ আঙ্গুলির আঙ্গিক ও গাঠনিক পরিবর্তন ঘটে। পূর্ণাঙ্গ মাছে পরিনত হয়। যৌন পরিপক্কতা লাভ করে। যৌন পরিপক্কতা লাভ করলে তাকে ব্রæড মাছ বলে।

বায়ুথলীর গুরুত্ব/কাজ/প্রভাব । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। শ্বসনঃ  পটকায় অক্সিজেন থাকে। মাছ এই অক্সিজেনের সাহায্যে শ্বসন ক্রিয়া চালায়।

২। শব্দ উৎপাদনঃ পটকা শব্দ উৎপাদনে সাহায্য করে। বাতাস পটকার ব্যবধায়ক প্রাচীরে বাঁধা পেলে কম্পনের সৃষ্টি হয়।

৩। প্রতিধ্বনী সৃষ্টিঃ পটকায় শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয়। এই শব্দ তরঙ্গ ভেবেরিয়ান অস্থির মাধ্যমে অন্তঃকর্ণে পৌছে।

৪। ভেসে থাকাঃ পটকায় বায়ু জমা থাকে বলে মাছকে পানিতে ভাঁসতে সাহায্য করে।

৫। আপেক্ষিক গুরুত্ব নিয়ন্ত্রণঃ পটকা দেহের ভিতরে গ্যাসের পরিমাণ বাড়িয়ে বা কমিয়ে আপেক্ষিক গুরুত্ব নিয়ন্ত্রণ করে।

৬। শ্রবণঃ পটকা মাছকে শ্রবণে সাহায্য করে।

৭। মধ্যাকর্ষণ কেন্দ্র রক্ষাঃ বায়ু থলীর এক পাশের গ্যাস অন্য পাশে স্থানান্তরিত হয়ে পানিতে দেহের মধ্যাকর্ষণ কেন্দ্র রক্ষা করে।

৮। অভিযোজনঃ পানির যে কোন গভীরতায় বায়ুথলীর আকার পরিবর্তিত হয়ে পরিবেশ উপযোগী হয়।  ফলে মাছ যে কোন গভীরতায় সক্রিয়ভাবে সাঁতার কাটে এবং অভিযোজিত হয়।

পটকা বা বায়ুথলীর গঠন । Structure of air bladder । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

প্রতিটি বায়ুথলী ২টি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত।

১। অগ্রপ্রকোষ্ঠ  ও

২। পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠ

১। অগ্রপ্রকোষ্ঠ বা ছোট প্রকোষ্ঠঃ বায়ুথলীর ছোট প্রকোষ্ঠকে অগ্রপ্রকোষ্ঠ বলে। ইহা দুই স্তরবিশিষ্ট একটি পাতলা প্রাচীর দ্বারা আবৃত থাকে। বাইরের স্তরকে টিউনিকা এক্সটার্না এবং ভিতরের স্তরকে টিউনিকা ইন্টারনা বলে। টিউনিকা এক্সটার্না যোজক কলা দ্বারা এবং টিউনিকা ইন্টারনা মসৃন পেশি দ্বারা গঠিত। এর অন্তঃপ্রাচীরে লাল বর্ণের একটি গ্যাস গ্রন্থি থাকে। এই গ্যাস গ্রন্থিকে রেটি মিরাবিলি বলে। রেটি মিরাবিলি থেকে নিঃসৃত গ্যাস দ্বারা বায়ুথলী পূর্ণ থাকে। বায়ুথলীতে বিদ্যমান অধিকাংশ গ্যাসই অক্সিজেন। তবে সামান্য পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড এবং নাইট্রোজেন থাকে।

২। পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠ বা বড় প্রকোষ্ঠঃ  বায়ুথলীর বড় প্রকোষ্ঠকে পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠ বলে। ইহা দুই স্তরবিশিষ্ট একটি পাতলা প্রাচীর দ্বারা আবৃত থাকে। বাইরের স্তরকে টিউনিকা এক্সটার্না এবং ভিতরের স্তরকে টিউনিকা ইন্টারনা বলে। টিউনিকা এক্সটার্না যোজক কলা দ্বারা এবং টিউনিকা ইন্টারনা মসৃন পেশি দ্বারা গঠিত। এর অন্তঃপ্রাচীরে লাল বর্ণের একটি গ্যাস গ্রন্থি থাকে। এই গ্যাস গ্রন্থিকে রেটি মিরাবিলি বলে। রেটি মিরাবিলি গ্যাস শোষণ করে।

রুই মাছের বায়ুথলীতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অস্থি থাকে। এই অস্থি গুলোকে ভেবেরিয়ান অস্থিমালা বলে।

পটকা বা বায়ুথলী কী । Air bladder । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

মাছের পৌষ্টিকনালী এবং বৃক্কের মাঝে সিলোম গহ্বরে বায়ুপূর্ণ যে লম্বা থলী থাকে তাকে পটকা বা সাঁতার থলী বা বায়ুথলী বলে। ইহা দুধরনের। যথা-

১। ফাইসোক্লিসটাসঃ গ্রাসনালী ও বায়ুথলীর মাঝখানে ডাক্টাস নিউম্যাটিকাস নালি না থাকলে তাকে তাকে ফাইসোক্লিসটাস বলে। যেমন- কই মাছ, টাকি মাছ ইত্যাদি।

২। ফাইসোসটোমাসঃ গ্রাসনালী ও বায়ুথলীর মাঝখানে ডাক্টাস নিউম্যাটিকাস নালি থাকলে তাকে ফাইসোসটোমাস বলে। যেমন- রুই মাছ, কাতলা মাছ ইত্যাদি।

প্রতিস্রোত তন্ত্র । Counter current system । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

রক্ত নালিকার মধ্য দিয়ে রক্ত পানি স্রোতের বিপরীতে প্রবাহিত হলে তাকে প্রতিস্রোত তন্ত্র বলে। বিপরীতমুখী পানিস্রোতে রক্তের চেয়ে অক্সিজেনের ঘনত্ব বেশি হওয়ায় প্রতিস্রোত ঘটে। একটি দীর্ঘস্থায়ী ঘনত্ব নতিমাত্রা সৃষ্টি হওয়ার কারণে পানিতে বিদ্যমান অক্সিজেন খুব সহজে রক্তে দ্রবীভূত হয়। ফলে রক্ত কর্তৃক সর্বোচ্চ অক্সিজেন (৮০%) গৃহীত হয়। ফুলকায় বিদ্যমান ল্যামিলিগুলো অক্সিজেন শোষণতল বৃদ্ধি করে। ফুলকা সূত্রকের অগ্রভাগ একে অপরকে অতিক্রম করে বলে পানি প্রবাহের গতি মন্থর হয় এবং গ্যাস বিনিময় দীর্ঘ সময় ঘটে।

রুই মাছের শ্বসন কৌশল । Labeo rohita respiration mechanism । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

রুই মাছে ^সন দুইটি ধাপে সম্পন্ন হয়।  প্রশ্বাস বা শ্বাস গ্রহণ এবং নিঃশ্বাস বা শ্বাস ত্যাগ।

১। প্রশ্বাস বা শ্বাস গ্রহণঃ রুই মাছ পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন গ্রহণ করে শ্বসন ক্রিয়া ঘটায়। একমুখী পানি প্রবাহের জন্য মুখছিদ্র দিয়ে পানি প্রবেশ করে এবং ফুলকা ছিদ্র দিয়ে বের হয়ে যায়। এক্ষেত্রে মুখবিবর গলবিল পাম্পযন্ত্র হিসেবে কাজ করে। প্রথমে মুখবিবর গলবিল প্রসারিত হয় এবং মুখছিদ্র খুলে যায়। পানি মুখবিবর গলবিলে প্রবেশ করে। এরপর ফুলকা প্রকোষ্ঠের সামনের দিক প্রসারিত হয় এবং পানি ফুলকা প্রকোষ্ঠে প্রবেশ করে। অতঃপর ফুলকা প্রকোষ্ঠের চাপ কমে যায় এবং পানি ফুলকার উপরের দিকে প্রবাহিত হয়। সবশেষে মুখবিবর ফুলকা প্রকোষ্ঠ সংকুচিত হয়। এসময় মৌখিক কপাটিকা বন্ধ থাকে যাতে পানি বের হয়ে যেতে না পারে।

২। নিঃশ্বাস বা শ্বাস ত্যাগঃ গলবিলের সঙ্কোচনের কারণে পানি ফুলকার উপরের দিকে উঠে যায়। ফুলকার ল্যামিলা পানি দ্বারা প্লাবিত হয়। ল্যামিলার কৈশিক জালিকার রক্ত পানির মধ্যে গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে। পানি হতে অক্সিজেন রক্তে প্রবেশ করে এবং রক্ত হতে কার্বন ডাই অক্সাইড পানিতে মিশে যায়। অক্সিজেন রক্তের মাধ্যমে দেহে চলে যায় এবং কার্বন ডাই অক্সাইড পানির মাধ্যমে বাইরে নির্গত হয়।

রুই মাছের শ্বসনতন্ত্র । Labeo rohita respiratory system । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

রুই মাছের গলবিলের দুই পাশে দুইটি ফুলকা প্রকোষ্ঠ থাকে। প্রতিটি ফুলকা প্রকোষ্ঠ কানকুয়া দ্বারা আবৃত থাকে। প্রতিটি ফুলকা প্রকোষ্ঠে পাঁচটি করে ফুলকা আর্চ থাকে। প্রথম চারটি ফুলকা আর্চ একটি করে ফুলকা বহন করে। কিন্তু পঞ্চম ফুলকা আর্চে কোন ফুলকা থাকে না। অর্থাৎ দুইটি ফুলকা প্রকোষ্ঠে  চার জোড়া (৮টি) ফুলকা থাকে। ফুলকা হলো মাছের প্রধান ^সন অঙ্গ। প্রতিটি ফুলকা আর্চে দুটি ফুলকা সারি থাকে। ফুলকা আর্চের ভিতরের কিনারা প্রসারিত হয়ে ফুলকা রেকার গঠন করে।

রুই মাছের রক্ত । Labeo rohita Blood। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

রুই মাছের রক্ত দুইটি উপাদান নিয়ে গঠিত। রক্তরস রক্তকণিকা। রক্তরস বর্ণহীন এবং পানি , জৈব অজৈব উপাদান দ্বারা গঠিত। রক্তরসে দুই ধরনের রক্তকণিকা ভাসমান থাকে। লোহিত রক্তকণিকা এবং শ্বেত রক্তকণিকা। লোহিত রক্তকণিকা ডিম্বাকার, নিউক্লিয়াসযুক্ত, হিমোগ্লোবিন সমৃদ্ধ এবং লাল বর্ণের। শে^ রক্তকণিকা নির্দিষ্ট আকৃতিবিহীন, অ্যামিবয়েড, নিউক্লিয়াসযুক্ত এবং বর্ণহীন।

রুই মাছের শিরাতন্ত্র । Venous system । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে সব নালিকার মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন অংশ হতে রক্ত হৃৎপিন্ডে ফিরে আসে তাকে শিরা বলে। রুই মাছের শিরাতন্ত্র প্রধান দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। সিস্টেমিক শিরা    পোর্টাল শিরা

 

১। সিস্টেমিক শিরা

সিস্টেমিক শিরা গুলো দেহের বিভিন্ন অংশ হতে CO2 যুক্ত রক্ত বহন করে ডাক্টাস ক্যুভিয়ে পৌছে দেয়।  পরে ডাক্টাস কুভ্যিয়ে থেকে রক্ত সাইনাস ভেনোসাসে প্রবেশ করে। বিভিন্ন ধরনের সিস্টেমিক শিরা গুলো নিম্নরুপ।

(i) অগ্র কার্ডিনাল শিরাঃ ইহা মস্তিস্কের বিভিন্ন অংশ হতে রক্ত ডাক্টাস ক্যুভিয়ে নিয়ে আসে।

(ii) ইনফিরিয়র জুগুলার শিরাঃ ইহা মস্তিস্কের বিভিন্ন অংশ হতে রক্ত ডাক্টাস ক্যুভিয়ে পৌছে দেয়।

(iii) পশ্চাৎ কার্ডিনাল শিরাঃ ডান বাম পশ্চাৎ কার্ডিনাল শিরা অ্যানাস্টোমোসিস শিরা দ্বারা যুক্ত হয়। ইহা দেহের পশ্চাৎ অংশ হতে রক্ত ডাক্টাস ক্যুভিয়ে পৌছে দেয়।

২। পোর্টাল শিরা

যে সব শিরা দেহের বিভিন্ন অঙ্গ হতে রক্ত সংগ্রহ করে অন্য কোন অঙ্গে প্রবেশ করে পুনরায় কৈশিক জালিকা সৃষ্টি করে তাকে পোর্টাল শিরা বলে। ইহা হেপাটিক পোর্টাল এবং রেনাল পোর্টাল নিয়ে গঠিত। পোর্টাল শিরা গুলো হলো

(i) পুচ্ছ শিরাঃ পুচ্ছ শিরা লেজ হতে দেহকান্ডে প্রবেশ করে এবং দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে রেনাল পোর্টাল শিরা গঠন করে। রেনাল পোর্টাল শিরা পরিপাকতন্ত্র হতে রক্ত যকৃতে নিয়ে আসে।

(ii) সেগমেন্টাল শিরাঃ ইহা দেহকান্ডের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে রক্ত সংগ্রহ করে।

(iii) অনুপ্রস্থ অ্যানাস্টোমোসিস শিরাঃ ডান বাম কার্ডিনাল সাইনাস কিছু অনুপ্রস্থ শিরার সাথে যুক্ত হয়ে অনুপ্রস্থ অ্যানাস্টোমোসিস শিরা গঠন করে।

(iv) সাব ক্ল্যাভিয়ান শিরাঃ ইহা বক্ষ পাখনা হতে সরাসরি সাইনাস ভেনোসাসে রক্ত সরবরাহ করে।

(v) হেপাটিক শিরাঃ যকৃত হতে দুইটি হেপাটিক শিরা উৎপন্ন হয়ে সাইনাস ভেনোসাসে রক্ত নিয়ে আসে।