প্রজাতি ।। Species ।। ড. সিদ্দিকি পাবলকিশেন্স

দৈহিক দিক থেকে সর্বাধিক মিল সম্পন্ন এক দল জীব গোষ্ঠি যারা নিজেদের মধ্যে যৌন মিলনের মাধ্যমে উর্বর সন্তান উৎপাদনে সক্ষম, কিন্তু অন্য গোষ্ঠির সাথে যৌন মিলনের মাধ্যমে উর্বর সন্তান উৎপাদনে অসক্ষম তাদেরকে প্রজাতি বলে। ১৬৮৬ সালে John Ray সর্বপ্রথম Species শব্দটি ব্যবহার করেন।

হটস্পট ।। Hot spot ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ অঞ্চল গুলোকে হটস্পট বলে। যেমন- ইন্দো-বার্মা হটস্পট। বাংলাদেশের সিলেট, চট্রগ্রাম ও পার্বত্য চট্রগ্রাম ইন্দো-বার্মা হটস্পট এর অন্তর্গত।

উপাত্ত স্বল্পতা ।। Data deficient

যে সব প্রজাতির প্রাণী সম্পর্কে কোন বৈজ্ঞানিক উপাত্ত নাই তাদেরকে উপাত্ত স্বল্পতা প্রজাতি বলে। যেমন- গুইল্যা ট্যাংরা- Mystus gulio

জীববৈচিত্র্যতা।। Biodiversity

গ্রিক শব্দ Bios অর্থ জীব বা জীবন এবং diversity অর্থ বৈচিত্র্যতা বা ভিন্নতা নিয়ে Biodiversity শব্দটি গঠিত। জীবের জীবন বৈচিত্র্যময়তাকেই জীববৈচিত্র্যতা বলে। কোন নির্দিষ্ট সময়ে কোন নির্দিষ্ট পরিবেশে বসবাসকারী সকল জীবের মধ্যে যে পার্থক্য বা বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে জীববৈচিত্র্য বা বায়োডাইভারসিটি বলে। সর্বপ্রথম ১৯৮৬ সালে বিজ্ঞানী Walter G. Rosen জীববৈচিত্র্য বা Biodiversity শব্দটি ব্যবহার করেন।

 

প্রাণীর বৈশিষ্ট্য ।। অ্যানিমালিয়ার বৈশিষ্ট্য

১। খাদ্য গ্রহণঃ প্রাণীরা পরভোজী। এদের খাদ্য গ্রহণ গলাধঃকরণ প্রক্রিয়ায় ঘটে।

২। পুষ্টিঃ এদের পুষ্টি হলো হলোজোয়িক।

৩। চলনঃ অধিকাংশ প্রাণী চলাচলে সক্ষম।

৪। কোষ বিভাজনঃ মাইটোসিস মায়োসিসের মাধ্যমে কোষ বিভাজন ঘটে।

৫। সঞ্চালনঃ দেহের ভিতরে রক্ত এবং অন্যান্য তরল পদার্থের সঞ্চালন ঘটে।

৬। জনন পদ্ধতিঃ এদের জনন পদ্ধতি অন্ডজ, অন্ডজরায়ুজ জরায়ুজ হতে পারে।

৭। জড় প্রাচীরবিহীন কোষঃ প্রাণীদের কোষে কোন কোষ প্রাচীর থাকে না।

৮। সুরক্ষা আবরণীঃ প্রাণী কোষের বাইরে কোষস্তর, ত্বক, লোম, পালক, আঁইশ প্রভৃতি সুরক্ষা আবরণী থাকে।

৯। উদ্দীপনাঃ এরা যে কোন উদ্দীপনায় সাড়া দেয়।

১০। বর্জ্য পদার্থ ত্যাগঃ প্রাণীরা দেহ থেকে ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ ত্যাগ করে।

১১। শ্বসনঃ এদের শ্বসন ঘটে।

১২। ভারবহনঃ এরা ভারবহন করতে পারে।

প্রাণীবিজ্ঞানের সংজ্ঞা।। Zoology ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

শব্দ zoon অর্থ animal বা প্রাণী এবং logos অর্থ knowlege বা জ্ঞান নিয়ে Zoology শব্দটি গঠিত। জীববিজ্ঞানের যে শাখায় প্রাণীর আকার, আচরণ, আকৃতি, গঠন, শারীরবৃত্ত, বাসস্থান, প্রজনন, উৎপত্তি, বিস্তৃতি, খাদ্য গ্রহণ, বংশবৃদ্ধি, শ্রেণীবিভাগ, জীবনচক্র, অভিযোজন, বিবর্তন, অর্থনৈতিক গুরুত্ব প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয় তাকে প্রাণীবিজ্ঞান (Zoology) বলে। গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল (Aristotle)-কে প্রাণিবিজ্ঞানের জনক (Father of Zoology) বলা হয়।

নন-ডিসজাংশন।। Non-disjunction

মায়োসিস-১ দশায় ক্রোমোসোম এবং মায়োসিস-২ দশায় ক্রোমাটিড স্বাভাবিকভাবে পৃথকীকরণ না হলে তাকে নন-ডিসজাংশন বলে। নন-ডিসজাংশনের কারণে জননকোষে কোন ক্রোমোসোম অনেক বেশি অথবা অনেক কম থাকে। কোহেসিন প্রোটিনের কারণে ডিম্বাণুতে নন-ডিসজাংশনের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। নন-ডিসজাংশনের কারণে মানব শিশুর জিনগত যেসব অস্বাভাবিকতা দেখা যায় তা হলো-

১। পাটাও সিনড্রমঃ মানুষের ১৩নং ক্রোমোসোমে ট্রাইসোমি ঘটলে পাটাও সিনড্রম হয়।

২। এডওয়ার্ড সিনড্রমঃ মানুষের ১৮নং ক্রোমোসোমে ট্রাইসোমি ঘটলে এডওয়ার্ড সিনড্রম হয়।

৩। ডাউন সিনড্রমঃ মানুষের ২১নং ক্রোমোসোমে ট্রাইসোমি ঘটলে ডাউন সিনড্রম হয়।

৪। ক্লিনফেল্টার সিনড্রমঃ পুরুষের জাইগোটে X ক্রোমোসোম বেশি থাকলে ক্লিনফেল্টার সিনড্রম হয়। (XXY)

৫। XYY সিনড্রমঃ পুরুষের জাইগোটে একটি Y ক্রোমোসোম বেশি থাকলে XYY সিনড্রম হয়।

৬। টার্নার সিনড্রমঃ মহিলাদের জাইগোটে একটি X ক্রোমোসোম কম থাকলে টার্নার সিনড্রম হয়।

৭। ট্রিপল X সিনড্রমঃ মহিলাদের জাইগোটে একটি X ক্রোমোসোম বেশি থাকলে ট্রিপল X সিনড্রম হয়। (XXX)

পোলারাইজড ।। Polarize

প্রাণিকোষে ক্রোমোসোম গুলো নিউক্লিয়ার মেমব্রেনের কাছে জড়ো হয়ে ফুলের তোড়ার মতো গঠন  সৃষ্টি করে। একে পোলারাইজড বিন্যাস বলে।

মাইটোজেন ।। Mitogen

যে সব পদার্থ কোষ বিভাজনে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে তাকে মাইটোজেন বলে। কয়েকটি মাইটোজেন হলো- সাইটোকাইনিন, স্টেরয়েড, লিম্ফোকাইন ইত্যাদি।

ক্রসিংওভারের প্রভাবক ।। Catalyser of Crossing Over

১। উচ্চ তাপমাত্রাঃ উচ্চ তাপমাত্রা বিকিরণ ক্রসিংওভার সংঘটন প্রবণতা বৃদ্ধি করে।

২। বয়োঃবৃদ্ধিঃ জীবের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে ক্রসিংওভার সংঘটন প্রবণতা হ্রাস পায়। 

৩। মিউটেশনঃ মিউটেশনের কারণে ক্রসিংওভারের মাত্রা হ্রাস পায়।

৪। ইনভারশনঃ ইনভারশন ক্রসিংওভার  প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়।

৫। ইন্টারফারেন্সঃ ক্রোমোসোমের যে স্থানে কায়াজমা সৃষ্টি হয় তার কাছাকাছি স্থানে আরেকটি কায়াজমা সৃষ্টি বাধাগ্রস্থ হয়। ঘটনাকে ইন্টারফারেন্স বলে।

৬। রেডিওমিমেটিক পদার্থঃ যে সব রাসায়নিক পদার্থ সোমাটিক ক্রসিংওভারের হার বৃদ্ধি করে তাকে রেডিওমিমেটিক পদার্থ বলে। যেমনইথাইলমিথেন সালফোনেট।

৭। রাসায়নিক পদার্থঃ বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ক্রসিংওভার হ্রাস করে। যেমনকলচিসিন, সেলিনিয়াম প্রভৃতি।