ঘাসফড়িং এর গুরুত্ব । Grasshopper । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। খাদ্য শৃঙ্খলঃ ঘাসফড়িং তৃণভূমির খাদ্য শৃঙ্খলের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য। ইহা খাদ্য শৃঙ্খলের শিকারী পোকা, মাকড়শা, সরীসৃপ, ব্যাঙ, মাকড়শা, পাখি প্রভৃতির প্রিয় খাদ্য।

২। মানুষের খাদ্য হিসেবেঃ ঘাসফড়িং প্রোটিনের অন্যতম উৎস। ইহা দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, জাপান, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন প্রভৃতি দেশের মানুষের একটি প্রিয় খাবার।

৩। পুষ্টি চক্রঃ ঘাসফড়িং এর মল, খোলস মৃতদেহ মাটির সাথে মিশে প্রকৃতির পুষ্টি চক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৪। বালাই হিসেবেঃ ঘাসফড়িং ঝাঁক বেঁধে ফসলের কচি ডগা কেটে দেয়। এতে ফসলের ক্ষতি হয়।

৫। পরজীবী হিসেবেঃ ঘাসফড়িং এর কয়েকটি প্রজাতি গোলকৃমি চ্যাপ্টাকৃমির মাধ্যমিক পোষক হিসেবে কাজ করে।

৬। ময়লাআবর্জনা ভক্ষণঃ ঘাসফড়িং পরিবেশের ময়লাআবর্জনা ঘাসপাতা খেয়ে থাকে।

ফেরোমোন হরমোন । Pheromone । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

স্ত্রী পতঙ্গের দেহ থেকে নিঃসৃত যে রাসায়নিক পদার্থ পুরুষ পতঙ্গকে যৌন মিলনে আকৃষ্ট করে তাকে ফেরোমোন বলে। একে সেক্স ফেরোমোনও বলা হয়। যেমন- ঘাসফড়িং, তেলাপোকা, মৌমাছি, পতঙ্গ প্রভৃতি। অন্যান্য ফেরোমোন হলো- অ্যালার্ম ফেরোমোন, টেরিটোরিয়াল ফেরোমোন, ট্রেইল ফেরোমোন, রিলিজার ফেরোমোন, প্রাইমার ফেরোমান, ঘ্রাণজ ফেরোমোন প্রভৃতি।

নিউরোজেনিক হার্ট । Neurogenic heart । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে হৃৎপিন্ডে হৃৎস্পন্দন গ্যাংগ্লিয়ন বা স্নায়ুগ্রন্থি দ্বারা উৎপন্ন হয় তাকে নিউরোজেনিক হার্ট বলে। যেমন- ঘাসফড়িং, তেলাপোকা, মৌমাছি, পতঙ্গ প্রভৃতি।

ঘাসফড়িং এর রুপান্তর হরমোন ।। Grasshopper metamorphosis hormone । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে সব হরমোন প্রাণীদের দেহের রুপান্তর ঘটাতে সাহায্য করে তাকে রুপান্তর হরমোন বলে।

১। প্রোথোরাসিকোট্রপিক হরমোনঃ প্রোথোরাসিকোট্রপিক হরমোন মস্তিস্কের ইন্টার সেরিব্রাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। একে মস্তিস্ক হরমোনও বলা হয়। ইহা প্রোথোরাসিক গ্রন্থিকে হরমোন নিঃসরণে উদ্দীপ্ত করে।

২। জুভেনাইন হরমোনঃ নিম্ফ দশায় কর্পোরা অ্যালাটা গ্রন্থি থেকে জুভেনাইন হরমোন নিঃসৃত হয়। ইহা নিম্ফ দশায় বৃদ্ধি ঘটায়।

৩। গোনাডোট্রপিক হরমোন ঃ প্রাপ্তবয়স্কদের কর্পোরা অ্যালাটা গ্রন্থি থেকে গোনাডোট্রপিক হরমোন নিঃসৃত হয়। ইহা জননাঙ্গের বৃদ্ধি ঘটায়।

৪। একডাইসন হরমোনঃ প্রোথোরাসিক গ্রন্থি হতে একডাইসন হরমোন নিঃসৃত হয়। ইহা নির্মোচন বা মোল্টিং নিয়ন্ত্রণ করে।

৫। গ্রোথ হরমোনঃ গ্রাসনালির দুই পাশে কর্পোরা কার্ডিয়াটা গ্রন্থি থাকে। এই গ্রন্থি থেকে গ্রোথ হরমোন নিঃসৃত হয়। গ্রোথ হরমোন দেহের বৃদ্ধি ঘটায়।

ঘাস ফড়িং-এর রুপান্তর । Grasshopper metamorphosis । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে প্রক্রিয়ায় ভ্রুণ পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনের মাধ্যমে পুর্ণাঙ্গ প্রাণীতে পরিনত হয় তাকে রুপান্তর বলে। ঘাস ফড়িং-এর রুপান্তর অসম্পুর্ণ বা হেমিমেটাবোলাস ধরনের। যে রুপান্তরে কোনো প্রাণীর শিশু অবস্থা পূর্ণাঙ্গ দশার সাথে আংশিক মিল হবহন করে তাকে অসম্পূর্ণ রুপান্তর বলে।

ঘাসফড়িং এর রুপান্তর প্রক্রিয়া

১। নিম্ফঃ পরিনত ভ্রুণ থেকে শিশু ফড়িং বের হয়ে আসে। শিশু ফড়িংকে নিম্ফ বলে। নিম্ফ আকারে ছোট, দেহ ফ্যাকাসে, ডানাবিহীন এবং অপরিনত জননাঙ্গ বিশিষ্ট। এর দেহ কিউটিকলের আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে।

২। ইমাগোঃ নিম্ফ ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। একডাইসন হরমোনের প্রভাবে এর কিউটিক্লের খোলস মোচন হয়। খোলস মোচন হওয়াকে Moulting বলে। পরিত্যক্ত খোলসকে এক্সুভি বলে। দুই বার খোলস মোচনের মধ্যবর্তী সময়কে স্টোডিয়াম বা ইনস্টার বলে। এদের দেহে ডানা প্যাড গঠিত হয়। প্রতিবার খোলস মোচনের পর নিম্ফ ও ডানা প্যাড বড় হয়। ১১-১২ বার খোলস বদলানোর পর নিম্ফ ইমাগোতে পরিনত হয়।

৩। পুর্ণাঙ্গ ফড়িংঃ ইমাগোই হলো পুর্ণাঙ্গ ফড়িং। তবে ইমাগো কিছু আনুসঙ্গিক পরিবর্তনের মাধ্যমে পুর্ণাঙ্গ প্রাণীতে পরিনত হয়। সাধারণত খোলস মোচনের মাধ্যমে ৯ মাস পর একটি পুর্ণাঙ্গ ফড়িং সৃষ্টি হয়।

ঘাস ফড়িং-এর জনন প্রক্রিয়া । Grasshopper Process of reproduction ।ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ঘাস ফড়িংএর জনন প্রক্রিয়া নিচে আলোচনা করা হলো।

১। যৌন মিলনঃ গ্রীষ্মের শেষ দিকে ঘাস ফড়িংএর যৌন মিলন ঘটে। সময় পুরুষ ফড়িং স্ত্রী ফড়িংএর দেহে সেমিনাল ফ্লুইড প্রবেশ করিয়ে দেয়। সেমিনাল ফ্লুইডে শুক্রাণু থাকে। ডিম না পাড়া পর্যন্ত শুক্রাণু গুলো স্ত্রী ফড়িংএর স্পার্মাথিকায় জমা থাকে।

২। নিষেকঃ শুক্রাণু ডিম্বাণুর মিলনকে নিষেক বলে। যৌন মিলনের পর শুক্রাণু স্ত্রীর শুক্রধানীতে জমা থাকে। স্ত্রী ফড়িংএর দেহের ভিতরে পরিনত ডিম্বাণু শুক্রাণুর মিলন ঘটে।

৩। ডিম পাড়াঃ মিলনের পর থেকে কিছু দিন পর পর স্ত্রী ফড়িং ডিম পাড়ে (সেন্ট্রোলেসিথাল) স্ত্রী ফড়িং ওভিপোজিটরের সাহায্যে ১০ সেমি গভীর একটি গর্ত করে। এরা মোট ১০টি গুচ্ছে ডিম পাড়ে। প্রতিটি গুচ্ছে ২০টি করে ডিম থাকে। ডিম গুলো মিমি লম্বা এবং ভাইটেলিন পর্দা কোরিয়ন দ্বারা আবৃত থাকে। ডিমগুলো একটি ডিমপাত্রে সঞ্চিত থাকে এবং সিমেন্ট জাতীয় পদার্থ দ্বারা আটকে থাকে।

৪। পরিস্ফুটনঃ যে প্রক্রিয়ায় ভ্রুণ থেকে পুর্ণাঙ্গ প্রাণীর সৃষ্টি হয় তাকে পরিস্ফুটন বলে। ঘাস ফড়িংএর নিষিক্ত ডিম্বাণুর তিন সপ্তাহ ধরে পরিস্ফুটন চলে। শীতকালে পরিস্ফুটন বন্ধ থাকে। সময়কে ডায়াপোজ বলে। ডায়াপোজের কারণে শিশু নিম্ফ শীতের হাত থেকে রক্ষা পায়। প্রথমে ক্লিভেজ প্রক্রিয়ায় বার বার বিভাজনের মাধ্যমে মাইক্রোমিয়ার ম্যাক্রোমিয়ার সৃষ্টি হয়। মাইক্রোমিয়ার ম্যাক্রোমিয়ার গুলো ব্লাস্টুলা দশা সৃষ্টি করে। ব্লাস্টুলা দশার ব্লাস্টোমিয়ার কোষ গুলো গ্যাস্ট্রুলা দশা সৃষ্টি করে। গ্যাস্ট্রুলা দশা থেকে ধাপে ধাপে শিশু নিম্ফ সৃষ্টি হয়। শিশু নিম্ফ খোলস বদলানোর মাধ্যমে ইমাগোতে পরিনত হয়। পরে ইমাগো থেকে পরিপুর্ণ ফড়িংএর জন্ম হয়।

ঘাসফড়িং স্ত্রীজননতন্ত্র । Grasshopper Female reproductive organs । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। ডিম্বাশয়ঃ ডিম্বাশয় হলো স্ত্রীজননতন্ত্রের মুখ্য অঙ্গ। প্রতিটি ডিম্বাশয় ৬-৮টি অণুডিম্বাশয় বা ওভারিওল দ্বারা গঠিত। অণুডিম্বাশয়  গুলোতে ডিম্বাণু থাকে।

২। ডিম্বনালীঃ ডিম্বাশয়ের অণুডিম্বাশয় গুলো মিলিত হয়ে একটি খাটো ও চওড়া ডিম্বনালী গঠন করে। এর মধ্য দিয়ে ডিম্বাণু যোনীতে প্রবেশ করে।

৩। যোনীঃ দুপাশের দুটি ডিম্বনালী মিলিত হয়ে যোনী গঠন করে। ইহা ৭ম খন্ডকের ওভিপোজিটরের মাঝে অবস্থিত। যোনী হলো একটি পেশিবহুল প্রকোষ্ঠ। ইহা ডিম্বাণুকে জননথলীতে পৌছে দেয়।

৪। শুক্রধানিঃ ডিম্বনালীর মাঝখানে একজোড়া অসম অঙ্গ থাকে। এদের স্পার্মাথিকি বলে। এর নালীকে স্পার্মাথিকা নালী বলে। স্পার্মাথিকা পৃথক ছিদ্র পথে যোনীতে উন্মুক্ত হয়। ইহা শুক্রাণুকে সাময়িক সময়ের জন্য জমা রাখে।

৫। জননথলীঃ যোনীর পরবর্তী অংশকে জনন থলী বলে।

৬। জনন ছিদ্রঃ জনন থলীর ছিদ্রকে জনন ছিদ্র বলে। এর মধ্য দিয়ে শুক্রাণু ভিতরে প্রবেশ করে।

৭। সহায়ক গ্রন্থিঃ প্রতিটি ডিম্বাশয়ের উপরিভাগে একটি সহায়কগ্রন্থি বা কোলেটেরিয়াল গ্রন্থি থাকে। ইহা ডিম্বনালির মাধ্যমে যোনিতে উন্মুক্ত হয়। এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত আঠালো তরলডিমকে গুচ্ছাবদ্ধ রাখে।

ঘাসফড়িং এর পুংজননতন্ত্র । Male reproductive organs । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। শুক্রাশয়ঃ ইহা পুংজননতন্ত্রের মুখ্য অঙ্গ। দেহের ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম খন্ডকে শুক্রাশয় অবস্থিত। প্রতিটি

শুক্রাশয় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফলিকল (৩০-৪০) দ্বারা গঠিত হয়। ফলিকলের ভিতরে শুক্রাণু উৎপন্ন হয়। শুক্রাণু গুলো ভাসা ইফারেনসিয়া নামক নালিকার মাধ্যমে বের হয়।

২। শুক্রনালীঃ শুক্রাশয়ের পিছনের দিকে সাদা, স্থিতিস্থাপক ও সরু সুতার মতো শুক্রনালী থাকে। ইহা শুক্রাণু বহন করে।

৩। শুক্রাধারঃ প্রতিটি শুক্রনালীর শেষ প্রান্ত স্ফীত হয়ে থলীর মতো গঠন সৃষ্টি করে। একে শুক্রাধার বলে। এতে সাময়িক সময়ের জন্য শুক্রাণু জমা থাকে।

৪। ক্ষেপন নালীঃ দুটি শুক্রনালী নবম খন্ডকে মিলিত হয়ে ক্ষেপননালী গঠন করে। এর মাধ্যমে শুক্রাণু জনন থলীতে প্রবেশ করে।

৫। জনন থলীঃ পুংজননতন্ত্রে বিদ্যমান ক্ষুদ্র প্রকোষ্ঠ হলো জনন থলী। এতে শুক্রাণু অবস্থান করে।

৬। জননছিদ্রঃ জনন থলীর ছিদ্রকে জননছিদ্র বলে। এর মধ্য দিয়ে শুক্রাণু দেহের বাইরে নির্গত হয়।

৭। সহায়ক গ্রন্থিঃ পুংজননতন্ত্রে লম্বা নালিগুচ্ছবিশিষ্ট একজোড়া সহায়ক গ্রন্থি থাকে। ইহা ক্ষেপন নালিতে উন্মুক্ত হয়। এই গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত তরলে শুক্রাণু নিমজ্জিত থাকে এবং পুষ্টি গ্রহণ করে।

ঘাস ফড়িং-এর প্রতিবিম্ব সৃষ্টির পদ্ধতি । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ঘাসফড়িং-এর ওমাটিডিয়ামে প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। ওমাটিডিয়ামের ডাই-অপট্রিক্যাল অঞ্চল দিকে আলো প্রবেশ করে এবং রেটিনাল অঞ্চলে প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।  উজ্জ্বল আলোতে অ্যাপজিশন এবং মৃদু আলোতে সুপার পজিশন প্রতিবিম্ব গঠন করে। নিচে প্রক্রিয়া দুটি বর্ণনা করা হলো।

১। মোজাইক প্রতিবিম্ব (Apposition)ঃ উজ্জ্বল আলোয় প্রতিটি ওমাটিডিয়াম স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারে। উজ্জ্বল আলোতে ওমাটিডিয়ামের আইরিশ এবং রেটিনাল সিথ প্রসারিত হয়। ফলে ক্রিস্টালাইন কোণ্ আবৃত হয়ে যায়। বস্তু থেকে আলোক রশ্মি কর্ণিয়ার মধ্য দিয়ে সরাসরি র‌্যাবডোমে প্রবেশ করে। এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র একটি ওমাটিডিয়ামের কর্ণিয়া থেকে আগত আলোক রশ্মি র‌্যাবডোমে পৌছে। পার্শ্ববর্তী কোন ওমাটিডিয়ামের আলোকরশ্মি ঐ র‌্যাবডোমে প্রবেশ করে না। ফলে একটি ওমাটিডিয়ামে একটি প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। এ অবস্থায় প্রতিবিম্বটিকে মোজাইক করা মেঝের পাথরের মতো মনে হয়। তাই একে মোজাইক প্রতিবিম্ব বলা হয়।

২। সুপার পজিশন প্রতিবিম্ব (Super position)ঃ মৃদু আলোয় প্রতিটি ওমাটিডিয়াম স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারে না। অনুজ্জ্বল আলোতে ওমাটিডিয়ামের আইরিশ এবং রেটিনাল সিথ সঙ্কুুচিত হয়। ফলে ক্রিস্টালাইন কোণ্ অনাবৃত হয়ে যায়। বস্তু থেকে আলোক রশ্মি কর্ণিয়ার মধ্য দিয়ে র‌্যাবডোমে প্রবেশ করে। এ ক্ষেত্রে একটি ওমাটিডিয়ামের কর্ণিয়া থেকে আগত আলোক রশ্মি ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ওমাটিডিয়াম থেকে আলোকরশ্মি একই র‌্যাবডোমে প্রবেশ করে। ফলে একটি অস্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। একে সুপার পজিশন প্রতিবিম্ব বলা হয়।

সুপার পজিশন প্রতিবিম্ব ।। Super position । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

মৃদু আলোয় প্রতিটি ওমাটিডিয়াম স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারে না। অনুজ্জ্বল আলোতে ওমাটিডিয়ামের আইরিশ এবং রেটিনাল সিথ সঙ্কুুচিত হয়। ফলে ক্রিস্টালাইন কোণ্ অনাবৃত হয়ে যায়। বস্তু থেকে আলোক রশ্মি কর্ণিয়ার মধ্য দিয়ে র‌্যাবডোমে প্রবেশ করে। এ ক্ষেত্রে একটি ওমাটিডিয়ামের কর্ণিয়া থেকে আগত আলোক রশ্মি ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ওমাটিডিয়াম থেকে আলোকরশ্মি একই র‌্যাবডোমে প্রবেশ করে। ফলে একটি অস্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। একে সুপার পজিশন প্রতিবিম্ব বলা হয়।