শর্করা একটি জটিল জৈব রাসায়নিক পদার্থ। জীবদেহের জন্য ইহা জটিল, অদ্রবণীয় ও অশোষণযোগ্য। ইহা জীবদেহে কোন উপকারে আসে না। বিভিন্ন ধরনের এনজাইমের কার্যকারীতায় শর্করা পরিপাক হয়ে গ্লাকোজ, ফ্রুক্টোজ ও গ্যালাকটোজে পরিনত হয়। গ্লাকোজ, ফ্রুক্টোজ ও গ্যালাকটোজ দেহের জন্য সরল, দ্রবণীয় ও শোষণযোগ্য। আমাদের দেহকোষ গ্লাকোজ ও ফ্রুক্টোজ পরিশোষণ করে। পরে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ দেহ গঠন ও প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপন্ন করে। নিচে শর্করা পরিপাকের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করা হলো।
১। শক্তির উৎসঃ জীবদেহে শক্তির প্রধান উৎস হলো শর্করা। শর্করা জারিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন করে। এর অভাবে দেহে শক্তির ঘাটতি দেখা দেয় এবং শরীর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।
২। সঞ্চিত খাদ্য হিসেবেঃ শর্করা পরিপাক হয়ে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ উৎপন্ন করে। গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ জীবদেহে সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে জমা থাকে।
৩। রোগীর পথ্য হিসেবেঃ গ্লুকোজ সরল ও দ্রবণীয় বলে রোগীর পথ্য হিসেবে কাজ করে। তাই অসুস্থ ও দুর্বল ব্যক্তিদের জন্য শর্করা দ্রæত পরিপাক হওয়া দরকার।
৪। দৈহিক বৃদ্ধিঃ দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য পরিমাণ মত গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ অত্যাবশ্যক।
৫। ভিটামিন তৈরীঃ শর্করা পরিপাক হয়ে গ্লুকোজে পরিনত হয়। গ্লুকোজ জীবদেহে ভিটামিন–সি তৈরী করে।
৬। গাঠনিক উপাদানঃ সেলুলোজ ও হেমিসেলুলোজ উদ্ভিদের গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে।
৭। রক্তের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণঃ যকৃতের গ্লাইকোজেন গ্লুকোজে পরিনত হয়। এই গ্লুকোজ জীবদেহে রক্তের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।
জীবদেহে শক্তির প্রধান উৎস হলো শর্করা। দেহের প্রয়োজনীয় সকল শক্তি যোগান দেয় শর্করা। দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং দেহকে সুস্থ রাখার জন্য পরিমাণ মত গ্লুকোজ গ্রহণ করা দরকার। তবে রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ থাকলে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।