গ্লুকোজের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, ধর্ম, শ্রেণীবিভাগ ও ব্যবহার ।। Glucose

গ্লুকোজ হলো ছয় কার্বনবিশিষ্ট মনোস্যাকারাইড। ইহা একটি রিডিউসিং শ্যুগার। এর আণবিক সংকেত । এতে অ্যালডিহাইড মূলক থাকায় একে অ্যালডোহেক্সোজ বলে। পাঁকা ফল এবং মধুতে প্রচুর পরিমাণে গ্লুকোজ থাকে। পাকা ফলে ১২-৩০% গ্লুকোজ থাকে বলে একে গ্রেইপ শ্যুগার বা আঙ্গুরের শর্করা বলা হয়। একে ডেক্সট্রোজ, কর্ন শ্যুগার, গ্রেপ শ্যুগার, রক্ত শর্করা ও D-গ্লুকোজ নামে অভিহিত করা হয়। এর আপেক্ষিক মিষ্টতা ৭৪। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহে গ্লুকোজ উৎপন্ন হয়। তবে উদ্ভিদদেহে শর্করা কখনো জমা থাকে না। ইহা শ্বসনের প্রাথমিক উপাদান হিসেবে কাজ করে।

 

গ্লুকোজের বৈশিষ্ট্য /ধর্ম

(i) গ্লুকোজ একটি সরল শর্করা।

(ii) ইহা সাদা দানাদার পদার্থ।

(iii) এটি মিষ্টি স্বাদ যুক্ত।

(iv) ইহা পানিতে দ্রবণীয়।

(v) ইহা অ্যালকোহলে সামান্য দ্রবণীয়, কিন্তু ইথারে অদ্রবণীয়।

(vi) এতে অ্যালডিহাইড গ্রুপ থাকে। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(vii) একে অ্যালডোজ সুগার বলা হয়।

(viii) ইহা একটি বিজারক শর্করা।

(ix) প্রাণীদেহে গ্লুকোজ প্রোটিনের সাথে যুক্ত হয়ে গ্লাইকোপ্রোটিন গঠন করে।

(x) ইহা ফসফোরিক এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে এস্টার গঠন করে।

(xi) এর গলনাঙ্ক ১৪৬ ডিগ্রী সে. (α- D গ্লুকোজ) এবং ১৫০ ডিগ্রী সে. (β- D গ্লুকোজ)।

 

বিভিন্ন ধরনের গ্লুকোজ

(i) D গ্লুকোজ (Dextrorotatory)ঃ গ্লুকোজের ৫নং কার্বনের ডান দিকে হাইড্রোক্সিল  (OH) মূলক যুক্ত  থাকলে

তাকে dextrorotatory বা D গ্লুকোজ বলে। এর ঘূর্ণনের দিক কাইরাল কেন্দ্রের ডানে। ইহা আলোক সক্রিয়ক। প্রাকৃতিক সকল গ্লুকোজই D গ্লুকোজ। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(ii) L গ্লুকোজ (Laevorotatory)ঃ গ্লুকোজের ৫নং কার্বনের বাম দিকে হাইড্রোক্সিল (OH) মূলক যুক্ত থাকলে তাকে Laevorotatory বা L গ্লুকোজ বলে। এর ঘূর্ণনের দিক কাইরাল কেন্দ্রের বামে। ইহা আলোক সক্রিয়ক। ডায়াবেটিসের ওষুধ এবং এন্ডোস্কোপির কাজে ব্যবহারের জন্য L গ্লুকোজ কৃত্রিম ভাবে তৈরী করা হয়। (যে কেন্দ্র বরাবর কার্বন অণুগুলো পরস্পর যুক্ত থাকে তাকে কাইরাল কেন্দ্র বলে)। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(iii) α- D গ্লুকোজ এবং β- D গ্লুকোজঃ গ্লুকোজের ১নং কার্বন ৫নং কার্বনের নিকটে আসলে একটি অক্সিজেন সেতু তৈরী হয়। ফলে একটি রিং স্ট্রাকচার সৃষ্টি হয়। রিং স্ট্রাকচারের কারণে একটি -OH গ্রুপ উৎপন্ন হয়। -OH গ্রুপটি গ্লুকোজের ১নং কার্বনের নিচের দিকে থাকলে তাকে α- D গ্লুকোজ এবং গ্লুকোজের ১নং কার্বনের উপরের দিকে থাকলে তাকে β- D গ্লুকোজ বলে। α-গ্লুকোজ গঠন করে স্টার্চ এবং β-গ্লুকোজ গঠন করে সেলুলোজ। উদ্ভিদ দেহে সব সময়ই D গ্লুকোজ থাকে।

 

গ্লুকোজের ব্যবহার

(i) গ্লুকোজ রোগীর পথ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। দ্রæত রোগীর শক্তি যোগায়।

(ii) ইহা ফল সংরক্ষণে ব্যবহার হয়। ফলের পচনরোধ করে।

(iii) রিচস্টিন প্রক্রিয়ায় জীবাণু থেকে ভিটামিন সি তৈরীতে D-গ্লুকোজ ব্যবহার হয়।

(iv) ক্যালসিয়াম গ্লুকোনেট ওষুধ তৈরীতে গ্লুকোজ ব্যবহার হয়।

(v) জীবদেহে কার্বোহাইড্রেট বিপাকে এর ভুমিকা রয়েছে।

(vi) সাইট্রিক এসিড, গ্লুকোনিক এসিড,বায়ো-ইথানল, সারবিটাল প্রভৃতি তৈরীতে ইহা ব্যবহার হয়।

(vii) ইহা অসুস্থ মানুষের শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(viii) গ্লুকোজ থেকে গ্লাইকোপ্রোটিন ও গ্লাইকোলিপিড তৈরী হয়।

(ix) গ্লাইকোলাইসিস প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ ব্যবহার হয়ে শক্তি উৎপন্ন করে।

ডিঅক্সিরাইবোজ ।। Deoxyribose

ডিঅক্সিরাইবোজ  হলো পাঁচ  কার্বনবিশিষ্ট  মনোস্যাকারাইড।  ইহা  একটি রিডিউসিং  শ্যুগার।  এর  আণবিক  সংকেত C5H10O4। ১৯২৯ সালে বিজ্ঞানী ফোয়েবাস লেভেন (Phoebus Levene) ইহা আবিষ্কার করেন। এতে অ্যালডিহাইড গ্রুপ থাকায় একে অ্যালডোপেন্টোজ শ্যুগার বলা হয়। ডিঅক্সিরাইবোজ বিজারণ ক্ষমতা সম্পন্ন। এর ২নং কার্বনের সাথে অক্সিজেন থাকে না বলে ডিঅক্সিরাইবোজ নামকরণ করা হয়েছে। ডিঅক্সিরাইবোজ DNA তৈরীর একক হিসেবে কাজ করে। ডিঅক্সিরাইবোজের ১নং কার্বনের সাথে পিউরিন অথবা পাইরিমিডিন ক্ষারক যুক্ত হয়ে ডিঅক্সিনিউক্লিওসাইড উৎপন্ন করে। ডিঅক্সিনিউক্লিওসাইড এবং অজৈব ফসফেট মিলিত হয়ে ডিঅক্সিনিউক্লিওটাইড গঠন করে। ডিঅক্সিনিউক্লিওটাইড গুলো মিলিত হয়ে DNA গঠন করে। DNA জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যাবলী বংশানুক্রমে স্থানান্তর করে।

রাইবুলোজ ।। Ribulose

রাইবুলোজ হলো পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট মনোস্যাকারাইড। ইহা একটি রিডিউসিং শ্যুগার। এর আণবিক সংকেত C5H10O5 । এতে একটি কিটো গ্রুপ থাকায় একে কিটোপেন্টোজ শ্যুগার বলা হয়। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় রাইবুলোজ CO2 গ্রাহক হিসেবে কাজ করে এবং রাইবুলোজ ১, ৫ বিসফসফেট উৎপন্ন করে। রাইবুলোজ ১, ৫ বিসফসফেট বিজারিত হয়ে কার্বোক্সিল যৌগ গঠন করে। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

রাইবোজ ।। Ribose

রাইবোজ হলো পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট একটি মনোস্যাকারাইড। একে D-রাইবোজ বলা হয়। ১৮৯১ সালে বিজ্ঞানী ইমিল ফিসার (Emil Fisher) রাইবোজ আবিষ্কার করেন। এর আণবিক সংকেত C5H10O5। এর গলনাঙ্ক ৯৫ ডিগ্রী সে.। ইহা একটি রিডিউসিং শ্যুগার। এতে অ্যালডিহাইড গ্রুপ থাকায় একে অ্যালডোপেন্টোজ শ্যুগার বলা হয়। রাইবোজ বিজারণ ক্ষমতা সম্পন্ন। ইহা Hcl-এর সাথে বিক্রিয়া করে ফারফিউরিক এসিড উৎপন্ন করে। রাইবোজ RNA তৈরীর একক হিসেবে কাজ করে। পিউরিন অথবা পাইরিমিডিন ক্ষারক রাইবোজের সাথে যুক্ত হয়ে নিউক্লিওসাইড উৎপন্ন করে। নিউক্লিওসাইড অজৈব ফসফেটের সাথে যুক্ত হয়ে নিউক্লিওটাইড গঠন করে। নিউক্লিওটাইড গুলো পরে মিলিত হয়ে RNA গঠন করে। ফটোফসফোরাইলেশন প্রক্রিয়ায় শর্করা সৃষ্টিতে রাইবোজ সাহায্য করে। ATP, NAD+, NADP+, FAD, Co-A প্রভৃতি জৈব অণুর সাথে রাইবোজ যুক্ত থাকে। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

 

পলিস্যাকারাইডের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও শ্রেণীবিভাগ ।। Polysaccharide

গ্রীক শব্দ poly অর্থ অনেক এবং saccharin অর্থ চিনি নিয়ে Polysaccharide শব্দটি গঠিত। যে সব কার্বোহাইড্রেটকে ভাঙ্গলে বা বিশ্লেষণ করলে অসংখ্য অণু (১০ এর অধিক) মনোস্যাকারাইড পাওয়া যায় তাদেরকে পলিস্যাকারাইড বলে। এদের সাধারণ সংকেত (C6H10O5)n। যেখানে 10 ≥ n  ≤ 3000|

 

পলিস্যাকারাইডের বৈশিষ্ট্য

(i) এটি একটি জটিল শর্করা।

(ii) একে আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে অসংখ্য অণু মনোস্যাকারাইড পাওয়া যায়।

(iii) এটি একটি বৃহৎ অণু।

(iv) এর আণবিক ওজন ১০,০০০ ডাল্টনের বেশি।

(v) এটি স্বাদে মিষ্টি নয়।

(vi) ইহা অদানাদার এবং পানিতে অদ্রবণীয়।

(vii) এতে অ্যালডিহাইড ও কিটোন মূলক থাকে না।

(viii) ইহা একটি অবিজারক সুগার।

 

১। কাজ ভিত্তিক শ্রেণীবিভাগঃ

কাজের উপর ভিত্তি করে পলিস্যাকারাইডকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।

(i) সঞ্চিত পলিস্যাকারাইডঃ যে সব কার্বোহাইড্রেট জীবদেহে সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে জমা থাকে তাকে সঞ্চিত পলিস্যাকারাইড বলে। যেমন- স্টার্চ,  গ্লাইকোজেন, ইনুলিন, ডেক্সটিন, প্যারামাইলাম, লিভান ইত্যাদি। উদ্ভিদ দেহে স্টার্চ এবং প্রাণীদেহে গ্লাইকোজেন প্রধান সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে জমা থাকে। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(ii) গাঠনিক পলিস্যাকারাইডঃ যে সব কার্বোহাইড্রেট উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর গঠন করে তাকে গাঠনিক পলিস্যাকারাইড বলে। যেমন- সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ, পেকটিক এসিড, কাইটিন, কেরাটিন সালফেট ইত্যাদি। সেলুলোজ হলো কোষ প্রাচীরের প্রধান গাঠনিক উপাদান।

(iii) জটিল পলিস্যাকারাইডঃ যে সব পলিস্যাকারাইড শর্করা ও অশর্করা দ্বারা গঠিত তাকে জটিল পলিস্যাকারাইড বলে। যেমন-মিউকোপলিস্যাকারাইড, অ্যাগার, হায়ালুরোনিক এসিড, কনড্রয়টিন সালফেট, হেপারিন প্রভৃতি। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

 

২। গঠনগত শ্রেণীবিভাগ

গঠনের উপর ভিত্তি করে পলিস্যাকারাইডকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়।

(i) হোমোপলিস্যাকারাইড বা হোমোগ্লাইকেনঃ যে সব কার্বোহাইড্রেট একই ধরনের মনোস্যাকারাইড দ্বারা গঠিত তাদেরকে হোমোপলিস্যাকারাইড বা হোমোগ্লাইকেন বলে। যেমন- স্টার্চ, সেলুলোজ, গ্লাইকোজেন, ইনুলিন ইত্যাদি।

(ii) হেটারোপলিস্যাকারাইড বা হেটারোগ্লাইকেনঃ যে সব কার্বোহাইড্রেট দুই বা ততোধিক প্রকার মনোস্যাকারাইড দ্বারা গঠিত তাদেরকে হেটারোপলিস্যাকারাইড বা হেটারোগ্লাইকেন বলে। যেমন- হেমিসেলুলোজ, মিউকোপলিস্যাকারাইড, পেকটিন, কাইটিন, অ্যাগার ইত্যাদি।

৩। একক ভিত্তিক শ্রেণীবিভাগঃ গঠনগত এককের ভিত্তিতে পলিস্যাকারাইড কয়েক প্রকার-

(i) গ্লুকোসানঃ যে পলিস্যাকারাইড গ্লুকোজ দ্বারা গঠিত তাকে গ্লুকোসান বলে।

(ii) ফ্রুক্টোসানঃ যে পলিস্যাকারাইড ফ্রুক্টোজ দ্বারা গঠিত তাকে ফ্রুক্টোসান বলে।

(iii) গ্যালাক্টাসানঃ যে পলিস্যাকারাইড গ্যালাক্টোজ দ্বারা গঠিত তাকে গ্যালাক্টাসান বলে।

(iv) হেক্সোসানঃ যে পলিস্যাকারাইড ছয় কার্বনবিশিষ্ট মনোস্যাকারাইড দ্বারা গঠিত তাকে হেক্সোসান বলে।

অলিগোস্যাকারাইডের বৈশিষ্ট্য, শ্রেণীবিভাগ ও উদাহরণ ।। Oligosaccharide

গ্রীক শব্দ oligo অর্থ কয়েকটি এবং saccharin অর্থ চিনি নিয়ে Olygosaccharide শব্দটি গঠিত। Olygosaccharide এর অর্থ কয়েকটি চিনি। যে সব কার্বোহাইড্রেটকে ভাঙ্গলে বা বিশ্লেষণ করলে কয়েক অণু মনোস্যাকারাইড (৩-১০ অণু) পাওয়া যায় তাদেরকে অলিগোস্যাকারাইড বলে। মনোমার বা মনোস্যাকারাইড গুলো গ্লাইকোসাইডিক বন্ধনী দ্বারা যুক্ত হয়ে অলিগোস্যাকারাইড গঠন করে। একটি মনোস্যাকারাইডের হাইড্রোক্সিল গ্রুপ অপর একটি মনোস্যাকারাইডের হাইড্রোক্সিল গ্রুপের সাথে সংযুক্ত হওয়াকে গ্লাইকোসাইডিক লিংকেজ বলে। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

 

অলিগোস্যাকারাইডের বৈশিষ্ট্য

(i) অলিগোস্যাকারাইড হলো সরল শর্করা।

(ii) একে আর্দ্র বিশ্লেষণ করা যায়।

(iii) এটি একটি ক্ষুদ্র অণু।

(iv) এর আণবিক ওজন ১০,০০০ ডাল্টনের কম।

(v) এটি মিষ্টি স্বাদ যুক্ত।

(vi) ইহা দানাদার এবং পানিতে দ্রবণীয়।

(vii) ইহা একটি অবিজারক সুগার।

 

কয়েকটি অলিগোস্যাকারাইড

(i) ট্রাইস্যাকারাইডঃ যে সব কার্বোহাইড্রেটকে ভাঙ্গলে বা বিশ্লেষণ করলে তিন অণু মনোস্যাকারাইড পাওয়া যায় তাদেরকে ট্রাইস্যাকারাইড বলে। যেমন- র‌্যাফিনোজ, র‌্যাবিনোজ,  র‌্যামিনোজ ও ম্যালিজিটোজ। র‌্যাফিনোজকে ভাঙ্গলে গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও গ্যালাকটোজ পাওয়া যায়। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(ii) টেট্রাস্যাকারাইডঃ যে সব কার্বোহাইড্রেটকে ভাঙ্গলে বা বিশ্লেষণ করলে চার অণু মনোস্যাকারাইড পাওয়া যায় তাদেরকে টেট্রাস্যাকারাইড বলে। এর রাসায়নিক সংকেত হলো C24H42O21। যেমন- স্ট্যাকিওজ, স্কার্ডোজ প্রভৃতি।  স্ট্যাকিওজকে ভাঙ্গলে গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও দুই অণু গ্যালাকটোজ পাওয়া যায়। Leguminosae ও  Labiatae গোত্রের উদ্ভিদে টেট্রাস্যাকারাইড পাওয়া যায়। Cucurbita pepo উদ্ভিদে টেট্রাস্যাকারাইড থাকে।

(iii) পেন্টাস্যাকারাইডঃ যে সব কার্বোহাইড্রেটকে ভাঙ্গলে বা বিশ্লেষণ করলে পাঁচ অণু মনোস্যাকারাইড পাওয়া যায় তাদেরকে পেন্টাস্যাকারাইড বলে। যেমন- ভার্বাকোজ। Verbescus thepus উদ্ভিদের মূলে পেন্টাস্যাকারাইড থাকে।

(iv) হেক্সাস্যাকারাইডঃ যে সব কার্বোহাইড্রেট ছয় অণু মনোস্যাকারাইড দ্বারা গঠিত তাকে হেক্সাস্যাকারাইড বলে। যেমন- α-Cyclodextrin.

(v) হেপ্টাস্যাকারাইডঃ যে সব কার্বোহাইড্রেট সাত অণু মনোস্যাকারাইড দ্বারা গঠিত তাকে হেপ্টাস্যাকারাইড বলে।

(vi) অক্টাস্যাকারাইডঃ যে সব কার্বোহাইড্রেট আট অণু মনোস্যাকারাইড দ্বারা গঠিত তাকে অক্টাস্যাকারাইড বলে।

(vii) ন্যানাস্যাকারাইডঃ যে সব কার্বোহাইড্রেট নয় অণু মনোস্যাকারাইড দ্বারা গঠিত তাকে ন্যানাস্যাকারাইড বলে।

(viii) ডেকাস্যাকারাইডঃ যে সব কার্বোহাইড্রেট দশ অণু মনোস্যাকারাইড দ্বারা গঠিত তাকে ডেকাস্যাকারাইড বলে।

ডাইস্যাকারাইড ।। Disaccharide

যে সব কার্বোহাইড্রেটকে ভাঙ্গলে বা বিশ্লেষণ করলে দুই অণু মনোস্যাকারাইড পাওয়া যায় তাদেরকে ডাইস্যাকারাইড বলে। এদের রাসায়নিক সংকেত হলো C12H22O11। দুই অণু মনোস্যাকারাইডের মধ্যে ঘনীভবন বিক্রিয়ায় দুইটি –OH মূলক থেকে এক অণু H2O অপসারিত হয়ে ডাইস্যাকারাইড উৎপন্ন হয়। ডাইস্যাকারাইডের উভয় মনোস্যাকারাইড অণু C-O-C নতুন বন্ধনী সৃষ্টি করে। সৃষ্ট C-O-C বন্ধনীকে গ্লাইকোসাইডিক বন্ধনী বলে। সুক্রোজ (টেবিল চিনি), মল্টোজ, আইসোমল্টোজ, ল্যাক্টোজ (দুধের চিনি), সেলোবায়োজ, ট্রেহালোজ ইত্যাদি ডাইস্যাকারাইড। সুক্রোজ বা চিনিকে ভাঙ্গলে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ পাওয়া যায়। আবার, ল্যাক্টোজকে ভাঙ্গলে গ্লুকোজ ও গ্যালাক্টোজ পাওয়া যায়। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

মনোস্যাকারাইড ।। মনোস্যাকারাইডের বৈশিষ্ট্য ও শ্রেণীবিভাগ ।। Monosaccharide

মনোস্যাকারাইড (Monosaccharides)

গ্রিক শব্দ mono অর্থ এক এবং saccharin অর্থ চিনি নিয়ে Monosaccharide শব্দটি গঠিত। Monosaccharide এর অর্থ হলো একক চিনি বা শর্করা। যে সব কার্বোহাইড্রেটকে ভাঙ্গলে বা বিশ্লেষণ করলে অন্য কোন সরল কার্বোহাইড্রট একক পাওয়া যায় না তাকে মনোস্যাকারাইড বলে। এদের সাধারণ সংকেত CnH2nOn। মনোস্যাকারাইডে কার্বনের সংখ্যা ৩-১০। মনোস্যাকারাইডের ১নং কার্বনে মুক্ত অ্যালডিহাইড গ্রুপ (-CHO) অথবা ২নং কার্বনে মুক্ত কিটোন গ্রুপ (>C=O) থাকে বলে এদেরকে রিডিউসিং শ্যুগার বা বিজারক চিনি বলে। অ্যালডিহাইড গ্রুপ যুক্ত মনোস্যাকারাইডকে অ্যালডোজ এবং কিটোন গ্রুপ যুক্ত মনোস্যাকারাইডকে কিটোজ বলে। অ্যালডিহাইড ও কিটোন গ্রুপ রিডিউসিং গ্রুপ এবং রিডিউসিং গ্রুপযুক্ত শর্করাকে রিডিউসিং শ্যুগার বলে।

 

মনোস্যাকারাইডের বৈশিষ্ট্য

(i) এটি একটি সরল শর্করা।

(ii) ইহা আলোক সক্রিয়।

(iii) এটি একটি ক্ষুদ্র অণু।

(iv) এর আণবিক ওজন ১০,০০০ ডাল্টনের কম।

(v) এটি মিষ্টি স্বাদ যুক্ত।

(vi) ইহা দানাদার এবং পানিতে দ্রবণীয়।

(vii) এতে অ্যালডিহাইড ও কিটোন মূলক থাকে।

(viii) একে অ্যালডোজ বা কিটোজ সুগার বলা হয়।

(ix)  ইহা একটি বিজারক সুগার।

 

 

অ্যালডিহাইড বা কিটোন গ্রুপের উপর ভিত্তি করে মনোস্যাকারাইডকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

১। অ্যালডোজঃ যে সব মনোস্যাকারাইড অ্যালডিহাইড গ্রুপযুক্ত তাকে অ্যালডোজ বলে। যেমন-গ্লুকোজ, এরিথ্রোজ, রাইবোজ, ম্যানোজ ইত্যাদি। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

২। কিটোজঃ যে সব মনোস্যাকারাইড কিটোন গ্রুপযুক্ত তাকে কিটোজ বলে। যেমন-ফ্রুক্টোজ, এরিথ্রোলোজ, রাইবুলোজ, ডাইহাইড্রক্সি অ্যাসিটোন ইত্যাদি। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

 

কার্বনের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের মনোস্যাকারাইড হলো-

১। ট্রায়োজ (Triose) ঃ তিন কার্বন বিশিষ্ট মনোস্যাকারাইডকে ট্রায়োজ বলে। ট্রায়োজ অ্যালডিহাইড গ্রুপযুক্ত হলে তাকে অ্যালডোট্রায়োজ এবং কিটোন গ্রুপযুক্ত হলে তাকে কিটোট্রায়োজ বলে। এর আণবিক সংকেত C3H6O3। যেমন-গিøসারালডিহাইড, ডাইহাইড্রোক্সি অ্যাসিটোন প্রভৃতি।

২। টেট্রোজ (Tetrose)ঃ চার বিশিষ্ট মনোস্যাকারাইডকে টেট্রোজ বলে। এর আণবিক সংকেত C4H8O4। টেট্রোজ চার কার্বনবিশিষ্ট অ্যালডিহাইড গ্রুপযুক্ত হলে তাকে অ্যালডোটেট্রোজ এবং কিটোন গ্রুপযুক্ত হলে তাকে কিটোটেট্রোজ বলে। যেমন-এরিথ্রোজ, থ্রিয়োজ, এরিথ্রোলোজ প্রভৃতি। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

৩। পেন্টোজ (Pentose)ঃ পাঁচ কার্বন বিশিষ্ট মনোস্যাকারাইডকে পেন্টোজ বলে। এর আণবিক সংকেত C5H10O5। রাইবোজ ও ডিঅক্সিরাইবোজ হলো পেন্টোজ শ্যুগার এবং এরা নিউক্লিওটাইড ও নিউক্লিক এসিড গঠন করে। উদাহরণ- রাইবুলোজ, জাইলুলোজ, অ্যারাবিনোজ, লিক্সোজ, রাইবোজ, ডিঅক্সিরাইবোজ প্রভৃতি। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

 

৪। হেক্সোজ (Hexose)ঃ ছয় কার্বন বিশিষ্ট মনোস্যাকারাইডকে হেক্সোজ বলে। এর আণবিক সংকেত C6H12O6। অ্যালডিহাইড গ্রুপের হেক্সোজকে অ্যালডোহেক্সোজ এবং কিটোন গ্রুপের হেক্সোজকে কিটোহেক্সোজ বলে। এরা রক্ত শর্করা (Blood sugar) নামে পরিচিত। ১৬ রকমের হেক্সোজ রয়েছে। প্রাচুর্যময় হেক্সোজ হলো গ্লুকোজ যা জীবকোষে শক্তি দান করে। উদাহরণ-গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, গ্যালাক্টোজ, ম্যানোজ ইত্যাদি।

৫। হেপটোজ (Heptose)ঃ সাত কার্বন বিশিষ্ট মনোস্যাকারাইডকে হেপ্টোজ বলে। এর আণবিক সংকেত C7H14O7। এর সংখ্যা খুব কম। ইহা সালোকসংশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেডোহেপ্টুলোজ, মনোহ্যাপ্টুলোজ প্রভৃতি।

৬। অক্টোজ (Octose) ঃ আট কার্বন বিশিষ্ট মনোস্যাকারাইডকে অক্টোজ বলে। এর আণবিক সংকেত C8H26O8। যেমন- গ্লুকোঅক্টোজ। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

৭। নেনোজ (Nenose)ঃ নয় কার্বন বিশিষ্ট মনোস্যাকারাইডকে নেনোজ বলে। এর আণবিক সংকেত C9H18O9। যেমন-গ্লুকোনেনোজ।

৮। ডেকোজ (Decose)ঃ দশ কার্বন বিশিষ্ট মনোস্যাকারাইডকে ডেকোজ বলে। এর আণবিক সংকেত C10H30O10। যেমন- গ্লুকোডেকোজ। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

রিডিউসিং ।। বিজারক শর্করা ।। নন-রিডিউসিং ।। অবিজারক শর্করা

বিজারণ ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে কার্বোহাইড্রেটকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো-

(i) রিডিউসিং বা বিজারক শর্করাঃ যে সব কার্বোহাইড্রেটের অ্যালডিহাইড ও কিটোন মূলক মুক্ত অবস্থায় থাকে এবং ফেহলিং বিকারক, বেনিডিক্ট বিকারক ও বারফোর্ড বিকারকের সাথে বিক্রিয়া ঘটায় তাদেরকে রিডিউসিং বা বিজারক কার্বোহাইড্রেট বলে। সকল মনোস্যাকারাইডই বিজারক শর্করা। কারণ মনোস্যাকারাইডের অ্যালডিহাইড মুলক ((-CHO) অথবা কিটোন মুলক (-CO) মুক্ত অবস্থায় থাকে। যেমন- গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, গ্যালাক্টোজ, গিøসারাল্ডিহাইড, রাইবোজ, জাইলোজ প্রভৃতি।

(ii) নন-রিডিউসিং বা অবিজারক শর্করাঃ যে সব কার্বোহাইড্রেটের অ্যালডিহাইড ও কিটোন মূলক মুক্ত অবস্থায় থাকে না এবং ফেহলিং বিকারক, বেনিডিক্ট বিকারক ও বারফোর্ড বিকারকের সাথে বিক্রিয়া ঘটায় না তাদেরকে নন-রিডিউসিং বা অবিজারক কার্বোহাইড্রেট বলে। যেমন- সুক্রোজ, স্টার্চ, সেলুলোজ, গ্লাইকোজেন, ট্রেহালোজ প্রভৃতি। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

শ্যুগার ।। নন-শ্যুগার

স্বাদের উপর ভিত্তি করে কার্বোহাইড্রেটকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো-

(i) শ্যুগারঃ যে সব কার্বোহাইড্রেট মিষ্টি, দানাদার এবং পানিতে দ্রবীভূত হয় তাদেরকে শ্যুগার বলে। যেমন-গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, সুক্রোজ প্রভৃতি। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

(ii) নন-শ্যুগারঃ যে সব কার্বোহাইড্রেট মিষ্টি নয়, অদানাদার এবং পানিতে অদ্রবণীয় তাদেরকে নন-শ্যুগার বলে। যেমন-স্টার্চ, সেলুলোজ, গ্লাইকোজেন প্রভৃতি।