গ্লুকোজ হলো ছয় কার্বনবিশিষ্ট মনোস্যাকারাইড। ইহা একটি রিডিউসিং শ্যুগার। এর আণবিক সংকেত । এতে অ্যালডিহাইড মূলক থাকায় একে অ্যালডোহেক্সোজ বলে। পাঁকা ফল এবং মধুতে প্রচুর পরিমাণে গ্লুকোজ থাকে। পাকা ফলে ১২-৩০% গ্লুকোজ থাকে বলে একে গ্রেইপ শ্যুগার বা আঙ্গুরের শর্করা বলা হয়। একে ডেক্সট্রোজ, কর্ন শ্যুগার, গ্রেপ শ্যুগার, রক্ত শর্করা ও D-গ্লুকোজ নামে অভিহিত করা হয়। এর আপেক্ষিক মিষ্টতা ৭৪। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহে গ্লুকোজ উৎপন্ন হয়। তবে উদ্ভিদদেহে শর্করা কখনো জমা থাকে না। ইহা শ্বসনের প্রাথমিক উপাদান হিসেবে কাজ করে।
গ্লুকোজের বৈশিষ্ট্য /ধর্ম
(i) গ্লুকোজ একটি সরল শর্করা।
(ii) ইহা সাদা দানাদার পদার্থ।
(iii) এটি মিষ্টি স্বাদ যুক্ত।
(iv) ইহা পানিতে দ্রবণীয়।
(v) ইহা অ্যালকোহলে সামান্য দ্রবণীয়, কিন্তু ইথারে অদ্রবণীয়।
(vi) এতে অ্যালডিহাইড গ্রুপ থাকে। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
(vii) একে অ্যালডোজ সুগার বলা হয়।
(viii) ইহা একটি বিজারক শর্করা।
(ix) প্রাণীদেহে গ্লুকোজ প্রোটিনের সাথে যুক্ত হয়ে গ্লাইকোপ্রোটিন গঠন করে।
(x) ইহা ফসফোরিক এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে এস্টার গঠন করে।
(xi) এর গলনাঙ্ক ১৪৬ ডিগ্রী সে. (α- D গ্লুকোজ) এবং ১৫০ ডিগ্রী সে. (β- D গ্লুকোজ)।
বিভিন্ন ধরনের গ্লুকোজ
(i) D গ্লুকোজ (Dextrorotatory)ঃ গ্লুকোজের ৫নং কার্বনের ডান দিকে হাইড্রোক্সিল (OH) মূলক যুক্ত থাকলে
তাকে dextrorotatory বা D গ্লুকোজ বলে। এর ঘূর্ণনের দিক কাইরাল কেন্দ্রের ডানে। ইহা আলোক সক্রিয়ক। প্রাকৃতিক সকল গ্লুকোজই D গ্লুকোজ। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
(ii) L গ্লুকোজ (Laevorotatory)ঃ গ্লুকোজের ৫নং কার্বনের বাম দিকে হাইড্রোক্সিল (OH) মূলক যুক্ত থাকলে তাকে Laevorotatory বা L গ্লুকোজ বলে। এর ঘূর্ণনের দিক কাইরাল কেন্দ্রের বামে। ইহা আলোক সক্রিয়ক। ডায়াবেটিসের ওষুধ এবং এন্ডোস্কোপির কাজে ব্যবহারের জন্য L গ্লুকোজ কৃত্রিম ভাবে তৈরী করা হয়। (যে কেন্দ্র বরাবর কার্বন অণুগুলো পরস্পর যুক্ত থাকে তাকে কাইরাল কেন্দ্র বলে)। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
(iii) α- D গ্লুকোজ এবং β- D গ্লুকোজঃ গ্লুকোজের ১নং কার্বন ৫নং কার্বনের নিকটে আসলে একটি অক্সিজেন সেতু তৈরী হয়। ফলে একটি রিং স্ট্রাকচার সৃষ্টি হয়। রিং স্ট্রাকচারের কারণে একটি -OH গ্রুপ উৎপন্ন হয়। -OH গ্রুপটি গ্লুকোজের ১নং কার্বনের নিচের দিকে থাকলে তাকে α- D গ্লুকোজ এবং গ্লুকোজের ১নং কার্বনের উপরের দিকে থাকলে তাকে β- D গ্লুকোজ বলে। α-গ্লুকোজ গঠন করে স্টার্চ এবং β-গ্লুকোজ গঠন করে সেলুলোজ। উদ্ভিদ দেহে সব সময়ই D গ্লুকোজ থাকে।
গ্লুকোজের ব্যবহার
(i) গ্লুকোজ রোগীর পথ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। দ্রæত রোগীর শক্তি যোগায়।
(ii) ইহা ফল সংরক্ষণে ব্যবহার হয়। ফলের পচনরোধ করে।
(iii) রিচস্টিন প্রক্রিয়ায় জীবাণু থেকে ভিটামিন সি তৈরীতে D-গ্লুকোজ ব্যবহার হয়।
(iv) ক্যালসিয়াম গ্লুকোনেট ওষুধ তৈরীতে গ্লুকোজ ব্যবহার হয়।
(v) জীবদেহে কার্বোহাইড্রেট বিপাকে এর ভুমিকা রয়েছে।
(vi) সাইট্রিক এসিড, গ্লুকোনিক এসিড,বায়ো-ইথানল, সারবিটাল প্রভৃতি তৈরীতে ইহা ব্যবহার হয়।
(vii) ইহা অসুস্থ মানুষের শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
(viii) গ্লুকোজ থেকে গ্লাইকোপ্রোটিন ও গ্লাইকোলিপিড তৈরী হয়।
(ix) গ্লাইকোলাইসিস প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ ব্যবহার হয়ে শক্তি উৎপন্ন করে।