ভিটামিন ।। Vitamin

চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো হলো-
(i) ভিটামিন-A: বিটা ক্যারোটিন ভিটামিন-A তে রুপান্তরিত হয়। যকৃত, দুধ, ঘি, ডিম প্রভৃতিতে প্রাকৃতিক ভিটামিন-A পাওয়া যায়। ভিটামিন-A এর অভাবে ত্বক শুষ্ক হয়, রাতকানা রোগ হয় এবং দেহের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। ইহা মিউকাস পর্দার স্বাভাবিক কার্যাবলি বজায় রাখে। বিটা-ক্যারোটিন ফটোট্রপিজম ঘটায়। রডোপসিন চোখের স্বাভাবিক দর্শনে সাহায্য করে।
(ii) ভিটামিন-D : যকৃত, ঘি, মাছের চর্বি ও ডিমে প্রাকৃতিক ভিটামিন-D পাওয়ায় যায়। ইহা অন্ত্রের ক্যালসিয়াম ও ফসফোরাস শোষণ বৃদ্ধি করে। ইহা অস্থিতে খনিজ সঞ্চয়কে প্রভাবিত করে। এর অভাবে হাড়ের রোগ হয়।
(iii) ভিটামিন-E : ভিটামিন-E হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। উদ্ভিজ তেল, বাদাম, বীজ, শস্যদানা ও গমে ভিটামিন-E পাওয়া যায়। ভিটামিন-E জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষতির প্রভাব থেকে কোষকে রক্ষা করে।
(iv) ভিটামিন-K : গাঢ় সবুজ শাকসবজিতে ভিটামিন-K পাওয়া যায়। ইহা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে

ক্যারোটিনয়েড ।। Carotinoid

ক্যারোটিনয়েড হলো হলুদ, কমলা ও লাল বর্ণের লিপিড জাতীয় রঞ্জক পদার্থ। অধিকাংশ ক্যারোটিনয়েড হলো টেট্রাটারপিনয়েড। উদ্ভিদজগতে প্রায় ৭০০ ধরনের ক্যারোটিনয়েড পাওয়া যায়। মানুষ ফলমূল ও সবজি হতে ৪০-৫০ ধরনের ক্যারোটিনয়েড গ্রহণ করে। উদ্ভিদ, শৈবাল, ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া ক্যারোটিনয়েড উৎপন্ন করে। প্রধান প্রধান ক্যারোটিনয়েড হলো- আলফা ক্যারোটিন, বিটা ক্যারোটিন, বিটা ক্রিপ্টোজ্যানথিন, জি-অ্যাক্সানথিন, লিউটিন, লাইকোপিন, ক্যারোটিন, জ্যান্থোফিল ইত্যাদি। ডিমের কুসুম, গাজর, টমেটো প্রভৃতিতে বিটা-ক্যারোটিন পাওয়া যায়।
ক্যারোটিনয়েডের কাজ
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ক্যারোটিনয়েড আলোকশক্তি শোষণে প্রধান ভূমিকা পালন করে। খাদ্য থেকে গৃহীত ক্যারোটিনয়েড জীবদেহে সঞ্চিত থাকে। বিটা-ক্যারোটিন ফটোট্রপিজম ঘটায়। রডোপসিন দৃষ্টিশক্তি দান করে।

কোলেস্টেরল ।। Cholesterol

কোলেস্টেরল হলো মনোহাইড্রিক সেকেন্ডারী অ্যালকোহলিক যৌগ। ইহা সাদা এবং স্ফটিকাকার বস্তু। কোলেস্টেরল পানিতে অদ্রবণীয়, ক্লোরোফর্ম, বেনজিন, ইথার ও অ্যালকোহলে দ্রবণীয়। উদ্ভিদদেহে কোলেস্টেরলের পরিমাণ খুব কম। আলু ও চুপড়ি আলুতে কোলেস্টেরল পাওয়া যায়। প্রাণীদেহে কোলেস্টেরল সবচেয়ে বেশি থাকে।
কোলেস্টেরলের কাজ
ইহা কোষঝিল্লির ভেদ্যতা নিয়ন্ত্রণ করে। মানুষের রক্ত প্রবাহে সাহায্য করে। ইহা ফ্যাটি এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে মোম গঠন করে।

রাবার -Rober

৩০০০-৬০০০ কার্বন পরমাণু বিশিষ্ট আইসোপ্রেনয়েড যৌগকে রাবার বলে। ইহা এক প্রকার পলিটারপিন। এর আণবিক ওজন প্রায় ৩ লক্ষ ডাল্টন। কৃত্রিম ভাবে যে রাবার তৈরী করা হয় তাকে গাম রাবার বলে। ইহা বিশে^র প্রায় ৮০% শিল্পের সাথে জড়িত। গ্রীষ্মমন্ডলী উদ্ভিদের ল্যাটেক্সে রাবার পাওয়া যায়। Euphorbiaceae গোত্রের উদ্ভিদ থেকে রাবার পাওয়া যায়। উল্লেখযোগ্য রাবার হলো- প্যারা রাবার (Hevea brasiliensis), ভারতীয় রাবার (Ficus elastica), পানামা রাবার (Castilla elastica), সিরাম রাবার (Manihot glaziovii), গ্যাটা (Palaquium gutta), চিকল (Achras sp.) প্রভৃতি।
রাবারের কাজ
আমাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য, বাসস্থান, শিল্প প্রভৃতিতে রাবারের গুরুত্ব অপরিসীম। রাবার দ্বারা খেলনা, গ্লাভস, ইরেজার, আঠা, রাবার ব্যান্ড, ইনসুলেটর, টায়ার প্রভৃতি তৈরী করা হয়। গ্যাটা থেকে চিরুণী ও বোতাম তৈরী করা হয়। চিকল থেকে চুইংগাম তৈরী হয়।

স্টেরয়েড-Steroid

২৭-২৯ কার্বন পরমাণু বিশিষ্ট আইসোপ্রেনয়েড যৌগকে স্টেরয়েড বলে। হাইড্রোক্সিল গ্রæপ যুক্ত স্টেরয়েডকে স্টেরল বলে। প্রাণীর স্টেরলকে জুস্টেরল এবং উদ্ভিদের স্টেরলকে ফাইটোস্টেরল বলে। প্রাণীদেহে বিদ্যমান গুরুত্বপুর্ণ স্টেরল হলো কোলেস্টেরল। উদ্ভিদদেহে বিদ্যমান গুরুত্বপুর্ণ স্টেরল হলো- আর্গোস্টেরল (নিউরোস্পোরা ও ঈস্ট), স্টিগাস্টেরল (আঙ্গুর, নারকেল ও সয়াবিন), বিটা সিটেস্টেরল (দানা শস্য), স্পাইনেস্টেরল (পালং ও বাঁধাকপি), কোলেস্টেরল (আলু ও চুপড়ি আলু), ডিজিট্যালিন, জাইমোস্টেরল, মাইকোস্টেরল প্রভৃতি।
স্টেরয়েডের জৈবিক গুরুত্ব
(i) স্টেরয়েড কোষের সংকেত প্রদানকারী অণু হিসেবে কাজ করে।
(ii) ইহা কোষের আবরণী গঠন করে।
(iii) কোলেস্টেরল কোষ আবরণীর তারল্যতা হ্রাস করে।
(iv) ইহা কোষে ঘনীভূত শক্তির আধার। তবে ইহা দেহে কোন শক্তি সরবরাহ করে না।
(v) স্টেরয়েড ক্ষরণ বেশি হলে ম্যালিগন্যান্ট প্রোস্টেট ক্যান্সার বৃদ্ধি পায়।
(vi) স্টেরয়েড যৌন হরমোন হিসেবে কাজ করে। কর্টিসল যৌন বিকাশে ভূমিকা রাখে।
(vii) কর্টিসল স্টেরয়েড কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন হজম করে এবং পানি ও লবণের ভারসাম্য বজায় রাখে।
(viii) স্টেরয়েড ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়। ডিজিট্যালিন হৃৎরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
(ix) আর্গোস্টেরল আল্ট্রা-ভায়োলেট রশ্মির প্রভাবে ভিটামিন-ডি তে পরিনত হয়।

জাতক বা উৎপাদিত লিপিড (Derivates Lipid)

যে সব লিপিড যৌগিক লিপিড থেকে উৎপন্ন হয় তাকে উৎপাদিত লিপিড বা ডেরিভেড বলে। যেমন- মনোগিøসারাইড, ডাইগিøসারাইড, ফ্যাটি এসিড, ফ্যাটি অ্যালকোহল, স্টেরয়েড, টারপিন, কিটোনবডি, রাবার, হাইড্রোকার্বন, ক্লোরোফিল, ক্যারোটিনয়েড ইত্যাদি।

সালফোলিপিড

যে সব লিপিড ফ্যাটি এসিড, গিøসারল ও সালফেট দ্বারা গঠিত তাদেরকে সালফোলিপিড বলে। ক্লোরোপ্লাস্টের ঝিল্লিতে প্রচুর পরিমাণে সালফোলিপিড থাকে। ইহা সালোকসংশ্লেষণে সাহায্য করে।

স্ফিংগোলিপিড

এই লিপিড স্নায়ুকোষ এবং মস্তিষ্কে পাওয়া যায়। এতে গ্লিসারল থাকে না, কিন্তু অ্যামিন থাকে। গ্রীক পুরাণে বর্ণিত রাক্ষুস স্ফিংক্স এর নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। স্ফিংক্স এর দৈহিক গঠনে অর্ধেক নারী এবং অর্ধেক সিংহ। কোন ব্যক্তি তার কুট প্রশ্নের (riddles) উত্তর দিতে না পারলে স্ফিংক্স তাকে ভক্ষণ করতো। Johann Thudichum (১৮৭৪) স্ফিংগোলিপিড শব্দটি ব্যবহার করেন।