রুই মাছের পোর্টাল শিরা । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে সব শিরা দেহের বিভিন্ন অঙ্গ হতে রক্ত সংগ্রহ করে অন্য কোন অঙ্গে প্রবেশ করে পুনরায় কৈশিক জালিকা সৃষ্টি করে তাকে পোর্টাল শিরা বলে। ইহা হেপাটিক পোর্টাল এবং রেনাল পোর্টাল নিয়ে গঠিত। পোর্টাল শিরা গুলো হলো

(i) পুচ্ছ শিরাঃ পুচ্ছ শিরা লেজ হতে দেহকান্ডে প্রবেশ করে এবং দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে রেনাল পোর্টাল শিরা গঠন করে। রেনাল পোর্টাল শিরা পরিপাকতন্ত্র হতে রক্ত যকৃতে নিয়ে আসে।

(ii) সেগমেন্টাল শিরাঃ ইহা দেহকান্ডের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে রক্ত সংগ্রহ করে।

(iii) অনুপ্রস্থ অ্যানাস্টোমোসিস শিরাঃ ডান বাম কার্ডিনাল সাইনাস কিছু অনুপ্রস্থ শিরার সাথে যুক্ত হয়ে অনুপ্রস্থ অ্যানাস্টোমোসিস শিরা গঠন করে।

(iv) সাব ক্ল্যাভিয়ান শিরাঃ ইহা বক্ষ পাখনা হতে সরাসরি সাইনাস ভেনোসাসে রক্ত সরবরাহ করে।

(v) হেপাটিক শিরাঃ যকৃত হতে দুইটি হেপাটিক শিরা উৎপন্ন হয়ে সাইনাস ভেনোসাসে রক্ত নিয়ে আসে।

রুই মাছের সিস্টেমিক শিরা । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

সিস্টেমিক শিরা গুলো দেহের বিভিন্ন অংশ হতে CO2 যুক্ত রক্ত বহন করে ডাক্টাস ক্যুভিয়ে পৌছে দেয়।  পরে ডাক্টাস কুভ্যিয়ে থেকে রক্ত সাইনাস ভেনোসাসে প্রবেশ করে। বিভিন্ন ধরনের সিস্টেমিক শিরা গুলো নিম্নরুপ।

(i) অগ্র কার্ডিনাল শিরাঃ ইহা মস্তিস্কের বিভিন্ন অংশ হতে রক্ত ডাক্টাস ক্যুভিয়ে নিয়ে আসে।

(ii) ইনফিরিয়র জুগুলার শিরাঃ ইহা মস্তিস্কের বিভিন্ন অংশ হতে রক্ত ডাক্টাস ক্যুভিয়ে পৌছে দেয়।

(iii) পশ্চাৎ কার্ডিনাল শিরাঃ ডান বাম পশ্চাৎ কার্ডিনাল শিরা অ্যানাস্টোমোসিস শিরা দ্বারা যুক্ত হয়। ইহা দেহের পশ্চাৎ অংশ হতে রক্ত ডাক্টাস ক্যুভিয়ে পৌছে দেয়।

রুই মাছের ধমনীতন্ত্র । Labeo rohita Arterial system। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

রুই মাছের ধমনীতন্ত্র তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত।

১। অন্তর্বাহী বা অ্যাফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনী

২। বহির্বাহী বা ইফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনী

৩। মহাধমনী বা ডর্সাল অ্যাওর্টা

 

 ১। অন্তর্বাহী বা অ্যাফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনী

যে সব ধমনী হৃৎপিন্ড থেকে CO2 যুক্ত রক্ত ফুলকাতে নিয়ে যায় তাদেরকে অন্তর্বাহী ব্রাঙ্কিয়াল ধমনী বলে। বাল্বাস অ্যাওর্টা থেকে ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টা উৎপন্ন হয় এবং হাইওয়েড ধমনী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টা থেকে চার জোড়া অন্তর্বাহী ব্রাঙ্কিয়াল ধমনী উৎপন্ন হয়ে।

(i) প্রথম অ্যাফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনীঃ ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টার অগ্রভাগ হতে প্রথম জোড়া অন্তর্বাহী ধমনী উৎপন্ন হয়। এরা প্রথম ফুলকায় প্রবেশ করে। 

(ii) দ্বিতীয় অ্যাফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনীঃ ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টার মধ্যভাগ হতে দ্বিতীয় জোড়া অন্তর্বাহী ধমনী উৎপন্ন হয়। এরা দ্বিতীয় ফুলকায় প্রবেশ করে। 

(iii) তৃতীয় অ্যাফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনীঃ ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টার মধ্যভাগ হতে তৃতীয় জোড়া অন্তর্বাহী ধমনী উৎপন্ন হয়। এরা তৃতীয় ফুলকায় প্রবেশ করে। 

(রা) চতুর্থ অ্যাফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনীঃ ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টার গোড়া হতে চতুর্থ জোড়া অন্তর্বাহী ধমনী উৎপন্ন হয়। এরা চতুর্থ ফুলকায় প্রবেশ করে। 

প্রতিটি অন্তর্বাহী ব্রাঙ্কিয়াল ধমনী হতে শাখা ধমনী বের হয়। শাখা ধমনী প্রতিটি ফুলকার ল্যামিলায় রক্ত সরবরাহ করে।

 

২। বহির্বাহী বা ইফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনী (Efferent branchial artery)

যে সব ধমনী ফুলকা থেকে রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশে পৌছে দেয় তাদেরকে বহির্বাহী ধমনী বলে। চার জোড়া ফুলকা হতে জোড়া বহির্বাহী ধমনী উৎপন্ন হয়। প্রথম বহির্বাহী ধমনী সিউডোব্রাঙ্কে রক্ত পরিবহন করে। সিউডোব্রাঙ্ক হতে অপথ্যালমিক ধমনী দিয়ে রক্ত চোখে পৌছে। প্রথম দ্বিতীয় বহির্বাহী ব্রাঙ্কিয়াল ধমনী মিলিত হয়ে পার্শ্বীয় ধমনী গঠন করে। পার্শ্বীয় ধমনীর অগ্রভাগ হতে ক্যারোটিড ধমনী সৃষ্টি হয়। ক্যারোটিড ধমনী মস্তিস্কে রক্ত প্রদান করে। তৃতীয় চতুর্থ ফুলকা হতে উৎপন্ন বহির্বাহী ব্রাঙ্কিয়াল ধমনী প্রথমে একত্রে মিলিত হয় এবং পরে পার্শ্বীয় ধমনীর সাথে যুক্ত হয়। দুই দিকের পার্শ্বীয় ধমনী মিলিত হয়ে ডিম্বাকার ধমনী বলয় সৃষ্টি করে। একে সারকিউলাস সেফালিকাস বলে।

৩। ডর্সাল অ্যাওর্টা (Dorsal aorta)

পার্শ্বীয় ধমনী দুইটি পিছনের দিকে মিলিত হয়ে ডর্সাল অ্যাওর্টা গঠন করে। ডর্সাল অ্যাওর্টার শাখা গুলো হলো-

(i) সিলিয়াকো-মেসেন্টারিক ধমনীঃ ইহা বায়ুথলী, পাকস্থলী, অন্ত্র, যকৃত,অগ্ন্যাশয়, মলাশয় ও প্লিহায় রক্ত প্রদান করে।

(ii) সাব ক্ল্যাভিয়ান ধমনীঃ ইহা বক্ষচক্র এবং বক্ষ পাখনায় রক্ত সরবরাহ করে।

(iii) প্যারাইটাল ধমনীঃ ইহা দেহ প্রাচীরে রক্ত প্রদান করে।

(iv) পেলভিক/ইলিয়াক ধমনীঃ ইহা শ্রোণী পাখনায় রক্ত দান করে।

(v) রেনাল ধমনীঃ ইহা বৃক্কে রক্ত পরিবহন করে।

(vi) কড্যাল ধমনীঃ ইহা পুচ্ছে রক্ত প্রদান করে।

রুই মাছের ডর্সাল অ্যাওর্টা ।। Dorsal aorta ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

পার্শ্বীয় ধমনী দুইটি পিছনের দিকে মিলিত হয়ে ডর্সাল অ্যাওর্টা গঠন করে। ডর্সাল অ্যাওর্টার শাখা গুলো হলো-

(i) সিলিয়াকো-মেসেন্টারিক ধমনীঃ ইহা বায়ুথলী, পাকস্থলী, অন্ত্র, যকৃত,অগ্ন্যাশয়, মলাশয় ও প্লিহায় রক্ত প্রদান করে।

(ii) সাব ক্ল্যাভিয়ান ধমনীঃ ইহা বক্ষচক্র এবং বক্ষ পাখনায় রক্ত সরবরাহ করে।

(iii) প্যারাইটাল ধমনীঃ ইহা দেহ প্রাচীরে রক্ত প্রদান করে।

(iv) পেলভিক/ইলিয়াক ধমনীঃ ইহা শ্রোণী পাখনায় রক্ত দান করে।

(v) রেনাল ধমনীঃ ইহা বৃক্কে রক্ত পরিবহন করে।

(vi) কড্যাল ধমনীঃ ইহা পুচ্ছে রক্ত প্রদান করে।

সারকিউলাস সেফালিকাস কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

রুই মাছের তৃতীয় ও চতুর্থ ফুলকা হতে উৎপন্ন বহির্বাহী ব্রাঙ্কিয়াল ধমনী প্রথমে একত্রে মিলিত হয় এবং পরে পার্শ্বীয় ধমনীর সাথে যুক্ত হয়। দুই দিকের পার্শ্বীয় ধমনী মিলিত হয়ে ডিম্বাকার ধমনী বলয় সৃষ্টি করে। একে সারকিউলাস সেফালিকাস বলে।

রুই মাছের বহির্বাহী বা ইফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনী । Labeo rohita Efferent branchial artery | ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে সব ধমনী ফুলকা থেকে রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশে পৌছে দেয় তাদেরকে বহির্বাহী ধমনী বলে। চার জোড়া ফুলকা হতে জোড়া বহির্বাহী ধমনী উৎপন্ন হয়। প্রথম বহির্বাহী ধমনী সিউডোব্রাঙ্কে রক্ত পরিবহন করে। সিউডোব্রাঙ্ক হতে অপথ্যালমিক ধমনী দিয়ে রক্ত চোখে পৌছে। প্রথম দ্বিতীয় বহির্বাহী ব্রাঙ্কিয়াল ধমনী মিলিত হয়ে পার্শ্বীয় ধমনী গঠন করে। পার্শ্বীয় ধমনীর অগ্রভাগ হতে ক্যারোটিড ধমনী সৃষ্টি হয়। ক্যারোটিড ধমনী মস্তিস্কে রক্ত প্রদান করে। তৃতীয় চতুর্থ ফুলকা হতে উৎপন্ন বহির্বাহী ব্রাঙ্কিয়াল ধমনী প্রথমে একত্রে মিলিত হয় এবং পরে পার্শ্বীয় ধমনীর সাথে যুক্ত হয়। দুই দিকের পার্শ্বীয় ধমনী মিলিত হয়ে ডিম্বাকার ধমনী বলয় সৃষ্টি করে। একে সারকিউলাস সেফালিকাস বলে।

রুই মাছের অন্তর্বাহী বা অ্যাফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে সব ধমনী হৃৎপিন্ড থেকে CO2 যুক্ত রক্ত ফুলকাতে নিয়ে যায় তাদেরকে অন্তর্বাহী ব্রাঙ্কিয়াল ধমনী বলে। বাল্বাস অ্যাওর্টা থেকে ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টা উৎপন্ন হয় এবং হাইওয়েড ধমনী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টা থেকে চার জোড়া অন্তর্বাহী ব্রাঙ্কিয়াল ধমনী উৎপন্ন হয়ে।

(i) প্রথম অ্যাফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনীঃ ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টার অগ্রভাগ হতে প্রথম জোড়া অন্তর্বাহী ধমনী উৎপন্ন হয়। এরা প্রথম ফুলকায় প্রবেশ করে। 

(ii) দ্বিতীয় অ্যাফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনীঃ ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টার মধ্যভাগ হতে দ্বিতীয় জোড়া অন্তর্বাহী ধমনী উৎপন্ন হয়। এরা দ্বিতীয় ফুলকায় প্রবেশ করে। 

(iii) তৃতীয় অ্যাফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনীঃ ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টার মধ্যভাগ হতে তৃতীয় জোড়া অন্তর্বাহী ধমনী উৎপন্ন হয়। এরা তৃতীয় ফুলকায় প্রবেশ করে। 

(রা) চতুর্থ অ্যাফারেন্ট ব্রাঙ্কিয়াল ধমনীঃ ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টার গোড়া হতে চতুর্থ জোড়া অন্তর্বাহী ধমনী উৎপন্ন হয়। এরা চতুর্থ ফুলকায় প্রবেশ করে। 

প্রতিটি অন্তর্বাহী ব্রাঙ্কিয়াল ধমনী হতে শাখা ধমনী বের হয়। শাখা ধমনী প্রতিটি ফুলকার ল্যামিলায় রক্ত সরবরাহ করে।

রুই মাছের রক্ত সংবহন কৌশল । Labeo rohita blood circulation machanism । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

রুই মাছের প্রকোষ্ঠ উপপ্রকোষ্ঠ গুলোর কপাটিকা একমুখী ভাবে খোলে। কখনো পিছনের দিকে খোলে না। হৃৎপিন্ডের মধ্য দিয়ে একমুখী ভাবে দেহের পিছন হতে সামনের দিকে প্রবাহিত হয়। জন্য একে শিরা হৃৎপিন্ড বলা হয়। ইহা শুধু CO2 যুক্ত রক্ত বহন করে বলে একে ভেনাস হার্ট বলা হয়।

দেহের বিভিন্ন অংশ হতে শিরা, ডাক্টাস ক্যুভিয়ে এবং হেপাটিক সাইনাসের ভিতর দিয়ে রক্ত সাইনাস ভেনোসাসে আসে। সাইনাস ভেনোসাস সংকুচিত হয় এবং রক্ত অলিন্দে প্রবেশ করে। অলিন্দ রক্তপূর্ণ হলে সংকুচিত হয় এবং নিলয়ে রক্ত প্রবেশ করে। রক্তপূর্ণ নিলয় সংকুচিত হলে রক্ত বাল্বাস অ্যাওটাতে চলে যায়। বাল্বাস অ্যাওটা হতে রক্ত ফুলকায় প্রবেশ করে।

রুই মাছের হৃৎপিন্ডকে ভেনাস হার্ট বলা হয় ।। শিরা হৃৎপিন্ড বলা হয় । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে হৃৎপিন্ডের মধ্যে দিয়ে শিরাবাহিত CO2 যুক্ত রক্ত বাহিত হয় তাকে ভেনাস হার্ট বা শিরা হৃৎপিন্ড বলে। রুই মাছের দেহে পশ্চাৎ থেকে অগ্রভাগ পর্যন্ত একমুখী ভাবে CO2 যুক্ত রক্ত প্রবাহিত হয়। দেহের বিভিন্ন অংশ হতে সাইনাস ভেনোসাসে প্রবেশ করে। সাইনাস ভেনোসাস হতে রক্ত অলিন্দে আসে। অলিন্দ হতে রক্ত নিলয়ে পৌছে। এরপর নিলয় হতে CO2 যুক্ত রক্ত বাল্বাস আর্টারিওসাসে প্রবেশ করে। এভাবে রক্ত শিরা বাহিত হয়ে একমুখী ভাবে হৃৎপিন্ডের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। তাই রুই মাছের হৃৎপিন্ডকে ভেনাস হার্ট বা শিরা হৃৎপিন্ড বলে।

রুই মাছের হৃৎপিন্ডের গঠন । Labeo rohita heart । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

রুই মাছের হৃৎপিন্ড পেরিকার্ডিয়াল গহ্বরে  অবস্থান করে।  ইহা পেরিকার্ডিয়াম আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। হৃৎপিন্ডের প্রাচীরের হৃৎপেশি হৃৎস্পন্দন সৃষ্টি করে বলে একে মায়োজেনিক হার্ট বলা হয়। হৃৎপিন্ডের অংশগুলো হলো-

১। উপপ্রকোষ্ঠ বা সাইনাস ভেনোসাসঃ সাইনাস ভেনোসাস হলো ত্রিকোনাকৃতির এবং স্থিতিস্থাপক উপপ্রকোষ্ঠ। ইহা পাতলা প্রাচীর বিশিষ্ট। শিরা, ডাক্টাস ক্যুভিয়ে এবং হেপাটিক সাইনাস হতে রক্ত সাইনাস ভেনোসাসে আসে। সাইনাস ভেনোসাস হতে রক্ত অলিন্দে প্রবেশ করে।

২। অলিন্দঃ অলিন্দ হলো হৃৎপিন্ডের সবচেয়ে বড় প্রকোষ্ঠ। ইহা ত্রিকোনাকার, পেশিময় এবং পাতলা প্রাচীর বিশিষ্ট। এর এক প্রান্ত নিলয়ের সাথে এবং অপর প্রান্ত সাইনাস ভেনোসাসের সাথে যুক্ত থাকে। ইহা সাইনাস ভেনোসাস হতে ঈঙ২ যুক্ত রক্ত সংগ্রহ করে নিলয়ে পৌছে দেয়।

৩। নিলয়ঃ নিলয় হলো পেশিময়, মাংসাল এবং পুরু প্রাচীর বিশিষ্ট গহŸর। নিলয়ের এক প্রান্ত অলিন্দের সাথে এবং অপর প্রান্ত বাল্বাস আর্টারিওসাসের সাথে যুক্ত থাকে। ইহা CO2 যুক্ত রক্ত দ্বারা পূর্ণ থাকে।

৪। বাল্বাস আর্টারিওসাসঃ রুই মাছের হৃৎপিন্ডে কোনাস আর্টারিওসাস থাকে না। ধমনীর গোড়া স্ফীত হয়ে বাল্বাস আর্টারিওসাস গঠন করে। হৃৎপেশি বা পেরিকার্ডিয়াম আবরণী থাকে না বলে বাল্বাস আর্টারিওসাস হৃৎপিন্ডের অংশ নয়। ইহা হৃৎপিন্ড হতে রক্ত ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টায় পৌছে দেয়।

৫। হৃৎপিন্ডের কপাটিকাঃ রুই মাছের হৃৎপিন্ডে তিন ধরনের কপাটিকা থাকে।

(i) সাইনো-অ্যাট্রিয়াল কপাটিকাঃ ইহা সাইনাস ভেনোসাস ও অলিন্দের মাঝখানে থাকে।

(ii) অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার কপাটিকাঃ ইহা অলিন্দ ও নিলয়ের মাঝখানে থাকে।

(iii) ভেন্ট্রিকুলো-বাল্বাস কপাটিকাঃ ইহা নিলয় ও বাল্বাস অ্যাওর্টার মাঝখানে থাকে।